পিয়াজের ফের সেঞ্চুরি

খুচরা বাজারের পর এবার রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। রাজধানীর কাওরান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম বাড়ায় আবারো রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এবং মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারতীয় পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা পিয়াজের দাম বাড়ার জন্য পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন। আর পাইকারি বিক্রেতারা বলেছেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।

পিয়াজ ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আমরা গত সোমবার রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ কিনেছি ৯০ টাকা দরে, আর ভারতীয় পিয়াজ কিনেছি ৮০ টাকা করে।

গতকাল মঙ্গলবার একই পিয়াজ কিনতে হয়েছে যথাক্রমে ৯৫ ও ৮৫ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজের দাম পড়বে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ টাকা। তিনি বলেন, ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে এখন আমাদের দেশি পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি করতে হবে।

অন্যদিকে শ্যামবাজারে পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতা মেসার্স নিউ আল মদিনা ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি করেছি ৯৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৮০ থেকে ৮২ টাকা।

পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত থেকে কোনো পিয়াজ আসছে না। আর মিয়ানমার থেকে যে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে তার ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট পড়ছে। এই পিয়াজ মানুষ কিনতে চাচ্ছে না। ফলে দেশে পিয়াজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত পিয়াজ আমদানি করতে না পারলে আগামী ২/৩ মাস পিয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

অন্যদিকে কাওরান বাজারের পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতা খান অ্যান্ড সন্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. লোকমান হোসেন বলেন, গতকাল প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৯৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৮০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আশা করছি আগামী কিছু দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম কমে যাবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম একদিনেই প্রতি কেজি ২০ টাকা বেড়ে যায়। ওইদিন সকালে প্রতি কেজি পিয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকেলে তা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পিয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

পরে পিয়াজের দাম কমাতে সরকার মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলে। একইসঙ্গে দেশীয় বাজারে পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং জোরদার করা হয়। সে সঙ্গে টিসিবির মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হয়। মিয়ানমার থেকে প্রচুর পিয়াজ দেশে প্রবেশ করে। এতে করে গত সপ্তাহে পিয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু গত তিন/চার দির ধরে আবারো পিয়াজের দাম বেড়ে আবারো ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রাজগঞ্জে নিহত ৫ পরিবারের মাঝে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করলেন অগ্নি

» ঈদে তাদের যত নাটক

» বিয়ে করতে ৮০ কিমি হেঁটে বরের বাড়িতে তরুণী

» করোনা-কারফিউয়ে ঘরে বসেই দেশে দেশে ঈদ

» ভেদাভেদ ভুলে কল্যাণের রাজনীতি এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

» আ’লীগের অধিকাংশ নেতার ঈদই এবার ঢাকায়

» এলো খুশির ঈদ

» ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

» টিকা না আসা পর্যন্ত করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই বাঁচতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

» দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পিয়াজের ফের সেঞ্চুরি

খুচরা বাজারের পর এবার রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। রাজধানীর কাওরান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম বাড়ায় আবারো রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এবং মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে ভারতীয় পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা পিয়াজের দাম বাড়ার জন্য পাইকারি বিক্রেতাদের দায়ী করছেন। আর পাইকারি বিক্রেতারা বলেছেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পিয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।

পিয়াজ ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আমরা গত সোমবার রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ কিনেছি ৯০ টাকা দরে, আর ভারতীয় পিয়াজ কিনেছি ৮০ টাকা করে।

গতকাল মঙ্গলবার একই পিয়াজ কিনতে হয়েছে যথাক্রমে ৯৫ ও ৮৫ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে পরিবহন ও লেবার খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজের দাম পড়বে ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ টাকা। তিনি বলেন, ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে এখন আমাদের দেশি পিয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি করতে হবে।

অন্যদিকে শ্যামবাজারে পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতা মেসার্স নিউ আল মদিনা ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি করেছি ৯৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৮০ থেকে ৮২ টাকা।

পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত থেকে কোনো পিয়াজ আসছে না। আর মিয়ানমার থেকে যে পেঁয়াজ আনা হচ্ছে তার ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট পড়ছে। এই পিয়াজ মানুষ কিনতে চাচ্ছে না। ফলে দেশে পিয়াজের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত পিয়াজ আমদানি করতে না পারলে আগামী ২/৩ মাস পিয়াজের দাম আরো বাড়তে পারে।

অন্যদিকে কাওরান বাজারের পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতা খান অ্যান্ড সন্সের স্বত্ত্বাধিকারী মো. লোকমান হোসেন বলেন, গতকাল প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৯৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৮০ টাকা এবং মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আশা করছি আগামী কিছু দিনের মধ্যে পিয়াজের দাম কমে যাবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার খবরে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম একদিনেই প্রতি কেজি ২০ টাকা বেড়ে যায়। ওইদিন সকালে প্রতি কেজি পিয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকেলে তা বেড়ে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পিয়াজের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

পরে পিয়াজের দাম কমাতে সরকার মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলে। একইসঙ্গে দেশীয় বাজারে পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং জোরদার করা হয়। সে সঙ্গে টিসিবির মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হয়। মিয়ানমার থেকে প্রচুর পিয়াজ দেশে প্রবেশ করে। এতে করে গত সপ্তাহে পিয়াজের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু গত তিন/চার দির ধরে আবারো পিয়াজের দাম বেড়ে আবারো ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com