টাঙ্গাইলে বিশুদ্ধ পানির নামে বিক্রি হচ্ছে কি? ,

টাঙ্গাইলে নামসর্বশ্য ট্রেড লাইসেন্সেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন ফ্যাক্টরির ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের বিশুদ্ধ পানি। এ ধরণের ফ্যাক্টরি নির্মাণে মানা হয়নি কোনো রকমের বিধিমালা। ফ্যাক্টরি নির্মাণে সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর, বিএসটিআই এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ এর বিধান থাকলেও নেই এর একটিও। নেই ফ্যাক্টরিগুলোর নিজস্ব ল্যাব বা ক্যামিস্ট।.

 

 

বিধি বিধান অমান্য করা স্বত্ত্বেও জেলা শহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) আর মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরির পানি। সম্প্রতি শহরের একটি দোকানে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ৯ (নিউ জমজম) এর দেয়া পানির জারে পাওয়া যায় পোকা, টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

ভোক্তারা প্রতারিত হওয়াসহ পরিচালিত ফ্যাক্টরিগুলোর পানি কতটা নিরাপদ এখন সে প্রশ্ন জনমনে। এরপরও জনস্বাস্থ্য নির্ভর অবৈধভাবে পরিচালিত পানি ফ্যাক্টরিগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় শহরজুড়ে সয়লাব এখন মান ও অনুমোদনহীন জার জাতীয় বোতলজাত পানি। দ্রুত এই পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোড় দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।,

 

জানা যায়, সম্প্রতি শহরের শামসুর রহমান খান মার্কেটের টাইম গার্মেন্টস নামের এক দোকানে দেয়া অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির নিউ জমজম পানির ২০ লিটার বোতলজারে পাওয়া যায় পোকা। পরে বিষয়টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বিশ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

 

নিউ জমজম পানির জারে পোকা পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টাইম গার্মেন্টসের মালিক সোহাগ। তিনি বলেন, পরবর্তীতে পানি সরবরাহে এমন ত্রুটি থাকবেনা শর্তে পানি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধান করেন।

 

ওই মার্কেটের সামরহিল গার্মেন্টেসের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, আগে নিউ জমজম পানি ফ্যাক্টরি পানি রাখতেন তিনি। পানিতে পোকা পাওয়ার পর থেকে তিনি আর বোতলজাতের জার পানি রাখছেন না।

 

ব্যাং গার্মেন্টেসের মালিক জিয়া বলেন, তিনি প্রায় তিন বছর যাবৎ অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির নিউ জমজম পানি ব্যবহার করছেন। ওই ফ্যাক্টরির পানি নিয়ে ঝালেমা হয়েছিল বলেও শুনেছেন তিনি।,

 

টাঙ্গাইল জেলা নির্মাণ প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির পানি খাওয়ার কাজে ব্যবহার করছি। মাসে তাদের জার জাতীয় বোতলজাত পানি লাগে ১০-১৫টি। যার প্রতিটির মূল্য দেয়া হয় ৪০ টাকা।.

 

বোতলজাত পানির ক্রেতারা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হয় খাবার পানি। যা বাসা-বাড়ি থেকে এনে ব্যবহার সম্ভব হয় না। এছাড়াও বাইরে থেকে টিউবওয়েলের পানি বারবার আনা কষ্টকর। এ কারণে আর বিশুদ্ধ পানি ভেবে বোতলজাত পানিগুলো রাখছেন তারা। তবে ক্রয়কৃত স্থানীয় বোতলজাত ওই পানি স্বাস্থ্যর জন্য কতটা নিরাপদ সেটি জানেন না তারা।

 

শহরের পানির বোতল সরবরাহকালে মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির মার্কেটিং ম্যানেজার নয়ন জানান, মাসে তাদের ফ্যাক্টরির পানি যায় প্রায় দেড় হাজার বোতল। যার মূল্য ষাট হাজার টাকা। ভোরে কাজ শেষ হয়ে যাওয়া দিনের বেলা বন্ধ থাকে ফ্যাক্টরি বলেও জানান তিনি।

 

