15 August shok banner

ভাইরাল ব্যালে বালিকা ইরা

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এক বালিকা হাত-পা ছুড়ে শূন্যে ভেসে চলেছে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যসহ কয়েকটি স্থান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। আক্ষরিক অর্থেই এখন প্রশংসার হাওয়ায় ভাসছে ছবিগুলো।

 

এ ছবিগুলো এক ধরনের নাচ। নাচের এ ধরনকে বলে ব্যালে। ব্যালে-জিমনেস্টির সমন্বয়ে এ নাচ। এক ধরনের নৃত্যকলা। এখানে নাচের সঙ্গে অভিনয় এবং সংগীতের অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। শাবিপ্রবির চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে পোস্টার থাকায় অনেকে বিষয়টি আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে ছবিগুলোর ক্যাপশনে জুড়ে দিচ্ছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী পঙ্ক্তিমালা।

 

ছবির বালিকাটির নাম মোবাসশিরা কামাল ইরা। নাচ নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি। নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার বটতলী মোড় সংলগ্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের আবু হায়াত মোহাম্মদ কামাল ও ফাহমিদা আক্তার দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে তৃতীয় মোবাসশিরা কামাল ইরা। বাবা একজন স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী। বড় দুই বোন আলাদা প্রতিভার অধিকারী। নওগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় বর্ষে বাণিজ্য শাখায় পড়ছেন তিনি।

২০২০ সালে নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দেশের সীমান্তবর্তী মফস্বল নওগাঁ শহর থেকে পড়ালেখা ও অনুশীলন করে সাফল্য এনেছেন অনেক। ছোট থেকেই ছিলেন অদম্য মেধাবী ও চঞ্চল প্রকৃতির। বরাবরই নাচ করতে ভালোবাসেন ইরা। শৈশবে নাচের শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছেন। পরে ঢাকায় ভরতনাট্যমে নাচ শেখেন। তবে ব্যালে নৃত্যের ভাবনা মনে ঠাঁই নেয় ২০২০ সালে লকডাউনের সময়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিখতে শুরু করেন ব্যালে। ব্যালে-জিমন্যাস্টিক মিলিয়ে পারফরম করেন। এ জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এরপর ২০২১ থেকে সাধনা সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন।

 

জয়িতা আফরিন একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার। থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। মোবাসশিরা কামাল ইরা ঢাকায় গিয়েছিলেন শিল্পকলার ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নৃত্য উৎসবে। ফটোগ্রাফির আলাদা একটা অর্থ তৈরি করার চিন্তা করছিলেন তিনি। গত ২৩ জানুয়ারি সকালে ইরাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এমন সময় চোখে পড়ে রাজু ভাস্কর্যে পাশে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনের প্লাকার্ড সাঁটানো। সেখানে কয়েকটি ফটোশুট করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। সে ছবিগুলো অসংখ্য মানুষ শেয়ার দিচ্ছেন। তার সেই ফটোগ্রাফি মুহূর্তে ভাইরাল হয় ফেসবুকে।

 

ব্যালে বালিকা মোবাসশিরা কামাল ইরা বলেন, ৫-৬ বছর বয়স থেকেই নাচের শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছি। ২০২০ সালে এসএসসি পাস করলাম। সে সময় সাশ্রয়ী নৃত্য ও ভরতনাট্য নিয়ে ভারতে গিয়ে কিছু শেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন শুরু হয়। এতে মন খারাপ হয়ে যায়। তখন ভাবলাম আমার দ্বারা কিছু হবে না বা কিছুই করতে পারব না- এমন চিন্তাধারা মনের মধ্যে আসে। তখন মা পরামর্শ দিলেন ইন্টারনেট থেকে ইউটিউব দেখে ঘরে বসে নাচ করতে। বলা যায় ইন্টারনেট দেখেই ‘ব্যালে’ শেখা। সব সময় ইচ্ছা ছিল নতুন কিছু শেখা। বাংলাদেশে ব্যালে করে এমন শিল্পী খুবই কম আছে। কিন্তু দেশের বাইরে ব্যালের ব্যাপক ব্যবহার আছে। আমার ইচ্ছা আছে ব্যালে নিয়ে কাজ করা।

 

