মূল্য তালিকায় এক বিক্রয় আরেক কারসাজিতে চলছে অতি মুনাফা!

চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছ তালুকদার। নিত্যপণ্যের বাজার করেন নিকটস্থ বহদ্দারহাটের পূবালী স্টোর থেকে। ইফতারির জন্য গতকাল বিকালে ৫ কেজি ছোলা, ৫ কেজি চিনি, ৫ কেজি পিয়াজ, ১ কেজি রসুন, ৮ লিটার পুষ্টি রাইচ ব্রান্ডের সয়াবিন, ২ কেজি মসুর ডালসহ নানা নিত্যপণ্য কিনেন তিনি।
এরমধ্যে ছোলা প্রতিকেজি ৭৫ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, পিয়াজ ২৪ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, সয়াবিন প্রতি লিটার ১০২ টাকা, মসুর ডাল প্রতিকেজি ১২০ টাকা দামে কেনেন তিনি। দাম বেশি ধরায় তা নিয়ে আপত্তি করেন ইলিয়াছ।
পাশে ঠাঙানো মূল্য তালিকা দেখিয়ে তিনি বলেন, তালিকায় পিয়াজ প্রতিকেজি ২০ টাকা, ছোলা ৫৮ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, সয়াবিন প্রতিলিটার ৭৯ টাকা, মসুর ডাল ৮৫ টাকা। সরকার নির্ধারিত এই মূল্যের বাইরে দাম নিচ্ছেন কেন?
পূবালী স্টোরের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকার যেসব জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করেছে তা আপনি খাবেন? নি¤œমানের এসব জিনিস তো গরু ছাগলে খায়। আপনাকে ভাল জিনিস দেয়া হয়েছে।

তাই দামও সেরকম রেখেছি। যে মূল্য ধরেছি তাতে আমাদের লাভ হবে সামান্যই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পণ্য বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, সব দোকানে একই রকম পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আমরা সরকারি মূল্যে পণ্য বিক্রয় করছি। ক্রেতারা তালিকা দেখে পণ্য কিনছে। তবে ভালো মানের যেসব পণ্য কিনতে চাচ্ছেন ক্রেতারা তা সেই দামে বিক্রি করা হচ্ছে না।
নগরীর কাজীর দেউরি বাজারের গরুর মাংস কিনতে আসেন জামালখান আবাসিকের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা হাবিবুল বশর। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে হাড্ডিসহ প্রতিকেজি মাংস ৫২৫ টাকা এবং হাড্ডি ছাড়া ৬০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও প্রকৃতপক্ষে হাড্ডিসহ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা ও হাড্ডি ছাড়া ৭০০ টাকা।
এরমধ্যেও হাড্ডি ছাড়া প্রতিকেজি মাংসের সঙ্গে ২০০ গ্রাম চর্বি থাকছেই। ওজনে কম থাকছে ১০০ গ্রাম। আর হাড্ডিসহ মাংসে চর্বি ও হাড্ডি ছাড়া মাংস থাকছে ২৫০-৩০০ গ্রাম মাত্র। এভাবে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, পাহাড়তলী ও ঝাউতলা বাজারসহ সবক’টি বাজারে নানা কায়দা ও কারসাজি করে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল তা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করেন। অভিযানে এবার প্রায় দোকানে মূল্য তালিকা না ঠাঙানোর জন্য জরিমানা করা হয়। এতে দোকানিরা মূল্য তালিকা ঠাঙালেও সে মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন না। তালিকায় যে মূল্য লেখা রয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি মূল্যে পণ্য চাইলে অত্যন্ত নি¤œমানের পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে। যা মানুষের পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা বিগত সময়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীদের দায়ী করতেন। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। পাইকারি বাজারে পণ্য মূল্য অনেক কম হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
খাতুনগঞ্জে চাল-তেল-চিনির পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসমাইল সওদাগরের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, এবারের রমজানে প্রকৃতপক্ষে পণ্যমূল্য তেমন বাড়েনি। তবুও পাইকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। ভালো মানের পণ্যের সঙ্গে নি¤œমানের পণ্য মিশিয়েও অতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাচ্ছি। যা মোটেও কাম্য নয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি যাতে না হয়; তার জন্য জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এরমধ্যে নানা কারসাজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাচ্ছি আমরা। ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ক্রেতা সেজে অনেক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রূপগঞ্জে বাল্য বিয়ে পন্ড করলেন এ্যাসিল্যান্ড আফিফা খাঁন

» মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা

» ঝালকাঠিতে আম্ফানে বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি নির্মাণে সেনাবাহিনী

» ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার

» বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে দোকান-শপিংমল

» করোনা পরিস্থিতি বজায় থাকলে প্রাথমিকে ঘরে বসেই পরীক্ষা

» করোনা কালীন অসহায় মানুষের পাশে মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে আইনজীবীদের নেত্রী যুথী

» এনায়েতপুরের জনপদ যমুনা নদীর তাণ্ডবে বেসামাল

» হোমনার করোনায় আক্রান্তে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ঢাকায় মৃত্যু

» হোমনায়  স্বামীসহ পালিয়েছে  করোনা আক্রান্ত নারী

 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মূল্য তালিকায় এক বিক্রয় আরেক কারসাজিতে চলছে অতি মুনাফা!

চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াছ তালুকদার। নিত্যপণ্যের বাজার করেন নিকটস্থ বহদ্দারহাটের পূবালী স্টোর থেকে। ইফতারির জন্য গতকাল বিকালে ৫ কেজি ছোলা, ৫ কেজি চিনি, ৫ কেজি পিয়াজ, ১ কেজি রসুন, ৮ লিটার পুষ্টি রাইচ ব্রান্ডের সয়াবিন, ২ কেজি মসুর ডালসহ নানা নিত্যপণ্য কিনেন তিনি।
এরমধ্যে ছোলা প্রতিকেজি ৭৫ টাকা, চিনি ৬৫ টাকা, পিয়াজ ২৪ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, সয়াবিন প্রতি লিটার ১০২ টাকা, মসুর ডাল প্রতিকেজি ১২০ টাকা দামে কেনেন তিনি। দাম বেশি ধরায় তা নিয়ে আপত্তি করেন ইলিয়াছ।
পাশে ঠাঙানো মূল্য তালিকা দেখিয়ে তিনি বলেন, তালিকায় পিয়াজ প্রতিকেজি ২০ টাকা, ছোলা ৫৮ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, সয়াবিন প্রতিলিটার ৭৯ টাকা, মসুর ডাল ৮৫ টাকা। সরকার নির্ধারিত এই মূল্যের বাইরে দাম নিচ্ছেন কেন?
পূবালী স্টোরের বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকার যেসব জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করেছে তা আপনি খাবেন? নি¤œমানের এসব জিনিস তো গরু ছাগলে খায়। আপনাকে ভাল জিনিস দেয়া হয়েছে।

তাই দামও সেরকম রেখেছি। যে মূল্য ধরেছি তাতে আমাদের লাভ হবে সামান্যই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পণ্য বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, সব দোকানে একই রকম পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আমরা সরকারি মূল্যে পণ্য বিক্রয় করছি। ক্রেতারা তালিকা দেখে পণ্য কিনছে। তবে ভালো মানের যেসব পণ্য কিনতে চাচ্ছেন ক্রেতারা তা সেই দামে বিক্রি করা হচ্ছে না।
নগরীর কাজীর দেউরি বাজারের গরুর মাংস কিনতে আসেন জামালখান আবাসিকের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা হাবিবুল বশর। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে হাড্ডিসহ প্রতিকেজি মাংস ৫২৫ টাকা এবং হাড্ডি ছাড়া ৬০০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও প্রকৃতপক্ষে হাড্ডিসহ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা ও হাড্ডি ছাড়া ৭০০ টাকা।
এরমধ্যেও হাড্ডি ছাড়া প্রতিকেজি মাংসের সঙ্গে ২০০ গ্রাম চর্বি থাকছেই। ওজনে কম থাকছে ১০০ গ্রাম। আর হাড্ডিসহ মাংসে চর্বি ও হাড্ডি ছাড়া মাংস থাকছে ২৫০-৩০০ গ্রাম মাত্র। এভাবে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, চকবাজার, পাহাড়তলী ও ঝাউতলা বাজারসহ সবক’টি বাজারে নানা কায়দা ও কারসাজি করে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল তা রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করেন। অভিযানে এবার প্রায় দোকানে মূল্য তালিকা না ঠাঙানোর জন্য জরিমানা করা হয়। এতে দোকানিরা মূল্য তালিকা ঠাঙালেও সে মূল্যে পণ্য বিক্রি করছেন না। তালিকায় যে মূল্য লেখা রয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে নিত্যপণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি মূল্যে পণ্য চাইলে অত্যন্ত নি¤œমানের পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে। যা মানুষের পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা বিগত সময়ে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য পাইকারি ব্যবসায়ীদের দায়ী করতেন। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। পাইকারি বাজারে পণ্য মূল্য অনেক কম হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
খাতুনগঞ্জে চাল-তেল-চিনির পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসমাইল সওদাগরের স্বত্বাধিকারী আবদুর রাজ্জাক বলেন, এবারের রমজানে প্রকৃতপক্ষে পণ্যমূল্য তেমন বাড়েনি। তবুও পাইকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে পণ্য বিক্রয় করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। ভালো মানের পণ্যের সঙ্গে নি¤œমানের পণ্য মিশিয়েও অতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাচ্ছি। যা মোটেও কাম্য নয় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি যাতে না হয়; তার জন্য জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এরমধ্যে নানা কারসাজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাচ্ছি আমরা। ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ক্রেতা সেজে অনেক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com