যে যত শক্তিশালী হোক না কেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন

অর্থ-বিত্ত-বৈভব-শক্তি-ক্ষমতায় যে যত বড়, শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্য সংবাদ অবশ্যই প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করা নয়, সমাজের সার্বিকচিত্র পরিস্ফুটন করা।

 

সোমবার  দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারের অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়নি, এই সাফল্যের গল্পগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আসা প্রয়োজন। তাহলে জাতি আশাবাদী হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।’

 

গণমাধ্যমের অপরিসীম শক্তি, যার মুখে ভাষা নেই, তাকে যেন ভাষা দিতে পারে; যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে, তাকে যেন স্বপ্ন দেখাতে পারে; যার কাছে ক্ষমতা নেই, তাকে যেন ক্ষমতাবান করতে পারে’- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমাজের অব্যক্তদের পক্ষে যেভাবে গণমাধ্যম কথা বলছে, মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সেটি যেন আরও জোরালো হয়; যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে, তারা গণমাধ্যমের ওপর ভরসা করে যেন স্বপ্ন দেখতে পারে।’

 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম যেমন স্বাধীন এবং মুক্তভাবে কাজ করছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা অবশ্যই উদাহরণ এবং একইসঙ্গে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এদেশের গণমাধ্যম মুক্ত এবং স্বাধীন।

 

মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বহুমাত্রিক সমাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সম্ভবপর নয়, সেই বিশ্বাসে আমাদের সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে, যেটি আগে ছিলো না।’

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংগঠনের বিরূপ মন্তব্যের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নিয়ে যে সমস্ত সংগঠন বিবৃতি দেয়, তাদের সঙ্গে একমত হওয়ার কারণ নেই। তারা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। আমাদের কাছে বা তথ্য কমিশনের কাছেও তথ্য চায় না। তাদের ঢালাও মন্তব্য ঠিক নয় এবং আমরা এগুলোর সঙ্গে একমত নই।’

 

ড. হাছান বলেন, ‘পৃথিবীতে আগে ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না অর্থাৎ ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন ছিল না, তখন সেখানে নিরাপত্তার জন্য আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। যখন সেটি এসেছে, তখন আইনের অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’ এ সময় মন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক যে আইন তৈরি করেছে, সেই সব উদহারণ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। অনেক সাংবাদিক এই আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগ যেন না হয়, কোনো সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটির সঙ্গে আমি অবশ্যই একমত।’

গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমছে কি না ও নানামুখী চাপের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর বাংলাদেশের মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে। না থাকলে এত টেলিভিশন চলতো না। এতগুলো পত্রিকা বের হতো না। পাঠকসংখ্যাও বাড়তো না। সম্প্রতি কিছু কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে যেভাবে আসার কথা ছিল, সেভাবে আসেনি; বিধায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে; এক্ষেত্রে তো সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।’

 

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে বলেন, ‘মানুষ যখন আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে, কল্পনা হারিয়ে যাচ্ছে, সেসময় কবিতা এবং কবিতার বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিজান মালিক এখনো তরুণ, তার হাত দিয়ে আরও অনেক কবিতার বই বাংলা ভাষা পাবে, এটিই আমার প্রত্যাশা।’

মন্ত্রীর সঙ্গে কবি মিজান মালিক, সাংবাদিক সাঈদ আহমেদ, খায়রুল আলম, আশীষ সেন, আলমগীর স্বপন বইটির মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» করোনায় আরও ৪৫ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১২৮৫

» পাবনায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে পুরুষ ভিক্ষুকের ছুরিকাঘাতে নারী ভিক্ষুকের মৃত্যু

» বিমানবন্দর থেকে সোয়া কোটি টাকা মূল্যের দুই কেজি দুই গ্রাম সোনা জব্দ

» এবার একসাথে চার মোশাররফ করিম!

» সাকিবের আরেক সতীর্থ করোনায় আক্রান্ত

» মাত্র ২৭ সেকেন্ডেই প্রসব, বিশ্বে রেকর্ড গড়লেন তরুণী

» খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই: হানিফ

» করোনা শুধু ফুসফুসকে আক্রান্ত করে না, রক্তও জমাট বাঁধায়

» হিটলারের ৫৯০০ কোটি টাকার গুপ্তধনের সন্ধান!

