ভূমিহীন দেখিয়ে বিত্তশালীদের খাস জমি বন্টন, ১৪৪ ধারা জারি.

বেনাপোলে ভূমিহীন দেখিয়ে বিত্তবান পরিবারের মধ্যে খাস জমি বরাদ্দে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবী জানিয়ে ভুক্তভোগি পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করলে ১৪৪ ধারা জারী হয়েছে।

ভুক্তভোগি পরিবার জানায়, তাদের ক্রয়কৃত ৩৭ শতাংস জমির মামলা চলাকালিন সময় ওই নায়েব অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে কয়েকজনকে এ জমি বরাদ্দ দেয়।,

জানা যায়, বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া মৌজায় তিন তলা বাড়ি থাকা সত্বেও সেই সব পরিবারকে জমি বরাদ্দ দিয়ে সরকারী নিয়ম নিতি উপেক্ষা করেছেন নায়েব আবু সাঈদ। এতে যে কোন সময় ওই জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে ওই পরিবার।

বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের আব্দুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মাহবুবুবর রহমান (পিতা আলী আকবর সফি উদ্দিন) অভিযোগ করে বলেন, তার পিতা ১৯৭৮ সালে বড় আঁচড়া মৌজায় ছোটআঁচড়া মাঠে গাতিপাড়া গ্রামের রবিউল ও সামাউল ইসলাম এর নিকট থেকে ৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমি ২৪/০৫/১৯৭৮ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রি হয়। যার খতিয়ান নং ১১০৩ আর এস নম্বর ৮৭৮,৯৭৫,৯৭৩। ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপে ওই জমি আমাদের মাঠের পর্চা দিলেও প্রিন্ট পর্চা আমাদের দেয়নি। এই সুযোগে বেনাপোল ভুমি অফিসের তহশিলদার আবু সাঈদ ৮ জনকে ওই জমি বরাদ্দ দেয় সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে। সরকারী বিধিমালায় আছে কোন জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলকালে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।তারপরও আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে আবু সাঈদ সাহেব বড় অংকের অর্থের মাধ্যেমে এ জমি বরাদ্দ দেয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে। জমির প্রিন্ট পর্চা না পাওয়ায় ওই জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা করা হয় । যার মামলা নং ৫৪/১৬ তারিখ ১৩/০৭/২০১৬ ।.

অভিযোগকারীরা আরো বলে, যে ৮ জন এর নামে জমি বরাদ্দ দিয়েছে তারা সকলে বিত্তশালী ও স্বচ্ছল পরিবারের। জমির বরাদ্দ যাদের নামে দিয়েছে তারা হলো বেনাপোল পোর্টথানার গাজিপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে শের আলী, ছোট আঁচড়া গ্রামের শের আলীর মেয়ে মনোয়ারা খাতুন, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে ছকিনা খাতুন, বড়আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেন এর ছেলে বাবু ,বড়আচড়া গ্রামের বাহাদুর হোসেনের মেয়ে বিউটি খাতুন, নামজগ্রামের আব্দুল কাদের এর ছেলে নুর ইসলাম, গাতিপাড়া গ্রামের বরকত এর মেয়ে আমেনা খাতুন, ছোটআচড়া গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে লিয়াকত আলী। এর মধ্যে শের আলীর তিন তলা একটি বাড়ি রয়েছে এবং অন্যান্য সকলের বাড়ি ও জমি আছে। আমরা এ সংক্রান্ত বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ভুমি কর্মকর্তা আবু সাঈদ এর নামে একটি সাধারন ডায়েরী করেছি। যার নাম্বার ৩২৮, তারিখ ৯/১২/১৮।

এছাড়া গত ১৪/০১/২০ ইং তারিখে বিজ্ঞ যশোর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত যাতে কোন রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ না হয় তার জন্য ১৪৪ ধারা জারী করেছে। আমরা ওই ৩৭ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসছি।.

বেনাপোল ভুমি অফিসের কর্মকর্তা আবু সাইদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তাদের নামে কোন জমি নেই। সরকারী বিধি মালা অনুযায়ী ভুমিহীনদের মাঝে এসব জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।.

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» করোনাকালেও আসছে নতুন নতুন ই-কমার্স

» হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বর্ণ-আইফোনসহ ‘চোরাকারবারি’ আটক

» বাসযাত্রীর টুপিতে ১৩০০ ইয়াবা উদ্ধার

» চট্টগ্রামে কয়েকটি কেন্দ্র বাদে ভালো নির্বাচন হয়েছে: ইসি সচিব

» ৩ বারের কাউন্সিলর এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

» কাবা শরীফ ও চাঁদের বিরল দৃশ্য দেখা যাবে বৃহস্পতিবার

» তারুণ্যের পরিকল্পনায় গড়ে উঠবে পরিকল্পিত ফেনী শহর, আ.লীগের ইশতেহার ঘোষণা

» ‘ভালো না লাগা’ রোগের ভ্যাকসিন আছে কি না জানি না: প্রধানমন্ত্রী

» মালয়েশিয়ায় রাজগঞ্জের এক যুবকের ইন্তেকাল

» ফুলপুর পৌর নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্ধঃ প্রতীকের পক্ষে প্রার্থীদের শোডাউন

<script async src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”></script>
<ins class=”adsbygoogle”
style=”display:block”
data-ad-format=”fluid”
data-ad-layout-key=”-ef+6k-30-ac+ty”
data-ad-client=”ca-pub-6746894633655595″
data-ad-slot=”3184959554″></ins>
<script>
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
</script>

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ভূমিহীন দেখিয়ে বিত্তশালীদের খাস জমি বন্টন, ১৪৪ ধারা জারি.

