লবণেও প্লাস্টিক!

পৃথিবীর মানুষ প্রতিদিনই খাবারের সঙ্গে অনেক প্লাস্টিক খাচ্ছে যা চোখে দেখা না গেলেও অস্তিত্ব আছে। ক্ষুদ্র ওই প্লাস্টিকের কণাই পাকস্থলীতে জমতে থাকে এবং শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। আয়ারল্যান্ডের গবেষকরা তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, প্লাস্টিক বোতল থেকে প্রতিদিন প্রায় দশ ধরনের প্লাস্টিক কণা পেটে যাচ্ছে। পলিপ্রোপাইলিন নামক প্রচলিত উপাদান দিয়েই প্লাস্টিক তৈরি হয় যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।,

প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র-কণা দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রসাধন সামগ্রীতেও। সিউয়ারেজ হয়ে জলাভূমিতে গিয়ে পড়ায় মাছ তা খাচ্ছে। তারপর মাছের মাধ্যমে তা মানুষের ফুড-চেইনে ঢুকে পড়েছে।,

গবেষণায় দেখা গেছে- ডিম, আটা, বাঁধাকপি— সবকিছুতেই পাওয়া গিয়েছে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব। বাংলার বাজারেই পাওয়া গিয়েছে এমন প্লাস্টিকের খাদ্যবস্তুগুলো। বাদ গেল না নিত্যপ্রয়োজনীয় লবণও! লবণেও মিলছে প্লাস্টিক কণা।,

বেশ কিছু ব্র্যান্ডেড কোম্পানি, টেবল-সল্ট তৈরির সময় তাতে প্লাস্টিকের অংশ মেশায়। মাত্র ৫ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের এই টুকরোগুলো তৈরি হয় শিল্প বর্জ্য থেকে, যা সমুদ্রের পানিতে পাওয়া যায়।,

 

 

গবেষকরা লবণের যে নমুনার উপর পরীক্ষা চালান, তাতে ৬২৬টি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছে এবং তার মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্লাস্টিকের টুকরো। বাকি ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিকের ফাইবার।

গবেষকদের মতে, একজন মানুষ প্রতিদিনে যা লবণ খায় তাতে বছরে তার শরীরে আনুমানিক ০.১১৭ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে।,

লবণ থেকে এই প্লাস্টিক কণার প্রায় ৮৫ শতাংশই বাদ দেওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। লবণে ব্যবহারের আগে ছেঁকে নিলে বাদ দেওয়া যায় প্লাস্টিক কণাগুলো।,

অপরদিকে ব্যবহৃত ওয়ান টাইম প্লাস্টিক বাস্তুচক্রের মাধ্যমে খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। আর এই প্লাস্টিক কণা পাকস্থলীতে যাওয়ায় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণা বলছে, মাছের পেটে ডিমের মতো করে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে—যা আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছি। ধানমন্ডি লেক ও বুড়িগঙ্গার মাছেও এর অস্তিত্ব মিলেছে।.

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ওয়ান টাইম ইউজ করা যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তার ৬৩ শতাংশ আসে খাদ্যপণ্য মোড়ক থেকে। তাই এখনই প্লাস্টিকের বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। টিস্যু ব্যাগ, জুসের প্যাকেট থেকে শুরু করে কান পরিষ্কারের কটনবাড নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সবই প্লাস্টিকপণ্য। গবেষকরা বলছেন, এসব যে প্লাস্টিকপণ্য সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের ধারণাই নেই। এখন থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্লাটিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য পরিবেশের একটি ধরনকে এত বদলে দিচ্ছে যে, সভ্যতা ধ্বংসের মুখোমুখি হতে পারে।  সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা,

» ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে পরিবারের চারজনকে হত্যা!

» গ্রীষ্মকালীন বউ, এটাও কি সম্ভব!,

» কনের মাকে নিয়ে ফের পালাল বরের বাবা !,

» টাকা দিয়ে ২০ দিনের জন্য তরুণীদের বিয়ে করেন ধনী পর্যটকেরা,

» বিবিসি’র ১০০ নারীর তালিকায় ঠাঁই পেলেন যে দু’জন বাংলাদেশি,

» আ.লীগের সময় সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না: আলাল

» জামিন পেলেন সাংবাদিক কাজল,

» কাল সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী

» বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘নিভার’, অবস্থান পায়রা থেকে ১৫৫০ কিলোমিটার দূরে,

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

লবণেও প্লাস্টিক!

