করোনায় সিল্ক ব্যবসায় ভাটা

একসময় রাজশাহীর সিল্কের তৈরি পোশাকের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এখন ঐতিহ্য বজায় থাকলেও ধুঁকছে রেশম শিল্প খাত। কয়েকটা উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনেই ধ্বংসপ্রায় এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে কোনো রকমে। করোনায় সিল্ক ব্যবসায় ভাটা পড়েছে, বিক্রি নেমেছে ২৫ ভাগে, লোকসান হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। মহানগরীর সপুরা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী সপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৭৯ সাল থেকেই রেশমের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। নিজস্ব কারখানায় রেশমের সুতা ও সেই সুতা থেকে পোশাক তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। লকডাউনের ঘোষণার পর তাদের কারখানা ও শোরুম বন্ধ।

 

সিমিত পরিসরে মার্কেট চালুর ঘোষণার পর থেকেই পুরোপুরি সরকারি নিয়মনীতি মেনেই তারা তাদের শোরুম চালু করেছেন। রাজশাহী সপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সাজ্জাদ আলী বলেন, আগে ঈদ এলে সারা বছরের ব্যবসা হয়ে যেত। গত তিন মাসে আমার ৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসান তুলতেই এক-দেড় বছর লেগে যাবে। করোনা পরিস্থিতির কখন উন্নতি হবে তার ঠিক নেই। তারপরও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করব। শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক ক্রেতাকেই শোরুমের নিচতলায় জীবাণুনাশক দিয়ে পুরো শরীর ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মেঝেতে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পাপোশ রেখে দেওয়া হয়েছে। শোরুমে প্রবেশের সময় তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিতরেও দূরত্ব মেনে পণ্য কিনতে হচ্ছে। শোরুমের ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, শোরুম খুললেও বেচাবিক্রি খুব কম হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির আগে, ঈদের আগে প্রতিদিন ২০-২৫ লাখ টাকা বিক্রি হতো। এখন  মাত্র পাঁচ-সাত লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশের ভবনে আছে রাজশাহী ঊষা সিল্কের শোরুম। সেখানেও একই চিত্র। মূল ফটকে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে জীবাণুনাশক করে তাপমাত্রা মেপে ঢুকতে হচ্ছে শোরুমে। তবে বেচাবিক্রি কম। ঊষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের জনসংযোগ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, পয়লা বৈশাখ ও দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই আমাদের বেচাবিক্রি বেশি হয়। করোনার কারণে পয়লা বৈশাখে তো বিক্রিই করতে পারিনি। তখন ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঈদের প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বিক্রি হতো সেখানে ৫০ হাজার টাকাই হচ্ছে না। রাজশাহী সিল্কের অন্য শোরুমগুলোর চিত্র এমনই। লোকসানে পড়ছে সব পোশাক খাতের শোরুম। শোরুমের মালিকরা জানালেন, এই করোনায় তারা কোটি কোটি টাকা লোকসানে পড়েছেন। লকডাউনে সারা দেশে রেশম শিল্পের ক্ষতি প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনাসহ রেশম শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, এমনিতে তো রেশম শিল্প ধ্বংসের পথে। তারপরও কোনো রকমে চলছিল এ খাত।

 

করোনাভাইরাসের কারণে লোকসানে পড়েছে। সারা দেশে রেশম শিল্পের ক্ষতি ২০০ কোটি টাকার মতো। রেশম শিল্পের দুটি অংশ- একটি গুটি থেকে সুতা উৎপাদন, আরেকটি বস্ত্র খাত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আড়াই শ তাঁতের সঙ্গে যুক্ত ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাঁত বন্ধ থাকায় তারা বেতনও পাননি। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। এ জন্য রেশম উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে। সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» করোনায় আরও ৪৫ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ১২৮৫

» পাবনায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে পুরুষ ভিক্ষুকের ছুরিকাঘাতে নারী ভিক্ষুকের মৃত্যু

» বিমানবন্দর থেকে সোয়া কোটি টাকা মূল্যের দুই কেজি দুই গ্রাম সোনা জব্দ

» এবার একসাথে চার মোশাররফ করিম!