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, গত পাঁচ বছর যাবৎ বিএসটিআই, সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র আর কল-কারখানার সনদ ছাড়াই পানি উৎপাদন আর বিপনণ কাজ চালিয়ে আসছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে নিয়মনীতি মেনে চলাসহ লোকবল সংকটে বন্ধ হয়ে যায় একই সময় চালু হওয়া জেমস, রিয়া, শান্তি প্লাস ও মক্কা নামের চারটি ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরি।

 

তবে এখনো উৎপাদন ও বিপনণ চালিয়ে আসছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে নির্মিত জমজম ড্রিংকিং ওয়াটার এর নাম পরিবর্তন করে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) আর করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর এলাকার মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরি। ফ্যাক্টরিগুলো বাজারজাত করছে বিশ লিটারের বোতলজাতের জার পানি। এর মধ্যে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ( নিউ জমজম) পানি সাপ্লাই ফ্যাক্টরির ট্রেড লাইন্সেস আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ব্যতিত নেই অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আবেদন। এছাড়াও রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় স্যানেটারি কর্মকর্তা ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন। যা নিয়েই বাজারে বোতলজাতের জার পানি সরবরাহে নেমেছে ফ্যাক্টরিটি।,

 

শহরব্যাপী কয়েকটি গাড়িতে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে অবৈধভাবে পরিচালিত ড্রিংকিং ওয়াটার কোম্পানিগুলোর পানি। বিশ লিটার পানির প্রতিটি জার বোতল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এ দুই পানি কোম্পানির দৈনিক বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাধিক বোতল। এর ক্ষতিকর দিকগুলো না জেনে ও বিশ্বাস আর প্রয়োজনের তাগিদে পানিগুলো ব্যবহার হচ্ছে জেলা শহরের ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দফতরে।

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বন্ধ করে দেয়া একাধিক পানি ফ্যাক্টরির মালিক জানান, রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার না থাকায় এ ধরণের বোতলজাত পানি সর্বোচ্চ তিনদিন ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়াও জারের মুখ বেশিদিন খোলা থাকলে পানিতে মশা ডিম পারাসহ জন্ম নিতে পারে নানা ধরণের পোকা, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। পানিতে সৃষ্টি হতে পারে দুর্গন্ধ বলেও জানান তারা।

 

সরেজমিনে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৮ জন শ্রমিক কর্মরত থাকলেও একজন শ্রমিক করছেন বোতল ধোঁয়া আর পানি ভর্তির কাজ। তবে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের হাতে ছিলনা গ্লাবস, শরীরে এ্যাপরোন আর পায়ে ছিল স্যান্ডেল। যা পানি ফ্যাক্টরি নীতিমালা বর্হিভূত। বোতন পরিস্কার বা ধোঁয়ার কাজে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে পানি। এছাড়াও অটোমেটিক ফিলিং মেশিনে পানি বোতলজাত করার বিধান থাকলেও এখানে সরাসরি মাটির অগভীর থেকে মটরে তোলা পানি খোলা কলের মাধ্যমে ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।,

 

এছাড়াও পানি ভর্তি জারে হাতের সাহায্যে প্লাস্টিক মুখ লাগানোসহ কসটেপ পেচাতেও দেখা গেছে। এছাড়াও সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর থেকে পরিচালিত মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরিটি দিনের বেলায় বন্ধ থাকায় এর কার্যক্রম ধারণ করা যায়নি। তবে শহরব্যাপী ফ্যাক্টরিটির পানি সরবরাহ চলমান রয়েছে।

 

ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুঠোফোনে পানির জারে পোকা আর জরিমানা দেয়ার কথা স্বীকার করে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কামাল পাশা বলেন, ক্রেতার ব্যবহার জনিত সমস্যায় পানির বোতলে পোকা প্রবেশ করেছিল। শুধু ব্যবসায়িক ভাবনায় বিশ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া হয়েছিল। তাদের পরিচালিত ফ্যাক্টরির ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য দপ্তরে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে।.

