থুতু ফেলা নিষেধ, পানির বদলে রক্ত পান এগুলো মঙ্গোল রীতি

মঙ্গোলরা কোথাও পানি খুঁজে না পেলে তাদের ঘোড়ার ঘাড় কেটে ফেলতো এবং ঘোড়ার সেই রক্ত পান করতো। তবে ঘোড়া কিন্তু তখনো জীবিতই থাকতো! আবার দুধ খেয়ে মাতাল হওয়ার মতো প্রক্রিয়াও ছিল তাদের। 

 

চেঙ্গিস খানের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। তার নাম শুনলে আপনার চোখে ভেসে ওঠে বিশাল এক সেনাবাহিনী, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দোর্দন্ড প্রতাপশালী এই যোদ্ধা। শুধু তাই নয়, মঙ্গোল সাম্রাজ্য ছিল পুরো মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা এক সাম্রাজ্য। তবে তার মানে কি মঙ্গোলরা সারাবছর শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকতো? না, তারাও ছিল আমাদেরই মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ, তাদেরও ছিল পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব। তারাও আমাদেরই মতো খেত, ঘুমাতো, টয়লেটে যেত।

তবে এইসব স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যেই ছিল একের পর এক অদ্ভুত প্রথা বা নিয়ম, যা মঙ্গোলরা বেশ ভালোভাবেই মেনে চলতো। আজকের পৃথিবীতে সেসব নিয়ম-রীতির কথা যদি উত্থাপন করা হয়, তাহলে এক মুহূর্তে আপনি সেই ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে উন্মাদ ধরে নিতে দ্বিধা করবেন না! সত্যি বলতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে মঙ্গোলরা যেন অনেকটা পিছিয়েই ছিল। তবে কি ছিল মঙ্গোলদের সেই সব অদ্ভুত রীতি? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

হাত ধোয়া নিষেধ

হাত ধোয়া নিষেধ

হাত ধোয়া নিষেধ

খাওয়ার আগে বা পরে হাত ধোয়া নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতো না মঙ্গোলরা। এমনকি মাংস, চর্বি, তেলে সারা শরীর মাখামাখি অবস্থায় থাকলেও প্রথমে তারা সেটা নিজেদের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতো, পরে একটু পানির খোজ করতো! আপনি কি কখনো এমন অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন?

 

তেল চিটচিটে পোশাক
প্রাচীনকালে মঙ্গোলদের পোশাক-পরিচ্ছদও প্রাণীর চর্বি বা তেলে জবজবে হয়ে থাকতো। শুনতে ঘেন্না লাগলেও এর পেছনে একটা যৌক্তিক কারণ ছিল বটে! এই সব রকম ফ্যাট তাদের জন্য তীব্র শীত নিবারণে সহায়তা করতো।

 

নিজের কাপ থেকে পান করা মানা
একসাথে বসে কোনোকিছু পান করার ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীরই রয়েছে আলাদা আলাদা রীতি। কিন্তু মঙ্গোলদেরটা আবার বড়ই অদ্ভুত। কারণ সেখানে কেউ নিজের কাপ থেকে পান করতো না, বরং একজন অপরজনের কাপ থেকে পান করতো। খুব একটা স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া নয়, তাইনা? কিন্তু এখানেও রয়েছে যুক্তি! মঙ্গোলদের অন্যতম ভয় ছিল, যে কোনো মুহূর্তে কেউ তাদের বিষ প্রয়োগে হত্যা করতে পারে। বিষের হাত থেকে বাঁচতেই এই অভিনব নিয়ম চালু করেন চেঙ্গিস খান।

আগুনে নেই ভয়

আগুনে নেই ভয়

আগুনে নেই ভয়

 

মঙ্গোলরা বিশ্বাস করতো, আগুনের মধ্যে এক প্রকার শক্তি আছে। আগুনের মধ্য দিয়ে যে যায়, সে বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। আবার অত্যাধিক তাপমাত্রায় জীবাণুও মরে যায়। তাই সব মিলিয়ে আগুন তাদের কাছে কোনো ভীতিকর বিষয় ছিল না।

 

