ফুটপাথেও হাঁটার নেই উপায়

সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে বাস থেকে নামলেন ষাটোর্ধ্ব আমিনুল হক। হাতের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ১০/১২ ফুট হাঁটলেন। ফুটপাথ ধরে হাঁটার পথে কয়েকজনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কের পাশেই বসে পড়লেন। মিনিট খানেক পর ফের বাসে ওঠেন। বাস চলতে লাগলো। কয়েকবার চাকা ঘুরতেই থেমে গেল বাস। সড়কে অবস্থান করা সামনের রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনগুলোও থেমে গেছে।

সড়কে যানজট। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে অনেকেই বাস থেকে নেমে গেছেন। আমিনুল হকও  ফের বাস থেকে নামেন। ফুটপাথ ধরে হাঁটেন। আবার থমকে দাঁড়ান। বারবার পথচারীদের ধাক্কা সহ্য করেন। তার চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ। শুধু আমিনুল হকই নন। ঢাকার সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মানুষের প্রতিদিনের নিয়তিই এমন। তীব্র যানজটে গাড়ি চলে না। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার মতো অবস্থাও নেই।

আলেয়া বিবি। জরুরি কাজে চাঁদপুর যাবেন তিনি। রামপুরা থেকে সকাল ১১টায় রওনা করে দেড় ঘণ্টায়  পল্টন পর্যন্ত পৌঁছান। ভিক্টর বাসে বসে মোবাইল ফোনে ছেলেকে বলছেন- ঢাকার অবস্থা খুবই খারাপ। বাসের মধ্যে বসে আছি। রোজা আর গরমে অস্থির লাগছে। গাড়ি চলে না। হেঁটেও যাওয়া যাবে না। ফুটপাথে দোকান বসেছে। হাঁটার জায়গা কই। ঢাকায় যদি হেঁটে যাওয়ার মতো পথ থাকতো তাহলে কি এতোক্ষণ গাড়ির মধ্যে বসে থাকি?

আলেয়া বিবির মতো ঢাকার সড়কে পথচলা মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এখন নিত্যদিনের। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তীব্র যানজট।

 

প্রধান প্রধান সড়কের প্রতিটি সিগন্যালে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিবহন আটকে থাকতে দেখা গেছে।  এদিকে পথচারীদের চলাচলের একমাত্র ফুটপাথও দখলে। রাজধানীর ফুটপাথ নিয়ে চলছে ব্যবসা। ছোট  ছোট দোকান বসিয়ে পথরোধ করে রাখছেন এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাথ কিছুটা উন্মুক্ত থাকলেও তীব্র যানজটের কারণে মোটরবাইক, রিকশা, বাইসাইকেল ফুটপাথ দিয়েই চলাচল করছে। অনেক সময় পথচারীদের গায়ে লাগিয়ে এসব যানচলাচল করতে দেখা গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ফুটপাথ টাইল্‌স বসিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন করা হলেও সেসব স্থান মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে ফুটপাথ দখল করে নিচ্ছেন। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানীর বেশক’টি জায়গায় ফুটপাথ দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ট্রাফিক পুলিশ বক্সও। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, জিপিও, দিলকুশা এলাকার ফুটপাথ দখল হয়েছে বহু বছর আগেই। কয়েক যুগ ধরে এখানে হরেক পণ্যের স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় ফুটপাথ দিয়ে চলাচল দুঃসাধ্য। ফুটপাথ ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপরও বসছে বিভিন্ন পণ্যের পসরা। ফলে পথচারীদের ভোগান্তি আর সড়কের যানজট তীব্র হলেও প্রতিকার নেই। সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট দোকান বসায় বিভিন্ন এলাকার রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে সড়কে বাড়ছে যানজট। জাতীয় ঈদগাহ্‌ সংলগ্ন কদম ফোয়ারা থেকে পল্টন, গুলিস্তান এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই থাকে যানজট। ফলে কয়েশ’ মিটার রাস্তা গাড়িতে অতিক্রম করতে লাগে ৩০ মিনিটের বেশি। যেখানে হেঁটে গেলে লাগার কথা ৪ থেকে ৫ মিনিট। তবে হেঁটে যাওয়ার সময় ফুটপাথ সেখানে নেই। পল্টন থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তা দিয়ে রাস্তা পার হওয়া কষ্টকর। বারবার উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজের শুরু থেকে ওপর পর্যন্ত এবং ফুটপাথের পুরোটাই বেশির ভাগ সময় থাকে হকারদের দখলে। কিছু কিছু দোকান রাস্তার ওপরই রীতিমতো ‘স্থায়ী’ রূপ নেয়। বাহারি রকমের ফল, কার্পেট, কম্বল, বই, স্টেশনারি- এমন কিছু নেই যা এখানে বিক্রি হয় না। এসব দোকানের সামনের ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে গন্তব্যে যেতে কয়েকশ’ মিটার পাড়ি দেয়া কয়েক কিলোমিটারের ভোগান্তির সমান। দিনের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাথগুলো হকার ও ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। ফলে পথচারীরা ফুটপাথ ব্যবহার করার ইচ্ছা থাকলেও পারছেন না। গুলিস্তানে কথা হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সরকারকে ট্যাক্স  দেই। আমাদের টাকায় ফুটপাথ বানানো হয়েছে। অথচ সেখানে আমরা হাঁটার সুযোগ পাচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

