মোহনায় জালের ভিড় মিলছে না ইলিশ

প্রধান প্রজনন মৌসুমের কারণে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ থাকছে।

 

আর প্রধান প্রজনন মৌসুমের সময় ঘনিয়ে এলেও নদীগুলোতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। তাই নদীমুখী জেলেদের মুখে এখনো ফুটেনি হাসি।

অনেকেই জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নদীতে ইলিশ শিকারে নামলেও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে, নয়ত জাটকা সাইজের কিছু পুরুষ ইলিশ নিয়ে।

বরিশালের হিজলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও জেলে নুরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শেষে, প্রজনন মৌসুমের সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না।

 

প্রতিদিন মেঘনা, কালাবদরসহ বিভিন্ন নদীর বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলছেন তাদের এলাকার অনেক জেলে। কেউ খুব অল্প পরিমাণে ইলিশ পাচ্ছেন, আবার কেউ একেবারেই পাচ্ছেন না।

 

সুমন নামে আরেক জেলে বলেছিলেন, তাদের এলাকার বেশিরভাগ জেলে ইলিশ শিকার করেন। কিন্তু এখন এমন দিন যাচ্ছে, নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে খরচই উঠছে না।

আর যাও বা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তা আকারে খুবই ছোট। এভাবে চলতে থাকলে জেলেদের অভাব-অনটনের মধ্যে থাকতে হবে।

 

চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম জানিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সাগর-নদীর মোহনায় জেলেরা প্রচুর জাল ফেলে রেখেছে, ফলে ওই জাল এড়িয়ে বড় আকারের ইলিশগুলো নদীতে আসতে পারছে না। নিয়মানুযায়ী মাছ শিকারের অবাধ সময় এখন।

 

তাই এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার সময় এসব জাল সরে গেলে মা-ইলিশ নদীতে আসবে। টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা যাচ্ছে, নদীতে ইলিশের দেখা মিলবে।

 

তিনি বলেন, নদীর যে ইলিশ, এর বেশিরভাগই বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের এই বেল্টে বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এবার তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

 

আবার মোহনায় জালের বাইরে আবহাওয়া ভালো থাকার বিষয়টিও বিপরীত ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়া একটু খারাপ থাকলে জালগুলো ওই সময়ের জন্য সরে যেত, সাগর থেকে ইলিশ নদীতে ঢুকতে পারত, মাছ আরও বেশি ধরা পড়ত।

 

এখন নদীতে কিছু ছোট অর্থাৎ জাটকার কাছাকাছি সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর বেশিরভাগই পুরুষ। এগুলো আকারে ছোট হওয়ায় সাগর মোহনায় পেতে রাখা জালের ফাঁস দিয়ে বেরিয়ে নদীতে চলে আসছে।

 

কিন্তু স্ত্রীসহ বড় আকারের ইলিশগুলো ওই জালের ফাঁসে আটকে ধরা পড়ে যাচ্ছে। সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে এখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে চিটাগাং (চট্টগ্রাম) বেল্টে, আমাদের এখানে অর্থাৎ বরিশাল বিভাগের আওতাধীন বেল্টে ইলিশ ধরা পড়ার সংখ্যাটা কমে গেছে।

 

এদিকে স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজারেও ইলিশের দর কমছে না। সোমবার সকালে বরিশাল নগরের পোর্ট রোড এলাকায় বেসরকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, এলসি সাইজ নদীর ইলিশের দর মণপ্রতি ছিল ২৯-৩০ হাজার টাকা।

 

ফলে সব থেকে জনপ্রিয় এই সাইজের ইলিশ পাইকারি বাজারে ৭২৫-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত ২০ দিন আগেও ১০০ টাকা কম কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» খোকার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপির. ৮ দিনের কর্মসূচি

» অসুস্থ অবস্থায় জনগনের টানে মেডিকেল থেকে পরিষদে ফিরলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

» .রাজধানীর কল্যাণপুরের নতুন বাজার বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট ,

» কেমন আছে জগন্নাথের বেদখল হলগুলো?

