মোটরসাইকেল নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ নগরবাসী

দৃশ্য-১ : মগবাজার চৌরাস্তা। কাকরাইল থেকে আসা সড়কটিতে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশ গাড়ি। বাংলামোটর যাওয়ার জন্য শুধু বাম পাশের লেনটিতে নেই সিগন্যাল। মুহূর্তে সেই লেনটিতে এসে দাঁড়ায় একটি মোটরসাইকেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরও ৭-৮টি। এরপর কয়েকটি রিকশা। বন্ধ হয়ে যায় লেনটি। আটকা পড়ে বাংলামোটরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলোও। মিনিটের মধ্যে গাড়ির সারি কাকরাইল মসজিদ হয়ে মৎস্য ভবনে গিয়ে ঠেকে। আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও জমে যায় শত শত গাড়ি। সেই যানজট ছাড়াতে গলদঘর্ম অবস্থা ট্রাফিক পুলিশের। দৃশ্য-২ : বনানীর কাকলি সিগন্যালে আটকে আছে সারি সারি যানবাহন। সারির সামনে ১০-১২টি মোটরসাইকেল। হাত উঁচু করে বাইকগুলোকে আটকে রেখেছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য। বনানীর কামাল আতাতুর্ক সরণি দিয়ে আসা গাড়িগুলো চৌরাস্তা পার হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে উত্তরার দিকে। একটু ফাঁকা পেয়েই সিগন্যালে দাঁড়ানো কয়েকটি মোটরসাইকেল ভোঁ টান দিয়ে চলে গেল মোড়ের এক পাশ থেকে অন্য পাশে। অন্য বাহনগুলো তখনো সিগন্যালে আটকা। হঠাৎ মোটরসাইকেলগুলো টান দেওয়ায় কামাল আতাতুর্ক সরণি দিয়ে আসা গাড়িগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। দৃশ্য-৩ : মহাখালী বাস টার্মিনালের বিপরীত দিকের সড়কটিতে তখন গাড়িগুলো চলছে থেমে থেমে। পাশের ফুটপাথটি কিছুটা উঁচু। কিছুদূর গিয়ে ফুটপাথের ঢালু অংশ পেয়েই সাই করে ফুটপাথে উঠে গেল একটি মোটরসাইকেল। পেছনে থাকা মোটরসাইকেলগুলোর দু-একটি বাদে বাকিগুলোও একই পথ ধরল। ফুটপাথে থাকা পথচারীদের কেউ কেউ সরে গিয়ে মোটরসাইকেলগুলোকে জায়গা করে দেয়, কেউ ছুড়ে দেয় গালি। দৃশ্য-৪ : তেজগাঁওয়ের আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দ্বিমুখী সড়কটিতে নেই কোনো বিভাজক। যানজট এড়াতে গাড়িগুলো নিজ দায়িত্বে লেন মেনে চলে। গত সোমবার দুপুরে সড়কটিতে গাড়ির চাকা থমকে যায়। এগিয়ে গিয়ে সড়ক ভবনে যাওয়ার সংযোগ সড়কের মুখে (ত্রিমুখী রাস্তা) দেখা গেল, উভয় লেনই বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি মোটরসাইকেলের কারণে। বিপরীত দিক দিয়ে আসা গাড়িগুলোর সামনে-পিছনে কোনো দিকেই যাওয়ার পথ নেই। যানজটে পুরো রাস্তা যখন স্থবির তখনো উল্টো লেন দিয়ে একের পর এক মোটরসাইকেল গিয়ে জমা হচ্ছিল তিন রাস্তার মুখে। রাস্তাটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। রাজধানীতে মোটরসাইকেল বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমেই বেড়ে চলেছে দ্বিচক্রযানটির উৎপাত। যানজট এড়াতে অনেকে যেমন মোটরসাইকেল কিনছেন, তেমনি রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে মোটরসাইকেল কিনে রাস্তায় নামছেন তার চেয়ে বেশি। এদিকে যারা রাইড শেয়ারিং করছেন তাদের বড় অংশ এসেছেন ঢাকার বাইরে থেকে। এসব চালকদের অধিকাংশের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে বাইক চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেই। সেই সঙ্গে থাকে যাত্রীকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে নতুন যাত্রী তোলার তাগিদ। এটা করতে গিয়ে সিগন্যাল অমান্য, উল্টো লেনে বাইক ঢুকিয়ে দেওয়া, অলিগলি দিয়ে দ্রুত চালানোর পাশাপাশি যানজট এড়াতে তুলে দিচ্ছেন ফুটপাথে। ২০১৬ সাল থেকে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল যাত্রীসেবা জমে উঠলে বাইকের নিবন্ধনও বেড়ে যায়। বিআরটিএর হিসাবে, ২০১৭ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত হয় ৭৫ হাজার ২৫১টি মোটরসাইকেল, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ চার হাজার ৬৪টিতে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঢাকায় নিবন্ধিত হয় ৫০ হাজার ৫২১টি। মে পর্যন্ত ঢাকায় মোট নিবন্ধিত মোটরসাইকেল দাঁড়ায় ছয় লাখ ৬৭ হাজার ১৬২টি। এর বাইরে বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত অসংখ্য মোটরসাইকেল চলছে ঢাকার রাস্তায়।  খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাইড শেয়ারের কারণেই রাজধানীতে হু হু করে বাড়ছে মোটরবাইক। বর্তমানে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস দিতে বিআরটিএ-তে তালিকাভুক্ত আছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- পিকমি লিমিটেড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড, ওভাই সলিশনস লিমিটেড, চালডাল লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, ইজিয়ার টেকনোলজিস লিমিটেড, আকাশ টেকনোলজি লিমিটেড, সেজেস্টো লিমিটেড, সহজ লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড, বাডি লিমিটেড ও আকিজ অনলাইন লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছয় লাখের বেশি বাইক রাইড শেয়ারিং করছে। এর তিন-চতুর্থাংশই চলছে ঢাকার রাস্তায়। পাঠাওয়ের হিসাবে সারা দেশে তাদের তিন লাখের মতো বাইকার আছে যার বড় অংশ ঢাকায়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে এসে কোনো প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন না করেও রাইড শেয়ার করছেন। মুখে ডেকে যাত্রী তুলছেন। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ২০১৭ সালে রাজধানীতে ৪৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৫৩ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়। গত বছরের প্রথম আট মাসে ৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। সড়কে বাইকারদের স্বেচ্ছাচারিতায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এদিকে গত মার্চে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহের সাত দিনে ঢাকায় ৪৮ হাজার ৩০৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০ ধরনের যানবাহনের মধ্যে শুধু মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১৯ হাজার ৬০৯টি যা মোট মামলার ৪০ শতাংশের বেশি। এসব মামলার বেশিরভাগই হয় হেলমেট, ইন্স্যুরেন্স ও বাইকের কাগজপত্র না থাকার জন্য। সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলে মোটরসাইকেলের নৈরাজ্য কমত বলে মনে করছেন পথচারী থেকে খোঁদ পুলিশেরই অনেক সদস্য।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তোফায়েল ভাই অভিবাদন