 

দাপ্তরিক অনুমতি ব্যতিত ব্যবসা পরিচালনা ঠিক কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মার্কেট ধরতে তারা বাজারে পানি সরবরাহ করছেন।

 

বিএসটিআই এর টাঙ্গাইল ফিল্ড অফিসার সিকান্দার মাহমুদ বলেন, ড্রিংকিং ওয়াটার এর জন্য প্রয়োজন সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ। সকল সনদপ্রাপ্ত হওয়ার পরে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান পায় বিএসটিআই এর সনদ। ড্রিংকিং ওয়াটার এর নম্বর বিডিএস নম্বর ১২৪০: ২০০১ (১ম রিভিশন) আর ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার পায় বিডিএস ১৪১৪ : ২০০০ (১ম রিভিশন)। এরপরই পানি কোম্পানীগুলো করতে পারে উৎপাদন আর বিপনণ।,

 

এরপরও রয়েছে ‘পানি সাপ্লাই ফ্যাক্টরির থাকতে হবে ওয়াটার পিউরিফাইয়ার মেশিন। ফ্যাক্টরিতে প্রকার হাতে ছোঁয়া ছাড়াই অটোমেটিক ফিলিং মেশিন বা ম্যানুয়াল মেশিন দ্বারা পানি বের করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিয়ে বোতল পরিস্কার বা ধোঁয়ার বিধান।

 

তিনি আরো জানান, অনুমোদনহীন পানি ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন ও বিপনণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

টাঙ্গাইলের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, এ ধরণের পানি বেশিরভাগই অপরিশোধিত ও নিরাপদ নয়। এ পানি ব্যবহারে বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ভাইরাস, ডায়রিয়া, কলেরা রোগের ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরণের পানির মধ্যে প্লেগ ও আরসেনিকের মত বিষাক্ত ধাতু থাকতে পারে।.

 

যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরণের পানি ব্যবহারে ত্বক, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। রয়েছে ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি বলেও জানান তিনি।

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী বলেন, বিএসটিআই এর সনদ ছাড়া পানি ফ্যাক্টরীর উৎপাদন ও বিপনণ অবৈধ। পরিচালিত ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

 

টাঙ্গাইল কল-কারাখানা অধিদপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলে পরিচালিত অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরি তাদের সনদপ্রাপ্ত নন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান দু’টিতে কয়জন আর কোন কোন বয়সের শ্রমিক কাজ করছেন সেটিও অবগত নন তারা।

 

পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়নি পরিচালিত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দু’টি বলে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম।

 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ ধরণের পানি উৎপাদন ও বিপনণকারী ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

 

টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহম্মেদ বলেন, এ জেলার পানিতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। আয়রনমুক্ত পানি পেতে নুন্যতম ৪শ’ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হয়। পানি উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরিগুলো কতটা গভীর থেকে পানি উত্তোলন করছে সে বিষয়টি জরুরি। তবে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরির পানি বুয়েট কর্তৃক নীরিক্ষা রিপোর্টে ক্লোরিফ্রম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। যা মানব দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রেমিসেস সার্টিফিকেট ও শ্রমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ নেয়নি অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি পানি সরবরাহকারী ফ্যাক্টরি। কোনো আবেদনও করেননি তারা। পানি সরবরাহে নিয়োজিত ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।  সূূএ:পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গ্রীষ্মকালীন বউ, এটাও কি সম্ভব!,

» কনের মাকে নিয়ে ফের পালাল বরের বাবা !,

» টাকা দিয়ে ২০ দিনের জন্য তরুণীদের বিয়ে করেন ধনী পর্যটকেরা,

» বিবিসি’র ১০০ নারীর তালিকায় ঠাঁই পেলেন যে দু’জন বাংলাদেশি,

» আ.লীগের সময় সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না: আলাল

» জামিন পেলেন সাংবাদিক কাজল,

» কাল সংবাদ সম্মেলনে আসছেন শিক্ষামন্ত্রী

» বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘নিভার’, অবস্থান পায়রা থেকে ১৫৫০ কিলোমিটার দূরে,