মফস্বল থেকে ব্যালে শেখার প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে ইরা বলেন, মফস্বল থেকে কাজ করাটা অনেক কঠিন ছিল। ঢাকার মতো জায়গাতেও ব্যালে খুব একটা সচরাচর নেই। বাসায় প্র্যাকটিস করার মতো জায়গা ছিল না। মা ড্রয়িং রুম ফাঁকা করে সেখানে প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে মেঝেতে প্র্যাকটিস শুরু করলাম। পরে ইয়োগো ম্যাটসের ব্যবস্থা করা হলো। আস্তে আস্তে প্র্যাকটিস করতে গিয়ে এক সময় অভ্যাসে পরিণত হলো। তবে অনেকেই আমার নাচ ভালোভাবে নিত না। আবার অনেকেই উৎসাব জুগিয়েছেন। তবে বলা চলে সব মিলিয়ে পুরো যাত্রা ভালো হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই মা আমাকে সার্বক্ষণিক সমর্থন দিয়েছেন ও সহযোগিতা করছেন এবং পাশে থেকেছেন। বাবা-মা সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যালের ছবি এত ভাইরাল হবে যা ছিল কল্পনাতীত ও প্রশংসনীয়। লকডাউনের সময়ে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে আপলোড করতাম। সেখান থেকে সাগর দেবনাথ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার ইচ্ছা ছিল এ ধরনের (ব্যালে) ফটোশুট নিয়ে কাজ করার। আমিও সমর্থন দিলাম। তারপর ঢাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে কিছু ফটোশুট করলাম। তারপর জয়িতা আফরিন আপু ছবিগুলো দেখেন এবং তিনিও এ ধরনের ছবি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। গত বছরের ২ নভেম্বর ধানমন্ডির লেকের পাড়ে ফটোশুট করা হয়। সেই ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোডের পর মোটামুটি ভালো একটা সাড়া পাওয়া যায়। তারপর থেকে ঢাকার বিখ্যাত বিভিন্ন জায়গায় ফটোশুট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে ইরা বলেন, ভালোভাবে পড়াশোনা করে এইচএসসি পাস করতে চাই যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। সেখানে নাচ নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। যেন নাচের মাধ্যমে কথা বুঝাতে পারি। কথা দিয়ে নাচ না। আমাদের চলার অঙ্গভঙ্গি সবখানেই নাচের ব্যবহার আছে। নাচকে সমৃদ্ধ করে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমাদের নাচের সংস্কৃতিকে বাইরের দেশে এবং বাইরের নাচের সংস্কৃতিকে দেশে পরিচিত করতে চাই। এ দুইয়ের সংমিশ্রণে নতুন একটা প্লাটফরম তৈরি করতে চাই।সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন করলেন রোনালদো

» রাজনীতিতে জনবিচ্ছিন্নদের ৭ দলীয় জোট গুরুত্বহীন: তথ্য ও সম্প্রচার

» যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের ঊর্ধ্ব সোপানে এগিয়ে যাবেই-ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

» নওগাঁয় ডিবি’র অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ আটক-২

» ইসলামপুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক উদ্বোধন 

» মাসখানেক পর সব ঠিক হয়ে যাবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

» জিএম কাদেরের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

» হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল মারা গেছেন

» কালো শাড়িতে নজর কাড়লেন শ্রাবন্তী, নেটিজেনরা বললেন- মনটা সাদা তো?

» নিরাপদে বাড়ি ফেরার গ্যারান্টি নেই: মির্জা ফখরুল

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ভাইরাল ব্যালে বালিকা ইরা

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এক বালিকা হাত-পা ছুড়ে শূন্যে ভেসে চলেছে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যসহ কয়েকটি স্থান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়েছে। আক্ষরিক অর্থেই এখন প্রশংসার হাওয়ায় ভাসছে ছবিগুলো।

 

এ ছবিগুলো এক ধরনের নাচ। নাচের এ ধরনকে বলে ব্যালে। ব্যালে-জিমনেস্টির সমন্বয়ে এ নাচ। এক ধরনের নৃত্যকলা। এখানে নাচের সঙ্গে অভিনয় এবং সংগীতের অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। শাবিপ্রবির চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে পোস্টার থাকায় অনেকে বিষয়টি আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে ছবিগুলোর ক্যাপশনে জুড়ে দিচ্ছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী পঙ্ক্তিমালা।

 

ছবির বালিকাটির নাম মোবাসশিরা কামাল ইরা। নাচ নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি। নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর মহল্লার বটতলী মোড় সংলগ্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের আবু হায়াত মোহাম্মদ কামাল ও ফাহমিদা আক্তার দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে তৃতীয় মোবাসশিরা কামাল ইরা। বাবা একজন স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী। বড় দুই বোন আলাদা প্রতিভার অধিকারী। নওগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় বর্ষে বাণিজ্য শাখায় পড়ছেন তিনি।

২০২০ সালে নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দেশের সীমান্তবর্তী মফস্বল নওগাঁ শহর থেকে পড়ালেখা ও অনুশীলন করে সাফল্য এনেছেন অনেক। ছোট থেকেই ছিলেন অদম্য মেধাবী ও চঞ্চল প্রকৃতির। বরাবরই নাচ করতে ভালোবাসেন ইরা। শৈশবে নাচের শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছেন। পরে ঢাকায় ভরতনাট্যমে নাচ শেখেন। তবে ব্যালে নৃত্যের ভাবনা মনে ঠাঁই নেয় ২০২০ সালে লকডাউনের সময়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিখতে শুরু করেন ব্যালে। ব্যালে-জিমন্যাস্টিক মিলিয়ে পারফরম করেন। এ জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এরপর ২০২১ থেকে সাধনা সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন।