বেনাপোলে ভূমিহীন দেখিয়ে বিত্তবান পরিবারের মধ্যে খাস জমি বরাদ্দে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে বেনাপোল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবী জানিয়ে ভুক্তভোগি পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করলে ১৪৪ ধারা জারী হয়েছে।

ভুক্তভোগি পরিবার জানায়, তাদের ক্রয়কৃত ৩৭ শতাংস জমির মামলা চলাকালিন সময় ওই নায়েব অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে কয়েকজনকে এ জমি বরাদ্দ দেয়।,

জানা যায়, বেনাপোল পোর্ট থানার বড়আঁচড়া মৌজায় তিন তলা বাড়ি থাকা সত্বেও সেই সব পরিবারকে জমি বরাদ্দ দিয়ে সরকারী নিয়ম নিতি উপেক্ষা করেছেন নায়েব আবু সাঈদ। এতে যে কোন সময় ওই জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে ওই পরিবার।

বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের আব্দুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মাহবুবুবর রহমান (পিতা আলী আকবর সফি উদ্দিন) অভিযোগ করে বলেন, তার পিতা ১৯৭৮ সালে বড় আঁচড়া মৌজায় ছোটআঁচড়া মাঠে গাতিপাড়া গ্রামের রবিউল ও সামাউল ইসলাম এর নিকট থেকে ৩৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমি ২৪/০৫/১৯৭৮ ইং তারিখে রেজিষ্ট্রি হয়। যার খতিয়ান নং ১১০৩ আর এস নম্বর ৮৭৮,৯৭৫,৯৭৩। ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপে ওই জমি আমাদের মাঠের পর্চা দিলেও প্রিন্ট পর্চা আমাদের দেয়নি। এই সুযোগে বেনাপোল ভুমি অফিসের তহশিলদার আবু সাঈদ ৮ জনকে ওই জমি বরাদ্দ দেয় সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে। সরকারী বিধিমালায় আছে কোন জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলকালে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।তারপরও আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে আবু সাঈদ সাহেব বড় অংকের অর্থের মাধ্যেমে এ জমি বরাদ্দ দেয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে। জমির প্রিন্ট পর্চা না পাওয়ায় ওই জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা করা হয় । যার মামলা নং ৫৪/১৬ তারিখ ১৩/০৭/২০১৬ ।.

অভিযোগকারীরা আরো বলে, যে ৮ জন এর নামে জমি বরাদ্দ দিয়েছে তারা সকলে বিত্তশালী ও স্বচ্ছল পরিবারের। জমির বরাদ্দ যাদের নামে দিয়েছে তারা হলো বেনাপোল পোর্টথানার গাজিপুর গ্রামের রজব আলীর ছেলে শের আলী, ছোট আঁচড়া গ্রামের শের আলীর মেয়ে মনোয়ারা খাতুন, একই গ্রামের লিয়াকত আলীর মেয়ে ছকিনা খাতুন, বড়আঁচড়া গ্রামের মনির হোসেন এর ছেলে বাবু ,বড়আচড়া গ্রামের বাহাদুর হোসেনের মেয়ে বিউটি খাতুন, নামজগ্রামের আব্দুল কাদের এর ছেলে নুর ইসলাম, গাতিপাড়া গ্রামের বরকত এর মেয়ে আমেনা খাতুন, ছোটআচড়া গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে লিয়াকত আলী। এর মধ্যে শের আলীর তিন তলা একটি বাড়ি রয়েছে এবং অন্যান্য সকলের বাড়ি ও জমি আছে। আমরা এ সংক্রান্ত বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় ভুমি কর্মকর্তা আবু সাঈদ এর নামে একটি সাধারন ডায়েরী করেছি। যার নাম্বার ৩২৮, তারিখ ৯/১২/১৮।

এছাড়া গত ১৪/০১/২০ ইং তারিখে বিজ্ঞ যশোর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত যাতে কোন রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ না হয় তার জন্য ১৪৪ ধারা জারী করেছে। আমরা ওই ৩৭ শতাংশ জমি ১৯৭৮ সাল থেকে ভোগ দখল করে আসছি।.

বেনাপোল ভুমি অফিসের কর্মকর্তা আবু সাইদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তাদের নামে কোন জমি নেই। সরকারী বিধি মালা অনুযায়ী ভুমিহীনদের মাঝে এসব জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।.

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com