পিয়াজ নিয়ে দ্রোহ, বিদ্রোহ

পিয়াজের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লেগেছে ঘরে ঘরে। এনিয়ে পারিবারিক কলহের মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এ সমস্যা এখন প্রকট। নিম্নবিত্তদের ভাতের সঙ্গে পিয়াজ ছাড়া চলে না। তাই সবচেয়ে বিপাকে তারা। রেললাইন কলোনি বস্তিতে সরজমিন দেখা গেছে এখানকার কোনো না কোনো ঘরে প্রতিদিনিই পিয়াজ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে লেগে যাচ্ছে ঝগড়া। এই বস্তিতেই থাকে রশিদা। বয়স ৩৬।

বাসা বাড়িতে কাজের বুয়ার কাজ করে। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসার। রশিদার স্বামী ইদ্রিস আলী রিকশা চালায়।

বস্তিতে প্রবেশ করতেই রশিদার চিৎকার শোনা গেল। সামনে যেতেই রশিদা বলেন সবই আমার কপাল। সারাদিন বাসা বাড়িতে কাজ কইরা বিকালে বাসায় আসি । তারপর গোসল কইরা চাইরটা ভাত রান্ধি আর একটা ভর্তা বানাই। এই দিয়াই আমরা খাই। আইজকাও ভাত আর চিংড়ি মাছের  শুটকি বিরান করছি। শুটকি বিরানে পিয়াজ দেই নাই দেইখ্যা আমার পোলা রাজু ভাত খাইবো না। রাজুর বাপেরে দুইটা পিয়াজ আইনা দিতে কইছি দেইখ্যা আমারে মারতে আইছে।

রাজুর বাপে কয় বড়লোকেরাই পিয়াজ খাওয়া বাদ দিছে, তোদের পিয়াজ ছাড়া  চলেনা। রাজু ভাত খাইবো না দেইখ্যা ওরে মাইরা নিজেও ভাত না খাইয়া রিকশা নিয়া চইলা গেছে রাজুর বাপ। আমরা মাছ, মাংস  না  হোক অন্তত ভর্তা দিয়াতো শান্তিতে ভাত খাইতাম। পিয়াজের দাম বাইরা সেই শান্তিও কাইড়া নিছে। পিয়াজ ছাড়া কি ভর্তা খাওয়া যায়। একই বস্তির বাসিন্দা মনি বলেন বস্তির সব ঘরেই প্রতিদিন কোন কোন ভর্তা বানানো হইতো। ভাতের সঙ্গে আর কিছু না হইলেও শুধু পিয়াজ মরিচের একটা ভর্তা হইলেই আমাগো খাওয়া হইয়া যায়। সেই পিয়াজের দাম বাইরা এখন নতুন অশান্তি শুরু অইছে।

পোলাপান পিয়াজ ছাড়া ভর্তা খাইবোনা। আর পোলার বাপেও পিয়াজ আনবো না। আমারে দশ টাকা দিয়া কয় পিয়াজ নিয়া আয়। দোকানদার দশ টাকায় একটা পিয়াজও দেয়না। এই নিয়া কয়দিন ধইরা কাইজা লাইগাই আছে। বস্তিতে এখন যত কাইজা লাগে সব পিয়াজ নিয়া। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে  চাকরি করেন আফজাল। মাসিক বেতন পঁচিশ হাজার টাকা। মা, বাবা, স্ত্রী ও ছোটভাই নিয়ে থাকেন মোহম্মদপুরে। সংসারে  তিনি প্রধান উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। আফজাল বলেন আমাদের মত মানুষের পক্ষে দুইশ, আড়াইশ টাকা কেজি ধরে পিয়াজ খাওয়া সম্ভবনা। পিয়াজ এখন বিলাসী পন্যে পরিণত হয়েছে। পনের দিন ধরে আমি কোন পিয়াজ কিনি না। পিয়াজ ছাড়াই রান্না হচ্ছে। ঝর্ণা বেগমের স্বামী হারুন সাহেব কাওরান বাজার থেকে দুইশ বিশ টাকা ধরে এক কেজি পিয়াজ কিনে এনেছেন। হারুন সাহেবের সাফ কথা আর এক মাসেও যেন তাকে পিয়াজ কিনতে বলা না হয়। ঝর্ণা বেগম বলেন আঠার বছরের সংসার জীবন আমাদের। কোনদিন কোন বিষয়ে সে আমার কাছে হিসেব চায়নি। অথচ এখন  পিয়াজ কেন এত দ্রুত শেষ হয়। তরকারিতে অল্প করে কেন পিয়াজ দেইনা- এসব নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি  লেগেই আছে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবরোদ্ধ বিটিভির সাংবাদিক নার্গিস জুঁই

» ফেসবুকে প্রতারণা থেকে বাঁচাতে পুলিশ যে উপদেশ দিল

» বগুড়া-১ আসনে উপ-নির্বাচন, বৃষ্টির মাঝে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ

» স্মার্ট ল্যাম্পপোস্ট উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি মেয়র

» ছেলেদের দলে মেয়ে, ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড়

» কোরবানির গরুর নাম যখন বিন লাদেন, সাদ্দাম, গাদ্দাফি!

