জাবির ছাতা: উল্টায় পাতার পর পাতা

কড়া রোদ কিংবা বৃষ্টি-এ দুইই থেকে বাচাঁতেই তো ছাতার সৃষ্টি। আর সেই রোদ বা বৃষ্টি যদি হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে আতুর ঘর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তাহলে তোতা বর্ণনা করতে অকৃত কার্য হয় শব্দ। শিরোনাম দেখে হয়ত ভাবছেন জাবিকি তার আদুরে সন্তানদের ছাতা বিতরণ করে?

সেই ছাতার সাথে আবার পাতা উল্টানোর সম্পর্ক কী? হ্যা, ঠিকই ধরেছেন। জানতে হলে চলুন ঘুরে আসি জাবির সেই ছাতার তল থেকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচায়ক সুউচ্চ শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল  ফটক‘ডেইরি গেইট’ এর মাঝামাঝি অবস্থানে দাড়িয়ে আছে ‘অমর একুশে’ ভাস্কর্য্য।

ভাস্কর্য্যরে পাশ ঘেষে ঢালু পথ বেয়ে নামতে শুরু করেছেন মানেই আপনি এখন কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায়। কি! বিশ্বাস হচ্ছেনা? মাথা তুলে তাকান ‘কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া’ লেখা।

ছাত্র-শিক্ষক,অতিথি,কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার নিকট এক সুপরিচিত নাম। এই ক্যাফেটেরিয়ার আরো একটি মাহাত্ম হচ্ছে এর পাশেই মুক্ত মঞ্চ ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল হাব।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া থেকে সবার আগেই আপনার চোখ হয়ত গেছে মুক্ত মঞ্চে! নয়কি? তাহলে তোহলোনা। দৃষ্টি হেফাজত করুন! ভুলে যাননি তো সেই ছাতার কথা যা দেখতেই আপনি এখানে? ক্যাফেটেরিয়ার সবুজ ঘাসে ঢাকা চত্বরে নিচে কংক্রিটের রাজাসন পেতে দাড়িয়ে আছে লাল ছাতা। একটি-দুটি নয়, হালি বাতার পরের সংখ্যা। গুণে দেখতে পারেন। উফ! দেরি কেন?

চলুন তাহলে সেই ছাতার নিচে। শুরু করা যাক।ছাতা তৈরির সময় কিংবা উদ্দেশ্য বর্ণনা করা ইতিহাস কিংবা প্রতœ তত্তে¡র সাথে জড়িত ব্যক্তির কাজ।যে উদ্দেশ্যে যত সালেই তৈরি হোকনা কেন আজও কমেনি ছাতার স্মৃতি শক্তি না কমেছে তার আশ্রয় গ্রহণ কারীর সংখ্যা।

জীবনের কত অধ্যায়, কত আবেগ, কত শত জানা-অজানা গল্পের স্বাক্ষী এ লাল ছাতা। সর্বংসহা। তাই তোতার এত কদর।

প্রেমের ময়দানে ছোটা ছুটি করা ক্লান্ত প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল দুদন্ড জিরোয় এর শিতল ছায়ায়। নবায়ন করে তাদের প্রেম শক্তি। দুই বিপরীত দিককে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলতে থাকে তাদের সারা দিনের জমানো কথার ফুল ঝুড়ি। উপরে বিশ্বস্ত সেই ছাতা। কাউকেই বলবেনা সে। ভ্রাম্যমান হালকা খাবার বিক্রেতা হয়ত চলে আসে প্রেম সাগরে ডুবে থাকা যুগলের নাগালে। “মামা,চালা গবে?”বচনে হয়ত আচমকা কেটে যায় তাদের ঘোর। নিজেদের আবিস্কার করে সেই ছাতার নিচে। ফিরে আসে দিন-দুনিয়াতে। ঘটে এর বিপরীতও।

কতো যুগল ঠুনকোদ্ব ›েদ্বতাদের জমানো প্রেম বিকি-কিনি করে ‘একক’ বনে যান এই শীতল ছাতা ছায়াতে। অবশ্য তখন সে ছায়া আরশী তল থাকেনা। হয়েও ঠেবাত্য চুল্লি। জোর কদমে ত্যাগ করে ছায়া-আশ্রয়।মূক স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয় লাল ছাতা।

বিচ্ছেদ পর্ব শেষ হতে না হতেই হাজির হয় নয়া আদম সকল। হাতে যন্ত্র। সুর যন্ত্র। গলা বাজি রেখে চালিয়ে যায় তাদের আবেগের সুর। ছাতা ভ‚লে যায় ক্ষণ কাল আগের সেই বিরাগ। এদিকে কংক্রিটের আসনে শোভা পায় আবেগ-উচ্ছ¡ মিশ্রিত বদনে অপেক্ষমান প্রাণির নবাগত প্রেমিকের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনার দৃশ্য। শুরু হয় নতুন অধ্যায় অথবা মলিন মুখে ফেরে বেচারা প্রেম শিকারী।

