গুনাহকে ছোট মনে করতে নেই

হায়! জীবন কত ছোট। বিন্দু বিন্দু সময় গড়িয়ে বেলা শেষে যখন ডাক এসে যায়, তখন একবুক হাহাকার নিয়ে বিদায় নিতে হয়। বিদায় নিতে হয় বড় বিষন্ন মনে। কারণ, এই ছোট্ট জীবনটুকু যেভাবে যে পথে চালানোর কথা আমরা সেভাবে সে পথে চালাতে পারিনি। প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে জীবনের বরফ গলছে আর যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। এত ক্ষুদ্র জীবন, তাও আমরা কতটা বেখেয়াল। তাই তো জেনে না জেনে ছোট-বড় কত গুনাহই না আমরা করে ফেলছি প্রতিদিন। আফসোস! গুনাহ এখন আর আমাদের কাছে গুনাহ মনে হয় না। যারা বেপরোয়া জীবনযাপন করে, তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু আমরা যারা ধর্ম মানি, আল্লাহকে চিনি আমরাও কি নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখছি? আমাদের দ্বারা হয়তো বড় ধরনের গুনাহ হয় না ঠিক বা কম হয়, কিন্তু ছোট ছোট গুনাহ তো আমরা অহরহ করে যাচ্ছি।

বলা যায়, এক প্রকার গুরুত্বই দিই না ছোট গুনাহকে। একইভাবে ছোট ছোট নেক কাজ আমাদের চোখে মূল্যহীন। আমাদের সমাজে অবহেলিত। অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘কেউ যদি অণু পরিমাণ ভালো কিংবা খারাপ কাজ করে, তাও সে হিসাবের দিন দেখতে পাবে।’ সূরা জিলজাল, আয়াত ৭-৮। পীরের কাছে যখন মুরিদ প্রথম সবক নিতে যায়, তখন কিন্তু বুদ্ধিমান পীর মুরিদকে বড় কোনো আমলের কথা বলেন না। কিংবা বলেন না বড় কোনো গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার কথা। তারা সব সময় ছোট ছোট বিষয় দিয়ে শুরু করান।

যেমন বলেন, বাবা! তুমি যা-ই কর, মিথ্যা বলাটা ছেড়ে দাও। অথবা বলেন, বাবা! তুমি এখন থেকে খারাপ নজরে মানুষকে দেখবে না। এমন ছোট ছোট গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে একজন নাপাক-গুনাহগার মানুষকে জমানার শ্রেষ্ঠ অলি হিসেবে গড়ে তোলেন আল্লাহওয়ালা কামিল পীর। আর শয়তান যখন কাউকে ধোঁকা দিতে চায়, তাকে কিন্তু প্রথমেই বড় কোনো গুনাহর কথা বলে না। একেবারে মামুলি কিছু গুনাহর কথা বলে। যা হয়তো বাইরে থেকে গুনাহ মনে নাও হতে পারে। যেমন শয়তান বলে, আজ তো বাইরে বৃষ্টি বা ঠান্ডা বেশি। জামাতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবে আস্তে আস্তে ছোট থেকে বড় গুনাহর দিকে বান্দাকে নিয়ে যাওয়া হয়। একদিন সে নামাজ পড়াই ছেড়ে দেয়। একসময়ের শ্রেষ্ঠ অলিও শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংসের গভীর খাদে পড়ে গেছে, এমন উদাহরণ কম নেই ইতিহাসে। তাই গুনাহ ছোট বলে তাকে গুরুত্বহীন মনে করতে নেই। এক আল্লাহর অলি তার মুরিদদের সব সময় বলতেন, বাবারা! মনে রেখ, আগুন কিংবা সাপকে কখনো ছোট মনে কোরো না। এ দুটো ছোট হলেও তোমার জীবন ও সম্পদ শেষ করে দিতে পারে। একইভাবে গুনাহকেও ছোট মনে কোরো না। ছোট গুনাহই তোমার বড় আখেরাতকে নষ্ট করে দিতে পারে। কবি শেখ সাদি (রহ.) বড় সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন আমাদের। তিনি বলেছেন, ‘পাপকে ছোট মনে কোরো না। এই ছোট পাপ থেকে যদি তুমি বেঁচে থাকতে না পার, এমন একদিন আসবে, বড় পাপ থেকেও তুমি ফিরতে পারবে না।’

লেখক : সুপার, নন্দীপাড়া সোনার মদিনা হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা খিলগাঁও ঢাকা।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এক পাঙা‌সের দাম ২৫ হাজার টাকা

» নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসার নামে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করল কবিরাজ

