একদিনের কসাই ওরা

মনির, ছায়েদ, খোকা ও রমজান। কোরবানি ঈদ এলেই ওরা তৎপর হয়ে উঠে। মহল্লার লোকজনের কাছেও ওরা পরিচিত একদিনের কসাই হিসাবে। ঈদের দিন ওরা চারজন ছুরি, দা, চাপাতি নিয়ে চলে যায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া বাড়িতে। অবশ্য ঈদের আগের দুদিনে ওরা নিজেরাই ঘুরে ঘুরে কসাই কাজের চুক্তি নেয়। গরুর চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে কাটা সবই করে তারা। তবে, তারা আসল কসাইয়ের মত কাজ করতে পারেনা। বছরে একদিনের কসাই হিসাবে অন্য সবার মতোই তাদের কাজ।

আসল কসাই গরুর মূল্যের হাজারে ১৩০ থেকে ১০০ টাকা নিলেও ওরা নেয়া কারো কাছ থেকে ৩০০০ টাকা। কারো কাছ থেকে ৪০০০ টাকা। গরু একটু বড় হলে ৫০০০ টাকা দাবি করে। গরু কাটার পর কেউ মাংস দিলে সেটি বাড়তি পাওনা। রায়েরবাগের গ্যাস রোডে দীর্ঘদিন বসবাস করেন আবদুল হাই সিদ্দিকী। তিনি প্রতি বছরই একদিনের কসাই দিয়ে তার গরু কাটান। তিনি বলেন, আমরা দুই তিনজনে মিলে কোরবানি দেই। আসল কসাইয়ের কাছে গেলে টাকা লাগে অনেক বেশি। তাই ওদের দিয়ে এ কাজ করাই। ওদের দিয়ে কাজ করালে সময় লাগে বেশি। নিজেরাও সহযোগিতা করতে হয়। কি করব বলুন? টাকাওতো একটা ফ্যাক্টর। জনতাবাগের তুহিন মিয়া থাকেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন জনতাবাগের নিজ বাড়িতে। তুহিনের স্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রতি বছর আমি বাড়ির দারোয়ানকে দিয়ে লোক ঠিক করি। ওদের ২০০০ টাকা দেই। ওরা গরু কাটা থেকে শুরু করে ভ‚রি পর্যন্ত সাফ করে দিয়ে যায়। ওদের কিছু মাংসও দেই। তিনি বলেন, নিজের লোক নেই বলে এটা তদারকি করা যায়না। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এটা করি। তিনি বলেন, কোরবানির গরু নিজেরা কাটাকাটি করলে এতে আনন্দও থাকে বেশি। একদিনের কসাই মনির পেশায় ভ্যান চালক। তিনি বলেন, সারাদিনে আমরা সর্বোচ্চ দুটি কিংবা তিনটি গরু কাটতে পারি। চারজনে দুই ভাগ হয়ে কাজ করি। প্রথমে একটি গরুর চামড়া ছাড়াতে চারজনে মিলে শুরু করলেও পরে দুই জন অন্য গরুর কাছে চলে যায়। এই ঈদের দিনে জনে তিন থেকে চার হাজার টাকা পাই। সঙ্গে মাংসও পাই। এতেই আমাদের আনন্দ। আরেক কসাই ছায়েদ সবজি বিক্রি করেন ভ্যানে করে। ছায়েদ বলেন, আমরা চারজন এই মহল্লায় ৭/৮ বছর ধরে ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করি। সারা বছর সবজি বেচলেও কোরবানি ঈদের দিনের জন্য অপেক্ষা করি। একদিনে নিজেরা অর্থের অভাবে কোরবানি দিতে পারিনা। যার গরু কেটে দেই তিনি টাকা দেন। সঙ্গে মাংসও দেন। এ মাংস নিয়ে আমরা কোরবানির ঈদে আনন্দ করি। সন্তানদের খাওয়াই। খোকাও ফুটপাতে ব্যবসা করেন। যখন যে ফলের সময় সেই ফল বিক্রি করেন। খোকা বলেন, আমাদের মতো এমন অনেক গ্রæপ আছে এ মহল্লায়। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করেন। শুধু এখানেই নয়, রাজধানী জুড়েই রয়েছে এমন একদিনের কসাই। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করে বাড়তি উপার্জন করে। আজ দুপুরে কথা হয় বিকাশ এজেন্ট রনির সঙ্গে। তিনি গত রাতে তিন চার বাজার ঘুরে এক লাখ দশ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, এটা কি হলো বুঝতে পারলামনা। হঠাৎ বৃহস্পতিবার বিকালে বাজার থেকে গরু উধাও। এটা রহস্যজনক। তিনিও একদিনের কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কসাই তাকে বলেছে গরু কাটতে পারবে তবে বেলা তিনটার পর। তারা আরো দুটি গরুর কাজ শেষ করে আসবে। রনি বলেন, কি করব? আমরা তো গরুর চামড়া ছাড়াতে জানিনা। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যেতে হচ্ছে। তাদের কথামতো বেলা তিনটায় গরু জবাই দিতে হবে।সূএ:মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিলেন: ড. হাছান মাহমুদ

» করোনার ধাক্কা এসেছে, আবার সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে

» যুবলীগে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই:মাইনুল হোসেন খান নি‌খিল

» কম্পিউটার শেখার আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ!

» বৌদ্ধ মন্দিরে বিবস্ত্র হয়ে বাংলাদেশি তরুণীর ‘তাণ্ডব’

» কুমিল্লার হোমনায় মিঠাইভাঙ্গা গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৬

» লক্ষ্মীপুরে বিয়ের ৩ দিন পর লাশ হলো নববধু! 