» রাজধানীর কাকরাইলে লাজ ফার্মায় র‌্যাবের অভিযান, ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

» খুলনায় হচ্ছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

» এখন থেকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হবে ৭ মার্চ

» মধুপুরে মায়ের অভিযোগে মাদক আসক্ত ছেলেকে গ্রেফতার ভ্রাম্যমান আদালতে ১ বছরের কারাদন্ড

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পিয়াজ নিয়ে দ্রোহ, বিদ্রোহ

পিয়াজের মূল্যবৃদ্ধির আঁচ লেগেছে ঘরে ঘরে। এনিয়ে পারিবারিক কলহের মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এ সমস্যা এখন প্রকট। নিম্নবিত্তদের ভাতের সঙ্গে পিয়াজ ছাড়া চলে না। তাই সবচেয়ে বিপাকে তারা। রেললাইন কলোনি বস্তিতে সরজমিন দেখা গেছে এখানকার কোনো না কোনো ঘরে প্রতিদিনিই পিয়াজ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে লেগে যাচ্ছে ঝগড়া। এই বস্তিতেই থাকে রশিদা। বয়স ৩৬।

বাসা বাড়িতে কাজের বুয়ার কাজ করে। স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসার। রশিদার স্বামী ইদ্রিস আলী রিকশা চালায়।

বস্তিতে প্রবেশ করতেই রশিদার চিৎকার শোনা গেল। সামনে যেতেই রশিদা বলেন সবই আমার কপাল। সারাদিন বাসা বাড়িতে কাজ কইরা বিকালে বাসায় আসি । তারপর গোসল কইরা চাইরটা ভাত রান্ধি আর একটা ভর্তা বানাই। এই দিয়াই আমরা খাই। আইজকাও ভাত আর চিংড়ি মাছের  শুটকি বিরান করছি। শুটকি বিরানে পিয়াজ দেই নাই দেইখ্যা আমার পোলা রাজু ভাত খাইবো না। রাজুর বাপেরে দুইটা পিয়াজ আইনা দিতে কইছি দেইখ্যা আমারে মারতে আইছে।

রাজুর বাপে কয় বড়লোকেরাই পিয়াজ খাওয়া বাদ দিছে, তোদের পিয়াজ ছাড়া  চলেনা। রাজু ভাত খাইবো না দেইখ্যা ওরে মাইরা নিজেও ভাত না খাইয়া রিকশা নিয়া চইলা গেছে রাজুর বাপ। আমরা মাছ, মাংস  না  হোক অন্তত ভর্তা দিয়াতো শান্তিতে ভাত খাইতাম। পিয়াজের দাম বাইরা সেই শান্তিও কাইড়া নিছে। পিয়াজ ছাড়া কি ভর্তা খাওয়া যায়। একই বস্তির বাসিন্দা মনি বলেন বস্তির সব ঘরেই প্রতিদিন কোন কোন ভর্তা বানানো হইতো। ভাতের সঙ্গে আর কিছু না হইলেও শুধু পিয়াজ মরিচের একটা ভর্তা হইলেই আমাগো খাওয়া হইয়া যায়। সেই পিয়াজের দাম বাইরা এখন নতুন অশান্তি শুরু অইছে।

পোলাপান পিয়াজ ছাড়া ভর্তা খাইবোনা। আর পোলার বাপেও পিয়াজ আনবো না। আমারে দশ টাকা দিয়া কয় পিয়াজ নিয়া আয়। দোকানদার দশ টাকায় একটা পিয়াজও দেয়না। এই নিয়া কয়দিন ধইরা কাইজা লাইগাই আছে। বস্তিতে এখন যত কাইজা লাগে সব পিয়াজ নিয়া। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে  চাকরি করেন আফজাল। মাসিক বেতন পঁচিশ হাজার টাকা। মা, বাবা, স্ত্রী ও ছোটভাই নিয়ে থাকেন মোহম্মদপুরে। সংসারে  তিনি প্রধান উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। আফজাল বলেন আমাদের মত মানুষের পক্ষে দুইশ, আড়াইশ টাকা কেজি ধরে পিয়াজ খাওয়া সম্ভবনা। পিয়াজ এখন বিলাসী পন্যে পরিণত হয়েছে। পনের দিন ধরে আমি কোন পিয়াজ কিনি না। পিয়াজ ছাড়াই রান্না হচ্ছে। ঝর্ণা বেগমের স্বামী হারুন সাহেব কাওরান বাজার থেকে দুইশ বিশ টাকা ধরে এক কেজি পিয়াজ কিনে এনেছেন। হারুন সাহেবের সাফ কথা আর এক মাসেও যেন তাকে পিয়াজ কিনতে বলা না হয়। ঝর্ণা বেগম বলেন আঠার বছরের সংসার জীবন আমাদের। কোনদিন কোন বিষয়ে সে আমার কাছে হিসেব চায়নি। অথচ এখন  পিয়াজ কেন এত দ্রুত শেষ হয়। তরকারিতে অল্প করে কেন পিয়াজ দেইনা- এসব নিয়ে আমাদের কথা কাটাকাটি  লেগেই আছে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com