নারীদের জন্য বিপজ্জনক যে দেশ

গত সপ্তাহেই এক তরুণীর হত্যাকাণ্ডের খবরে দারুণ ধাক্কা খেয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। তিনি মেলবোর্নে হেঁটে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে নিহত হন।

একুশ বছর বয়সী ইসরায়েলি আরব এই তরুণীর নাম আয়া মাসারভি। তার মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, বিশেষ করে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে।

নিহত এই তরুণীর পরিবার বলছে, মাসারভি অস্ট্রেলিয়াকে সব সময় নিরাপদ মনে করতেন। আর সে কারণেই তিনি এখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়েই আরও বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়াতে এবং সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি তিনজন নারীর একজন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং যৌন সহিংসতার শিকার হন প্রতি পাঁচজনে অন্তত একজন। দেশটির আদিবাসীদের ক্ষেত্রে এ ধরণের সহিংসতার হার আরও অনেক বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি দশজন নারীর একজন সহিংসতার অভিজ্ঞতা পান অপরিচিত কারও দ্বারা।

আর পারিবারিক সহিংসতা দেশটিতে প্রায় নিয়মিত ঘটনা এবং গড়ে প্রতি সপ্তাহে একজন নারী খুন হন তাদের বর্তমান বা সাবেক পুরুষ সঙ্গীর হাতে।

‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা যার সর্বোচ্চ রূপ হলো খুন। কিন্তু এটিই নিয়মিত হচ্ছে। নারীর ঘরেই আহত হচ্ছে শারীরিক ও মানসিকভাবে,’বলছিলেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ রুথ ফিলিপস।

তার মতে, ‘এটি একটি মারাত্মক সমস্যা।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কী ঘটেছে?

আলোচিত কিছু খুনের ঘটনা বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এর আগে মেলবোর্নের একটি এলাকায় কমেডিয়ান ইউরাইডাইস ডিক্সনের হত্যার ঘটনায় বিতর্ক জোরদার হয়েছিলো।

এর কয়েক মাসের মাথায় শুধু অক্টোবরেই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন নারী।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক গবেষক কেলসলি হেগার্টি বলছেন, ‘অনেক সময় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি পর একটি ঘটতেই থাকে। আর বাস্তবতা হলো গোপন মহামারির মতো রয়েছে হয়রানি ও সহিংসতার বিষয়গুলো।’

এর আগে ২০১২ সালে আইরিশ নারী জিল মিয়াগের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলো। এখন আবার সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আয়া মাসারভির মৃত্যুর ঘটনায়।

জি-২০ জাতিসমূহের মধ্যে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অষ্টম।

সমাধান কী?

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সরকার নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমিয়ে আনতে একটি নীতি প্রণয়ন করে। তারপরেও গবেষক ফিলিপ ও অন্যরা বলছেন যে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা তাই বিষয়টির ওপর আরও জোর দেয়ার দাবি করছেন।

দেশটি যৌন বৈষম্য বিষয়ক কমিশনার কেট জেনকিনস বলেছেন, ‘আমরা সহিংসতা কমিয়ে আনতে পারবো তখন যখন নারীরা শুধু নিরাপদই বোধ করবে না বরং তারা তখন একই সাথে সম্মানও পাবেন।’

 

জুনে খুন হয়েছিলেন কমেডিয়ান ডিক্সন

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার এটাই সেরা সময়’

» আবার নতুন গানে

» সন্ধ্যা হলেই আতঙ্ক

» বিল নেই কাজ বন্ধ

» ইলেকট্রনিক্স সিটিতে কর্মসংস্থানের হাতছানি

» বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা আক্তার সরদারের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

» কাশীপুর বাংলা বাজারে মুক্তারের রামরাজত্ব কায়েমের চেস্টা প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন

» ভক্তদের সঙ্গে আড্ডায় মাততে ফোনের অপেক্ষায় জয়া আহসান

» ‘কাজ কম করুন, বেশি করে ঘুমান’, মোদিকে বলেছিলেন ওবামা

» বিশ্বকাপের জন্য দোয়া চাইলেন মাশরাফি

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

নারীদের জন্য বিপজ্জনক যে দেশ

গত সপ্তাহেই এক তরুণীর হত্যাকাণ্ডের খবরে দারুণ ধাক্কা খেয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। তিনি মেলবোর্নে হেঁটে নিজের বাড়িতে যাওয়ার পথে নিহত হন।

একুশ বছর বয়সী ইসরায়েলি আরব এই তরুণীর নাম আয়া মাসারভি। তার মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়, বিশেষ করে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে।

নিহত এই তরুণীর পরিবার বলছে, মাসারভি অস্ট্রেলিয়াকে সব সময় নিরাপদ মনে করতেন। আর সে কারণেই তিনি এখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়েই আরও বেশ কয়েকটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়াতে এবং সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

অস্ট্রেলিয়াতে প্রতি তিনজন নারীর একজন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং যৌন সহিংসতার শিকার হন প্রতি পাঁচজনে অন্তত একজন। দেশটির আদিবাসীদের ক্ষেত্রে এ ধরণের সহিংসতার হার আরও অনেক বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি দশজন নারীর একজন সহিংসতার অভিজ্ঞতা পান অপরিচিত কারও দ্বারা।

আর পারিবারিক সহিংসতা দেশটিতে প্রায় নিয়মিত ঘটনা এবং গড়ে প্রতি সপ্তাহে একজন নারী খুন হন তাদের বর্তমান বা সাবেক পুরুষ সঙ্গীর হাতে।

‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা যার সর্বোচ্চ রূপ হলো খুন। কিন্তু এটিই নিয়মিত হচ্ছে। নারীর ঘরেই আহত হচ্ছে শারীরিক ও মানসিকভাবে,’বলছিলেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ রুথ ফিলিপস।

তার মতে, ‘এটি একটি মারাত্মক সমস্যা।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কী ঘটেছে?

আলোচিত কিছু খুনের ঘটনা বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এর আগে মেলবোর্নের একটি এলাকায় কমেডিয়ান ইউরাইডাইস ডিক্সনের হত্যার ঘটনায় বিতর্ক জোরদার হয়েছিলো।

এর কয়েক মাসের মাথায় শুধু অক্টোবরেই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন নারী।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ক গবেষক কেলসলি হেগার্টি বলছেন, ‘অনেক সময় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি পর একটি ঘটতেই থাকে। আর বাস্তবতা হলো গোপন মহামারির মতো রয়েছে হয়রানি ও সহিংসতার বিষয়গুলো।’

এর আগে ২০১২ সালে আইরিশ নারী জিল মিয়াগের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিলো। এখন আবার সেই একই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে আয়া মাসারভির মৃত্যুর ঘটনায়।

জি-২০ জাতিসমূহের মধ্যে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান অষ্টম।

সমাধান কী?

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সরকার নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা কমিয়ে আনতে একটি নীতি প্রণয়ন করে। তারপরেও গবেষক ফিলিপ ও অন্যরা বলছেন যে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা তাই বিষয়টির ওপর আরও জোর দেয়ার দাবি করছেন।

দেশটি যৌন বৈষম্য বিষয়ক কমিশনার কেট জেনকিনস বলেছেন, ‘আমরা সহিংসতা কমিয়ে আনতে পারবো তখন যখন নারীরা শুধু নিরাপদই বোধ করবে না বরং তারা তখন একই সাথে সম্মানও পাবেন।’

 

জুনে খুন হয়েছিলেন কমেডিয়ান ডিক্সন

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com