» তারাকান্দায় গণপরিবহনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সাড়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা

» পাটগ্রামে নদী পার হতে গিয়ে নিখোঁজ; ২৪ ঘন্টা পর লাশ উদ্ধার

» ফুলপুরে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে গণপরিবহনে ৭ জনকে জরিমানা

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

একদিনের কসাই ওরা

মনির, ছায়েদ, খোকা ও রমজান। কোরবানি ঈদ এলেই ওরা তৎপর হয়ে উঠে। মহল্লার লোকজনের কাছেও ওরা পরিচিত একদিনের কসাই হিসাবে। ঈদের দিন ওরা চারজন ছুরি, দা, চাপাতি নিয়ে চলে যায় চুক্তিবদ্ধ হওয়া বাড়িতে। অবশ্য ঈদের আগের দুদিনে ওরা নিজেরাই ঘুরে ঘুরে কসাই কাজের চুক্তি নেয়। গরুর চামড়া ছাড়ানো থেকে শুরু করে কাটা সবই করে তারা। তবে, তারা আসল কসাইয়ের মত কাজ করতে পারেনা। বছরে একদিনের কসাই হিসাবে অন্য সবার মতোই তাদের কাজ।

আসল কসাই গরুর মূল্যের হাজারে ১৩০ থেকে ১০০ টাকা নিলেও ওরা নেয়া কারো কাছ থেকে ৩০০০ টাকা। কারো কাছ থেকে ৪০০০ টাকা। গরু একটু বড় হলে ৫০০০ টাকা দাবি করে। গরু কাটার পর কেউ মাংস দিলে সেটি বাড়তি পাওনা। রায়েরবাগের গ্যাস রোডে দীর্ঘদিন বসবাস করেন আবদুল হাই সিদ্দিকী। তিনি প্রতি বছরই একদিনের কসাই দিয়ে তার গরু কাটান। তিনি বলেন, আমরা দুই তিনজনে মিলে কোরবানি দেই। আসল কসাইয়ের কাছে গেলে টাকা লাগে অনেক বেশি। তাই ওদের দিয়ে এ কাজ করাই। ওদের দিয়ে কাজ করালে সময় লাগে বেশি। নিজেরাও সহযোগিতা করতে হয়। কি করব বলুন? টাকাওতো একটা ফ্যাক্টর। জনতাবাগের তুহিন মিয়া থাকেন দেশের বাইরে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করেন জনতাবাগের নিজ বাড়িতে। তুহিনের স্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রতি বছর আমি বাড়ির দারোয়ানকে দিয়ে লোক ঠিক করি। ওদের ২০০০ টাকা দেই। ওরা গরু কাটা থেকে শুরু করে ভ‚রি পর্যন্ত সাফ করে দিয়ে যায়। ওদের কিছু মাংসও দেই। তিনি বলেন, নিজের লোক নেই বলে এটা তদারকি করা যায়না। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এটা করি। তিনি বলেন, কোরবানির গরু নিজেরা কাটাকাটি করলে এতে আনন্দও থাকে বেশি। একদিনের কসাই মনির পেশায় ভ্যান চালক। তিনি বলেন, সারাদিনে আমরা সর্বোচ্চ দুটি কিংবা তিনটি গরু কাটতে পারি। চারজনে দুই ভাগ হয়ে কাজ করি। প্রথমে একটি গরুর চামড়া ছাড়াতে চারজনে মিলে শুরু করলেও পরে দুই জন অন্য গরুর কাছে চলে যায়। এই ঈদের দিনে জনে তিন থেকে চার হাজার টাকা পাই। সঙ্গে মাংসও পাই। এতেই আমাদের আনন্দ। আরেক কসাই ছায়েদ সবজি বিক্রি করেন ভ্যানে করে। ছায়েদ বলেন, আমরা চারজন এই মহল্লায় ৭/৮ বছর ধরে ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করি। সারা বছর সবজি বেচলেও কোরবানি ঈদের দিনের জন্য অপেক্ষা করি। একদিনে নিজেরা অর্থের অভাবে কোরবানি দিতে পারিনা। যার গরু কেটে দেই তিনি টাকা দেন। সঙ্গে মাংসও দেন। এ মাংস নিয়ে আমরা কোরবানির ঈদে আনন্দ করি। সন্তানদের খাওয়াই। খোকাও ফুটপাতে ব্যবসা করেন। যখন যে ফলের সময় সেই ফল বিক্রি করেন। খোকা বলেন, আমাদের মতো এমন অনেক গ্রæপ আছে এ মহল্লায়। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করেন। শুধু এখানেই নয়, রাজধানী জুড়েই রয়েছে এমন একদিনের কসাই। যারা ঈদের দিন কসাইয়ের কাজ করে বাড়তি উপার্জন করে। আজ দুপুরে কথা হয় বিকাশ এজেন্ট রনির সঙ্গে। তিনি গত রাতে তিন চার বাজার ঘুরে এক লাখ দশ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, এটা কি হলো বুঝতে পারলামনা। হঠাৎ বৃহস্পতিবার বিকালে বাজার থেকে গরু উধাও। এটা রহস্যজনক। তিনিও একদিনের কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। কসাই তাকে বলেছে গরু কাটতে পারবে তবে বেলা তিনটার পর। তারা আরো দুটি গরুর কাজ শেষ করে আসবে। রনি বলেন, কি করব? আমরা তো গরুর চামড়া ছাড়াতে জানিনা। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যেতে হচ্ছে। তাদের কথামতো বেলা তিনটায় গরু জবাই দিতে হবে।সূএ:মানবজমিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com