শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ৭ খাবার

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আলাদা আলাদা থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করে আমাদের খাবার। বিশ্বজুড়ে চলছে মহামারির করোনার প্রভাব। এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি নজর দিতে হবে শিশুদেরও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি। শিশুকে ফিট রাখতে প্রয়োজন একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য তালিকা। আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে সেরকমই কিছু খাবারের কথা যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

 

ফল আর সবজি

শাক-সবজি খেতে পছন্দ করে না বেশীরভাগ শিশুই। কিন্তু অবশ্যই বেশী বেশী শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে দিতে হবে শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে। সবুজ শাক সবজি বাচ্চাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রত্যেক দিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, মেথি শাক, পাতাওয়ালা শাক, গাজর, পেঁপে, আনারস, কমলা, পেয়ারা, মিষ্টি কুমড়ো ইত্যাদি অবশ্যই রাখবেন খাদ্য তালিকায়। ফল ও শাক-সবজিতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল শিশুর শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

দই

দইতে আছে একধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু শিশুদেরই নয়, প্রত্যেকের প্রত্যেকদিন দই খাওয়া দরকার। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই বেশী উপকারি। আবার অনেক শিশু শুধু টক দই খেতে না চাইলে এর সাথে মধু মিশিয়ে দিন। দইয়ের ফাঙ্গাসবিরোধী উপাদান সর্দি-কাশির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করে। দই একটি প্রোবায়োটিক যা শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

 

ডিম

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেল আছে ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ দু’টোতেই। কোলেস্টেরল, চর্বি দ্রবণীয় ভাইটামিন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড আছে ডিমের কুসুমে। ডিম খেতে সব বাচ্চাই ভালোবাসে ব্রেকফাস্ট হোক কিংবা লাঞ্চ বা ডিনারে। বাচ্চাদের নিয়মিত ডিম খাওয়ান। এছাড়া ডিমে আছে প্রোটিন, যা একটি কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয়। ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, এবং ভিটামিন ই আছে ডিমে।

 

বাদাম

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি সব ধরণের বাদাম। প্রচুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে আখরোট ও কাঠবাদামে। তবে বাচ্চারা বাদাম খেতে ভালোবাসে না। কিন্তু শরীরের জন্য বাদাম খুবই উপকারী। দামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের অনেক চাহিদা পূরণ করে। ফুসফুসকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে বাদামে থাকা ভালো ফ্যাট। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার ডায়েটে আখরোট, পেস্তা, খেজুর, কিশমিশ রাখলে এগুলি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অবশ্যই প্রত্যেকদিন বাদাম এবং ড্রাই ফ্রুট খাওয়াতে পারেন।

 

গরুর কলিজা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি সুপারফুড হলো গরুর কলিজা। প্রচুর ভিটামিন এ এবং আয়রন বা লোহা রয়েছে গরুর কলিজাতে। এছাড়া গরুর কলিজায় আছে ভিটামিন বি-১২, ফোলিক এসিড, জিঙ্ক, কপার, এবং সেলেনিয়াম, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধের একটি দুর্গ তৈরি করতে পারে।

 

মাতৃদুগ্ধ

ইমিউনিটি শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন এন্টিবডি এবং শ্বেত রক্ত কণিকা এগুলোর সবই আছে মায়ের দুধে। শিশুকে সংক্রমণ বা ইনফেকশান, এলার্জি, ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, মেনেঞ্জাইটিস এবং মূত্রনালীর ইনফেকশান থেকে রক্ষা করে মায়ের দুধে। শিশুর জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার হলো মায়ের স্তন্যপান।

হলুদ

হলুদে আছে প্রদাহ বিরোধী, ব্যাকটেরিয়া বিরোধী এবং অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলী, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাচ্চাদের দুধের সঙ্গে হলুদ এবং সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়া্তে পারেন। সকালে নাশতার আগে আধা চা চামচ মধুর সঙ্গে অল্প একটু কাঁচা হলুদের টুকরোও খাওয়াতে পারেন।

সূএ:বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» করোনায় আরও ৪৫ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১২৮৫

» পাবনায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে পুরুষ ভিক্ষুকের ছুরিকাঘাতে নারী ভিক্ষুকের মৃত্যু

» বিমানবন্দর থেকে সোয়া কোটি টাকা মূল্যের দুই কেজি দুই গ্রাম সোনা জব্দ

» এবার একসাথে চার মোশাররফ করিম!

