ডলার ঘাটতিতে অস্থিরতা বাড়ছে আমদানি তীব্র হচ্ছে সংকট

দীর্ঘদিন ধরে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সংকটে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদ ডলার সরবরাহ করেও ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে প্রতিদিন নগদ ডলারের ঘাটতিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ডলারের দাম গতকাল সর্বোচ্চ ৮৬ টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকই ৮৪ টাকার ওপরে বিক্রি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এ সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় হাজার কোটি ডলার। চলতি বছর এ ঘাটতি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। গত এপ্রিলে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৯৪১ কোটি ডলার। এ সময় রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়েছে ৬০৭ কোটি ডলার। প্রতি মাসের চিত্রই এমন। ফলে ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলা বাজারে ডলার সরবরাহ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৪৬ কোটি ডলার। চলতি বছর রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেমিট্যান্স অর্থ দিয়েও নগদ ডলারের ঘাটতি মেটাতে পারছে না। ব্যাংকগুলো ডলার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে এলসি খুলতে পারছে না। বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে ডলারের ব্যবহারের কারণে ব্যবসায়ীরা ডলার পাচ্ছে না। গতকাল বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার লেনদেনে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৮৬ টাকায় ডলার বিক্রি হয়েছে। ঢাকা ব্যাংক ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৪.৫০ টাকা, বেসিক ব্যাংক ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংক ৮৫.৫০ টাকা, সোনালী ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫৫ পয়সা, জনতা ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, আইএফআইসি ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, যমুনা ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, এনসিসি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, রূপালী ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, ইস্টার্ন ব্যাংক ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা, এসআইবিএল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, স্টান্ডার্ড ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, এক্সিম ব্যাংক ৮৫ টাকা, ইউসিবি ৮৪ টাকা ৭৫ পয়সা।

সংকটের কারণে প্রতিদিন খোলা বাজারে নগদ ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলার সরবরাহ করেও ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে দামে। ডলার সংকট তীব্র হওয়া শুরু করে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে, ওই সময় ডলার ছিল ৮০ টাকার নিচে। এক মাসের ব্যবধানে ডলার ৮৪ থেকে ৮৫ টাকায় চলে আসে। এরপরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা সংকট কমে যায়। তবে গত তিন/চার মাস ধরে এ পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে চলে গেছে। বিষয়টি জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন বড় প্রকল্পের জন্য প্রচুর ডলার চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় থেকে মেটানো যাচ্ছে না। ফলে সংকট কাটছে না। পুরো বছরই এ সংকট থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডলার সরবরাহ করছে। এতে আমাদের তেমন কোনো সমস্যা নেই।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গেলেন বিমান বাহিনীর ১২৫ সদস্য

» দিনাজপুরের প্রথম ডাক্তার করোনা আক্রান্ত যুদ্ধাহত এক যোদ্ধা তানভীর তালুকদার আইশোলেনের কিছু কথা

» ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ

» ফুলপুরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুল হকের দাফন সম্পন্ন

» প্রসূতির সিজারের ছবি ফেসবুকে লক্ষীপুরে চরম অসন্তোষ

» লক্ষ্মীপুরে চাঁদার দাবীতে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, আহত ৮, 

» রূপগঞ্জে বাল্য বিয়ে পন্ড করলেন এ্যাসিল্যান্ড আফিফা খাঁন

» মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা

» ঝালকাঠিতে আম্ফানে বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি নির্মাণে সেনাবাহিনী

» ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার

 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ডলার ঘাটতিতে অস্থিরতা বাড়ছে আমদানি তীব্র হচ্ছে সংকট

দীর্ঘদিন ধরে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সংকটে ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদ ডলার সরবরাহ করেও ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে প্রতিদিন নগদ ডলারের ঘাটতিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে ডলারের দাম গতকাল সর্বোচ্চ ৮৬ টাকার ওপরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকই ৮৪ টাকার ওপরে বিক্রি করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত এ সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত অর্থবছর শেষে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল প্রায় হাজার কোটি ডলার। চলতি বছর এ ঘাটতি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। গত এপ্রিলে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৩৪ কোটি ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৯৪১ কোটি ডলার। এ সময় রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়েছে ৬০৭ কোটি ডলার। প্রতি মাসের চিত্রই এমন। ফলে ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলা বাজারে ডলার সরবরাহ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৪৬ কোটি ডলার। চলতি বছর রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেমিট্যান্স অর্থ দিয়েও নগদ ডলারের ঘাটতি মেটাতে পারছে না। ব্যাংকগুলো ডলার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে এলসি খুলতে পারছে না। বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে ডলারের ব্যবহারের কারণে ব্যবসায়ীরা ডলার পাচ্ছে না। গতকাল বিভিন্ন ব্যাংকের ডলার লেনদেনে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৮৬ টাকায় ডলার বিক্রি হয়েছে। ঢাকা ব্যাংক ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৪.৫০ টাকা, বেসিক ব্যাংক ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংক ৮৫.৫০ টাকা, সোনালী ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫৫ পয়সা, জনতা ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, আইএফআইসি ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, যমুনা ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, এনসিসি ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, রূপালী ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, ইস্টার্ন ব্যাংক ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা, এসআইবিএল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা, স্টান্ডার্ড ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, এক্সিম ব্যাংক ৮৫ টাকা, ইউসিবি ৮৪ টাকা ৭৫ পয়সা।

সংকটের কারণে প্রতিদিন খোলা বাজারে নগদ ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডলার সরবরাহ করেও ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে দামে। ডলার সংকট তীব্র হওয়া শুরু করে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে, ওই সময় ডলার ছিল ৮০ টাকার নিচে। এক মাসের ব্যবধানে ডলার ৮৪ থেকে ৮৫ টাকায় চলে আসে। এরপরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা সংকট কমে যায়। তবে গত তিন/চার মাস ধরে এ পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে চলে গেছে। বিষয়টি জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন বড় প্রকল্পের জন্য প্রচুর ডলার চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় থেকে মেটানো যাচ্ছে না। ফলে সংকট কাটছে না। পুরো বছরই এ সংকট থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডলার সরবরাহ করছে। এতে আমাদের তেমন কোনো সমস্যা নেই।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com