পুড়ে গেলেও ক্ষতি নেই
আগুনকে মঙ্গোলরা পবিত্র শক্তি হিসেবে দেখতো, বৈজ্ঞানিক নয়। অনেক মানুষকেই তারা তাই জোর করে আগুনের মধ্যে শরীর রাখতে বাধ্য করতো এই আশায় যে, এতে তাদের শরীর শুদ্ধ হবে।

 

ঘোড়ার উপর স্টেক রান্না
কখনো কখনো ঘোড়ার জিনের নিচে মাংস রেখে দিত মঙ্গোলরা। এরপর তারা ঘোড়ায় চড়ে বসতো, দীর্ঘক্ষণ ছোটাছুটি করতো। এতে নাকি তাপে মাংস সেদ্ধ হয়ে যেত!

 

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

 

বলা হয়ে থাকে, মঙ্গোলরা মাংস খেতে খুব ভালোবাসতো। যেমন- ভেড়ার মাংস তাদের প্রিয় ছিল। তবে তীক্ষ্ণদন্তের অন্য প্রাণী বা কুকুরও ছিল তাদের খাদ্যের তালিকায়! কিন্তু যেভাবে তারা এগুলো রান্না করতো তা খুব একটা উপাদেয় মনে নাও হতে পারে। আগুনে পুড়িয়ে নয়, মঙ্গোলরা এসব মাংস খেতো সিদ্ধ করে। তাদের ধারণা ছিল, এতে খাবারের আধ্যাত্বিক গুণাগুণ বজায় থাকে। এমনকি খাওয়ার আগে ওই সিদ্ধ করা পানি দিয়েই নিজেদের প্লেট ধুয়ে ফেলতো মঙ্গোলরা!

 

পানির বদলে রক্ত পান
বিশাল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করতে মঙ্গোলদের প্রায়ই যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতে হতো। দূরদূরান্তে যুদ্ধ করতে গেলে অনেক সময় ধারেকাছে পানিও পাওয়া যেত না। কিন্তু তাতে কি, মঙ্গোলদের ছিল বিশেষ উপায়।
কোথাও পানি খুঁজে না পেলে মঙ্গোলরা তাদের ঘোড়ার ঘাড় কেটে ফেলতো এবং ঘোড়ার সেই রক্ত পান করতো। তবে ঘোড়া কিন্তু তখনো জীবিতই থাকতো!

 

 খাবার রাখো নয়তো মরো
কোনো খাবার খেতে গিয়ে যদি গলায় আটকে যায় তাহলে তাকে অশুভ সংকেত বলে ধরে নেয় মঙ্গোলরা। তাই কোনোমতে যদি কেউ সেই খাবার গলা থেকে বের করেও ফেলতো, তাহলেও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতো তাকে। কারণ সেই খাবার গলা থেকে বের করে ফেলে দেয়া মানে অশুভ শক্তি ছড়ানো!

দুধ খেয়েই মাতাল

দুধ খেয়েই মাতাল

দুধ খেয়েই মাতাল

মঙ্গোল ছাড়াও আরো অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে দুধ খাওয়ার রেওয়াজ আছে। কিন্তু মঙ্গোলরা ঘোড়ার দুধে গাঁজন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতো, ফলে সেই দুধ অ্যালকোহলপূর্ণ হয়ে উঠতো। এই দুধের নাম ছিল ‘কুমিস’। আজও সে অঞ্চলে পাওয়া যায় এই দুধ। ভেবে দেখুন, দুধ খেয়ে মাতাল হচ্ছে মানুষ, কী হাস্যকর!

 

থুতু ফেলা নিষেধ
মঙ্গোল সাম্রাজ্যে থুতু ফেলার ব্যাপারে মারাত্বক কড়াকড়ি ছিল। বেশি দূরে থুতু পড়লে শাস্তিও বেশি, এমনকি কখনো কখনো মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হতো!

 

জনসম্মুখে টয়লেটে যাওয়া
উইলিয়াম অব রুবরাক নামক জনৈক ফ্লেমিশ সন্ন্যাসী একবার মঙ্গোল সাম্রাজ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখা পান এক অদ্ভুত কারবার। মঙ্গোলদের টয়লেটে যাওয়ার খুব প্রয়োজন হলে জনসম্মুখেই তারা তা সেরে ফেলতো। কয়েকজন হয়তো গোল হয়ে কথা বলছে, তার ঠিক পাশেই সে বসে যাবে টয়লেট করতে!

