ধর্মঘট নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় দিনেও রংপুরে বাস চলাচল বন্ধ

রংপুরে অঘোষিত বাস ধর্মঘট তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। গত দুই দিনে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে রংপুর থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং এই ধর্মঘট ডাকা নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। কোনো পক্ষই ধর্মঘটের দায় স্বীকার করছেন না।

চলমান ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রী সাধারণ। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। তাদের মধ্যে টিকিট বিক্রি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে নেই হাঁকডাক। দুই একটি কাউন্টার খোলা থাকলেও বন্ধ রাখা হয়েছে বেশিরভাগ বাস কাউন্টার।

 

সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। ধর্মঘট শুরুর দিনে নাবিল, সৌখিন, এনা, আগমনী ও শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কয়েকটি বাস চলাচল করলেও আজ তা বন্ধ রয়েছে।

 

ধর্মঘট নিয়ে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা থাকলেও শ্রমিকরা এর দায় নিতে রাজি হননি। তাদের দাবি পরিবহন মালিকরা বাস বন্ধ রেখেছেন। তবে কী কারণে বাস চলাচল করছে না, জানতে চাইলে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, এটি পরিবহন মালিকদের ব্যাপার। তবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বাড়ানোসহ কিছু দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়নি।

 

হানিফ পরিবহনের কাউন্টার সহযোগী লিটন মিয়া বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দুইদিন ধরে ঢাকায় নেতাদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক হয়নি। আজ রাতের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রংপুর বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। কাদের মদদে এই ধর্মঘট চলছে এটা প্রকাশ্যে আনা উচিত। মালিক পক্ষের লোকেরা পরিবহন বন্ধ রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তাদের খুঁজে বের করুন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু এই ধর্মঘট শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ডাকা হয়নি।

 

অন্যদিকে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান লিপ্টন বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ। মূলত তার নির্দেশনায় শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। এ নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিনামূল্যে ডার্ক ওয়েব মনিটরিং সেবা দেবে গুগল

» কোপার ফাইনালে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা

» হামলার পর ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বললেন বাইডেন

» ডান কানে গুলিবিদ্ধ ট্রাম্প

» মসজিদ থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরি করে পালানোর সময় জনতার হাতে আটক

» আজ রবিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ থাকবে

» কোটা সমাধান আদালতের মাধ্যমেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

» অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোচ্ছে দেশ, ধারা অব্যাহত রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

» আপিল বিভাগের রায়ের পর কোটা নিয়ে কমিশন গঠনের সুযোগ নেই : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

» রাস্তাঘাট বন্ধ না করে আদালতে এসে কথা বলুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ধর্মঘট নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় দিনেও রংপুরে বাস চলাচল বন্ধ

রংপুরে অঘোষিত বাস ধর্মঘট তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। গত দুই দিনে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে রংপুর থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

 

পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পরিবহন মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং এই ধর্মঘট ডাকা নিয়ে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। কোনো পক্ষই ধর্মঘটের দায় স্বীকার করছেন না।

চলমান ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার পরিবহনের যাত্রী সাধারণ। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। তাদের মধ্যে টিকিট বিক্রি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে নেই হাঁকডাক। দুই একটি কাউন্টার খোলা থাকলেও বন্ধ রাখা হয়েছে বেশিরভাগ বাস কাউন্টার।

 

সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। ধর্মঘট শুরুর দিনে নাবিল, সৌখিন, এনা, আগমনী ও শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহনের কয়েকটি বাস চলাচল করলেও আজ তা বন্ধ রয়েছে।

 

ধর্মঘট নিয়ে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা থাকলেও শ্রমিকরা এর দায় নিতে রাজি হননি। তাদের দাবি পরিবহন মালিকরা বাস বন্ধ রেখেছেন। তবে কী কারণে বাস চলাচল করছে না, জানতে চাইলে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, এটি পরিবহন মালিকদের ব্যাপার। তবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন বাড়ানোসহ কিছু দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়নি।

 

হানিফ পরিবহনের কাউন্টার সহযোগী লিটন মিয়া বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দুইদিন ধরে ঢাকায় নেতাদের বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক হয়নি। আজ রাতের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে হয়তো কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রংপুর বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। কাদের মদদে এই ধর্মঘট চলছে এটা প্রকাশ্যে আনা উচিত। মালিক পক্ষের লোকেরা পরিবহন বন্ধ রেখে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তাদের খুঁজে বের করুন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু এই ধর্মঘট শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ডাকা হয়নি।

 

অন্যদিকে রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান লিপ্টন বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ। মূলত তার নির্দেশনায় শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। এ নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com