কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকোরা ফের সক্রিয়

দমানো যাচ্ছে না কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকো সিন্ডিকেট। প্রশাসন প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে। জ্বালিয়ে দিচ্ছে বোমা মেশিন সহ পাথর তোলার পাইপ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখন নতুন করে পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা সংরক্ষিত বাঙ্কার এলাকায়ও হানা দিয়েছে। এছাড়া কালিবাড়ীর লিলাইবাজার এলাকায়ও অবাধে পাথর লুটপাট চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন- পুলিশের সম্পৃক্ততার কারণে পাথরখেকোরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শারপিন টিলা সিল করে দিয়েছে।

টিলার প্রায় ৩টি প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন চুরি করে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন প্রতি সপ্তাহে অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু পাথরখেকো চক্রের সদস্যদের দমানো যাচ্ছে না। এলাকাবাসী জানিয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জের পুলিশকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ১০ নম্বর এলাকায়ও পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা নজর দিয়েছে। কোয়ারির নিকটবর্তী ওই এলাকায় মেশিন লাগিয়ে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। এতে করে পর্যটনে ব্যাঘাত ঘটছে। পর্যটন এলাকা সাদা পাথরে যাওয়ার পথেই ডানপাশে পড়ে বাঙ্কার এলাকা। রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি এ বাঙ্কার এলাকা। এখানে পাথর তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। কিন্তু পাথরখেকো চক্রের সদস্য বিল্লাল, আমির সহ কয়েকজন সম্প্রতি সময়ে বাঙ্কার এলাকায়ও নজর দিয়েছে। তারা মেশিন লাগিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার পাথর লুটপাট করছে। তাদের অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বাঙ্কার থাকা মসজিদ সহ অন্যান্য স্থাপনা। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি শ্যালো মেশিন জব্দ করেছে। এলাকার লোকজন জানান- অভিযান এলেই পাথরখেকোরা তাদের মালপত্র নিয়ে সরে যায়। আবার অভিযান করে প্রশাসনের
কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর ফের পাথর উত্তোলন শুরু হয়। তারা জানান- ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বর্তমানে পাথর উত্তোলনের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ কারণে পাথরখেকোরা বাঙ্কারে লুটপাট চালাচ্ছে। উপজেলার কালিবাড়ী লিলাইবাজার এলাকা পাথর লুটপাটের অন্যতম স্পট। স্থানীয় আজির উদ্দিনের নেতৃত্বে চিহ্নিত পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা লিলাইবাজারে অবাধে লুটপাট চালাচ্ছে। প্রতিদিন তারা ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার পাথর লুট করছে। উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযান চালানোর কারণে দুইদিন পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এরপর থেকে তারা আবারো পাথর লুটপাট চালাচ্ছে। পাথর লুটপাটের ফলে কালিবাড়ীর বসতি হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান- অর্ধ শতাধিক মেশিন লাগিয়ে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। এসব মেশিনের শব্দে ঘুম হারাম এলাকার মানুষের। কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ জানিয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জের মানুষ পাথর নির্ভর ব্যবসা করছে। পাথর উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু বসতি কিংবা সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করে নয়। তিনি জানান- প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। যেখানেই অভিযোগ আসছে সেখানেই অভিযান চলছে। এদিকে- দেশের বৃহৎ পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে এবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শাহ আরেফিন টিলায় বার বার অভিযানের পর অভিযান করা হলো ভোলাগঞ্জে। দুপুরে অভিযানকালে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের ১০ নং সাইট ও বাংকার এলাকায় অভিযান করে ২৭ টি শ্যালো মেশিন ও ২ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। উপজেলা টাস্কফোর্সের ওই অভিযানে বিজিবি, পুলিশ ও আরএনবি সদস্যরা অংশ নেয় উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, উপজেলার মোস্তফানগরের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার আলীকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১২ লাখ টাকার যন্ত্র ও পাইপ ধ্বংস করা হয়। এর আগেও একইভাবে একাধিক অভিযান চালিয়ে ৮-১০ কোটি টাকার যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তার পরও ওদের রুখা যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন কোনোভাবেই অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করতে দেবে না।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঢাকা উত্তরেও শুরু হচ্ছে ঝুলন্ত তার অপসারণ

» সাভার ও ধামরাই থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ

» করোনা মুক্তির প্রার্থনায় বাগেরহাটে জন্মাষ্টমী পালিত

» শ্রমিক থেকে দুলাল ফরাজী ফ্যাক্টরীর মালিক

» সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ৯জেলে আটক

» তারাকান্দায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে গরু ব্যবসায়ী নিহত,আহত-২

» মাদারীপুরে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বাস্তবায়নে মাঠে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৪ টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম

» নওগাঁর আত্রাইয়ে শ্রী কৃষ্ণরে ৫২৪৬ তম জন্মাষ্টমী পালিত

» মুয়াজ্জিন………. 

