একটু ছোঁয়া

তানিশা আহমেদ:

অহনার মনে হচ্ছে চারিদিকে অন্ধকার , ও তলিয়ে যাচ্ছে বরফ পানিতে । এই বুঝি ওর শেষ ,অনিলা কে একবার দেখা হল না , সাফিন কে বলা হল না তোমাকে ভালবাসি ।

হঠাত্ মনে হল কেউ দু হাত ধরে টেনে ওকে উপরে টানছে । আর দেখার শক্তি নাই , এবার চোখ বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে ।

সাফিন উপরে নিয়ে আসল অহনা কে । অহনা ওর হাতের উপর শুয়ে আছে , মনে হচ্ছে খুব শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে ।

সাফিন খুব ভয় পেল , তাড়াতাড়ি পুলের উপর শুইয়ে দিল ওকে । কয়েকবার গালে থাপ্পড় মারল কিন্তু কোনও রেসপন্স নেই । পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করল । কিন্তু নো রেসপন্স ।,

সাফিন অহনা বলে চীত্কার দিল ।
সাফিন গার্ড দের ডক্টর ডাকতে বলল । তাড়াতাড়ি ওকে কোলে নিয়ে রুমে গেল ।

বিছানায় শুইয়ে দিতেই দেখল অহনার শরীর পুরো সাদা হয়ে যাচ্ছে । পুরো ভেজা শরীর, কি করে চেঞ্জ করবে ও । মাথা কাজ করছে না ।
পাগল হয়ে যাবে ও মনে হয় ।

১৫ মিনিট পর ডক্টর আসল । ততক্ষণে অহনাকে ড্রেস পড়িয়ে দিয়েছে । একদম কম্বল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে ।

ডক্টর চেক আপ করে বলল , এখন ও সেন্সলেস আছে । তবে শীঘ্রই জ্ঞান ফিরবে আমি ইনজেকশন দিয়েছি । আর হ্যা কাল সকালে একবার চেক,আপ করিয়ে নিবেন । এই শীতে পানিতে ছিল অনেকক্ষণ , নিউমোনিয়া না হয়ে যায় ।
এখন উনি ঘুমাচ্ছে ,ঘুমাতে দিন । উঠলে গরম কিছু খাইয়ে দিবেন ।

আমি যাচ্ছি এখন ।

সব কাজ শেষ করে সাফিন রাত ১২ টায় রুমে আসল । মেয়েটার সাথে কত বড় এক্সিডেন্ট হয়ে গেল । ঠিক সময়ে না আসলে আজ কি হত , ভাবতেই গা শিউরে উঠছে ।

সাফিন রাগ করে উপরে চলে গিয়েছিল । হঠাত্ ওর একটা ইমপরট্যান্ট কল আসল । কিন্তু এত আওয়াজ যে কিছুই বুঝতে পারছিল না ।তাই হাঁটতে হাঁটতে বাইরে আসছিল । হঠাত্ চীত্কার শুনে দৌড়ে আসল পুলের কাছে , যা দেখল তাতে ওর পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল ।

তারপর তো এখন অহনা ওর কাছেই আছে । আলতো করে ওর হাত টা ধরে কিস করল ।
তারপর অহনার হাত কে নিজের হাতের আঙুলের ভাজে নিয়ে ওর শিয়রের কাছে হেলান দিল ।

একটু পরেই ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল ।
.
.
.

.

সায়ান বেক্কলের মত হা করে আছে । অনিলার কি সব রূপ দেখছে ও সকাল থেকে । আজকে ও সিউর মরে যাবে । কি হচ্ছে কি ।

অনিলা কান্না গলায় বলল – কিছু বইলেন না প্লিজ । আজকে আমার কপাল টা ই খারাপ ।

সায়ান হঠাত্ খেয়াল করল অনিলার কাটা হাতের এক কোণ থেকে অল্প অল্প রক্ত পড়ছে । ব্যান্ডেজ ও নেই হাতে ।

সায়ান দ্রুত ওর কাছে যেয়ে ওর হাত ধরল ।

সায়ান -এই এই রক্ত পড়ছে , কি কোনও খেয়াল নেই নাকি ? আর এই অবস্থা কেন তোমার ? ট্রাউজার কই ?

অনিলা -পানিতে পড়ে গেছে ।

সায়ান – এখন এই খানে কি খুঁজছ ??

