টানা পার্টি বেপরোয়া

ঈদকে ঘিরে রাজধানীর শপিংমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটকেন্দ্রিক বেপরোয়া ছিনতাই-মলম এবং টানাপার্টি। ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অভিযোগ করতে গেলে উল্টো তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। ভোরের ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। রাজপথ হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। রাজধানীর ৫০ থানা এলাকার ২ শতাধিক স্পটে অন্তত অর্ধশতাধিক সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের ৩ শতাধিক সদস্য বেপরোয়া। প্রতিমাসে গড়ে ২০টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে রাজধানীতে। টানাপার্টির বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে ভোরের ঢাকায়। কিছু ঘটনা ঘটছে বিকাল থেকে মধ্যরাতে।

 

সম্প্রতি ধোলাইখাল এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন পুরান ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে সড়কে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাছে অভিযোগ জানালে তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন এবং হেসে উড়িয়ে দেন

 

গত মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন। নগদ টাকা, মুঠোফোন সর্বস্ব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা গ্রামে না গিয়ে ঢাকার ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন।
পুলিশ সদস্যরা সূত্রাপুর থানায় অভিযোগ জানাতে বললেও ঘটনাটি আদৌ সূত্রাপুর থানার মধ্যে পড়েছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিল্লাল হোসেন জানান, মুরগিটোলা মোড় থেকে দয়াগঞ্জ যাওয়ার পথে ব্র্যাক ব্যাংকের যে বুথটি রয়েছে, তা সূত্রাপুর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে না। বিল্লাল এরপরও সূত্রাপুর থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ জানায়, আইএমআই নম্বর ছাড়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব নয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিল্লাল বলেন, মীর হাজীরবাগের বাসা থেকে রিকশায় সদরঘাটে যাচ্ছিলেন। ধোলাইখাল ট্রাক স্ট্যাণ্ডের আগে একটি রাস্তার মুখে তাদের বহনকারী রিকশাটি পেছন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিছুটা ধাক্কা দেয়। এতে তারা থেমে যেতেই অটোরিকশা থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুই ব্যক্তি বের হয়। তা ঠেকিয়ে বোনের সঙ্গে থাকা ব্যাগটি টেনে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগে একেবারে অল্প সময়ে এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে ফের বাসার দিকে ফিরে আসেন। ব্যাগে নগদ ১৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিল।

 

থানায় মামলা করার বিষয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। রিকশাচালক বাবার কষ্টের অনেকগুলো টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোগাড় করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। তবুও আত্মীয়-স্বজনদের পরামর্শে পরদিন সূত্রাপুর থানায় যাই। কিন্তু ছিনতাইকারীরা নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই বলতে পারিনি বলে জিডি এবং মামলা কোনোটিই নেয়নি। সূত্রাপুর থানা পুলিশ জানায়, আইএমইআই না থাকলে তো মোবাইল উদ্ধার করা যাবে না। এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্র জানায়, ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেটটিতে ব্যবহৃত নম্বর থাকলেই আইএমইআই নম্বর বের করা সম্ভব।

 

এর আগে গত ২২শে এপ্রিল সকাল সাড়ে পাঁচটায় ধামনণ্ডিতে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। এ সময় ছিনতাইকারীর প্রাইভেটকারটিকে অনুসরণ করেন দুই গণমাধ্যমকর্মী। জিগাতলা গিয়ে গাড়িটিকে ধাওয়া করে আটক করলেও সড়কে ধানমণ্ডি থানার দায়িত্বরত পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে বিষয়টি জানালেও তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তেমন কোনো গুরুত্ব দেননি। সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ছিনতাইকারীকে তার প্রাইভেটকারসহ ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই সংবাদকর্মী।

 

ডিএমপির সূত্র বলছে, রাজধানীর বাড্ডা, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, ভাষানটেক, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, গুলিস্তান, রামপুরা, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁওসহ মহানগরীর থানা এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক ছিনতাইয়ের স্পট রয়েছে। এসব স্পটে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনতাই হচ্ছে। সদরঘাট থেকে সূত্রাপুর, সদরঘাট থেকে দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, গুলিস্তান থেকে পল্টন, সার্ক ফোয়ারা থেকে রমনা পার্ক, কাঁটাবন থেকে নীলক্ষেত, পলাশী থেকে আজিমপুর এবং যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় থেকে শ্যামপুর এলাকায় টানা পার্টি বেশি সক্রিয়। এসবের মধ্যে রমনা, পল্টন, হাইকোর্ট মোড়, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর রোড, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড ও মৌচাক এলাকায়ও ছিনতাইকারী ও টানা পার্টি সক্রিয়। মোহাম্মদপুরের কলেজ গেট থেকে রিং রোড, কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে মিরপুর-১, আগারগাঁও সংযোগ সড়ক, খিলক্ষেত থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক, কালশী রোড, মৌচাক মার্কেট থেকে মগবাজার, উত্তরা থেকে আব্দুল্লাহপুর, ঝিগাতলা থেকে রায়েরবাজার, ঝিগাতলা থেকে শংকর, মিরপুরের রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় ছিনতাই ও টানাপার্টি দিনের চেয়ে রাতে বেশি তৎপর থাকে।