রাজধানীর সবচেয়ে পরিপাটি প্রশস্ত রাস্তাগুলোর একটি মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদের সামনের রাস্তা)। সেখানেই দেখা যায় যানজট।

 

গতকাল দুপুরে খামারবাড়ী এলাকায় যানজট দেখা যায়। যা সংসদ ভবনের সামনের অংশ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। প্রায় ৩০ মিনিটের বেশি সময় খামারবাড়ীর যানজট লেগে থাকে। ফলে গণপরিবহনে থাকা যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যান। এতেই পড়েন বিপাকে। ওই এলাকার ফুটপাথও হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের চাপে খামারবাড়ী ও ফার্মগেট এলাকায় ভিড় দেখা গেছে। সরজমিন দেখা যায়, খামারবাড়ী মোড়েই সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে কয়েকজন মেকার সাইকেল মেরামত করছেন। পাশেই সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার ভ্যান সাজানো রয়েছে। খামারবাড়ী থেকে ফার্মগেটের দিকে এগুতেই দেখা যায়, ফুটপাথ ও রাস্তার পাশে আঁখের ভ্যান, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান। ফলে রাস্তা হয়েছে সঙ্কুুচিত, ফুটপাথ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফুটপাথেই বসছে বই-খাতাসহ বিভিন্ন স্টেশনারি আইটেমসহ হরেক রকমের ইফতারের আইটেম বিক্রি করছেন হকাররা। আরেকটু সামনে এগিয়ে এলেই ফার্মগেট কাঁচাবাজার। চলাচলের জন্য রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে বসানো হয়েছে এ বাজার। ফলে ওই এলাকা ধরে যারা যাতায়াত করছেন তাদের প্রত্যেককেই প্রতিনিয়তই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ২ থেকে ৩ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট লেগে যাচ্ছে।  ফার্মগেট এলাকার প্রায় শতভাগ ফুটপাথ হকারদের দখলে। যেখানে প্রায় হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। এসব দোকানকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এতে পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই ফার্মগেটের যানজটকে ফুটপাথ দখলের জন্য বলেও দায়ী করছেন। ফলে রাস্তায় গণপরিবহন যানজটের কবলে পড়ে কচ্ছপের গতিতে এগুচ্ছে। এদিকে ফুটপাথের অবস্থাও বেহাল, ফুটপাথ থেকেও যেন নেই। ম্যানহোলের ঢাকনাগুলোর স্থানে স্থানে এমনভাবে খোঁড়া হয়েছে, সেখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো কোনো উপায় নেই। কোনো কোনো স্থান থেকে আবার উঁচু পাইপ বেরিয়ে এসেছে, ফুটপাথের ভাঙা টাইল্‌সসহ ধুলোবালি তো রয়েছেই।  সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» শিক্ষার্থীরা না বুঝেই কোটা নিয়ে আন্দোলন করছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অপরাধে ১৩জন গ্রেপ্তার

» কোটাবিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার ইচ্ছা নেই : কাদের