অনিলা খুব উচ্ছাসে বলল -নতুন ট্রাউজার । পড়তে হবে না ।

সায়ান আরেকবার ওকে উপর থেকে নিচে দেখল । তারপর কোনও মতে নিজেকে কন্ট্রোল করল ।

এমন অবস্থায় কোনও মেয়েকে কোনও ছেলে দেখলে ভেতরে যেমন হওয়ার কথা সায়ানের এমনই বাজে অবস্থা ।
ওর ডাউট হচ্ছে অনিলা ওকে সিডিউসড করছে না তো ।

এসব ভাবতে ভাবতে ভুলে অনিলার কাটা হাতে চাপ দিল , আর অনিলা চেঁচিয়ে উঠল ব্যথায় ।

সায়ান -সরি প্লিজ । খেয়াল করি নি । আস ব্যান্ডেজ করবা ।

অনিলা -লাগব না । আমি বাইরে যাব ।এটা বলেই সায়ান কে একটু ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছিল ।

সায়ানের ও রাগ উঠল ,ও এক টানে অহনা কে কাছে টেনে আনল ।

অনিলা তো এসবে অভ্যস্ত । তাই ওর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইছে ।
সায়ান ও কম কি ও ছাড়বে নাকি অনিলা কে । ও ওর মত ধরে আছে । হাতে ধরলে ব্যথা পাবে তাই অনিলা কে দুই হাত দিয়ে কোমরে পেঁচিয়ে ধরল ।

অহনা খুব রাগী মুডে আছে এখন সেটা ও যেন সায়ানের কাছে অনেক ভাল লাগছে ।

অহনা কিছুক্ষণ হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করল । না পেরে মুখ বাঁকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল ।

সায়ান -এদিকে তাকাও না ??

অনিলা -হু , আমি আপনার দিকে ভুলে ও তাকাব না ।

সায়ান একটা শয়তানি হাসি দিল ।

সায়ান – তারিফে কারু কেয়া উসকি জিসনে তুঝে বানায়া ,অনিলা অনিলা …..

অনিলা বড়বড় চোখ করে সায়ানের দিকে তাকাল ।

সায়ান মুচকি হেসে বলল , কে যেন বলসে তাকাইব না ???

অনিলা হাত দিয়ে সায়ানের বুকে কিল ঘুষি মারতে লাগল ।

অনিলা – আপনি অনেক খারাপ , আপনি পচা ।

সায়ান আরও শক্ত করে অনিলা কে কাছে টেনে নিল ।

সায়ান – এত রাগ কর কেন ? কিছুদিন পর তো বিয়ে করতাসি ,, তখন এমন রাগ দেখাইলে মাইরা ভর্তা বানায় দিব ।

অনিলার কাছে আবার ও সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে , একটু আগে কল্পনা করে যেই বাঁশ খেয়েছে , এরপর আর বাঁশ খাওয়ার ইচ্ছে নেই ।

সায়ান – কল্পনা জগতের কাজের মহিলা , এবার কল্পনা অফ করেন । এখন যা হচ্ছে সব সত্যি ই হচ্ছে ।
আসুন ব্যান্ডেজ করবেন ।

অনিলা কাজের মহিলা কথাটা শুনে রেগে গেল । কাজের মহিলা তোর বউ হবে শয়তান ।

সায়ান – জ্বি তার কথা ই বলছি ,আর একবার তুই তুই করলে একদম পানি তে ফেলে দিব । আর চুপচাপ চল ব্যান্ডেজ করব ।

অনিলা মুখ ফুলিয়ে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসল ।

সায়ান হাঁটু গেড়ে বসল ওর সামনে । আসতে করে হাতে ধরে ড্রেসিং করে দিচ্ছে ।
অনিলা বাচ্চাদের মত একটু পর পর আ উ করছে । ইচ্ছে করে ওকে জ্বালাতন করছে ।

সায়ান বেশ বুঝতে পারছে , ওর ও কেমন মজা লাগছে এসব দেখতে ।

হঠাত্ টিয়া আর ইলার গলার সাউন্ড পেল বাইরে ।

সায়ান অনিলা ভূত দেখার মত একজন আরেকজনের দিকে তাকাল ।

একটু পর দরজা খুলে টিয়া আর ইলা ঢুকল । ভেতরে ঢুকে দেখল সায়ান কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে ।

ইলা – টিয়া ওর আবার জ্বর আসল নাকি ? এখন শুয়ে আছে কম্বল মুড়ি দিয়ে ???