» পেয়ারার যত গুণ

» মৃত্যুর জন্য যে শহরে যান মানুষ!

» মজাদার বাদাম মাটন কোরমা রেসিপি

» যেভাবে চিনবেন পদ্মার ইলিশ

» ইমামের পেছনে সুরা ফাতেহা পড়লে কি গুনাহ হবে?

» ‘আধ্যাত্মিক গুরুর’ ছেলের অফিসে ২০ কোটি ডলার, ৯০ কেজি সোনা!

» সংবাদ সম্মেলনে না থাকার কারণ জানালেন মাশরাফি

» বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট দেখতে কলকাতা যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

» নারী ও শিশু নির্যাতনের গল্পে তানহা তাসনিয়া

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

মোটরসাইকেল নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ নগরবাসী

দৃশ্য-১ : মগবাজার চৌরাস্তা। কাকরাইল থেকে আসা সড়কটিতে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশ গাড়ি। বাংলামোটর যাওয়ার জন্য শুধু বাম পাশের লেনটিতে নেই সিগন্যাল। মুহূর্তে সেই লেনটিতে এসে দাঁড়ায় একটি মোটরসাইকেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরও ৭-৮টি। এরপর কয়েকটি রিকশা। বন্ধ হয়ে যায় লেনটি। আটকা পড়ে বাংলামোটরের দিকে যাওয়া গাড়িগুলোও। মিনিটের মধ্যে গাড়ির সারি কাকরাইল মসজিদ হয়ে মৎস্য ভবনে গিয়ে ঠেকে। আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও জমে যায় শত শত গাড়ি। সেই যানজট ছাড়াতে গলদঘর্ম অবস্থা ট্রাফিক পুলিশের। দৃশ্য-২ : বনানীর কাকলি সিগন্যালে আটকে আছে সারি সারি যানবাহন। সারির সামনে ১০-১২টি মোটরসাইকেল। হাত উঁচু করে বাইকগুলোকে আটকে রেখেছেন ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য। বনানীর কামাল আতাতুর্ক সরণি দিয়ে আসা গাড়িগুলো চৌরাস্তা পার হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে উত্তরার দিকে। একটু ফাঁকা পেয়েই সিগন্যালে দাঁড়ানো কয়েকটি মোটরসাইকেল ভোঁ টান দিয়ে চলে গেল মোড়ের এক পাশ থেকে অন্য পাশে। অন্য বাহনগুলো তখনো সিগন্যালে আটকা। হঠাৎ মোটরসাইকেলগুলো টান দেওয়ায় কামাল আতাতুর্ক সরণি দিয়ে আসা গাড়িগুলোকে তাৎক্ষণিক ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। দৃশ্য-৩ : মহাখালী বাস টার্মিনালের বিপরীত দিকের সড়কটিতে তখন গাড়িগুলো চলছে থেমে থেমে। পাশের ফুটপাথটি কিছুটা উঁচু। কিছুদূর গিয়ে ফুটপাথের ঢালু অংশ পেয়েই সাই করে ফুটপাথে উঠে গেল একটি মোটরসাইকেল। পেছনে থাকা মোটরসাইকেলগুলোর দু-একটি বাদে বাকিগুলোও একই পথ ধরল। ফুটপাথে থাকা পথচারীদের কেউ কেউ সরে গিয়ে মোটরসাইকেলগুলোকে জায়গা করে দেয়, কেউ ছুড়ে দেয় গালি। দৃশ্য-৪ : তেজগাঁওয়ের আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দ্বিমুখী সড়কটিতে নেই কোনো বিভাজক। যানজট এড়াতে গাড়িগুলো নিজ দায়িত্বে লেন মেনে চলে। গত সোমবার দুপুরে সড়কটিতে গাড়ির চাকা থমকে যায়। এগিয়ে গিয়ে সড়ক ভবনে যাওয়ার সংযোগ সড়কের মুখে (ত্রিমুখী রাস্তা) দেখা গেল, উভয় লেনই বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি মোটরসাইকেলের কারণে। বিপরীত দিক দিয়ে আসা গাড়িগুলোর সামনে-পিছনে কোনো দিকেই যাওয়ার পথ নেই। যানজটে পুরো রাস্তা যখন স্থবির তখনো উল্টো লেন দিয়ে একের পর এক মোটরসাইকেল গিয়ে জমা হচ্ছিল তিন রাস্তার মুখে। রাস্তাটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। রাজধানীতে মোটরসাইকেল বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমেই বেড়ে চলেছে দ্বিচক্রযানটির উৎপাত। যানজট এড়াতে অনেকে যেমন মোটরসাইকেল কিনছেন, তেমনি রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আয় করতে