» টসে জিতে ফিল্ডিংয়ে ঢাকা,

» শারীরিক অবস্থা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন রিজভী,

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

টাঙ্গাইলে বিশুদ্ধ পানির নামে বিক্রি হচ্ছে কি? ,

টাঙ্গাইলে নামসর্বশ্য ট্রেড লাইসেন্সেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন ফ্যাক্টরির ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের বিশুদ্ধ পানি। এ ধরণের ফ্যাক্টরি নির্মাণে মানা হয়নি কোনো রকমের বিধিমালা। ফ্যাক্টরি নির্মাণে সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর, বিএসটিআই এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ এর বিধান থাকলেও নেই এর একটিও। নেই ফ্যাক্টরিগুলোর নিজস্ব ল্যাব বা ক্যামিস্ট।.

 

 

বিধি বিধান অমান্য করা স্বত্ত্বেও জেলা শহরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) আর মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরির পানি। সম্প্রতি শহরের একটি দোকানে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ৯ (নিউ জমজম) এর দেয়া পানির জারে পাওয়া যায় পোকা, টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

ভোক্তারা প্রতারিত হওয়াসহ পরিচালিত ফ্যাক্টরিগুলোর পানি কতটা নিরাপদ এখন সে প্রশ্ন জনমনে। এরপরও জনস্বাস্থ্য নির্ভর অবৈধভাবে পরিচালিত পানি ফ্যাক্টরিগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় শহরজুড়ে সয়লাব এখন মান ও অনুমোদনহীন জার জাতীয় বোতলজাত পানি। দ্রুত এই পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোড় দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।,

 

জানা যায়, সম্প্রতি শহরের শামসুর রহমান খান মার্কেটের টাইম গার্মেন্টস নামের এক দোকানে দেয়া অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির নিউ জমজম পানির ২০ লিটার বোতলজারে পাওয়া যায় পোকা। পরে বিষয়টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বিশ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

 

নিউ জমজম পানির জারে পোকা পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টাইম গার্মেন্টসের মালিক সোহাগ। তিনি বলেন, পরবর্তীতে পানি সরবরাহে এমন ত্রুটি থাকবেনা শর্তে পানি ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধান করেন।

 

ওই মার্কেটের সামরহিল গার্মেন্টেসের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, আগে নিউ জমজম পানি ফ্যাক্টরি পানি রাখতেন তিনি। পানিতে পোকা পাওয়ার পর থেকে তিনি আর বোতলজাতের জার পানি রাখছেন না।

 

ব্যাং গার্মেন্টেসের মালিক জিয়া বলেন, তিনি প্রায় তিন বছর যাবৎ অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির নিউ জমজম পানি ব্যবহার করছেন। ওই ফ্যাক্টরির পানি নিয়ে ঝালেমা হয়েছিল বলেও শুনেছেন তিনি।,

 

টাঙ্গাইল জেলা নির্মাণ প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির পানি খাওয়ার কাজে ব্যবহার করছি। মাসে তাদের জার জাতীয় বোতলজাত পানি লাগে ১০-১৫টি। যার প্রতিটির মূল্য দেয়া হয় ৪০ টাকা।.

 

বোতলজাত পানির ক্রেতারা জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হয় খাবার পানি। যা বাসা-বাড়ি থেকে এনে ব্যবহার সম্ভব হয় না। এছাড়াও বাইরে থেকে টিউবওয়েলের পানি বারবার আনা কষ্টকর। এ কারণে আর বিশুদ্ধ পানি ভেবে বোতলজাত পানিগুলো রাখছেন তারা। তবে ক্রয়কৃত স্থানীয় বোতলজাত ওই পানি স্বাস্থ্যর জন্য কতটা নিরাপদ সেটি জানেন না তারা।

 

শহরের পানির বোতল সরবরাহকালে মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরির মার্কেটিং ম্যানেজার নয়ন জানান, মাসে তাদের ফ্যাক্টরির পানি যায় প্রায় দেড় হাজার বোতল। যার মূল্য ষাট হাজার টাকা। ভোরে কাজ শেষ হয়ে যাওয়া দিনের বেলা বন্ধ থাকে ফ্যাক্টরি বলেও জানান তিনি।