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

প্রবাহমান পানির উৎসে কাপড় ধুতো না মঙ্গোলরা। কেউ কেউ বলে শুধুমাত্র বজ্রপাত হলেই এই নিয়ম, এখানে অবশ্য দ্বিমত আছে। উইলিয়ামসের মতে, মঙ্গোলরা মনে করতো যে পানিতে কাপড় ধুলে বজ্রপাত হবে।

 

মুখ দিয়ে ধোয়া
মঙ্গোলরা পারতপক্ষে পানি ব্যবহার করতে চাইতো না। কিন্তু নিতান্ত উপায় না থাকলে তারা মুখে পানি নিয়ে সেই পানি ফেলে হাত বা মাথা ধুয়ে ফেলতো।

 

মৃতদেহের ভেতরে উষ্ণতা
মঙ্গোলদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সদস্য যদি আহত হতো, তাকে দেওয়া হতো এক অদ্ভুত চিকিৎসা। মৃত একটি ষাড়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো তাকে, ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ষাঁড়ের পেটে। এখন হয়তো আপনার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর দ্য রিভেনান্ট চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে!

মূত্রত্যাগের শাস্তি

মূত্রত্যাগের শাস্তি

মূত্রত্যাগের শাস্তি

 

মঙ্গোল সাম্রাজ্যে যদি কেউ পানিতে মূত্রত্যাগ করতো এবং প্রমাণ করতে পারতো যে তা ভুলক্রমে হয়ে গেছে, তাহলে জরিমানা দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব ছিল। সেই জরিমানার টাকা দিয়ে তখন ওই ব্যক্তির ঘর পরিষ্কার করা হতো যেন কোনো অশুভ শক্তি না থাকে। কিন্তু যদি প্রমাণ হতো যে ইচ্ছা করে মূত্রত্যাগ করেছে, তাহলে তার শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড।

 

যত বেশি রক্ত, ততই ভালো
মঙ্গোলরা মাংস খাওয়ার জন্য পশু জবাই করলেও যতটা সম্ভব রক্ত ভেতরে রাখতে চাইতো।

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

মঙ্গোলদের মধ্যে অভিজাত নারীরা নিজেদের চুলকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। নানা রকম বাহারি ঢঙে চুল বাধতেন, দামি পাথর লাগাতেন চুলে। কিন্তু কীভাবে এই কাজ করতেন তারা? ভেড়ার জমে যাওয়া চর্বি ছিল তাদের একটি হাতিয়ার! মঙ্গোলদের হেয়ারস্টাইলে আপনি স্টার ওয়ারস এর হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন, কারণ এদের সাদৃশ্য অনেক।

 

সবচেয়ে বেদনাদায়ক ম্যাসাজ
মঙ্গোল সাম্রাজ্যে কেউ যদি পেটের ব্যথায় ভোগে, তাহলে তাকে অদ্ভুত দাওয়াই দেওয়া হতো। এর জন্য লাগবে উটের দুধ এবং রূপার কাপ। সেই দুধ শরীরে ঢেলে ম্যাসাজ করা হতো, যা প্রায়ই বেদনাদায়ক প্রক্রিয়া হয়ে দাড়াতো!

শত্রুর দিকে রোগাক্রান্ত দেহ ছুড়ে মারা
মঙ্গোলদের এক কুবুদ্ধি ছিল এটি। সংক্রামক রোগে আক্রান্ত দেহ শত্রুর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে তাকে জব্দ করতে চাইতো তারা।

সূত্র: স্প্রেড 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট

» নবীনগরে পচা মাংস বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

» একলা একা

» লিসবনে মাল্টিকালচ্যারাল একাডেমির ঈদ পুনর্মিলনী

» সোনারগাঁও থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেলসহ ছয় যুবক আটক

» খুলনায় দুই খালাতো বোনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার

» সবাইকে সাশ্রয়ী হতে বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

» ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না: নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের

» ঢাকায় ১৭ স্থানে বসবে অস্থায়ী পশুর হাট

» চট্টগ্রামে যাত্রীর ব্যাগ চুরি, অটোরিকশাচালক গ্রেফতার

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

থুতু ফেলা নিষেধ, পানির বদলে রক্ত পান এগুলো মঙ্গোল রীতি

মঙ্গোলরা কোথাও পানি খুঁজে না পেলে তাদের ঘোড়ার ঘাড় কেটে ফেলতো এবং ঘোড়ার সেই রক্ত পান করতো। তবে ঘোড়া কিন্তু তখনো জীবিতই থাকতো! আবার দুধ খেয়ে মাতাল হওয়ার মতো প্রক্রিয়াও ছিল তাদের। 

 

চেঙ্গিস খানের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। তার নাম শুনলে আপনার চোখে ভেসে ওঠে বিশাল এক সেনাবাহিনী, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দোর্দন্ড প্রতাপশালী এই যোদ্ধা। শুধু তাই নয়, মঙ্গোল সাম্রাজ্য ছিল পুরো মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা এক সাম্রাজ্য। তবে তার মানে কি মঙ্গোলরা সারাবছর শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকতো? না, তারাও ছিল আমাদেরই মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ, তাদেরও ছিল পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব। তারাও আমাদেরই মতো খেত, ঘুমাতো, টয়লেটে যেত।

তবে এইসব স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যেই ছিল একের পর এক অদ্ভুত প্রথা বা নিয়ম, যা মঙ্গোলরা বেশ ভালোভাবেই মেনে চলতো। আজকের পৃথিবীতে সেসব নিয়ম-রীতির কথা যদি উত্থাপন করা হয়, তাহলে এক মুহূর্তে আপনি সেই ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে উন্মাদ ধরে নিতে দ্বিধা করবেন না! সত্যি বলতে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে মঙ্গোলরা যেন অনেকটা পিছিয়েই ছিল। তবে কি ছিল মঙ্গোলদের সেই সব অদ্ভুত রীতি? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

হাত ধোয়া নিষেধ

হাত ধোয়া নিষেধ

হাত ধোয়া নিষেধ

খাওয়ার আগে বা পরে হাত ধোয়া নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতো না মঙ্গোলরা। এমনকি মাংস, চর্বি, তেলে সারা শরীর মাখামাখি অবস্থায় থাকলেও প্রথমে তারা সেটা নিজেদের কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতো, পরে একটু পানির খোজ করতো! আপনি কি কখনো এমন অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে পারবেন?

 

তেল চিটচিটে পোশাক
প্রাচীনকালে মঙ্গোলদের পোশাক-পরিচ্ছদও প্রাণীর চর্বি বা তেলে জবজবে হয়ে থাকতো। শুনতে ঘেন্না লাগলেও এর পেছনে একটা যৌক্তিক কারণ ছিল বটে! এই সব রকম ফ্যাট তাদের জন্য তীব্র শীত নিবারণে সহায়তা করতো।

 

নিজের কাপ থেকে পান করা মানা
একসাথে বসে কোনোকিছু পান করার ক্ষেত্রে প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীরই রয়েছে আলাদা আলাদা রীতি। কিন্তু মঙ্গোলদেরটা আবার বড়ই অদ্ভুত। কারণ সেখানে কেউ নিজের কাপ থেকে পান করতো না, বরং একজন অপরজনের কাপ থেকে পান করতো। খুব একটা স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া নয়, তাইনা? কিন্তু এখানেও রয়েছে যুক্তি! মঙ্গোলদের অন্যতম ভয় ছিল, যে কোনো মুহূর্তে কেউ তাদের বিষ প্রয়োগে হত্যা করতে পারে। বিষের হাত থেকে বাঁচতেই এই অভিনব নিয়ম চালু করেন চেঙ্গিস খান।

আগুনে নেই ভয়

আগুনে নেই ভয়

আগুনে নেই ভয়

 

মঙ্গোলরা বিশ্বাস করতো, আগুনের মধ্যে এক প্রকার শক্তি আছে। আগুনের মধ্য দিয়ে যে যায়, সে বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে। আবার অত্যাধিক তাপমাত্রায় জীবাণুও মরে যায়। তাই সব মিলিয়ে আগুন তাদের কাছে কোনো ভীতিকর বিষয় ছিল না।

