শীতের কাপড়ে প্রস্তুত দোকানি, বিক্রি ঠান্ডা,

ঋতুর পালা বদলে প্রভাব পড়েছে বদলে যাওয়া জলবায়ুর। পঞ্জিকার হিসেবে শীতের বাকি আরও তিন সপ্তাহের বেশি। তবে অগ্রহায়ণেই খানিকটা হিমেল পরশ লাগছে। আবার দেশের উত্তরাঞ্চলে এরইমধ্যে শীত নেমেছে বলে খবর আসছে। উত্তরের জনপদের কোথাও কোথাও দুপুরে গায়ে গরম কাপড় জড়াতে হচ্ছে। রাজধানীতে তেমনটা না হলেও মাঝরাতে গায়ে কম্বল বা কাঁথা জড়িয়ে নিতে হচ্ছে।,

রাজধানীতে শীতের আগমন ঘটবে আরও কিছুদিন পরে। তবে এরইমধ্যে দোকানগুলোতে বাহারি ডিজাইন ও রঙে মিলছে শীতের পোশাক। বিক্রেতাদের ভাষ্য, এসব পোশাক শীত ঠেকানোর পাশাপাশি ফ্যাশন সচেতনদের মনও কাড়বে। শীতের আরও পোশাক বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে বলেও জানালেন দোকানিরা।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা পশিং মল, টোকিও স্কয়ার, শ্যামলি স্কয়ার, মেট্রো শপিং মলে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোয়েটার, ব্লেজার ও জ্যাকেট। এসব পোশাকের মূল ক্রেতা উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মানুষ।,

এছাড়া শীতের পোশাকে বৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত বিপণিবিতান শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট। দেশজ ডিজাইনের পোশাকের এ রাজ্যে সোয়েটারের পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনের নতুন সংগ্রহের দেখা মিলেছে দোকানে দোকানে। দাম ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।

এই শহরে উঁচু দালান ঘেঁষে আছে বস্তিও। তাই বিক্রি হয় সব শ্রেণির মানুষের সাধ্য উপযোগী পোশাকও। শীতের পোশাকের ক্ষেত্রেও এর ভিন্নতা নেই। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টোকিও স্কয়ার এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাতগুলোতে থরে থরে সাজানো হয়েছে শীতের কাপড়। সেখান থেকে সাধ্য অনুযায়ী ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাকটি।,

দিনের আলো মিলিয়ে গেলেই মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারের বিপরীতের সড়ক ফুটপাতে দেখা মেলে এক ঝাঁক পোশাক বিক্রেতার। শার্ট, প্যান্ট ও টিশার্টের বিক্রেতাদের দোকান এখন শীতের পোশাকে পূর্ণ। পাশের বিপনিবিতানের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দামে পোশাক মিলছে এসব দোকানে। তাই মধ্যবিত্তদের ভিড় এখানে কিছুটা বেশি।,

এখান থেকে শীতের একটি পোশাক কিনেছেন রায়হান আহমেদ। ঢাকাটাইমসের সঙ্গে আলাপকালে রায়হান জানান, একটু ঠান্ডা পড়লেই শীতের পোশাকের দাম বেড়ে যায়। তাই কিছুটা আগেভাগেই পোশাক কিনেছেন তিনি। রায়হানের ভাষায়, ‘শীতের শুরুর দিকে কিছুটা কম দামে কেনাকটা করা যায় বলেই আগেভাগে কিনে ফেলেছি।’

এদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, ক্রেতা এখন কম। রিংরোড এলাকার হকার মোহাম্মদ উজ্জ্বল বলেন, ‘ঢাকায় যারা আছে তারা এখন আপাতত ডিজাইন এবং দাম দেখে। ডিসেম্বরের শুরুর দিক থেকে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।’

রাজধানীতে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ অন্যান্য জেলা থেকে জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় এসেছেন। প্রিয়জনকে দূরে রাখা মানুষগুলোর কাছে নিজের চাইতে পরিবারের চাহিদার গুরুত্ব বেশি। তাই তো পরিবারের অন্যদের জন্য কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।,