 

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, গত পাঁচ বছর যাবৎ বিএসটিআই, সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র আর কল-কারখানার সনদ ছাড়াই পানি উৎপাদন আর বিপনণ কাজ চালিয়ে আসছে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে নিয়মনীতি মেনে চলাসহ লোকবল সংকটে বন্ধ হয়ে যায় একই সময় চালু হওয়া জেমস, রিয়া, শান্তি প্লাস ও মক্কা নামের চারটি ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরি।

 

তবে এখনো উৎপাদন ও বিপনণ চালিয়ে আসছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নে নির্মিত জমজম ড্রিংকিং ওয়াটার এর নাম পরিবর্তন করে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) আর করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর এলাকার মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরি। ফ্যাক্টরিগুলো বাজারজাত করছে বিশ লিটারের বোতলজাতের জার পানি। এর মধ্যে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার ( নিউ জমজম) পানি সাপ্লাই ফ্যাক্টরির ট্রেড লাইন্সেস আর শিল্প মন্ত্রণালয়ের ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ব্যতিত নেই অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আবেদন। এছাড়াও রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কতিপয় স্যানেটারি কর্মকর্তা ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন। যা নিয়েই বাজারে বোতলজাতের জার পানি সরবরাহে নেমেছে ফ্যাক্টরিটি।,

 

শহরব্যাপী কয়েকটি গাড়িতে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে অবৈধভাবে পরিচালিত ড্রিংকিং ওয়াটার কোম্পানিগুলোর পানি। বিশ লিটার পানির প্রতিটি জার বোতল ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে এ দুই পানি কোম্পানির দৈনিক বিক্রি প্রায় পাঁচ শতাধিক বোতল। এর ক্ষতিকর দিকগুলো না জেনে ও বিশ্বাস আর প্রয়োজনের তাগিদে পানিগুলো ব্যবহার হচ্ছে জেলা শহরের ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দফতরে।

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বন্ধ করে দেয়া একাধিক পানি ফ্যাক্টরির মালিক জানান, রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার না থাকায় এ ধরণের বোতলজাত পানি সর্বোচ্চ তিনদিন ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়াও জারের মুখ বেশিদিন খোলা থাকলে পানিতে মশা ডিম পারাসহ জন্ম নিতে পারে নানা ধরণের পোকা, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। পানিতে সৃষ্টি হতে পারে দুর্গন্ধ বলেও জানান তারা।

 

সরেজমিনে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৮ জন শ্রমিক কর্মরত থাকলেও একজন শ্রমিক করছেন বোতল ধোঁয়া আর পানি ভর্তির কাজ। তবে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের হাতে ছিলনা গ্লাবস, শরীরে এ্যাপরোন আর পায়ে ছিল স্যান্ডেল। যা পানি ফ্যাক্টরি নীতিমালা বর্হিভূত। বোতন পরিস্কার বা ধোঁয়ার কাজে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে পানি। এছাড়াও অটোমেটিক ফিলিং মেশিনে পানি বোতলজাত করার বিধান থাকলেও এখানে সরাসরি মাটির অগভীর থেকে মটরে তোলা পানি খোলা কলের মাধ্যমে ভরে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।,

 

এছাড়াও পানি ভর্তি জারে হাতের সাহায্যে প্লাস্টিক মুখ লাগানোসহ কসটেপ পেচাতেও দেখা গেছে। এছাড়াও সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ক্ষুদিরামপুর থেকে পরিচালিত মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার ফ্যাক্টরিটি দিনের বেলায় বন্ধ থাকায় এর কার্যক্রম ধারণ করা যায়নি। তবে শহরব্যাপী ফ্যাক্টরিটির পানি সরবরাহ চলমান রয়েছে।

 

ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুঠোফোনে পানির জারে পোকা আর জরিমানা দেয়ার কথা স্বীকার করে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কামাল পাশা বলেন, ক্রেতার ব্যবহার জনিত সমস্যায় পানির বোতলে পোকা প্রবেশ করেছিল। শুধু ব্যবসায়িক ভাবনায় বিশ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া হয়েছিল। তাদের পরিচালিত ফ্যাক্টরির ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য দপ্তরে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে।.