» দেশের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী : প্রধানমন্ত্রী

» বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

» জমি থেকে বৃষ্টির পানি বের করতে গেলে কৃষকে কাদায় ফেলে হত্যা

» সীমান্ত পারাপার রোমানিয়ায় আটক ৭৩৫, শীর্ষে বাংলাদেশিরা

» ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলই থাকছে

» জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী খুন

» দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ফুটপাথেও হাঁটার নেই উপায়

সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে বাস থেকে নামলেন ষাটোর্ধ্ব আমিনুল হক। হাতের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ১০/১২ ফুট হাঁটলেন। ফুটপাথ ধরে হাঁটার পথে কয়েকজনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কের পাশেই বসে পড়লেন। মিনিট খানেক পর ফের বাসে ওঠেন। বাস চলতে লাগলো। কয়েকবার চাকা ঘুরতেই থেমে গেল বাস। সড়কে অবস্থান করা সামনের রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনগুলোও থেমে গেছে।

সড়কে যানজট। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে অনেকেই বাস থেকে নেমে গেছেন। আমিনুল হকও  ফের বাস থেকে নামেন। ফুটপাথ ধরে হাঁটেন। আবার থমকে দাঁড়ান। বারবার পথচারীদের ধাক্কা সহ্য করেন। তার চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ। শুধু আমিনুল হকই নন। ঢাকার সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মানুষের প্রতিদিনের নিয়তিই এমন। তীব্র যানজটে গাড়ি চলে না। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার মতো অবস্থাও নেই।

আলেয়া বিবি। জরুরি কাজে চাঁদপুর যাবেন তিনি। রামপুরা থেকে সকাল ১১টায় রওনা করে দেড় ঘণ্টায়  পল্টন পর্যন্ত পৌঁছান। ভিক্টর বাসে বসে মোবাইল ফোনে ছেলেকে বলছেন- ঢাকার অবস্থা খুবই খারাপ। বাসের মধ্যে বসে আছি। রোজা আর গরমে অস্থির লাগছে। গাড়ি চলে না। হেঁটেও যাওয়া যাবে না। ফুটপাথে দোকান বসেছে। হাঁটার জায়গা কই। ঢাকায় যদি হেঁটে যাওয়ার মতো পথ থাকতো তাহলে কি এতোক্ষণ গাড়ির মধ্যে বসে থাকি?

আলেয়া বিবির মতো ঢাকার সড়কে পথচলা মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এখন নিত্যদিনের। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে তীব্র যানজট।

 

প্রধান প্রধান সড়কের প্রতিটি সিগন্যালে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিবহন আটকে থাকতে দেখা গেছে।  এদিকে পথচারীদের চলাচলের একমাত্র ফুটপাথও দখলে। রাজধানীর ফুটপাথ নিয়ে চলছে ব্যবসা। ছোট  ছোট দোকান বসিয়ে পথরোধ করে রাখছেন এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাথ কিছুটা উন্মুক্ত থাকলেও তীব্র যানজটের কারণে মোটরবাইক, রিকশা, বাইসাইকেল ফুটপাথ দিয়েই চলাচল করছে। অনেক সময় পথচারীদের গায়ে লাগিয়ে এসব যানচলাচল করতে দেখা গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ফুটপাথ টাইল্‌স বসিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন করা হলেও সেসব স্থান মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে ফুটপাথ দখল করে নিচ্ছেন। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজধানীর বেশক’টি জায়গায় ফুটপাথ দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ট্রাফিক পুলিশ বক্সও। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, জিপিও, দিলকুশা এলাকার ফুটপাথ দখল হয়েছে বহু বছর আগেই। কয়েক যুগ ধরে এখানে হরেক পণ্যের স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় ফুটপাথ দিয়ে চলাচল দুঃসাধ্য। ফুটপাথ ছাড়িয়ে মূল সড়কের ওপরও বসছে বিভিন্ন পণ্যের পসরা। ফলে পথচারীদের ভোগান্তি আর সড়কের যানজট তীব্র হলেও প্রতিকার নেই। সড়কের ওপর সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট দোকান বসায় বিভিন্ন এলাকার রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এতে সড়কে বাড়ছে যানজট। জাতীয় ঈদগাহ্‌ সংলগ্ন কদম ফোয়ারা থেকে পল্টন, গুলিস্তান এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময়ই থাকে যানজট। ফলে কয়েশ’ মিটার রাস্তা গাড়িতে অতিক্রম করতে লাগে ৩০ মিনিটের বেশি। যেখানে হেঁটে গেলে লাগার কথা ৪ থেকে ৫ মিনিট। তবে হেঁটে যাওয়ার সময় ফুটপাথ সেখানে নেই। পল্টন থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তা দিয়ে রাস্তা পার হওয়া কষ্টকর। বারবার উচ্ছেদ অভিযান সত্ত্বেও ফুটওভার ব্রিজের শুরু থেকে ওপর পর্যন্ত এবং ফুটপাথের পুরোটাই বেশির ভাগ সময় থাকে হকারদের দখলে। কিছু কিছু দোকান রাস্তার ওপরই রীতিমতো ‘স্থায়ী’ রূপ নেয়। বাহারি রকমের ফল, কার্পেট, কম্বল, বই, স্টেশনারি- এমন কিছু নেই যা এখানে বিক্রি হয় না। এসব দোকানের সামনের ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে গন্তব্যে যেতে কয়েকশ’ মিটার পাড়ি দেয়া কয়েক কিলোমিটারের ভোগান্তির সমান। দিনের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাথগুলো হকার ও ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যায়। ফলে পথচারীরা ফুটপাথ ব্যবহার করার ইচ্ছা থাকলেও পারছেন না। গুলিস্তানে কথা হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সরকারকে ট্যাক্স  দেই। আমাদের টাকায় ফুটপাথ বানানো হয়েছে। অথচ সেখানে আমরা হাঁটার সুযোগ পাচ্ছি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