রাজধানীর নিউ মার্কেটে শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন এমদাদ হোসেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমদাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। বাড়িতে মা, দুই বোন, এক ভাই। সবার জন্য শীতের পোশাক কিনতে নগরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান পাড়ায় এসেছেন তিনি।

ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘গ্রামে তো শীত আগে পড়ে। তাই সবার জন্য একটা করে সোয়েটার কিনলাম। আজই পাঠিয়ে দেব। নিজের চিন্তা পরে। ঢাকায় তো শীত এখনো আসেনি।’

এদিকে ফুটপাতে নতুন পোশাকের পাশাপাশি মিলছে পুরনো পোশাকও। আর এ ধরনের পোশাকের মূল ক্রেতা নগরের রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। ‘খুঁইজা লন, বাইছা লন, যেইডা নিবেন, খালি ২০০, খালি ২০০’ এমন বুলিতে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন ফুটপাতের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম।,

খোরশেদ বলেন, ‘বিক্রি মোটামুটি ভালোই। তবে করোনার কারণে বাজার ঢিলা (বিক্রি কম)। অন্যদিকে করোনার কারণে মালের দামও একটু বেশি। কাস্টমার আবার এইডা বোঝে না।’

একই রকম পুরনো পোশাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা দামেও বিক্রি হতে দেখা গেছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এলাকায়। সব জায়গায় পোশাক প্রচুর থাকলেও সেই তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। শীত ঘনিয়ে আসলে বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী বিক্রেতারা।

সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাচ্চাদের পোশাক ডিজাইনার আলিয়া.

» নামাজিদের ফ্রিতে চা পান করান এ বৃদ্ধ,

» এমপিওভুক্ত হচ্ছেন যে ৭৩ শিক্ষক (তালিকা).

» আক্রমণ করলে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের

» শেখ মনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনে নিমজ্জিত ছিলেন: মেয়র তাপস,

» ভাস্কর্য বিরোধিতাকারীদের যুবলীগ চেয়ারম‌্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের হুঁশিয়ারি

» ভিন্ন ধর্মে বিয়ে বন্ধে বর-কনেকে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ,

» চমকে দিলেন নবাগত নায়িকা সুবাহ.

» টস জিতে খুলনাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে বরিশাল.

» কটিয়াদীতে মৎস্য খামারের নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা,

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শীতের কাপড়ে প্রস্তুত দোকানি, বিক্রি ঠান্ডা,

ঋতুর পালা বদলে প্রভাব পড়েছে বদলে যাওয়া জলবায়ুর। পঞ্জিকার হিসেবে শীতের বাকি আরও তিন সপ্তাহের বেশি। তবে অগ্রহায়ণেই খানিকটা হিমেল পরশ লাগছে। আবার দেশের উত্তরাঞ্চলে এরইমধ্যে শীত নেমেছে বলে খবর আসছে। উত্তরের জনপদের কোথাও কোথাও দুপুরে গায়ে গরম কাপড় জড়াতে হচ্ছে। রাজধানীতে তেমনটা না হলেও মাঝরাতে গায়ে কম্বল বা কাঁথা জড়িয়ে নিতে হচ্ছে।,

রাজধানীতে শীতের আগমন ঘটবে আরও কিছুদিন পরে। তবে এরইমধ্যে দোকানগুলোতে বাহারি ডিজাইন ও রঙে মিলছে শীতের পোশাক। বিক্রেতাদের ভাষ্য, এসব পোশাক শীত ঠেকানোর পাশাপাশি ফ্যাশন সচেতনদের মনও কাড়বে। শীতের আরও পোশাক বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে বলেও জানালেন দোকানিরা।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা পশিং মল, টোকিও স্কয়ার, শ্যামলি স্কয়ার, মেট্রো শপিং মলে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোয়েটার, ব্লেজার ও জ্যাকেট। এসব পোশাকের মূল ক্রেতা উচ্চ ও মধ্যবিত্তের মানুষ।,