» নওগাঁর মান্দায় বিট পুলিশিং কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকোরা ফের সক্রিয়

দমানো যাচ্ছে না কোম্পানীগঞ্জের পাথরখেকো সিন্ডিকেট। প্রশাসন প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছে। জ্বালিয়ে দিচ্ছে বোমা মেশিন সহ পাথর তোলার পাইপ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এখন নতুন করে পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা সংরক্ষিত বাঙ্কার এলাকায়ও হানা দিয়েছে। এছাড়া কালিবাড়ীর লিলাইবাজার এলাকায়ও অবাধে পাথর লুটপাট চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন- পুলিশের সম্পৃক্ততার কারণে পাথরখেকোরা আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শারপিন টিলা সিল করে দিয়েছে।

টিলার প্রায় ৩টি প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন চুরি করে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন প্রতি সপ্তাহে অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্তু পাথরখেকো চক্রের সদস্যদের দমানো যাচ্ছে না। এলাকাবাসী জানিয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জের পুলিশকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ১০ নম্বর এলাকায়ও পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা নজর দিয়েছে। কোয়ারির নিকটবর্তী ওই এলাকায় মেশিন লাগিয়ে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। এতে করে পর্যটনে ব্যাঘাত ঘটছে। পর্যটন এলাকা সাদা পাথরে যাওয়ার পথেই ডানপাশে পড়ে বাঙ্কার এলাকা। রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি এ বাঙ্কার এলাকা। এখানে পাথর তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। কিন্তু পাথরখেকো চক্রের সদস্য বিল্লাল, আমির সহ কয়েকজন সম্প্রতি সময়ে বাঙ্কার এলাকায়ও নজর দিয়েছে। তারা মেশিন লাগিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার পাথর লুটপাট করছে। তাদের অবাধে পাথর উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বাঙ্কার থাকা মসজিদ সহ অন্যান্য স্থাপনা। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি শ্যালো মেশিন জব্দ করেছে। এলাকার লোকজন জানান- অভিযান এলেই পাথরখেকোরা তাদের মালপত্র নিয়ে সরে যায়। আবার অভিযান করে প্রশাসনের
কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর ফের পাথর উত্তোলন শুরু হয়। তারা জানান- ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বর্তমানে পাথর উত্তোলনের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ কারণে পাথরখেকোরা বাঙ্কারে লুটপাট চালাচ্ছে। উপজেলার কালিবাড়ী লিলাইবাজার এলাকা পাথর লুটপাটের অন্যতম স্পট। স্থানীয় আজির উদ্দিনের নেতৃত্বে চিহ্নিত পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা লিলাইবাজারে অবাধে লুটপাট চালাচ্ছে। প্রতিদিন তারা ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার পাথর লুট করছে। উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযান চালানোর কারণে দুইদিন পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এরপর থেকে তারা আবারো পাথর লুটপাট চালাচ্ছে। পাথর লুটপাটের ফলে কালিবাড়ীর বসতি হুমকির মুখে পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান- অর্ধ শতাধিক মেশিন লাগিয়ে পাথর লুটপাট করা হচ্ছে। এসব মেশিনের শব্দে ঘুম হারাম এলাকার মানুষের। কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ জানিয়েছেন- কোম্পানীগঞ্জের মানুষ পাথর নির্ভর ব্যবসা করছে। পাথর উত্তোলন করতে হবে। কিন্তু বসতি কিংবা সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করে নয়। তিনি জানান- প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। যেখানেই অভিযোগ আসছে সেখানেই অভিযান চলছে। এদিকে- দেশের বৃহৎ পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জে এবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শাহ আরেফিন টিলায় বার বার অভিযানের পর অভিযান করা হলো ভোলাগঞ্জে। দুপুরে অভিযানকালে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের ১০ নং সাইট ও বাংকার এলাকায় অভিযান করে ২৭ টি শ্যালো মেশিন ও ২ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। উপজেলা টাস্কফোর্সের ওই অভিযানে বিজিবি, পুলিশ ও আরএনবি সদস্যরা অংশ নেয় উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, উপজেলার মোস্তফানগরের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার আলীকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবারের অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ১২ লাখ টাকার যন্ত্র ও পাইপ ধ্বংস করা হয়। এর আগেও একইভাবে একাধিক অভিযান চালিয়ে ৮-১০ কোটি টাকার যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তার পরও ওদের রুখা যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন কোনোভাবেই অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করতে দেবে না।মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com