বিকেলের হলুদ আলোয় যখন চারিদিক হয়েও ঠে অপূর্ব, তখন হয়ত নিজের কিংবা পরিবারে এই হলুদ তথা ‘জন্ডিস’ অবস্থা দূর করতে লাল ছাতার নিচের আসন অলঙ্কৃত করে টিউশন নামক জ্ঞান-বিতরণ শুরু করেন মাস্টার রুপী ছাত্র মশাই। চলতে থাকে জীবনের নতুন এপিসোড।

বিকেল গড়িয়ে যায়। আলভা এডিসনের বাতি জানান দেয় প্রাকৃতিক আলোর বিদায়ক্ষণ। কমতে থাকে কোলাহল। প্রবল হয় ঝিঝি পোকার ডাক।ঘড়ির কাটা যায় বেড়ে। জোনাকিরা নামে দলে দলে। নিশব্দ, নিরবতা দানা বাধতে থাকে।ফাকা হয়ে পড়ে লাল ছাতার নিচের আসন। নাতি দীর্ঘ সময় চলে এই শূণ্যতা। জোনাকিদের আলো আভাস দেয় নতুন সূর্যোদয়ের; নতুন কে আশ্রয় দানের।

জাবিতে এখন রাত। সম্ভাবনার রাত। আধার কাটলেই আসবে নতুন অভিযাত্রী। সবুজের উপর দাড়িয়ে থাকা লাল ছাতা আবার ছায়া দিবে তাদের যুগ-যুগান্তরে। চলুন তাহলে আজকের মতো ফিরি এখানেই।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আমেরিকার সঙ্গে চীনের উত্তেজনা: সামরিক বাজেট বাড়াতে পারে বেইজিং

» রাজধানীর কারওয়ানবাজারের হাসিনা মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

» মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার অর্জন কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই

» রাজধানীর কারওয়ান বাজারের হাসিনা মার্কেটে ভয়াবহ আগুন

» পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নির্দেশনা

» শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ৩০ মার্চ

» রাত পোহালেই ২৯ পৌরসভায় ভোট

» চলতি বছরেই চালু হবে ফাইভ-জি

» করোনা মহামারিতে  হাঁস পালনে ভাগ্য ফিরেছে বেকারি ব্যবসায়ী অনোকের

» কোরআন-হাদীসের আলোকে শবে মেরাজ এবং মেরাজের ঘটনা!

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জাবির ছাতা: উল্টায় পাতার পর পাতা

কড়া রোদ কিংবা বৃষ্টি-এ দুইই থেকে বাচাঁতেই তো ছাতার সৃষ্টি। আর সেই রোদ বা বৃষ্টি যদি হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে আতুর ঘর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তাহলে তোতা বর্ণনা করতে অকৃত কার্য হয় শব্দ। শিরোনাম দেখে হয়ত ভাবছেন জাবিকি তার আদুরে সন্তানদের ছাতা বিতরণ করে?

সেই ছাতার সাথে আবার পাতা উল্টানোর সম্পর্ক কী? হ্যা, ঠিকই ধরেছেন। জানতে হলে চলুন ঘুরে আসি জাবির সেই ছাতার তল থেকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচায়ক সুউচ্চ শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল  ফটক‘ডেইরি গেইট’ এর মাঝামাঝি অবস্থানে দাড়িয়ে আছে ‘অমর একুশে’ ভাস্কর্য্য।

ভাস্কর্য্যরে পাশ ঘেষে ঢালু পথ বেয়ে নামতে শুরু করেছেন মানেই আপনি এখন কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায়। কি! বিশ্বাস হচ্ছেনা? মাথা তুলে তাকান ‘কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া’ লেখা।

ছাত্র-শিক্ষক,অতিথি,কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার নিকট এক সুপরিচিত নাম। এই ক্যাফেটেরিয়ার আরো একটি মাহাত্ম হচ্ছে এর পাশেই মুক্ত মঞ্চ ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল হাব।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া থেকে সবার আগেই আপনার চোখ হয়ত গেছে মুক্ত মঞ্চে! নয়কি? তাহলে তোহলোনা। দৃষ্টি হেফাজত করুন! ভুলে যাননি তো সেই ছাতার কথা যা দেখতেই আপনি এখানে? ক্যাফেটেরিয়ার সবুজ ঘাসে ঢাকা চত্বরে নিচে কংক্রিটের রাজাসন পেতে দাড়িয়ে আছে লাল ছাতা। একটি-দুটি নয়, হালি বাতার পরের সংখ্যা। গুণে দেখতে পারেন। উফ! দেরি কেন?

