মনিরের এত সম্পদ?

এক সময় ছিলেন দোকানের সেলসম্যান। সোনা চোরাচালান, গাড়ির ব্যবসার পাশাপাশি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের প্লট দখল করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সব সরকারের আমলেই ছিল তার দাপট। মনির হোসেন থেকে নাম পাল্টে হয়ে যান ‘গোল্ডেন মনির’।

গত নভেম্বরে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর মানিলন্ডারিং আইনে করা একটি মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। বেরিয়ে আসে গোল্ডেন মনিরের সম্পদের ফিরিস্তি।

সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকে মনির হোসেনের নামে তিন কাঠার ১৯টি প্লট পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে গোল্ডেন মনির উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডে গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার এবং ১১ নম্বর সেক্টরের সাফা টাওয়ারের অন্যতম মালিক হন।

 

সিআইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকায় মনিরের ৯০ কাঠার বিভিন্ন আয়তনের প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাজউক পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট, বারিধারা জে ব্লকে সাড়ে আট কাঠা করে দুটি প্লট, খিলক্ষেতে পৌনে দুই কাঠার একটি প্লট, তুরাগের নলভোগ মৌজায় ১২ কাঠা জমি। এছাড়া গোল্ডেন মনিরের নামে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের চর রুহিতপুরে আড়াই বিঘা জমি রয়েছে। আবাসন প্রতিষ্ঠান স্বদেশ প্রপার্টিজে (বাড্ডা) মনিরের মালিকানাও রয়েছে।

 

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস তদন্তের পর মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডায় থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে সিআইডি। সংস্থাটির পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে তিনি গোল্ডেন মনিরের স্ত্রী, ছেলে, নিকটাত্মীয় ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ ইসলাম  মামলার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিকালে সিআইডির ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং আইনে মামলাটি করেছেন। মামলা নম্বর ২৪। ধারা ৪/২ ও ৪/৩।

 

এদিকে ২০ নভেম্বর গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। তারপর শুরু করেন কোকারিজের ব্যবসা। তখন লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মালামাল দেশে আনার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গে। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে বিপুল স্বর্ণ দেশে আনতেন। মনিরের মাধ্যমে অনেকে সম্পদশালী হয়েছে। নিজের স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও বোন, বোনের স্বামী, স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল শফিক ও তার ভাইসহ অনেকে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

 

সিআইডির করা মামলায় গোল্ডেন মনির, তার স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, মনিরের বোন নাসিমা আক্তার, ভগ্নিপতি মোহাম্মদ হাসান উদ্দিন খান, আরেক ভগ্নিপতি নাহিদ হাসান খান, মনিরের অটোকার সিলেকশনের জিএম আব্দুল হামিদ খান, তার অপরাধ কাজের সহযোগী ও ব্যবসায়ী পার্টনার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, মোহাম্মদ শফিকুল শফিক ও মোহাম্মদ হায়দার আলীর নাম রয়েছে এজাহারে। সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ভোকেশনালের মাঠ রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন

» নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশির গাড়ি চুরি

» এয়ার চিফ মার্শাল র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরলেন বিমানবাহিনী প্রধান

» মির্জা ফখরুল হয়তো বলবেন খালেদার করোনার জন্যও আ.লীগ দায়ী: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

» আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ,একজনের মৃত্যু

» রাজগঞ্জের ঝাঁপা উত্তরপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের চাবি হস্তান্তর ও আলোচনা সভা

» ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জেলেদের মানবেতর জীবন যাপন

» এতিম কিশোর বাঁচতে চান,অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ

» অবশেষে ফিরে এলে

» ভয়াবহ কালো জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানুন এখনই

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মনিরের এত সম্পদ?

এক সময় ছিলেন দোকানের সেলসম্যান। সোনা চোরাচালান, গাড়ির ব্যবসার পাশাপাশি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের প্লট দখল করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সব সরকারের আমলেই ছিল তার দাপট। মনির হোসেন থেকে নাম পাল্টে হয়ে যান ‘গোল্ডেন মনির’।

গত নভেম্বরে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর মানিলন্ডারিং আইনে করা একটি মামলার তদন্তে নামে সিআইডি। বেরিয়ে আসে গোল্ডেন মনিরের সম্পদের ফিরিস্তি।

সিআইডি সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকে মনির হোসেনের নামে তিন কাঠার ১৯টি প্লট পাওয়া গেছে। এছাড়া অপরাধলব্ধ আয় দিয়ে গোল্ডেন মনির উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডে গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার এবং ১১ নম্বর সেক্টরের সাফা টাওয়ারের অন্যতম মালিক হন।

 

সিআইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, ঢাকায় মনিরের ৯০ কাঠার বিভিন্ন আয়তনের প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাজউক পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি প্লট, বারিধারা জে ব্লকে সাড়ে আট কাঠা করে দুটি প্লট, খিলক্ষেতে পৌনে দুই কাঠার একটি প্লট, তুরাগের নলভোগ মৌজায় ১২ কাঠা জমি। এছাড়া গোল্ডেন মনিরের নামে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের চর রুহিতপুরে আড়াই বিঘা জমি রয়েছে। আবাসন প্রতিষ্ঠান স্বদেশ প্রপার্টিজে (বাড্ডা) মনিরের মালিকানাও রয়েছে।

 

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস তদন্তের পর মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডায় থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে সিআইডি। সংস্থাটির পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে তিনি গোল্ডেন মনিরের স্ত্রী, ছেলে, নিকটাত্মীয় ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ ইসলাম  মামলার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিকালে সিআইডির ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং আইনে মামলাটি করেছেন। মামলা নম্বর ২৪। ধারা ৪/২ ও ৪/৩।

 

এদিকে ২০ নভেম্বর গোল্ডেন মনিরকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মনির। তারপর শুরু করেন কোকারিজের ব্যবসা। তখন লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মালামাল দেশে আনার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গে। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে বিপুল স্বর্ণ দেশে আনতেন। মনিরের মাধ্যমে অনেকে সম্পদশালী হয়েছে। নিজের স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও বোন, বোনের স্বামী, স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল শফিক ও তার ভাইসহ অনেকে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

 

সিআইডির করা মামলায় গোল্ডেন মনির, তার স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, মনিরের বোন নাসিমা আক্তার, ভগ্নিপতি মোহাম্মদ হাসান উদ্দিন খান, আরেক ভগ্নিপতি নাহিদ হাসান খান, মনিরের অটোকার সিলেকশনের জিএম আব্দুল হামিদ খান, তার অপরাধ কাজের সহযোগী ও ব্যবসায়ী পার্টনার মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন, মোহাম্মদ শফিকুল শফিক ও মোহাম্মদ হায়দার আলীর নাম রয়েছে এজাহারে। সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com