» সাকিবের আরেক সতীর্থ করোনায় আক্রান্ত

» মাত্র ২৭ সেকেন্ডেই প্রসব, বিশ্বে রেকর্ড গড়লেন তরুণী

» খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই: হানিফ

» করোনা শুধু ফুসফুসকে আক্রান্ত করে না, রক্তও জমাট বাঁধায়

» হিটলারের ৫৯০০ কোটি টাকার গুপ্তধনের সন্ধান!

» বিল-মেলিন্ডা গেটসের ছাড়াছাড়ির আগে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি বিবাহবিচ্ছেদ

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ৭ খাবার

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আলাদা আলাদা থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করে আমাদের খাবার। বিশ্বজুড়ে চলছে মহামারির করোনার প্রভাব। এই সময়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি নজর দিতে হবে শিশুদেরও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি। শিশুকে ফিট রাখতে প্রয়োজন একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য তালিকা। আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে সেরকমই কিছু খাবারের কথা যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

 

ফল আর সবজি

শাক-সবজি খেতে পছন্দ করে না বেশীরভাগ শিশুই। কিন্তু অবশ্যই বেশী বেশী শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে দিতে হবে শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে। সবুজ শাক সবজি বাচ্চাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রত্যেক দিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, মেথি শাক, পাতাওয়ালা শাক, গাজর, পেঁপে, আনারস, কমলা, পেয়ারা, মিষ্টি কুমড়ো ইত্যাদি অবশ্যই রাখবেন খাদ্য তালিকায়। ফল ও শাক-সবজিতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল শিশুর শরীরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

 

দই

দইতে আছে একধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু শিশুদেরই নয়, প্রত্যেকের প্রত্যেকদিন দই খাওয়া দরকার। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিষ্টি দইয়ের চেয়ে টক দই বেশী উপকারি। আবার অনেক শিশু শুধু টক দই খেতে না চাইলে এর সাথে মধু মিশিয়ে দিন। দইয়ের ফাঙ্গাসবিরোধী উপাদান সর্দি-কাশির সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করে। দই একটি প্রোবায়োটিক যা শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

 

ডিম

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন ও মিনারেল আছে ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ দু’টোতেই। কোলেস্টেরল, চর্বি দ্রবণীয় ভাইটামিন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড আছে ডিমের কুসুমে। ডিম খেতে সব বাচ্চাই ভালোবাসে ব্রেকফাস্ট হোক কিংবা লাঞ্চ বা ডিনারে। বাচ্চাদের নিয়মিত ডিম খাওয়ান। এছাড়া ডিমে আছে প্রোটিন, যা একটি কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয়। ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, এবং ভিটামিন ই আছে ডিমে।

 

বাদাম

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি সব ধরণের বাদাম। প্রচুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে আখরোট ও কাঠবাদামে। তবে বাচ্চারা বাদাম খেতে ভালোবাসে না। কিন্তু শরীরের জন্য বাদাম খুবই উপকারী। দামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের অনেক চাহিদা পূরণ করে। ফুসফুসকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে বাদামে থাকা ভালো ফ্যাট। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার ডায়েটে আখরোট, পেস্তা, খেজুর, কিশমিশ রাখলে এগুলি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অবশ্যই প্রত্যেকদিন বাদাম এবং ড্রাই ফ্রুট খাওয়াতে পারেন।

 

গরুর কলিজা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি সুপারফুড হলো গরুর কলিজা। প্রচুর ভিটামিন এ এবং আয়রন বা লোহা রয়েছে গরুর কলিজাতে। এছাড়া গরুর কলিজায় আছে ভিটামিন বি-১২, ফোলিক এসিড, জিঙ্ক, কপার, এবং সেলেনিয়াম, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধের একটি দুর্গ তৈরি করতে পারে।

 

মাতৃদুগ্ধ

ইমিউনিটি শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন এন্টিবডি এবং শ্বেত রক্ত কণিকা এগুলোর সবই আছে মায়ের দুধে। শিশুকে সংক্রমণ বা ইনফেকশান, এলার্জি, ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া, মেনেঞ্জাইটিস এবং মূত্রনালীর ইনফেকশান থেকে রক্ষা করে মায়ের দুধে। শিশুর জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার হলো মায়ের স্তন্যপান।

হলুদ

হলুদে আছে প্রদাহ বিরোধী, ব্যাকটেরিয়া বিরোধী এবং অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলী, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাচ্চাদের দুধের সঙ্গে হলুদ এবং সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়া্তে পারেন। সকালে নাশতার আগে আধা চা চামচ মধুর সঙ্গে অল্প একটু কাঁচা হলুদের টুকরোও খাওয়াতে পারেন।

সূএ:বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com