 

পুড়ে গেলেও ক্ষতি নেই
আগুনকে মঙ্গোলরা পবিত্র শক্তি হিসেবে দেখতো, বৈজ্ঞানিক নয়। অনেক মানুষকেই তারা তাই জোর করে আগুনের মধ্যে শরীর রাখতে বাধ্য করতো এই আশায় যে, এতে তাদের শরীর শুদ্ধ হবে।

 

ঘোড়ার উপর স্টেক রান্না
কখনো কখনো ঘোড়ার জিনের নিচে মাংস রেখে দিত মঙ্গোলরা। এরপর তারা ঘোড়ায় চড়ে বসতো, দীর্ঘক্ষণ ছোটাছুটি করতো। এতে নাকি তাপে মাংস সেদ্ধ হয়ে যেত!

 

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

খাবার অনেক বেশি সিদ্ধ করা

 

বলা হয়ে থাকে, মঙ্গোলরা মাংস খেতে খুব ভালোবাসতো। যেমন- ভেড়ার মাংস তাদের প্রিয় ছিল। তবে তীক্ষ্ণদন্তের অন্য প্রাণী বা কুকুরও ছিল তাদের খাদ্যের তালিকায়! কিন্তু যেভাবে তারা এগুলো রান্না করতো তা খুব একটা উপাদেয় মনে নাও হতে পারে। আগুনে পুড়িয়ে নয়, মঙ্গোলরা এসব মাংস খেতো সিদ্ধ করে। তাদের ধারণা ছিল, এতে খাবারের আধ্যাত্বিক গুণাগুণ বজায় থাকে। এমনকি খাওয়ার আগে ওই সিদ্ধ করা পানি দিয়েই নিজেদের প্লেট ধুয়ে ফেলতো মঙ্গোলরা!

 

পানির বদলে রক্ত পান
বিশাল সাম্রাজ্যকে রক্ষা করতে মঙ্গোলদের প্রায়ই যুদ্ধে ব্যস্ত থাকতে হতো। দূরদূরান্তে যুদ্ধ করতে গেলে অনেক সময় ধারেকাছে পানিও পাওয়া যেত না। কিন্তু তাতে কি, মঙ্গোলদের ছিল বিশেষ উপায়।
কোথাও পানি খুঁজে না পেলে মঙ্গোলরা তাদের ঘোড়ার ঘাড় কেটে ফেলতো এবং ঘোড়ার সেই রক্ত পান করতো। তবে ঘোড়া কিন্তু তখনো জীবিতই থাকতো!

 

 খাবার রাখো নয়তো মরো
কোনো খাবার খেতে গিয়ে যদি গলায় আটকে যায় তাহলে তাকে অশুভ সংকেত বলে ধরে নেয় মঙ্গোলরা। তাই কোনোমতে যদি কেউ সেই খাবার গলা থেকে বের করেও ফেলতো, তাহলেও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতো তাকে। কারণ সেই খাবার গলা থেকে বের করে ফেলে দেয়া মানে অশুভ শক্তি ছড়ানো!

দুধ খেয়েই মাতাল

দুধ খেয়েই মাতাল

দুধ খেয়েই মাতাল

মঙ্গোল ছাড়াও আরো অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে দুধ খাওয়ার রেওয়াজ আছে। কিন্তু মঙ্গোলরা ঘোড়ার দুধে গাঁজন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতো, ফলে সেই দুধ অ্যালকোহলপূর্ণ হয়ে উঠতো। এই দুধের নাম ছিল ‘কুমিস’। আজও সে অঞ্চলে পাওয়া যায় এই দুধ। ভেবে দেখুন, দুধ খেয়ে মাতাল হচ্ছে মানুষ, কী হাস্যকর!

 

থুতু ফেলা নিষেধ
মঙ্গোল সাম্রাজ্যে থুতু ফেলার ব্যাপারে মারাত্বক কড়াকড়ি ছিল। বেশি দূরে থুতু পড়লে শাস্তিও বেশি, এমনকি কখনো কখনো মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হতো!