» সাকিবের আরেক সতীর্থ করোনায় আক্রান্ত

» মাত্র ২৭ সেকেন্ডেই প্রসব, বিশ্বে রেকর্ড গড়লেন তরুণী

» খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রয়োজন নেই: হানিফ

» করোনা শুধু ফুসফুসকে আক্রান্ত করে না, রক্তও জমাট বাঁধায়

» হিটলারের ৫৯০০ কোটি টাকার গুপ্তধনের সন্ধান!

» বিল-মেলিন্ডা গেটসের ছাড়াছাড়ির আগে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচটি বিবাহবিচ্ছেদ

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

করোনায় সিল্ক ব্যবসায় ভাটা

একসময় রাজশাহীর সিল্কের তৈরি পোশাকের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এখন ঐতিহ্য বজায় থাকলেও ধুঁকছে রেশম শিল্প খাত। কয়েকটা উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনেই ধ্বংসপ্রায় এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে কোনো রকমে। করোনায় সিল্ক ব্যবসায় ভাটা পড়েছে, বিক্রি নেমেছে ২৫ ভাগে, লোকসান হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। মহানগরীর সপুরা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী সপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৭৯ সাল থেকেই রেশমের তৈরি পোশাক উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। নিজস্ব কারখানায় রেশমের সুতা ও সেই সুতা থেকে পোশাক তৈরি করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। লকডাউনের ঘোষণার পর তাদের কারখানা ও শোরুম বন্ধ।

 

সিমিত পরিসরে মার্কেট চালুর ঘোষণার পর থেকেই পুরোপুরি সরকারি নিয়মনীতি মেনেই তারা তাদের শোরুম চালু করেছেন। রাজশাহী সপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সাজ্জাদ আলী বলেন, আগে ঈদ এলে সারা বছরের ব্যবসা হয়ে যেত। গত তিন মাসে আমার ৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসান তুলতেই এক-দেড় বছর লেগে যাবে। করোনা পরিস্থিতির কখন উন্নতি হবে তার ঠিক নেই। তারপরও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করব। শোরুমে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক ক্রেতাকেই শোরুমের নিচতলায় জীবাণুনাশক দিয়ে পুরো শরীর ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। মেঝেতে ব্লিচিং পাউডার মেশানো পাপোশ রেখে দেওয়া হয়েছে। শোরুমে প্রবেশের সময় তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভিতরেও দূরত্ব মেনে পণ্য কিনতে হচ্ছে। শোরুমের ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, শোরুম খুললেও বেচাবিক্রি খুব কম হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির আগে, ঈদের আগে প্রতিদিন ২০-২৫ লাখ টাকা বিক্রি হতো। এখন  মাত্র পাঁচ-সাত লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাশের ভবনে আছে রাজশাহী ঊষা সিল্কের শোরুম। সেখানেও একই চিত্র। মূল ফটকে জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে জীবাণুনাশক করে তাপমাত্রা মেপে ঢুকতে হচ্ছে শোরুমে। তবে বেচাবিক্রি কম। ঊষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের জনসংযোগ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, পয়লা বৈশাখ ও দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই আমাদের বেচাবিক্রি বেশি হয়। করোনার কারণে পয়লা বৈশাখে তো বিক্রিই করতে পারিনি। তখন ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঈদের প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বিক্রি হতো সেখানে ৫০ হাজার টাকাই হচ্ছে না। রাজশাহী সিল্কের অন্য শোরুমগুলোর চিত্র এমনই। লোকসানে পড়ছে সব পোশাক খাতের শোরুম। শোরুমের মালিকরা জানালেন, এই করোনায় তারা কোটি কোটি টাকা লোকসানে পড়েছেন। লকডাউনে সারা দেশে রেশম শিল্পের ক্ষতি প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনাসহ রেশম শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, এমনিতে তো রেশম শিল্প ধ্বংসের পথে। তারপরও কোনো রকমে চলছিল এ খাত।

 

করোনাভাইরাসের কারণে লোকসানে পড়েছে। সারা দেশে রেশম শিল্পের ক্ষতি ২০০ কোটি টাকার মতো। রেশম শিল্পের দুটি অংশ- একটি গুটি থেকে সুতা উৎপাদন, আরেকটি বস্ত্র খাত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আড়াই শ তাঁতের সঙ্গে যুক্ত ১০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাঁত বন্ধ থাকায় তারা বেতনও পাননি। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। এ জন্য রেশম উন্নয়ন বোর্ডকে এগিয়ে আসতে হবে। সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com