এছাড়া শীতের পোশাকে বৈচিত্র্যের জন্য সুপরিচিত বিপণিবিতান শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট। দেশজ ডিজাইনের পোশাকের এ রাজ্যে সোয়েটারের পাশাপাশি বাহারি ডিজাইনের নতুন সংগ্রহের দেখা মিলেছে দোকানে দোকানে। দাম ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে।

এই শহরে উঁচু দালান ঘেঁষে আছে বস্তিও। তাই বিক্রি হয় সব শ্রেণির মানুষের সাধ্য উপযোগী পোশাকও। শীতের পোশাকের ক্ষেত্রেও এর ভিন্নতা নেই। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টোকিও স্কয়ার এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটপাতগুলোতে থরে থরে সাজানো হয়েছে শীতের কাপড়। সেখান থেকে সাধ্য অনুযায়ী ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাকটি।,

দিনের আলো মিলিয়ে গেলেই মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারের বিপরীতের সড়ক ফুটপাতে দেখা মেলে এক ঝাঁক পোশাক বিক্রেতার। শার্ট, প্যান্ট ও টিশার্টের বিক্রেতাদের দোকান এখন শীতের পোশাকে পূর্ণ। পাশের বিপনিবিতানের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দামে পোশাক মিলছে এসব দোকানে। তাই মধ্যবিত্তদের ভিড় এখানে কিছুটা বেশি।,

এখান থেকে শীতের একটি পোশাক কিনেছেন রায়হান আহমেদ। ঢাকাটাইমসের সঙ্গে আলাপকালে রায়হান জানান, একটু ঠান্ডা পড়লেই শীতের পোশাকের দাম বেড়ে যায়। তাই কিছুটা আগেভাগেই পোশাক কিনেছেন তিনি। রায়হানের ভাষায়, ‘শীতের শুরুর দিকে কিছুটা কম দামে কেনাকটা করা যায় বলেই আগেভাগে কিনে ফেলেছি।’

এদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, ক্রেতা এখন কম। রিংরোড এলাকার হকার মোহাম্মদ উজ্জ্বল বলেন, ‘ঢাকায় যারা আছে তারা এখন আপাতত ডিজাইন এবং দাম দেখে। ডিসেম্বরের শুরুর দিক থেকে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে।’

রাজধানীতে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশ অন্যান্য জেলা থেকে জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় এসেছেন। প্রিয়জনকে দূরে রাখা মানুষগুলোর কাছে নিজের চাইতে পরিবারের চাহিদার গুরুত্ব বেশি। তাই তো পরিবারের অন্যদের জন্য কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অনেকে।,

রাজধানীর নিউ মার্কেটে শীতের পোশাক কিনতে এসেছেন এমদাদ হোসেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমদাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। বাড়িতে মা, দুই বোন, এক ভাই। সবার জন্য শীতের পোশাক কিনতে নগরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান পাড়ায় এসেছেন তিনি।

ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘গ্রামে তো শীত আগে পড়ে। তাই সবার জন্য একটা করে সোয়েটার কিনলাম। আজই পাঠিয়ে দেব। নিজের চিন্তা পরে। ঢাকায় তো শীত এখনো আসেনি।’

এদিকে ফুটপাতে নতুন পোশাকের পাশাপাশি মিলছে পুরনো পোশাকও। আর এ ধরনের পোশাকের মূল ক্রেতা নগরের রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। ‘খুঁইজা লন, বাইছা লন, যেইডা নিবেন, খালি ২০০, খালি ২০০’ এমন বুলিতে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন ফুটপাতের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম।,

খোরশেদ বলেন, ‘বিক্রি মোটামুটি ভালোই। তবে করোনার কারণে বাজার ঢিলা (বিক্রি কম)। অন্যদিকে করোনার কারণে মালের দামও একটু বেশি। কাস্টমার আবার এইডা বোঝে না।’

একই রকম পুরনো পোশাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা দামেও বিক্রি হতে দেখা গেছে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এলাকায়। সব জায়গায় পোশাক প্রচুর থাকলেও সেই তুলনায় ক্রেতা নেই বললেই চলে। শীত ঘনিয়ে আসলে বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী বিক্রেতারা।

সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com