 

জনসম্মুখে টয়লেটে যাওয়া
উইলিয়াম অব রুবরাক নামক জনৈক ফ্লেমিশ সন্ন্যাসী একবার মঙ্গোল সাম্রাজ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখা পান এক অদ্ভুত কারবার। মঙ্গোলদের টয়লেটে যাওয়ার খুব প্রয়োজন হলে জনসম্মুখেই তারা তা সেরে ফেলতো। কয়েকজন হয়তো গোল হয়ে কথা বলছে, তার ঠিক পাশেই সে বসে যাবে টয়লেট করতে!

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

পানিতে কাপড় ধোয়া নিষেধ

প্রবাহমান পানির উৎসে কাপড় ধুতো না মঙ্গোলরা। কেউ কেউ বলে শুধুমাত্র বজ্রপাত হলেই এই নিয়ম, এখানে অবশ্য দ্বিমত আছে। উইলিয়ামসের মতে, মঙ্গোলরা মনে করতো যে পানিতে কাপড় ধুলে বজ্রপাত হবে।

 

মুখ দিয়ে ধোয়া
মঙ্গোলরা পারতপক্ষে পানি ব্যবহার করতে চাইতো না। কিন্তু নিতান্ত উপায় না থাকলে তারা মুখে পানি নিয়ে সেই পানি ফেলে হাত বা মাথা ধুয়ে ফেলতো।

 

মৃতদেহের ভেতরে উষ্ণতা
মঙ্গোলদের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সদস্য যদি আহত হতো, তাকে দেওয়া হতো এক অদ্ভুত চিকিৎসা। মৃত একটি ষাড়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো তাকে, ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ষাঁড়ের পেটে। এখন হয়তো আপনার লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর দ্য রিভেনান্ট চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে!

মূত্রত্যাগের শাস্তি

মূত্রত্যাগের শাস্তি

মূত্রত্যাগের শাস্তি

 

মঙ্গোল সাম্রাজ্যে যদি কেউ পানিতে মূত্রত্যাগ করতো এবং প্রমাণ করতে পারতো যে তা ভুলক্রমে হয়ে গেছে, তাহলে জরিমানা দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব ছিল। সেই জরিমানার টাকা দিয়ে তখন ওই ব্যক্তির ঘর পরিষ্কার করা হতো যেন কোনো অশুভ শক্তি না থাকে। কিন্তু যদি প্রমাণ হতো যে ইচ্ছা করে মূত্রত্যাগ করেছে, তাহলে তার শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড।

 

যত বেশি রক্ত, ততই ভালো
মঙ্গোলরা মাংস খাওয়ার জন্য পশু জবাই করলেও যতটা সম্ভব রক্ত ভেতরে রাখতে চাইতো।

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

যত বড় চুল, তত বেশি গুরুত্ব

মঙ্গোলদের মধ্যে অভিজাত নারীরা নিজেদের চুলকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। নানা রকম বাহারি ঢঙে চুল বাধতেন, দামি পাথর লাগাতেন চুলে। কিন্তু কীভাবে এই কাজ করতেন তারা? ভেড়ার জমে যাওয়া চর্বি ছিল তাদের একটি হাতিয়ার! মঙ্গোলদের হেয়ারস্টাইলে আপনি স্টার ওয়ারস এর হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন, কারণ এদের সাদৃশ্য অনেক।

 

সবচেয়ে বেদনাদায়ক ম্যাসাজ
মঙ্গোল সাম্রাজ্যে কেউ যদি পেটের ব্যথায় ভোগে, তাহলে তাকে অদ্ভুত দাওয়াই দেওয়া হতো। এর জন্য লাগবে উটের দুধ এবং রূপার কাপ। সেই দুধ শরীরে ঢেলে ম্যাসাজ করা হতো, যা প্রায়ই বেদনাদায়ক প্রক্রিয়া হয়ে দাড়াতো!

শত্রুর দিকে রোগাক্রান্ত দেহ ছুড়ে মারা
মঙ্গোলদের এক কুবুদ্ধি ছিল এটি। সংক্রামক রোগে আক্রান্ত দেহ শত্রুর দিকে ছুঁড়ে দিয়ে তাকে জব্দ করতে চাইতো তারা।

সূত্র: স্প্রেড 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com