নতুন চমক ক্রেতার সামনেই রশিদের সরিষার তেল তৈরি

রংপুর: প্রিজারভেটিভ, কেমিক্যাল, রং আর ভেজালের দুনিয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাংবাদিক রশিদ এর। পেশায় সাংবাদিকতা হলেও রশিদ ব্যতিক্রম উদ্যোগ ভ্রাম্যমাণ কারখানায় ক্রেতার চোখের সামনে সরিষা থেকে তেল তৈরি করে দিচ্ছেন। সাড়াও পাচ্ছেন বেশ ও জনপ্রিয়তাও সবার শীর্ষে। কয়েক মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ছে খাটি সরিষার ভ্রাম্যমান ঘানির তেল মেশিন। কারখানার সরঞ্জাম বলতে কয়েক সরিষা, কিছু ড্রাম, মগ, গামলা, খালি প্লাস্টিক বোতল, খৈল (খলদি) রাখার বস্তা এবং ৩জন কর্মী। তাদের কেউ সরিষা ঢেলে তেল তৈরি করেন, কেউ তেল ভরেন প্লাস্টিক বোতলে, কেউ টাকা নেন। টেক্সটাইল মোড়ে ভ্রাম্যমাণ তেল কারখানার অন্যতম কারিগর এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ১ মোন সরিষা থেকে প্রায় ১২ বা ১৩ কেজি তেল বের হয়। প্রতি কেজি তেল আমরা ২৪০ টাকা করে বিক্রি করছি। সরিষার নির্যাস মেশিন চেপে তেল করে দেওয়ার পর বাকি খৈলে পরিণত হয়। মেশিনের তাপেই খৈল শুকিয়ে যায়। যা মাছ, মুরগি ও গরু উৎকৃষ্ট খাদ্য। এক কেজি খৈল খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি হয়। কারখানার ব্যবস্থাপক এম এ রশিদ জানান, সরিষার মানের ওপর নির্ভর করে তেলের পরিমাণ। মোটামুটি সরিষার তিন ভাগের এক ভাগ তেল পাওয়া যায়। আমরা সিরাগঞ্জ ও পাবনা থেকে উন্নতমানের সরিষা নিয়ে আসি। প্রতি মোন সরিষা কিনি ২২০০ টাকায়। লাভের প্রশ্নে তিনি বলেন, একটি গাড়ি যখন বের হয় তখন কারিগর-শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিদিন ২ হাজার টাকা, জেনারেটরের ডিজেল বাবদ ১ হাজার টাকা তো স্থির খরচ আছে। এর বাইরে সরিষা ও বোতলের দাম। ১ লিটার লিটারের একটি বোতল খরিদ করি সাড়ে ৭ টাকা, হাফ লিটার ৬ টাকা, ২০০ মিলি সাড়ে ৩ টাকা, ১শ মিলি ও সাড়ে ৩টাকা। প্রতি লিটার তেল তৈরিতে আমাদের ১৯০-১৯৫ টাকা খরচ পড়ে। তেল কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যে বোতলে তেল বিক্রি করছি তা ঘরে তিন-চার দিনে রেখে দিলে নিচে গাদগুলো শক্ত হয়ে বসে যাবে। এরপর তেলটা আরেকটি বোতলে সরিয়ে নিয়ে রোদে দিলে কমপক্ষে ৬ মাস ভালো থাকবে। যদি কয়েক মাস পরপর একটু রোদে দেওয়া যায় তাহলে এক বছরের বেশি সময় টিকবে। একেকটি ইউনিট তৈরিতে কত খরচ পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পাবনা থেকে প্রথম সরিষার তেলের মেশিনটি তৈরি করেছি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এরপর ক্রমে খরচ কমতে কমতে এখন সোয়া দুই লাখে নেমে এসেছে। আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা মাথা খাটালে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটালে খরচ যেমন কমবে তেমনি দৃষ্টিনন্দনও হবে ভ্রাম্যমাণ কারখানাগুলো। এম এ রশিদ বলেন, ইদানীং সয়াবিন বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের ব্যবহার বেশি হলেও সরিষার তেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্পেশাল রান্না, বাঙালির প্রিয় ভর্তা, চাটনি তৈরি থেকে শুরু করে শিশুদের শরীরে মাখা পর্যন্ত অনেক কাজেই সরিষার তেল অদ্বিতীয় বিবেচিত হচ্ছে। ফলে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সরিষার তেলের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল তেলের রমরমা অবস্থা। তাই আমি কৃত্রিম ঝাঁজ, রং, কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ তেলের ভিড়ে আসল সরিষার তেলের স্বাদটা মানুষকে দিতে চেষ্টা করছি। ক্রেতার সামনেই তেল তৈরি করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটা ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশাতীত সাড়া পাচ্ছি। তিনি আশা করেন, তরুণ উদ্যোক্তারা খাঁটি সরিষার তেল তৈরির মতো নতুন নতুন ব্যবসা ডেভেলপ করতে পারে। এতে বেকারত্ব যেমন কমবে তেমনি মানুষও উপকৃত হবে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গাজীপুরে ঝুট গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

» বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় চীন-আরব

» ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়

» ট্রেনারও খুশি নন খেলোয়াড়দের ফিটনেসে

» পচা মাছ বিক্রি করায় স্বপ্নকে জরিমানা

» খালেদা জিয়ার দুর্নীতির গন্ধ এবার বিদেশেও ছড়াবে: তথ্যমন্ত্রী

» বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সুবিধা দেবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» শিবগঞ্জে ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট হাতে অধ্যাপক শাহানজাহান আলী মিঞা