টিয়া – নাহ নাহ ভাবি , বাজে অভ্যাস করেছে ।হুটহাট করে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে যাবে । বজ্জাত পোলা হইসে । শুধু কাজ আর কাজ । বাসায় থাকবে ই না ।

ইলা – এখনও মনে হয় সেই ছোট আছে , এইতো সেদিন দেখলাম । ওর অভ্যাস গুলি একদম অর্ণব এর মত হয়েছে । এবার অনিলার সাথে বিয়ে করে একদম ওর মামার মত লাইনে আসবে ।

ইলা আর টিয়া হো হো করে হেসে উঠল । অনিলার এত হাসি পাচ্ছে ।
ও তো কন্ট্রোল ই করতে পারছে না ।

সায়ানের এত রাগ উঠছে । আম্মু,আর মামণির কি এখনই সব বলতে হবে এই মেয়ের সামনে । ইজ্জত সব শেষ করে দিল ।

সায়ান অনিলার মুখটা টাইট করে চেপে ধরল তাড়াতাড়ি । তা না হলে আজ সিউর ধরা খেত ।

অনিলার এলোমেলো চুল সায়ানের মুখে লাগছে । আর সায়ানের বুকের ধুকপুক তো অনিলা তো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে । ইচ্ছে করছে এভাবে সময়টা থেমে যাক ।

একটু পর ইলা আর টিয়া লাইট অফ করে চলে গেল । কিন্তু সায়ান তখনও অনিলা কে ধরে আছে শক্ত করে ।

অনিলার ভেতর কোনও নেশা আছে যা ওকে পাগলের মত টানে ।

একটু পর অনিলা মাথার উপর থেকে কম্বল সরিয়ে দিল। একটু ভাল করে কাথা , সায়ান ও অনিলা কে ছেড়ে একটু দূরে গেল , দুজনেই লজ্জা পাচ্ছে ।

দুজনেই চুপ করে রইল কিছুক্ষণ, এতক্ষণ যা হল তা দুজনের মনের ভেতরে ঝড় তুলে দিয়েছে ।

সায়ান – ভাল কথা তোমার ড্রেস গুলি তো গাড়িতে তুমি ঐ গুলি ই তো পড়তে পার ।

অনিলা – হুম , কিন্তু এখন বের হব কিভাবে ?

সায়ান – আমি যাই , তুমি রুম থেকে বের হবা না একদম ।

সায়ান যেই পা বাড়াল নামার জন্য তখনই আবার দরজা খোলার আওয়াজ হল ।

সায়ান তাড়াতাড়ি অনিলার উপরে উঠে কম্বল মুড়ে শুয়ে পড়ল ।

কে ঢুকেছে ওরা জানে না, লাইট জ্বলে উঠল রুমের । কিছুক্ষণ খচখচ আওয়াজ হল ।

অনিলার তো ভয়ে আত্তা উড়ে যায় যায় , এখন কেউ দেখলে লজ্জায় ওর মাথা কাটা যাবে ।

কিন্তু এভাবে কোনও ছেলে ওর উপর শুয়ে আছে তাও ওর ক্রাশ ওর তো অবস্থা হালুয়া হয়ে যাচ্ছে ।

অনিলা আসতে করে বলল – চ্যাপ্টা হয়ে গেলাম তো ।

সায়ান ইচ্ছে করে আরও জোরে ওর হাত ধরল ।একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল – এখন সহ্য করতে পার না বিয়ের পর কি করবা ?

অনিলা রেগে জোরে কথা বলতে নিল কিন্তু সায়ান হাত দিয়ে ওর মুখ আটকে দিল ।

একটু পর লাইট অফ হয়ে গেল ।ওরা আবার আগের মত সরে গেল ।
.
.

এই ঘটনার পরে অনেক দিন কেউ কারো সামনে আসে নি ।সামনা সামনি হলেই কেমন যেন অপ্রশস্ত হয়ে যেত ।

আজ টিয়া অনিলার দাদুর সাথে কথা বলবে বিয়ের ডেইট ফাইনাল করতে ।

আনিস সাহেব এর মন টা উসখুস করছে সারাদিন ধরে । মনে হচ্ছে কোনও খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে ।অনেক চিন্তা করেও খুঁজে পেল না কি হতে পারে ।সকাল থেকে ২/৩ বার অনিলা আর অহনার সাথে কথা বলেছে ফোনে ।
তারপর ও ভেতরে অশান্তি লাগছে ।

হঠাত্ অনিলার নম্বর থেকে কল আসল । আনিস সাহেব ভয় পেয়ে গেল , কিছুক্ষণ আগেই তো কথা বলল এখন কি,কিছু হয়েছে নাকি ??

কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন ধরল আনিস সাহেব ।

ঐ পাশ থেকে কেউ বলল – আসসালামুয়ালিকুম বেয়াইন সাহেব ।

আনিস সাহেব মুহূর্তে থমকে গেল , মনে হচ্ছে সব কিছুই থমকে গেল ।

এ কার কন্ঠ শুনছে উনি ?? যাকে ২৫ বছর আগে ফেলে চলে গিয়েছিল তার কন্ঠ ???

পুরনো স্মৃতি আবার নাড়ি দিয়ে উঠল । সালেহা বেগম [টিয়ার মা ] ফোন দিয়েছে কথা বলার জন্য ।

সালেহা বেগম -হ্যালো কেউ কি আছেন ??

আনিস সাহেব ফোনটা কেটে দিল । ওনার মনে হচ্ছে এখনই ছোট খাট একটা হার্ট এটাক হবে ।
তবে কি অনিলা ওর ঠিকানা তে পৌছে গেছে ?

২০ বছর যাবত যাকে লুকিয়ে রেখেছে সে কি তবে তার পরিচয় পেয়ে গেছে ????

কিন্তু ইকরা জানতে পারলে ???
অনিলার কি সব মনে পড়ে গেছে তাহলে ??

মাথা ভো ভো করে ঘুরাচ্ছে । এই শীতে ও শরীর বেয়ে ঘাম পড়ছে ।
.
.
.
ইকরা অর্ণব এর রুমে ঢুকল । অর্ণব মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ।

ইকরা একদম ওর সাথে যেয়ে লেগে বসল আর সাথে সাথে অর্নব সরে গেল ।

ইকরা -ডার্লিং এমন কর কেনো ? অনিলা কে বলব তুমি যে ওর মা কে রেখে অন্য মেয়ের কথা,ভাবছ ???

অর্ণব করুণ চোখে ওর দিকে চাইল ।

হ্যা অর্ণব এর স্মৃতি যায় নি ।ও ভাল আছে । আর এই অনিলা কে তা না হয় পরের পর্বে জানবেন সবাই ।

See less
Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সৌদিতে বয়লার বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত

» টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম কেন?

» বেড়ে ওঠা শৈশবের হৃদয়

» নুডলস পাকোড়া বানানোর সহজ রেসিপি

» রানি ক্লিওপেট্রা কেন পানির নিচে রাজপ্রাসাদ গড়েছিলেন?

» ‘বাতাসেই দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা’

» কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

» সাগরে ফের লঘুচাপ

» বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫২ জন গ্রেফতার

» যেসব রঙ ঘরে শান্তি আনে

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

একটু ছোঁয়া

তানিশা আহমেদ:

অহনার মনে হচ্ছে চারিদিকে অন্ধকার , ও তলিয়ে যাচ্ছে বরফ পানিতে । এই বুঝি ওর শেষ ,অনিলা কে একবার দেখা হল না , সাফিন কে বলা হল না তোমাকে ভালবাসি ।

হঠাত্ মনে হল কেউ দু হাত ধরে টেনে ওকে উপরে টানছে । আর দেখার শক্তি নাই , এবার চোখ বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে ।

সাফিন উপরে নিয়ে আসল অহনা কে । অহনা ওর হাতের উপর শুয়ে আছে , মনে হচ্ছে খুব শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে ।

সাফিন খুব ভয় পেল , তাড়াতাড়ি পুলের উপর শুইয়ে দিল ওকে । কয়েকবার গালে থাপ্পড় মারল কিন্তু কোনও রেসপন্স নেই । পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করল । কিন্তু নো রেসপন্স ।,

সাফিন অহনা বলে চীত্কার দিল ।
সাফিন গার্ড দের ডক্টর ডাকতে বলল । তাড়াতাড়ি ওকে কোলে নিয়ে রুমে গেল ।

বিছানায় শুইয়ে দিতেই দেখল অহনার শরীর পুরো সাদা হয়ে যাচ্ছে । পুরো ভেজা শরীর, কি করে চেঞ্জ করবে ও । মাথা কাজ করছে না ।
পাগল হয়ে যাবে ও মনে হয় ।

