নয়া দিগন্ত ও যায়যায়দিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ লেখা প্রকাশ করায় দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। আদালতের পেশকার রকিব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ মে মামলার আসামি অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে ও ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে নিবন্ধন ছাপেন।

 

এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তথ্য বিকৃতি করে ঔদ্ধতপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট ও অবমাননাকর বক্তব্য লেখেন, যা পরবর্তীতে অপর আসামি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদ যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশ ও প্রচার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নিবন্ধে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান লেখেন, “আওয়ামী নেতাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে গেলেন এ দেশবাসীকে মৃত্যুফাঁদে ফেলে দিয়ে নেতৃত্বহীন অবস্থায়। যাকে ঘিরে এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখত সেই শেখ মুজিবুর রহমানও।

 

জাতির এ সংকটকালীন মুহূর্তে ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত এই টগবগে যুবকের কণ্ঠে ২৬ মার্চ রাতে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে স্বাধীনতার ঘোষণা।

 

স্বাধীনতার ডাক এসেছিল শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর তার আগে নয়। আমার জানামতে, তিনি কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।”

 

নিবন্ধের আরেক জায়গায় স্বাধীনতার পরের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোর্শেদ হাসান লিখেছেন, “দেশবাসী দেখলো শেখ মুজিব একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা চালু করে নিজেই যেন দাঁড়িয়ে গেলেন নিজের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

 

১৯৭২ থেকে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত দেশে বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না।” একইভাবে ২০১৬ সালের ৩০ মে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে এক লেখায়ও অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান একই ধরনের বক্তব্য দেন।

 

আসামিদের এ রূপ লেখা প্রকাশ ও প্রচারের ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, ইতিহাস বিকৃতি, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বাদী মনে করেন।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বিচার বিভাগকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল: আইনমন্ত্রী

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনারের বিদায়ী সাক্ষাৎ

» শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন অসম্ভব হতো

» অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন দ্রুত শেষ করতে তাগিদ

» লুডু খেলায় প্রতারণার অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মেয়ের মামলা

» ধর্ষকদের কোনো দল নেই, তারা ধর্ষক: ছাত্রলীগ

» অক্টোবর-নভেম্বরে ‘ও’, ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা

» আবাসিক হোটেলে উঠে যে সব চেক করবেন!

» ছয় মাস পর গেট খুলল রমনা পার্কের

» মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নয়া দিগন্ত ও যায়যায়দিন সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ লেখা প্রকাশ করায় দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আসামিরা হলেন- দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। আদালতের পেশকার রকিব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ মে মামলার আসামি অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে ও ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে নিবন্ধন ছাপেন।

 

এতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তথ্য বিকৃতি করে ঔদ্ধতপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট ও অবমাননাকর বক্তব্য লেখেন, যা পরবর্তীতে অপর আসামি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক কাজী রুকন উদ্দিন আহমেদ যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশ ও প্রচার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ নিবন্ধে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান লেখেন, “আওয়ামী নেতাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পরিবার-পরিজনসহ ভারতে চলে গেলেন এ দেশবাসীকে মৃত্যুফাঁদে ফেলে দিয়ে নেতৃত্বহীন অবস্থায়। যাকে ঘিরে এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখত সেই শেখ মুজিবুর রহমানও।

 

জাতির এ সংকটকালীন মুহূর্তে ত্রাতারূপে আবির্ভূত হন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। দেশপ্রেমের মহানমন্ত্রে উজ্জীবিত এই টগবগে যুবকের কণ্ঠে ২৬ মার্চ রাতে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে স্বাধীনতার ঘোষণা।

 

স্বাধীনতার ডাক এসেছিল শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর তার আগে নয়। আমার জানামতে, তিনি কোনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।”

 

নিবন্ধের আরেক জায়গায় স্বাধীনতার পরের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোর্শেদ হাসান লিখেছেন, “দেশবাসী দেখলো শেখ মুজিব একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থা চালু করে নিজেই যেন দাঁড়িয়ে গেলেন নিজের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।

 

১৯৭২ থেকে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত দেশে বাকস্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না।” একইভাবে ২০১৬ সালের ৩০ মে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় ‘স্মৃতিময় জিয়া’ শিরোনামে এক লেখায়ও অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান একই ধরনের বক্তব্য দেন।

 

আসামিদের এ রূপ লেখা প্রকাশ ও প্রচারের ফলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, ইতিহাস বিকৃতি, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বাদী মনে করেন।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com