» গণপরিবহন চলাচলে একটি পরিকল্পনার অনুরোধ ওবায়দুল কাদেরের

» নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

» রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী মিরপুরে

» রাজধানীতে ফিরতে কাঁঠালবাড়ি শিমুলিয়ায় যাত্রীদের ভিড়

» কোটালীপাড়ায় স্ত্রীর পরকীয়ার জেরেই কোটালীপাড়ায় কাঠমিস্ত্রীকে হত্যা

» রাফির যুদ্ধদিন ও একটি সুপ্তবাসনা

» হারানো স্মার্টফোন খুঁজে পাবেন যেভাবে

» অপূর্ব-মেহজাবিনের ‘বিয়ে’ শুক্রবার

 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

গুনাহকে ছোট মনে করতে নেই

হায়! জীবন কত ছোট। বিন্দু বিন্দু সময় গড়িয়ে বেলা শেষে যখন ডাক এসে যায়, তখন একবুক হাহাকার নিয়ে বিদায় নিতে হয়। বিদায় নিতে হয় বড় বিষন্ন মনে। কারণ, এই ছোট্ট জীবনটুকু যেভাবে যে পথে চালানোর কথা আমরা সেভাবে সে পথে চালাতে পারিনি। প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে জীবনের বরফ গলছে আর যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। এত ক্ষুদ্র জীবন, তাও আমরা কতটা বেখেয়াল। তাই তো জেনে না জেনে ছোট-বড় কত গুনাহই না আমরা করে ফেলছি প্রতিদিন। আফসোস! গুনাহ এখন আর আমাদের কাছে গুনাহ মনে হয় না। যারা বেপরোয়া জীবনযাপন করে, তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু আমরা যারা ধর্ম মানি, আল্লাহকে চিনি আমরাও কি নিজেদের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখছি? আমাদের দ্বারা হয়তো বড় ধরনের গুনাহ হয় না ঠিক বা কম হয়, কিন্তু ছোট ছোট গুনাহ তো আমরা অহরহ করে যাচ্ছি।

বলা যায়, এক প্রকার গুরুত্বই দিই না ছোট গুনাহকে। একইভাবে ছোট ছোট নেক কাজ আমাদের চোখে মূল্যহীন। আমাদের সমাজে অবহেলিত। অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘কেউ যদি অণু পরিমাণ ভালো কিংবা খারাপ কাজ করে, তাও সে হিসাবের দিন দেখতে পাবে।’ সূরা জিলজাল, আয়াত ৭-৮। পীরের কাছে যখন মুরিদ প্রথম সবক নিতে যায়, তখন কিন্তু বুদ্ধিমান পীর মুরিদকে বড় কোনো আমলের কথা বলেন না। কিংবা বলেন না বড় কোনো গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার কথা। তারা সব সময় ছোট ছোট বিষয় দিয়ে শুরু করান।

যেমন বলেন, বাবা! তুমি যা-ই কর, মিথ্যা বলাটা ছেড়ে দাও। অথবা বলেন, বাবা! তুমি এখন থেকে খারাপ নজরে মানুষকে দেখবে না। এমন ছোট ছোট গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে একজন নাপাক-গুনাহগার মানুষকে জমানার শ্রেষ্ঠ অলি হিসেবে গড়ে তোলেন আল্লাহওয়ালা কামিল পীর। আর শয়তান যখন কাউকে ধোঁকা দিতে চায়, তাকে কিন্তু প্রথমেই বড় কোনো গুনাহর কথা বলে না। একেবারে মামুলি কিছু গুনাহর কথা বলে। যা হয়তো বাইরে থেকে গুনাহ মনে নাও হতে পারে। যেমন শয়তান বলে, আজ তো বাইরে বৃষ্টি বা ঠান্ডা বেশি। জামাতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এভাবে আস্তে আস্তে ছোট থেকে বড় গুনাহর দিকে বান্দাকে নিয়ে যাওয়া হয়। একদিন সে নামাজ পড়াই ছেড়ে দেয়। একসময়ের শ্রেষ্ঠ অলিও শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংসের গভীর খাদে পড়ে গেছে, এমন উদাহরণ কম নেই ইতিহাসে। তাই গুনাহ ছোট বলে তাকে গুরুত্বহীন মনে করতে নেই। এক আল্লাহর অলি তার মুরিদদের সব সময় বলতেন, বাবারা! মনে রেখ, আগুন কিংবা সাপকে কখনো ছোট মনে কোরো না। এ দুটো ছোট হলেও তোমার জীবন ও সম্পদ শেষ করে দিতে পারে। একইভাবে গুনাহকেও ছোট মনে কোরো না। ছোট গুনাহই তোমার বড় আখেরাতকে নষ্ট করে দিতে পারে। কবি শেখ সাদি (রহ.) বড় সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন আমাদের। তিনি বলেছেন, ‘পাপকে ছোট মনে কোরো না। এই ছোট পাপ থেকে যদি তুমি বেঁচে থাকতে না পার, এমন একদিন আসবে, বড় পাপ থেকেও তুমি ফিরতে পারবে না।’

লেখক : সুপার, নন্দীপাড়া সোনার মদিনা হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা খিলগাঁও ঢাকা।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com