 

মধ্যরাতে পুলিশি টহল শিথিল থাকে। আর ভোরে রাস্তাগুলো থাকে ফাঁকা। যতসংখ্যক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ততটা মামলা হয় না। ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগীরা মামলায় যেতে চান না। কখনো কখনো ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে থানায় গেলেও জিডি করা হয় না। ছিনতাইয়ের ঘটনাকে অনেক সময় হারানোর জিডি হিসাবে নথিভুক্তও করা হয়। পুলিশ গুরুত্ব দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সায়েদাবাদ, ধানমণ্ডি থেকে মিরপুর-গাবতলী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টানাপার্টির সদস্যরা। ছিনতাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ভোর ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

 

এদিকে গত দু’সপ্তাহে রাজধানীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাবসহ একাধিক বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় অর্ধশত ছিনতাই ও টানাপার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপরও থেমে নেই তাদের দৌরাত্ম্য। যাদের অধিকাংশই জেল থেকে জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় একই পেশায় জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছিনতাইকারীরা এই মুহূর্তে অপ্রতিরোধ্য বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

 

রাজধানীতে ধারাবাহিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযানে নামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত ২৫শে এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত রাজধানীর লালবাগ, সিদ্ধিরগঞ্জ, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, মতিঝিল, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একদিনে ছিনতাইকারী চক্রের ৩১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি মোবাইলফোন, ট্যাব এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আকতার  বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৎপর ছিনতাই-টানাপার্টি এবং চুরি-ডাকাতি চক্র। এ বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ পোশাকে এবং সাদা পোশাকে মাঠে কাজ করছে। ছিনতাইসহ এ ধরনের ঘটনায় কোনো থানা মামলা না নিলে বা মামলা নিতে গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতি হওয়ার পরও কোনো থানা মামলা না নিলে বা মামলা নিতে গড়িমসি করলে এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে এবং তা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাকে করুণা ভিক্ষা দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

» আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকা-মার্কেট বন্ধ

» তাপদাহের তীব্রতা বেড়েছে

» ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফি আসছে ঢাকায়

» ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন ১ জুন থেকে

» বনি-কৌশানির নতুন মিশন

» মেক্সিকো সীমান্তে খোঁজ মিললো দীর্ঘ সুড়ঙ্গের

» রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে: মির্জা ফখরুল

» রাজউকের নতুন চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান

» হজ নিবন্ধনের টাকা যেভাবে ফেরত পাবেন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

টানা পার্টি বেপরোয়া

ঈদকে ঘিরে রাজধানীর শপিংমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটকেন্দ্রিক বেপরোয়া ছিনতাই-মলম এবং টানাপার্টি। ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিরা রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অভিযোগ করতে গেলে উল্টো তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। ভোরের ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটে। গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত অরক্ষিত হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। রাজপথ হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য। রাজধানীর ৫০ থানা এলাকার ২ শতাধিক স্পটে অন্তত অর্ধশতাধিক সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের ৩ শতাধিক সদস্য বেপরোয়া। প্রতিমাসে গড়ে ২০টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে রাজধানীতে। টানাপার্টির বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটছে ভোরের ঢাকায়। কিছু ঘটনা ঘটছে বিকাল থেকে মধ্যরাতে।

 

সম্প্রতি ধোলাইখাল এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন পুরান ঢাকার কলেজ শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে সড়কে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের কাছে অভিযোগ জানালে তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন এবং হেসে উড়িয়ে দেন

 

গত মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন। নগদ টাকা, মুঠোফোন সর্বস্ব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা গ্রামে না গিয়ে ঢাকার ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন।
পুলিশ সদস্যরা সূত্রাপুর থানায় অভিযোগ জানাতে বললেও ঘটনাটি আদৌ সূত্রাপুর থানার মধ্যে পড়েছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিল্লাল হোসেন জানান, মুরগিটোলা মোড় থেকে দয়াগঞ্জ যাওয়ার পথে ব্র্যাক ব্যাংকের যে বুথটি রয়েছে, তা সূত্রাপুর থানা এলাকার মধ্যে পড়ে না। বিল্লাল এরপরও সূত্রাপুর থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ জানায়, আইএমআই নম্বর ছাড়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব নয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিল্লাল বলেন, মীর হাজীরবাগের বাসা থেকে রিকশায় সদরঘাটে যাচ্ছিলেন। ধোলাইখাল ট্রাক স্ট্যাণ্ডের আগে একটি রাস্তার মুখে তাদের বহনকারী রিকশাটি পেছন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিছুটা ধাক্কা দেয়। এতে তারা থেমে যেতেই অটোরিকশা থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুই ব্যক্তি বের হয়। তা ঠেকিয়ে বোনের সঙ্গে থাকা ব্যাগটি টেনে নিয়ে দ্রুত চলে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগে একেবারে অল্প সময়ে এমন ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে ফের বাসার দিকে ফিরে আসেন। ব্যাগে নগদ ১৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিল।