» হালুয়াঘাটে ফাঁসিতে ঝুঁলে তিন সন্তানের জনকের আত্মহত্যা

» রূপসায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

নতুন চমক ক্রেতার সামনেই রশিদের সরিষার তেল তৈরি

রংপুর: প্রিজারভেটিভ, কেমিক্যাল, রং আর ভেজালের দুনিয়ায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাংবাদিক রশিদ এর। পেশায় সাংবাদিকতা হলেও রশিদ ব্যতিক্রম উদ্যোগ ভ্রাম্যমাণ কারখানায় ক্রেতার চোখের সামনে সরিষা থেকে তেল তৈরি করে দিচ্ছেন। সাড়াও পাচ্ছেন বেশ ও জনপ্রিয়তাও সবার শীর্ষে। কয়েক মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ছে খাটি সরিষার ভ্রাম্যমান ঘানির তেল মেশিন। কারখানার সরঞ্জাম বলতে কয়েক সরিষা, কিছু ড্রাম, মগ, গামলা, খালি প্লাস্টিক বোতল, খৈল (খলদি) রাখার বস্তা এবং ৩জন কর্মী। তাদের কেউ সরিষা ঢেলে তেল তৈরি করেন, কেউ তেল ভরেন প্লাস্টিক বোতলে, কেউ টাকা নেন। টেক্সটাইল মোড়ে ভ্রাম্যমাণ তেল কারখানার অন্যতম কারিগর এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ১ মোন সরিষা থেকে প্রায় ১২ বা ১৩ কেজি তেল বের হয়। প্রতি কেজি তেল আমরা ২৪০ টাকা করে বিক্রি করছি। সরিষার নির্যাস মেশিন চেপে তেল করে দেওয়ার পর বাকি খৈলে পরিণত হয়। মেশিনের তাপেই খৈল শুকিয়ে যায়। যা মাছ, মুরগি ও গরু উৎকৃষ্ট খাদ্য। এক কেজি খৈল খুচরায় ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি হয়। কারখানার ব্যবস্থাপক এম এ রশিদ জানান, সরিষার মানের ওপর নির্ভর করে তেলের পরিমাণ। মোটামুটি সরিষার তিন ভাগের এক ভাগ তেল পাওয়া যায়। আমরা সিরাগঞ্জ ও পাবনা থেকে উন্নতমানের সরিষা নিয়ে আসি। প্রতি মোন সরিষা কিনি ২২০০ টাকায়। লাভের প্রশ্নে তিনি বলেন, একটি গাড়ি যখন বের হয় তখন কারিগর-শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিদিন ২ হাজার টাকা, জেনারেটরের ডিজেল বাবদ ১ হাজার টাকা তো স্থির খরচ আছে। এর বাইরে সরিষা ও বোতলের দাম। ১ লিটার লিটারের একটি বোতল খরিদ করি সাড়ে ৭ টাকা, হাফ লিটার ৬ টাকা, ২০০ মিলি সাড়ে ৩ টাকা, ১শ মিলি ও সাড়ে ৩টাকা। প্রতি লিটার তেল তৈরিতে আমাদের ১৯০-১৯৫ টাকা খরচ পড়ে। তেল কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যে বোতলে তেল বিক্রি করছি তা ঘরে তিন-চার দিনে রেখে দিলে নিচে গাদগুলো শক্ত হয়ে বসে যাবে। এরপর তেলটা আরেকটি বোতলে সরিয়ে নিয়ে রোদে দিলে কমপক্ষে ৬ মাস ভালো থাকবে। যদি কয়েক মাস পরপর একটু রোদে দেওয়া যায় তাহলে এক বছরের বেশি সময় টিকবে। একেকটি ইউনিট তৈরিতে কত খরচ পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পাবনা থেকে প্রথম সরিষার তেলের মেশিনটি তৈরি করেছি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এরপর ক্রমে খরচ কমতে কমতে এখন সোয়া দুই লাখে নেমে এসেছে। আমাদের তরুণ উদ্যোক্তারা মাথা খাটালে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটালে খরচ যেমন কমবে তেমনি দৃষ্টিনন্দনও হবে ভ্রাম্যমাণ কারখানাগুলো। এম এ রশিদ বলেন, ইদানীং সয়াবিন বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের ব্যবহার বেশি হলেও সরিষার তেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্পেশাল রান্না, বাঙালির প্রিয় ভর্তা, চাটনি তৈরি থেকে শুরু করে শিশুদের শরীরে মাখা পর্যন্ত অনেক কাজেই সরিষার তেল অদ্বিতীয় বিবেচিত হচ্ছে। ফলে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সরিষার তেলের পাশাপাশি নকল ও ভেজাল তেলের রমরমা অবস্থা। তাই আমি কৃত্রিম ঝাঁজ, রং, কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভ তেলের ভিড়ে আসল সরিষার তেলের স্বাদটা মানুষকে দিতে চেষ্টা করছি। ক্রেতার সামনেই তেল তৈরি করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটা ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশাতীত সাড়া পাচ্ছি। তিনি আশা করেন, তরুণ উদ্যোক্তারা খাঁটি সরিষার তেল তৈরির মতো নতুন নতুন ব্যবসা ডেভেলপ করতে পারে। এতে বেকারত্ব যেমন কমবে তেমনি মানুষও উপকৃত হবে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com