মোটরসাইকেল কিনে রাস্তায় নামছেন তার চেয়ে বেশি। এদিকে যারা রাইড শেয়ারিং করছেন তাদের বড় অংশ এসেছেন ঢাকার বাইরে থেকে। এসব চালকদের অধিকাংশের ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে বাইক চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেই। সেই সঙ্গে থাকে যাত্রীকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে নতুন যাত্রী তোলার তাগিদ। এটা করতে গিয়ে সিগন্যাল অমান্য, উল্টো লেনে বাইক ঢুকিয়ে দেওয়া, অলিগলি দিয়ে দ্রুত চালানোর পাশাপাশি যানজট এড়াতে তুলে দিচ্ছেন ফুটপাথে। ২০১৬ সাল থেকে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল যাত্রীসেবা জমে উঠলে বাইকের নিবন্ধনও বেড়ে যায়। বিআরটিএর হিসাবে, ২০১৭ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত হয় ৭৫ হাজার ২৫১টি মোটরসাইকেল, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ চার হাজার ৬৪টিতে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঢাকায় নিবন্ধিত হয় ৫০ হাজার ৫২১টি। মে পর্যন্ত ঢাকায় মোট নিবন্ধিত মোটরসাইকেল দাঁড়ায় ছয় লাখ ৬৭ হাজার ১৬২টি। এর বাইরে বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত অসংখ্য মোটরসাইকেল চলছে ঢাকার রাস্তায়।  খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাইড শেয়ারের কারণেই রাজধানীতে হু হু করে বাড়ছে মোটরবাইক। বর্তমানে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস দিতে বিআরটিএ-তে তালিকাভুক্ত আছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- পিকমি লিমিটেড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড, ওভাই সলিশনস লিমিটেড, চালডাল লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, ইজিয়ার টেকনোলজিস লিমিটেড, আকাশ টেকনোলজি লিমিটেড, সেজেস্টো লিমিটেড, সহজ লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড, বাডি লিমিটেড ও আকিজ অনলাইন লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছয় লাখের বেশি বাইক রাইড শেয়ারিং করছে। এর তিন-চতুর্থাংশই চলছে ঢাকার রাস্তায়। পাঠাওয়ের হিসাবে সারা দেশে তাদের তিন লাখের মতো বাইকার আছে যার বড় অংশ ঢাকায়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে অনেকে এসে কোনো প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন না করেও রাইড শেয়ার করছেন। মুখে ডেকে যাত্রী তুলছেন। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ২০১৭ সালে রাজধানীতে ৪৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৫৩ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়। গত বছরের প্রথম আট মাসে ৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের মৃত্যু হয়। সড়কে বাইকারদের স্বেচ্ছাচারিতায় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। এদিকে গত মার্চে ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহের সাত দিনে ঢাকায় ৪৮ হাজার ৩০৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০ ধরনের যানবাহনের মধ্যে শুধু মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১৯ হাজার ৬০৯টি যা মোট মামলার ৪০ শতাংশের বেশি। এসব মামলার বেশিরভাগই হয় হেলমেট, ইন্স্যুরেন্স ও বাইকের কাগজপত্র না থাকার জন্য। সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হলে মোটরসাইকেলের নৈরাজ্য কমত বলে মনে করছেন পথচারী থেকে খোঁদ পুলিশেরই অনেক সদস্য।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com