 

জয়িতা আফরিন একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার। থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। মোবাসশিরা কামাল ইরা ঢাকায় গিয়েছিলেন শিল্পকলার ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি নৃত্য উৎসবে। ফটোগ্রাফির আলাদা একটা অর্থ তৈরি করার চিন্তা করছিলেন তিনি। গত ২৩ জানুয়ারি সকালে ইরাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এমন সময় চোখে পড়ে রাজু ভাস্কর্যে পাশে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনের প্লাকার্ড সাঁটানো। সেখানে কয়েকটি ফটোশুট করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। সে ছবিগুলো অসংখ্য মানুষ শেয়ার দিচ্ছেন। তার সেই ফটোগ্রাফি মুহূর্তে ভাইরাল হয় ফেসবুকে।

 

ব্যালে বালিকা মোবাসশিরা কামাল ইরা বলেন, ৫-৬ বছর বয়স থেকেই নাচের শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছি। ২০২০ সালে এসএসসি পাস করলাম। সে সময় সাশ্রয়ী নৃত্য ও ভরতনাট্য নিয়ে ভারতে গিয়ে কিছু শেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন শুরু হয়। এতে মন খারাপ হয়ে যায়। তখন ভাবলাম আমার দ্বারা কিছু হবে না বা কিছুই করতে পারব না- এমন চিন্তাধারা মনের মধ্যে আসে। তখন মা পরামর্শ দিলেন ইন্টারনেট থেকে ইউটিউব দেখে ঘরে বসে নাচ করতে। বলা যায় ইন্টারনেট দেখেই ‘ব্যালে’ শেখা। সব সময় ইচ্ছা ছিল নতুন কিছু শেখা। বাংলাদেশে ব্যালে করে এমন শিল্পী খুবই কম আছে। কিন্তু দেশের বাইরে ব্যালের ব্যাপক ব্যবহার আছে। আমার ইচ্ছা আছে ব্যালে নিয়ে কাজ করা।

 

মফস্বল থেকে ব্যালে শেখার প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে ইরা বলেন, মফস্বল থেকে কাজ করাটা অনেক কঠিন ছিল। ঢাকার মতো জায়গাতেও ব্যালে খুব একটা সচরাচর নেই। বাসায় প্র্যাকটিস করার মতো জায়গা ছিল না। মা ড্রয়িং রুম ফাঁকা করে সেখানে প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে মেঝেতে প্র্যাকটিস শুরু করলাম। পরে ইয়োগো ম্যাটসের ব্যবস্থা করা হলো। আস্তে আস্তে প্র্যাকটিস করতে গিয়ে এক সময় অভ্যাসে পরিণত হলো। তবে অনেকেই আমার নাচ ভালোভাবে নিত না। আবার অনেকেই উৎসাব জুগিয়েছেন। তবে বলা চলে সব মিলিয়ে পুরো যাত্রা ভালো হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই মা আমাকে সার্বক্ষণিক সমর্থন দিয়েছেন ও সহযোগিতা করছেন এবং পাশে থেকেছেন। বাবা-মা সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যালের ছবি এত ভাইরাল হবে যা ছিল কল্পনাতীত ও প্রশংসনীয়। লকডাউনের সময়ে ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে আপলোড করতাম। সেখান থেকে সাগর দেবনাথ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার ইচ্ছা ছিল এ ধরনের (ব্যালে) ফটোশুট নিয়ে কাজ করার। আমিও সমর্থন দিলাম। তারপর ঢাকায় যমুনা ফিউচার পার্কে কিছু ফটোশুট করলাম। তারপর জয়িতা আফরিন আপু ছবিগুলো দেখেন এবং তিনিও এ ধরনের ছবি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। গত বছরের ২ নভেম্বর ধানমন্ডির লেকের পাড়ে ফটোশুট করা হয়। সেই ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোডের পর মোটামুটি ভালো একটা সাড়া পাওয়া যায়। তারপর থেকে ঢাকার বিখ্যাত বিভিন্ন জায়গায় ফটোশুট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে ইরা বলেন, ভালোভাবে পড়াশোনা করে এইচএসসি পাস করতে চাই যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। সেখানে নাচ নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। যেন নাচের মাধ্যমে কথা বুঝাতে পারি। কথা দিয়ে নাচ না। আমাদের চলার অঙ্গভঙ্গি সবখানেই নাচের ব্যবহার আছে। নাচকে সমৃদ্ধ করে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমাদের নাচের সংস্কৃতিকে বাইরের দেশে এবং বাইরের নাচের সংস্কৃতিকে দেশে পরিচিত করতে চাই। এ দুইয়ের সংমিশ্রণে নতুন একটা প্লাটফরম তৈরি করতে চাই।সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com