পৃথিবীর মানুষ প্রতিদিনই খাবারের সঙ্গে অনেক প্লাস্টিক খাচ্ছে যা চোখে দেখা না গেলেও অস্তিত্ব আছে। ক্ষুদ্র ওই প্লাস্টিকের কণাই পাকস্থলীতে জমতে থাকে এবং শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। আয়ারল্যান্ডের গবেষকরা তাদের গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, প্লাস্টিক বোতল থেকে প্রতিদিন প্রায় দশ ধরনের প্লাস্টিক কণা পেটে যাচ্ছে। পলিপ্রোপাইলিন নামক প্রচলিত উপাদান দিয়েই প্লাস্টিক তৈরি হয় যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।,

প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র-কণা দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রসাধন সামগ্রীতেও। সিউয়ারেজ হয়ে জলাভূমিতে গিয়ে পড়ায় মাছ তা খাচ্ছে। তারপর মাছের মাধ্যমে তা মানুষের ফুড-চেইনে ঢুকে পড়েছে।,

গবেষণায় দেখা গেছে- ডিম, আটা, বাঁধাকপি— সবকিছুতেই পাওয়া গিয়েছে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব। বাংলার বাজারেই পাওয়া গিয়েছে এমন প্লাস্টিকের খাদ্যবস্তুগুলো। বাদ গেল না নিত্যপ্রয়োজনীয় লবণও! লবণেও মিলছে প্লাস্টিক কণা।,

বেশ কিছু ব্র্যান্ডেড কোম্পানি, টেবল-সল্ট তৈরির সময় তাতে প্লাস্টিকের অংশ মেশায়। মাত্র ৫ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের এই টুকরোগুলো তৈরি হয় শিল্প বর্জ্য থেকে, যা সমুদ্রের পানিতে পাওয়া যায়।,

 

 

গবেষকরা লবণের যে নমুনার উপর পরীক্ষা চালান, তাতে ৬২৬টি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছে এবং তার মধ্যে ৬৩ শতাংশ প্লাস্টিকের টুকরো। বাকি ৩৭ শতাংশ প্লাস্টিকের ফাইবার।

গবেষকদের মতে, একজন মানুষ প্রতিদিনে যা লবণ খায় তাতে বছরে তার শরীরে আনুমানিক ০.১১৭ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে।,

লবণ থেকে এই প্লাস্টিক কণার প্রায় ৮৫ শতাংশই বাদ দেওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। লবণে ব্যবহারের আগে ছেঁকে নিলে বাদ দেওয়া যায় প্লাস্টিক কণাগুলো।,

অপরদিকে ব্যবহৃত ওয়ান টাইম প্লাস্টিক বাস্তুচক্রের মাধ্যমে খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। আর এই প্লাস্টিক কণা পাকস্থলীতে যাওয়ায় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণা বলছে, মাছের পেটে ডিমের মতো করে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে—যা আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছি। ধানমন্ডি লেক ও বুড়িগঙ্গার মাছেও এর অস্তিত্ব মিলেছে।.

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ওয়ান টাইম ইউজ করা যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তার ৬৩ শতাংশ আসে খাদ্যপণ্য মোড়ক থেকে। তাই এখনই প্লাস্টিকের বিকল্প ভাবার সময় এসেছে। টিস্যু ব্যাগ, জুসের প্যাকেট থেকে শুরু করে কান পরিষ্কারের কটনবাড নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সবই প্লাস্টিকপণ্য। গবেষকরা বলছেন, এসব যে প্লাস্টিকপণ্য সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের ধারণাই নেই। এখন থেকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্লাটিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য পরিবেশের একটি ধরনকে এত বদলে দিচ্ছে যে, সভ্যতা ধ্বংসের মুখোমুখি হতে পারে।  সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com