» তুরস্ক-গ্রিসে ভূমিকম্পে নিহত ৪, আঘাত হানল সুনামিও

» মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে

» মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে হবে

» বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন: র‌্যাব

» যে ঘটনাটি জীবন থেকে ভুলে যেতে চান ক্যাটরিনা

» ফিটনেস টেস্টে পাশ করতে হবে সাকিবকে

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মোহনায় জালের ভিড় মিলছে না ইলিশ

প্রধান প্রজনন মৌসুমের কারণে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ থাকছে।

 

আর প্রধান প্রজনন মৌসুমের সময় ঘনিয়ে এলেও নদীগুলোতে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। তাই নদীমুখী জেলেদের মুখে এখনো ফুটেনি হাসি।

অনেকেই জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নদীতে ইলিশ শিকারে নামলেও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে, নয়ত জাটকা সাইজের কিছু পুরুষ ইলিশ নিয়ে।

বরিশালের হিজলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও জেলে নুরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শেষে, প্রজনন মৌসুমের সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না।

 

প্রতিদিন মেঘনা, কালাবদরসহ বিভিন্ন নদীর বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলছেন তাদের এলাকার অনেক জেলে। কেউ খুব অল্প পরিমাণে ইলিশ পাচ্ছেন, আবার কেউ একেবারেই পাচ্ছেন না।

 

সুমন নামে আরেক জেলে বলেছিলেন, তাদের এলাকার বেশিরভাগ জেলে ইলিশ শিকার করেন। কিন্তু এখন এমন দিন যাচ্ছে, নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে খরচই উঠছে না।

আর যাও বা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তা আকারে খুবই ছোট। এভাবে চলতে থাকলে জেলেদের অভাব-অনটনের মধ্যে থাকতে হবে।

 

চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের পরিমাণ কম জানিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা (হিলসা) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, সাগর-নদীর মোহনায় জেলেরা প্রচুর জাল ফেলে রেখেছে, ফলে ওই জাল এড়িয়ে বড় আকারের ইলিশগুলো নদীতে আসতে পারছে না। নিয়মানুযায়ী মাছ শিকারের অবাধ সময় এখন।

 

তাই এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার সময় এসব জাল সরে গেলে মা-ইলিশ নদীতে আসবে। টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা যাচ্ছে, নদীতে ইলিশের দেখা মিলবে।

 

তিনি বলেন, নদীর যে ইলিশ, এর বেশিরভাগই বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের এই বেল্টে বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এবার তাও পাওয়া যাচ্ছে না।

 

আবার মোহনায় জালের বাইরে আবহাওয়া ভালো থাকার বিষয়টিও বিপরীত ভূমিকা রাখছে। আবহাওয়া একটু খারাপ থাকলে জালগুলো ওই সময়ের জন্য সরে যেত, সাগর থেকে ইলিশ নদীতে ঢুকতে পারত, মাছ আরও বেশি ধরা পড়ত।

 

এখন নদীতে কিছু ছোট অর্থাৎ জাটকার কাছাকাছি সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর বেশিরভাগই পুরুষ। এগুলো আকারে ছোট হওয়ায় সাগর মোহনায় পেতে রাখা জালের ফাঁস দিয়ে বেরিয়ে নদীতে চলে আসছে।

 

কিন্তু স্ত্রীসহ বড় আকারের ইলিশগুলো ওই জালের ফাঁসে আটকে ধরা পড়ে যাচ্ছে। সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে এখন বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে চিটাগাং (চট্টগ্রাম) বেল্টে, আমাদের এখানে অর্থাৎ বরিশাল বিভাগের আওতাধীন বেল্টে ইলিশ ধরা পড়ার সংখ্যাটা কমে গেছে।

 

এদিকে স্থানীয় খুচরা ও পাইকারি বাজারেও ইলিশের দর কমছে না। সোমবার সকালে বরিশাল নগরের পোর্ট রোড এলাকায় বেসরকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, এলসি সাইজ নদীর ইলিশের দর মণপ্রতি ছিল ২৯-৩০ হাজার টাকা।

 

ফলে সব থেকে জনপ্রিয় এই সাইজের ইলিশ পাইকারি বাজারে ৭২৫-৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত ২০ দিন আগেও ১০০ টাকা কম কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com