ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তদন্তের আগে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ আইনে কোনো অপরাধের অভিযোগ এলে আগে পুলিশের তদন্ত হবে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে মামলা কিংবা গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার থাকা লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর এই আইনটি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে একথা জানিয়েছেন।

এ আইনে করা এক মামলায় নয় মাস ধরে আটক থাকা লেখক মুশতাক আহমেদ সম্প্রতি কারাগারে মারা যান। ছয় বার আবেদন করেও তার জামিন মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিবিসিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তদন্তের আগে মামলা নেয়া বা কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না, এমন ব্যবস্থা তারা নিচ্ছেন। আমরা বলেছি যে, সরাসরি মামলা নেয়া হবে না। কোনো অভিযোগ এলে পুলিশ প্রথমে তদন্ত করে দেখবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তারপরে মামলা নেয়া হবে।

এ আইনে জামিন হওয়া না হওয়ার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, সাজা যতটা হলে জামিন হবে এবং যতটা হলে জামিন হবে না- ঠিক সেই প্রিন্সিপালটা ফলো করে আমরা বিধান করেছি। সারা পৃথিবীতেই এটা করা হয়। এমনকি এই উপমহাদেশেও। বিষয়টা নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করছি।

আইনটির অপপ্রয়োগের অভিযোগ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, সব আইনই যখন করা হয়, তখন কিন্তু একটা ট্রায়াল অ্যান্ড এরর বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়। কথা হচ্ছে, এখানে যদি কিছু অ্যাবিউজ এবং মিসইউজ হয়, সেটা কি করে বন্ধ করা হবে- সে ব্যাপারে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সঙ্গেও আইনটি নিয়ে আলোচনা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আমি আলাপ চালাচ্ছি। সারা বিশ্বের সঙ্গে আমরা এটার তুলনা করছি। মিসইউজ যেগুলি ধরা পড়ছে বা অ্যাবিউজ যেগুলো হচ্ছে, সেগুলোর জন্য একটা চেক অ্যাণ্ড ব্যালেন্স সিস্টেম কীভাবে ডেভেলপ করা যায়, এই আইনের মধ্যেই কীভাবে সেটা থাকতে পারে-সেই ব্যবস্থা আমরা করছি। এসব ব্যবস্থা নিতে আইনের সংশোধনের প্রয়োজন নাও হতে পারে এবং বিধির মাধ্যমে সেটা করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নানা বিতর্কের মধ্যে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে। এ আইন নিয়ে শুরু থেকেই গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মীরা আপত্তি করেছিলেন। আইনের অপপ্রয়োগ নিয়েও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

তাদের উদ্বেগের মূল বিষয় হচ্ছে, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, গুজব রটনা বা সরকারের সমালোচনা করা- এমন সব অভিযোগে মামলা হলেই আটক করে রাখা হয় এবং আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কত পারিশ্রমিক নেন জানভি?

» রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিলুপ্ত প্রজাতির বানর উদ্ধার

» ইতিহাস বিকৃতির অপপ্রয়াস কখনো সফল হবে না: আমু

» সমঝোতা নয়, হেফাজতকে শক্তভাবে দমনের দাবি

» আলেমরা নন, গ্রেপ্তার হচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা: তথ্যমন্ত্রী

» রমজান মাস… রাজগঞ্জের হানুয়ারের হাতে ভাজা মুক্তি মুড়ি মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয়

» সংবাদ প্রকাশের পর  আনারুলকে অর্থ ও টিন দিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রী 

» ‘নগদ’ এখন ৪ কোটি গ্রাহকের অপারেটর

» আর কত গরিব হলে সরকারী ঘর পাবো বৃদ্ধা আনোয়ারা 

» নওগাঁয় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তদন্তের আগে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ আইনে কোনো অপরাধের অভিযোগ এলে আগে পুলিশের তদন্ত হবে। তদন্তের ওপর ভিত্তি করে মামলা কিংবা গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার থাকা লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর এই আইনটি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে একথা জানিয়েছেন।

এ আইনে করা এক মামলায় নয় মাস ধরে আটক থাকা লেখক মুশতাক আহমেদ সম্প্রতি কারাগারে মারা যান। ছয় বার আবেদন করেও তার জামিন মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিবিসিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তদন্তের আগে মামলা নেয়া বা কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না, এমন ব্যবস্থা তারা নিচ্ছেন। আমরা বলেছি যে, সরাসরি মামলা নেয়া হবে না। কোনো অভিযোগ এলে পুলিশ প্রথমে তদন্ত করে দেখবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তারপরে মামলা নেয়া হবে।

এ আইনে জামিন হওয়া না হওয়ার প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, সাজা যতটা হলে জামিন হবে এবং যতটা হলে জামিন হবে না- ঠিক সেই প্রিন্সিপালটা ফলো করে আমরা বিধান করেছি। সারা পৃথিবীতেই এটা করা হয়। এমনকি এই উপমহাদেশেও। বিষয়টা নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করছি।

আইনটির অপপ্রয়োগের অভিযোগ বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, সব আইনই যখন করা হয়, তখন কিন্তু একটা ট্রায়াল অ্যান্ড এরর বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়। কথা হচ্ছে, এখানে যদি কিছু অ্যাবিউজ এবং মিসইউজ হয়, সেটা কি করে বন্ধ করা হবে- সে ব্যাপারে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সঙ্গেও আইনটি নিয়ে আলোচনা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আমি আলাপ চালাচ্ছি। সারা বিশ্বের সঙ্গে আমরা এটার তুলনা করছি। মিসইউজ যেগুলি ধরা পড়ছে বা অ্যাবিউজ যেগুলো হচ্ছে, সেগুলোর জন্য একটা চেক অ্যাণ্ড ব্যালেন্স সিস্টেম কীভাবে ডেভেলপ করা যায়, এই আইনের মধ্যেই কীভাবে সেটা থাকতে পারে-সেই ব্যবস্থা আমরা করছি। এসব ব্যবস্থা নিতে আইনের সংশোধনের প্রয়োজন নাও হতে পারে এবং বিধির মাধ্যমে সেটা করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নানা বিতর্কের মধ্যে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে। এ আইন নিয়ে শুরু থেকেই গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মীরা আপত্তি করেছিলেন। আইনের অপপ্রয়োগ নিয়েও তাদের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

তাদের উদ্বেগের মূল বিষয় হচ্ছে, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, গুজব রটনা বা সরকারের সমালোচনা করা- এমন সব অভিযোগে মামলা হলেই আটক করে রাখা হয় এবং আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]ail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com