» বিল-মেলিন্ডা গেটসের ছাড়াছাড়ির আগে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি বিবাহবিচ্ছেদ

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

যে যত শক্তিশালী হোক না কেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন

অর্থ-বিত্ত-বৈভব-শক্তি-ক্ষমতায় যে যত বড়, শক্তিশালীই হোক না কেন, সত্য সংবাদ অবশ্যই প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, একইসঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করা নয়, সমাজের সার্বিকচিত্র পরিস্ফুটন করা।

 

সোমবার  দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনা মহামারির মধ্যেও সরকারের অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়নি, এই সাফল্যের গল্পগুলো গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আসা প্রয়োজন। তাহলে জাতি আশাবাদী হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে।’

 

গণমাধ্যমের অপরিসীম শক্তি, যার মুখে ভাষা নেই, তাকে যেন ভাষা দিতে পারে; যে স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে, তাকে যেন স্বপ্ন দেখাতে পারে; যার কাছে ক্ষমতা নেই, তাকে যেন ক্ষমতাবান করতে পারে’- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সমাজের অব্যক্তদের পক্ষে যেভাবে গণমাধ্যম কথা বলছে, মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সেটি যেন আরও জোরালো হয়; যারা স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে, তারা গণমাধ্যমের ওপর ভরসা করে যেন স্বপ্ন দেখতে পারে।’

 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম যেমন স্বাধীন এবং মুক্তভাবে কাজ করছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তা অবশ্যই উদাহরণ এবং একইসঙ্গে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এদেশের গণমাধ্যম মুক্ত এবং স্বাধীন।

 

মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে বহুমাত্রিক সমাজের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীন বিকাশ ছাড়া গণতান্ত্রিক সমাজের বিকাশ সম্ভবপর নয়, সেই বিশ্বাসে আমাদের সরকারের হাত ধরে দেশে বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে, যেটি আগে ছিলো না।’

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেপ্তার বিষয়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংগঠনের বিরূপ মন্তব্যের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের ও বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নিয়ে যে সমস্ত সংগঠন বিবৃতি দেয়, তাদের সঙ্গে একমত হওয়ার কারণ নেই। তারা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। আমাদের কাছে বা তথ্য কমিশনের কাছেও তথ্য চায় না। তাদের ঢালাও মন্তব্য ঠিক নয় এবং আমরা এগুলোর সঙ্গে একমত নই।’

 

ড. হাছান বলেন, ‘পৃথিবীতে আগে ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না অর্থাৎ ডিজিটাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন ছিল না, তখন সেখানে নিরাপত্তার জন্য আইনেরও প্রয়োজন ছিল না। যখন সেটি এসেছে, তখন আইনের অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’ এ সময় মন্ত্রী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক যে আইন তৈরি করেছে, সেই সব উদহারণ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। অনেক সাংবাদিক এই আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা করেছেন। এই আইনের অপপ্রয়োগ যেন না হয়, কোনো সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটির সঙ্গে আমি অবশ্যই একমত।’

গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা কমছে কি না ও নানামুখী চাপের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর বাংলাদেশের মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে। না থাকলে এত টেলিভিশন চলতো না। এতগুলো পত্রিকা বের হতো না। পাঠকসংখ্যাও বাড়তো না। সম্প্রতি কিছু কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে যেভাবে আসার কথা ছিল, সেভাবে আসেনি; বিধায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছে; এক্ষেত্রে তো সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।’

 

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী কবি ও সাংবাদিক মিজান মালিকের ‘মন খারাপের পোস্টার’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে বলেন, ‘মানুষ যখন আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে, কল্পনা হারিয়ে যাচ্ছে, সেসময় কবিতা এবং কবিতার বই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিজান মালিক এখনো তরুণ, তার হাত দিয়ে আরও অনেক কবিতার বই বাংলা ভাষা পাবে, এটিই আমার প্রত্যাশা।’

মন্ত্রীর সঙ্গে কবি মিজান মালিক, সাংবাদিক সাঈদ আহমেদ, খায়রুল আলম, আশীষ সেন, আলমগীর স্বপন বইটির মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com