রাজধানীর সবচেয়ে পরিপাটি প্রশস্ত রাস্তাগুলোর একটি মানিক মিয়া এভিনিউ (সংসদের সামনের রাস্তা)। সেখানেই দেখা যায় যানজট।

 

গতকাল দুপুরে খামারবাড়ী এলাকায় যানজট দেখা যায়। যা সংসদ ভবনের সামনের অংশ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। প্রায় ৩০ মিনিটের বেশি সময় খামারবাড়ীর যানজট লেগে থাকে। ফলে গণপরিবহনে থাকা যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যান। এতেই পড়েন বিপাকে। ওই এলাকার ফুটপাথও হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের চাপে খামারবাড়ী ও ফার্মগেট এলাকায় ভিড় দেখা গেছে। সরজমিন দেখা যায়, খামারবাড়ী মোড়েই সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে কয়েকজন মেকার সাইকেল মেরামত করছেন। পাশেই সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার ভ্যান সাজানো রয়েছে। খামারবাড়ী থেকে ফার্মগেটের দিকে এগুতেই দেখা যায়, ফুটপাথ ও রাস্তার পাশে আঁখের ভ্যান, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান। ফলে রাস্তা হয়েছে সঙ্কুুচিত, ফুটপাথ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফুটপাথেই বসছে বই-খাতাসহ বিভিন্ন স্টেশনারি আইটেমসহ হরেক রকমের ইফতারের আইটেম বিক্রি করছেন হকাররা। আরেকটু সামনে এগিয়ে এলেই ফার্মগেট কাঁচাবাজার। চলাচলের জন্য রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে বসানো হয়েছে এ বাজার। ফলে ওই এলাকা ধরে যারা যাতায়াত করছেন তাদের প্রত্যেককেই প্রতিনিয়তই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ২ থেকে ৩ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট লেগে যাচ্ছে।  ফার্মগেট এলাকার প্রায় শতভাগ ফুটপাথ হকারদের দখলে। যেখানে প্রায় হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। এসব দোকানকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এতে পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই ফার্মগেটের যানজটকে ফুটপাথ দখলের জন্য বলেও দায়ী করছেন। ফলে রাস্তায় গণপরিবহন যানজটের কবলে পড়ে কচ্ছপের গতিতে এগুচ্ছে। এদিকে ফুটপাথের অবস্থাও বেহাল, ফুটপাথ থেকেও যেন নেই। ম্যানহোলের ঢাকনাগুলোর স্থানে স্থানে এমনভাবে খোঁড়া হয়েছে, সেখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো কোনো উপায় নেই। কোনো কোনো স্থান থেকে আবার উঁচু পাইপ বেরিয়ে এসেছে, ফুটপাথের ভাঙা টাইল্‌সসহ ধুলোবালি তো রয়েছেই।  সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com