 

থানায় মামলা করার বিষয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। রিকশাচালক বাবার কষ্টের অনেকগুলো টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে গেছে। এই টাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোগাড় করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। তবুও আত্মীয়-স্বজনদের পরামর্শে পরদিন সূত্রাপুর থানায় যাই। কিন্তু ছিনতাইকারীরা নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের আইএমইআই বলতে পারিনি বলে জিডি এবং মামলা কোনোটিই নেয়নি। সূত্রাপুর থানা পুলিশ জানায়, আইএমইআই না থাকলে তো মোবাইল উদ্ধার করা যাবে না। এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্র জানায়, ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেটটিতে ব্যবহৃত নম্বর থাকলেই আইএমইআই নম্বর বের করা সম্ভব।

 

এর আগে গত ২২শে এপ্রিল সকাল সাড়ে পাঁচটায় ধামনণ্ডিতে ছিনতাইয়ের শিকার হন এক নারী। এ সময় ছিনতাইকারীর প্রাইভেটকারটিকে অনুসরণ করেন দুই গণমাধ্যমকর্মী। জিগাতলা গিয়ে গাড়িটিকে ধাওয়া করে আটক করলেও সড়কে ধানমণ্ডি থানার দায়িত্বরত পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে বিষয়টি জানালেও তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তেমন কোনো গুরুত্ব দেননি। সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্টসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ছিনতাইকারীকে তার প্রাইভেটকারসহ ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই সংবাদকর্মী।

 

ডিএমপির সূত্র বলছে, রাজধানীর বাড্ডা, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, ভাষানটেক, মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, গুলিস্তান, রামপুরা, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁওসহ মহানগরীর থানা এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক ছিনতাইয়ের স্পট রয়েছে। এসব স্পটে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ছিনতাই হচ্ছে। সদরঘাট থেকে সূত্রাপুর, সদরঘাট থেকে দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, গুলিস্তান থেকে পল্টন, সার্ক ফোয়ারা থেকে রমনা পার্ক, কাঁটাবন থেকে নীলক্ষেত, পলাশী থেকে আজিমপুর এবং যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় থেকে শ্যামপুর এলাকায় টানা পার্টি বেশি সক্রিয়। এসবের মধ্যে রমনা, পল্টন, হাইকোর্ট মোড়, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর রোড, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড ও মৌচাক এলাকায়ও ছিনতাইকারী ও টানা পার্টি সক্রিয়। মোহাম্মদপুরের কলেজ গেট থেকে রিং রোড, কল্যাণপুর, গাবতলী থেকে মিরপুর-১, আগারগাঁও সংযোগ সড়ক, খিলক্ষেত থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক, কালশী রোড, মৌচাক মার্কেট থেকে মগবাজার, উত্তরা থেকে আব্দুল্লাহপুর, ঝিগাতলা থেকে রায়েরবাজার, ঝিগাতলা থেকে শংকর, মিরপুরের রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকায় ছিনতাই ও টানাপার্টি দিনের চেয়ে রাতে বেশি তৎপর থাকে।

 

মধ্যরাতে পুলিশি টহল শিথিল থাকে। আর ভোরে রাস্তাগুলো থাকে ফাঁকা। যতসংখ্যক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ততটা মামলা হয় না। ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগীরা মামলায় যেতে চান না। কখনো কখনো ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে থানায় গেলেও জিডি করা হয় না। ছিনতাইয়ের ঘটনাকে অনেক সময় হারানোর জিডি হিসাবে নথিভুক্তও করা হয়। পুলিশ গুরুত্ব দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। সায়েদাবাদ, ধানমণ্ডি থেকে মিরপুর-গাবতলী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টানাপার্টির সদস্যরা। ছিনতাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ভোর ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

 

এদিকে গত দু’সপ্তাহে রাজধানীতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাবসহ একাধিক বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় অর্ধশত ছিনতাই ও টানাপার্টির সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপরও থেমে নেই তাদের দৌরাত্ম্য। যাদের অধিকাংশই জেল থেকে জামিনে বেড়িয়ে পুনরায় একই পেশায় জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছিনতাইকারীরা এই মুহূর্তে অপ্রতিরোধ্য বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

 

রাজধানীতে ধারাবাহিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাঁড়াশি অভিযানে নামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত ২৫শে এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত রাজধানীর লালবাগ, সিদ্ধিরগঞ্জ, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, মতিঝিল, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একদিনে ছিনতাইকারী চক্রের ৩১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করার বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি মোবাইলফোন, ট্যাব এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আকতার  বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৎপর ছিনতাই-টানাপার্টি এবং চুরি-ডাকাতি চক্র। এ বিষয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশ পোশাকে এবং সাদা পোশাকে মাঠে কাজ করছে। ছিনতাইসহ এ ধরনের ঘটনায় কোনো থানা মামলা না নিলে বা মামলা নিতে গড়িমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছিনতাই, চুরি বা ডাকাতি হওয়ার পরও কোনো থানা মামলা না নিলে বা মামলা নিতে গড়িমসি করলে এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে এবং তা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com