কমছে মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমিষ জাতীয় খাবার সংকটে ভুগছে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ। বাজারে প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা, আর গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। এমনই সময়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের চকবাজারের ব্যবসায়ীরা।

 

এতে একটি ১ কেজি ওজনের মুরগিকে চার ভাগ করে ৬৫ টাকায় এক ভাগ ক্রয় করা যাবে, আর ২১০ টাকায় পাওয়া যাবে ২৫০ গ্রাম গরুর মাংস। বাজারে হাড়সহ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭২০ থেকে ৭৬০ টাকায়। আর হাড় ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায়। সেই হিসাবে হাড়সহ ২৫০ গ্রাম গরুর মাংসের দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। হাড় ছাড়া গরুর মাংস ২০৫ থেকে ২১২ টাকায় কেনা যাবে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়। একটা মুরগি চারজনে ভাগ করে নিলে পড়বে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর চকবাজার কাঁচা বাজারের সেলিম পোলট্রি শপে লেখা ‘এখানে মুরগির মাংস পিস হিসেবে বিক্রয় করা হয়’। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি মুরগিকে চার পিস করে ভাগে বিক্রি করার এ উদ্যোগ নেন স্থানীয় কায়সার আলী চৌধুরী। তারই পরামর্শে মুরগির পিস বিক্রি করে ভালো সাড়া পাচ্ছে সেলিম পোলট্রি শপ বলে জানালেন এর ব্যবস্থাপক আবদুল কাদের। মুরগির মাংস পিস বিক্রিতে সাড়া পাওয়ায় এবার গরুর মাংসও বিক্রি হচ্ছে এক পোয়া হিসেবে। অর্থাৎ ২৫০ গ্রাম মাংসও বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এক গরুর মাংস বিক্রেতা টাঙানো ঘোষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এখানে ন্যূনতম ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি করা হয়’। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির তীব্রতায় ক্রেতাদের সুবিধার্থে এক পিস মুরগির মাংস বিক্রির খবর চাউর হওয়ায় ২৫০ গ্রাম বা এক পোয়া গরুর মাংস বিক্রির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য ছড়িয়ে দিলেও উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অনেকেই। নগরীর চকবাজারের কাঁচা বাজারের ইলিয়াস সওদাগরই মূলত এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষেরা ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে পারেন না। দাম শুনেই হেঁটে চলে যান। এখন তারা চাইলেই গরুর ২৫০ গ্রাম মাংস কিনে খেতে পারবেন। শুধু ইলিয়াস বা আবদুল কাদের নয়, চকবাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে শুরু হয়েছে ২৫০ গ্রাম করে গরুর মাংস আর মুরগির পিস বিক্রি।

 

কোনো ক্রেতা সর্বনিম্ন ২৫০ গ্রাম গরুর মাংস ক্রয় করতে পারবেন। অন্যদিকে একটি মুরগির চার ভাগের এক ভাগ ক্রয় করা যাবে। চারজন এক সঙ্গে মিললেই সমন্বয় করে ভাগ করে নেওয়া যাবে। মূল্য অনুযায়ী চারজনে ভাগ করে তা বিক্রেতাকে বুঝিয়ে দিলেই বিক্রেতা ক্রেতাদের সমান চার ভাগে মাংস বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» নির্বাচনকে ভয় পায় বলেই ষড়যন্ত্রের পথে বিএনপি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ পরিত্যক্ত

» বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের “ক্রস পার্টি পার্লামেন্টারি ডেলিগেশন” প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

» স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১২: সাশ্রয়ী মূল্যে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা

» দুবাইয়ে ‘প্রভাবশালী নারী’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন আবিদা হোসেন

» বিয়ের আগেই হানিমুন উপভোগ করছেন মালাইকা

» বিএনপি এখন সড়ক দুর্ঘটনা নিয়েও রাজনীতি করছে: ওবায়দুল কাদের

» রাজধানীতে লিফটের ফাঁকা থেকে পড়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

» ব্রয়লার মুরগির দাম ৩০০ ছুঁই ছুঁই

» নির্যাতন-নিপীড়ন যত বাড়বে প্রতিবাদের গতি ততই তীব্র হবে: ফখরুল

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কমছে মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আমিষ জাতীয় খাবার সংকটে ভুগছে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ। বাজারে প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা, আর গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। এমনই সময়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের চকবাজারের ব্যবসায়ীরা।

 

এতে একটি ১ কেজি ওজনের মুরগিকে চার ভাগ করে ৬৫ টাকায় এক ভাগ ক্রয় করা যাবে, আর ২১০ টাকায় পাওয়া যাবে ২৫০ গ্রাম গরুর মাংস। বাজারে হাড়সহ গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭২০ থেকে ৭৬০ টাকায়। আর হাড় ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায়। সেই হিসাবে হাড়সহ ২৫০ গ্রাম গরুর মাংসের দাম ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। হাড় ছাড়া গরুর মাংস ২০৫ থেকে ২১২ টাকায় কেনা যাবে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়। একটা মুরগি চারজনে ভাগ করে নিলে পড়বে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পর্যন্ত। সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর চকবাজার কাঁচা বাজারের সেলিম পোলট্রি শপে লেখা ‘এখানে মুরগির মাংস পিস হিসেবে বিক্রয় করা হয়’। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি মুরগিকে চার পিস করে ভাগে বিক্রি করার এ উদ্যোগ নেন স্থানীয় কায়সার আলী চৌধুরী। তারই পরামর্শে মুরগির পিস বিক্রি করে ভালো সাড়া পাচ্ছে সেলিম পোলট্রি শপ বলে জানালেন এর ব্যবস্থাপক আবদুল কাদের। মুরগির মাংস পিস বিক্রিতে সাড়া পাওয়ায় এবার গরুর মাংসও বিক্রি হচ্ছে এক পোয়া হিসেবে। অর্থাৎ ২৫০ গ্রাম মাংসও বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এক গরুর মাংস বিক্রেতা টাঙানো ঘোষণাপত্রে লিখেছেন, ‘এখানে ন্যূনতম ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি করা হয়’। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির তীব্রতায় ক্রেতাদের সুবিধার্থে এক পিস মুরগির মাংস বিক্রির খবর চাউর হওয়ায় ২৫০ গ্রাম বা এক পোয়া গরুর মাংস বিক্রির খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে নেটিজেনরা নানা মন্তব্য ছড়িয়ে দিলেও উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অনেকেই। নগরীর চকবাজারের কাঁচা বাজারের ইলিয়াস সওদাগরই মূলত এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষেরা ১ কেজি গরুর মাংস কিনতে পারেন না। দাম শুনেই হেঁটে চলে যান। এখন তারা চাইলেই গরুর ২৫০ গ্রাম মাংস কিনে খেতে পারবেন। শুধু ইলিয়াস বা আবদুল কাদের নয়, চকবাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে শুরু হয়েছে ২৫০ গ্রাম করে গরুর মাংস আর মুরগির পিস বিক্রি।

 

কোনো ক্রেতা সর্বনিম্ন ২৫০ গ্রাম গরুর মাংস ক্রয় করতে পারবেন। অন্যদিকে একটি মুরগির চার ভাগের এক ভাগ ক্রয় করা যাবে। চারজন এক সঙ্গে মিললেই সমন্বয় করে ভাগ করে নেওয়া যাবে। মূল্য অনুযায়ী চারজনে ভাগ করে তা বিক্রেতাকে বুঝিয়ে দিলেই বিক্রেতা ক্রেতাদের সমান চার ভাগে মাংস বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :

Design & Developed BY ThemesBazar.Com