প্রাথমিকে অটোপ্রমোশনের পক্ষে মন্ত্রণালয়, মূল‌্যায়ন চায় মাউশি

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশনের বিকল্প দেখছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে, মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতে চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে খুদে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে গেলে ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অটো প্রমোশনের বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ঝুঁকিতে পড়ুক।

সামনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অটোপ্রমোশন ছাড়া বিকল্প নেই।

 

আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সিলেবাসের যে অংশ শেষ হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে সে সুযোগ খুব একটা পাওয়া যাবে কি না—এখনো বলা যাচ্ছে না।’

 

এদিকে, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

 

অনলাইন ও টেলিভিশনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে অটোপ্রমোশনের বিষয়ে আমরা এখনো ভাবছি না। শিক্ষার্থীদের যা পড়ানো হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।’

 

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকে মূল্যায়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পরিকল্পনা তৈরি করছে।

 

দুটি নীতি সামনে রাখা হচ্ছে। একটি হচ্ছে, বছরের অবশিষ্ট সময় বিবেচনায় নিয়ে যতটুকু বিষয়ের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট বা বাড়ির কাজ দেওয়া যায়, সেটা রাখা হবে। অন‌্যটি হচ্ছে, যা বাকি থাকবে, সেটা পরের ক্লাসে নেওয়া হবে। আগামী বছর পাঠদানের আগে শিক্ষক সেটি পড়িয়ে নেবেন।

 

এই পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়ন শেষে স্কুল শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হবে। এতেই এ বছরের জন্য নির্ধারিত অংশ অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশনা থাকছে।

এরপর অ্যাসাইনমেন্টে নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন ক্লাসে তার রোল নম্বরও নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন মাধ্যমে পাঠগ্রহণ করছে।

 

এর ভিত্তিতেই তাদের মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। তাই অটোপ্রমোশনের প্রয়োজন দেখছি না। ’ তবে, সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা বাস্তবায়নে মাউশি প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ফিল্মি স্টাইলে ছিনতাই করা ৪৫ লাখ টাকা !

» বিকাশে টাকা নিলেই ১০০ টাকা পাবেন গ্রাহকরা

» বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের শিরোপা মাহমুদউল্লাহদের

» নাচ নিয়ে আসছেন শখ

» সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো আইডি নেই সেনাপ্রধানের : আইএসপিআর

» ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

» বোরকা পরে পূজামণ্ডপে ‘সিজদা’ দেওয়া কে এই আলেয়া?

» রোহিতা ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে যুবলীগের সভাপতি প্রভাষক লিটন

» জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই-২০২০ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

» নওগাঁর নিয়ামতপুরে আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্ততিমূলক সভা

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

প্রাথমিকে অটোপ্রমোশনের পক্ষে মন্ত্রণালয়, মূল‌্যায়ন চায় মাউশি

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশনের বিকল্প দেখছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে, মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করতে চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে খুদে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে গেলে ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অটো প্রমোশনের বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ঝুঁকিতে পড়ুক।

সামনে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অটোপ্রমোশন ছাড়া বিকল্প নেই।

 

আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সিলেবাসের যে অংশ শেষ হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলে সে সুযোগ খুব একটা পাওয়া যাবে কি না—এখনো বলা যাচ্ছে না।’

 

এদিকে, মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।

 

অনলাইন ও টেলিভিশনে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে অটোপ্রমোশনের বিষয়ে আমরা এখনো ভাবছি না। শিক্ষার্থীদের যা পড়ানো হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।’

 

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিকে মূল্যায়নের জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পরিকল্পনা তৈরি করছে।

 

দুটি নীতি সামনে রাখা হচ্ছে। একটি হচ্ছে, বছরের অবশিষ্ট সময় বিবেচনায় নিয়ে যতটুকু বিষয়ের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট বা বাড়ির কাজ দেওয়া যায়, সেটা রাখা হবে। অন‌্যটি হচ্ছে, যা বাকি থাকবে, সেটা পরের ক্লাসে নেওয়া হবে। আগামী বছর পাঠদানের আগে শিক্ষক সেটি পড়িয়ে নেবেন।

 

এই পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রণয়ন শেষে স্কুল শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হবে। এতেই এ বছরের জন্য নির্ধারিত অংশ অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়ের নির্দেশনা থাকছে।

এরপর অ্যাসাইনমেন্টে নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের পাশাপাশি নতুন ক্লাসে তার রোল নম্বরও নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন মাধ্যমে পাঠগ্রহণ করছে।

 

এর ভিত্তিতেই তাদের মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। তাই অটোপ্রমোশনের প্রয়োজন দেখছি না। ’ তবে, সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা বাস্তবায়নে মাউশি প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com