 

দাপ্তরিক অনুমতি ব্যতিত ব্যবসা পরিচালনা ঠিক কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মার্কেট ধরতে তারা বাজারে পানি সরবরাহ করছেন।

 

বিএসটিআই এর টাঙ্গাইল ফিল্ড অফিসার সিকান্দার মাহমুদ বলেন, ড্রিংকিং ওয়াটার এর জন্য প্রয়োজন সাইন্স ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর এর অনুমোদনসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রিমিসেস সার্টিফিকেট, শ্রমিকদের শারীরিক সুস্থতা সনদ, পরিবেশের ছাড়পত্র ও কল-কারখানার সনদ। সকল সনদপ্রাপ্ত হওয়ার পরে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান পায় বিএসটিআই এর সনদ। ড্রিংকিং ওয়াটার এর নম্বর বিডিএস নম্বর ১২৪০: ২০০১ (১ম রিভিশন) আর ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার পায় বিডিএস ১৪১৪ : ২০০০ (১ম রিভিশন)। এরপরই পানি কোম্পানীগুলো করতে পারে উৎপাদন আর বিপনণ।,

 

এরপরও রয়েছে ‘পানি সাপ্লাই ফ্যাক্টরির থাকতে হবে ওয়াটার পিউরিফাইয়ার মেশিন। ফ্যাক্টরিতে প্রকার হাতে ছোঁয়া ছাড়াই অটোমেটিক ফিলিং মেশিন বা ম্যানুয়াল মেশিন দ্বারা পানি বের করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিয়ে বোতল পরিস্কার বা ধোঁয়ার বিধান।

 

তিনি আরো জানান, অনুমোদনহীন পানি ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন ও বিপনণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

টাঙ্গাইলের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজাউদ্দিন তালুকদার বলেন, এ ধরণের পানি বেশিরভাগই অপরিশোধিত ও নিরাপদ নয়। এ পানি ব্যবহারে বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ভাইরাস, ডায়রিয়া, কলেরা রোগের ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরণের পানির মধ্যে প্লেগ ও আরসেনিকের মত বিষাক্ত ধাতু থাকতে পারে।.

 

যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরণের পানি ব্যবহারে ত্বক, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। রয়েছে ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি বলেও জানান তিনি।

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী বলেন, বিএসটিআই এর সনদ ছাড়া পানি ফ্যাক্টরীর উৎপাদন ও বিপনণ অবৈধ। পরিচালিত ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

 

টাঙ্গাইল কল-কারাখানা অধিদপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলে পরিচালিত অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি ফ্যাক্টরি তাদের সনদপ্রাপ্ত নন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান দু’টিতে কয়জন আর কোন কোন বয়সের শ্রমিক কাজ করছেন সেটিও অবগত নন তারা।

 

পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়নি পরিচালিত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দু’টি বলে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম।

 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ ধরণের পানি উৎপাদন ও বিপনণকারী ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

 

টাঙ্গাইল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বশির আহম্মেদ বলেন, এ জেলার পানিতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। আয়রনমুক্ত পানি পেতে নুন্যতম ৪শ’ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হয়। পানি উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরিগুলো কতটা গভীর থেকে পানি উত্তোলন করছে সে বিষয়টি জরুরি। তবে অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ফ্যাক্টরির পানি বুয়েট কর্তৃক নীরিক্ষা রিপোর্টে ক্লোরিফ্রম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। যা মানব দেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রেমিসেস সার্টিফিকেট ও শ্রমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ নেয়নি অপ্সরা ড্রিংকিং ওয়াটার (নিউ জমজম) ও মেঘ ন্যাচারাল ড্রিংকিং ওয়াটার নামের দু’টি পানি সরবরাহকারী ফ্যাক্টরি। কোনো আবেদনও করেননি তারা। পানি সরবরাহে নিয়োজিত ফ্যাক্টরিগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।  সূূএ:পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com