চলুন তাহলে সেই ছাতার নিচে। শুরু করা যাক।ছাতা তৈরির সময় কিংবা উদ্দেশ্য বর্ণনা করা ইতিহাস কিংবা প্রতœ তত্তে¡র সাথে জড়িত ব্যক্তির কাজ।যে উদ্দেশ্যে যত সালেই তৈরি হোকনা কেন আজও কমেনি ছাতার স্মৃতি শক্তি না কমেছে তার আশ্রয় গ্রহণ কারীর সংখ্যা।

জীবনের কত অধ্যায়, কত আবেগ, কত শত জানা-অজানা গল্পের স্বাক্ষী এ লাল ছাতা। সর্বংসহা। তাই তোতার এত কদর।

প্রেমের ময়দানে ছোটা ছুটি করা ক্লান্ত প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল দুদন্ড জিরোয় এর শিতল ছায়ায়। নবায়ন করে তাদের প্রেম শক্তি। দুই বিপরীত দিককে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে চলতে থাকে তাদের সারা দিনের জমানো কথার ফুল ঝুড়ি। উপরে বিশ্বস্ত সেই ছাতা। কাউকেই বলবেনা সে। ভ্রাম্যমান হালকা খাবার বিক্রেতা হয়ত চলে আসে প্রেম সাগরে ডুবে থাকা যুগলের নাগালে। “মামা,চালা গবে?”বচনে হয়ত আচমকা কেটে যায় তাদের ঘোর। নিজেদের আবিস্কার করে সেই ছাতার নিচে। ফিরে আসে দিন-দুনিয়াতে। ঘটে এর বিপরীতও।

কতো যুগল ঠুনকোদ্ব ›েদ্বতাদের জমানো প্রেম বিকি-কিনি করে ‘একক’ বনে যান এই শীতল ছাতা ছায়াতে। অবশ্য তখন সে ছায়া আরশী তল থাকেনা। হয়েও ঠেবাত্য চুল্লি। জোর কদমে ত্যাগ করে ছায়া-আশ্রয়।মূক স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে রয় লাল ছাতা।

বিচ্ছেদ পর্ব শেষ হতে না হতেই হাজির হয় নয়া আদম সকল। হাতে যন্ত্র। সুর যন্ত্র। গলা বাজি রেখে চালিয়ে যায় তাদের আবেগের সুর। ছাতা ভ‚লে যায় ক্ষণ কাল আগের সেই বিরাগ। এদিকে কংক্রিটের আসনে শোভা পায় আবেগ-উচ্ছ¡ মিশ্রিত বদনে অপেক্ষমান প্রাণির নবাগত প্রেমিকের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনার দৃশ্য। শুরু হয় নতুন অধ্যায় অথবা মলিন মুখে ফেরে বেচারা প্রেম শিকারী।

বিকেলের হলুদ আলোয় যখন চারিদিক হয়েও ঠে অপূর্ব, তখন হয়ত নিজের কিংবা পরিবারে এই হলুদ তথা ‘জন্ডিস’ অবস্থা দূর করতে লাল ছাতার নিচের আসন অলঙ্কৃত করে টিউশন নামক জ্ঞান-বিতরণ শুরু করেন মাস্টার রুপী ছাত্র মশাই। চলতে থাকে জীবনের নতুন এপিসোড।

বিকেল গড়িয়ে যায়। আলভা এডিসনের বাতি জানান দেয় প্রাকৃতিক আলোর বিদায়ক্ষণ। কমতে থাকে কোলাহল। প্রবল হয় ঝিঝি পোকার ডাক।ঘড়ির কাটা যায় বেড়ে। জোনাকিরা নামে দলে দলে। নিশব্দ, নিরবতা দানা বাধতে থাকে।ফাকা হয়ে পড়ে লাল ছাতার নিচের আসন। নাতি দীর্ঘ সময় চলে এই শূণ্যতা। জোনাকিদের আলো আভাস দেয় নতুন সূর্যোদয়ের; নতুন কে আশ্রয় দানের।

জাবিতে এখন রাত। সম্ভাবনার রাত। আধার কাটলেই আসবে নতুন অভিযাত্রী। সবুজের উপর দাড়িয়ে থাকা লাল ছাতা আবার ছায়া দিবে তাদের যুগ-যুগান্তরে। চলুন তাহলে আজকের মতো ফিরি এখানেই।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com