১৫ মিনিট পর ডক্টর আসল । ততক্ষণে অহনাকে ড্রেস পড়িয়ে দিয়েছে । একদম কম্বল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে ।

ডক্টর চেক আপ করে বলল , এখন ও সেন্সলেস আছে । তবে শীঘ্রই জ্ঞান ফিরবে আমি ইনজেকশন দিয়েছি । আর হ্যা কাল সকালে একবার চেক,আপ করিয়ে নিবেন । এই শীতে পানিতে ছিল অনেকক্ষণ , নিউমোনিয়া না হয়ে যায় ।
এখন উনি ঘুমাচ্ছে ,ঘুমাতে দিন । উঠলে গরম কিছু খাইয়ে দিবেন ।

আমি যাচ্ছি এখন ।

সব কাজ শেষ করে সাফিন রাত ১২ টায় রুমে আসল । মেয়েটার সাথে কত বড় এক্সিডেন্ট হয়ে গেল । ঠিক সময়ে না আসলে আজ কি হত , ভাবতেই গা শিউরে উঠছে ।

সাফিন রাগ করে উপরে চলে গিয়েছিল । হঠাত্ ওর একটা ইমপরট্যান্ট কল আসল । কিন্তু এত আওয়াজ যে কিছুই বুঝতে পারছিল না ।তাই হাঁটতে হাঁটতে বাইরে আসছিল । হঠাত্ চীত্কার শুনে দৌড়ে আসল পুলের কাছে , যা দেখল তাতে ওর পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল ।

তারপর তো এখন অহনা ওর কাছেই আছে । আলতো করে ওর হাত টা ধরে কিস করল ।
তারপর অহনার হাত কে নিজের হাতের আঙুলের ভাজে নিয়ে ওর শিয়রের কাছে হেলান দিল ।

একটু পরেই ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল ।
.
.
.

.

সায়ান বেক্কলের মত হা করে আছে । অনিলার কি সব রূপ দেখছে ও সকাল থেকে । আজকে ও সিউর মরে যাবে । কি হচ্ছে কি ।

অনিলা কান্না গলায় বলল – কিছু বইলেন না প্লিজ । আজকে আমার কপাল টা ই খারাপ ।

সায়ান হঠাত্ খেয়াল করল অনিলার কাটা হাতের এক কোণ থেকে অল্প অল্প রক্ত পড়ছে । ব্যান্ডেজ ও নেই হাতে ।

সায়ান দ্রুত ওর কাছে যেয়ে ওর হাত ধরল ।

সায়ান -এই এই রক্ত পড়ছে , কি কোনও খেয়াল নেই নাকি ? আর এই অবস্থা কেন তোমার ? ট্রাউজার কই ?

অনিলা -পানিতে পড়ে গেছে ।

সায়ান – এখন এই খানে কি খুঁজছ ??

অনিলা খুব উচ্ছাসে বলল -নতুন ট্রাউজার । পড়তে হবে না ।

সায়ান আরেকবার ওকে উপর থেকে নিচে দেখল । তারপর কোনও মতে নিজেকে কন্ট্রোল করল ।

এমন অবস্থায় কোনও মেয়েকে কোনও ছেলে দেখলে ভেতরে যেমন হওয়ার কথা সায়ানের এমনই বাজে অবস্থা ।
ওর ডাউট হচ্ছে অনিলা ওকে সিডিউসড করছে না তো ।

এসব ভাবতে ভাবতে ভুলে অনিলার কাটা হাতে চাপ দিল , আর অনিলা চেঁচিয়ে উঠল ব্যথায় ।

সায়ান -সরি প্লিজ । খেয়াল করি নি । আস ব্যান্ডেজ করবা ।

অনিলা -লাগব না । আমি বাইরে যাব ।এটা বলেই সায়ান কে একটু ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছিল ।

সায়ানের ও রাগ উঠল ,ও এক টানে অহনা কে কাছে টেনে আনল ।

অনিলা তো এসবে অভ্যস্ত । তাই ওর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইছে ।
সায়ান ও কম কি ও ছাড়বে নাকি অনিলা কে । ও ওর মত ধরে আছে । হাতে ধরলে ব্যথা পাবে তাই অনিলা কে দুই হাত দিয়ে কোমরে পেঁচিয়ে ধরল ।

অহনা খুব রাগী মুডে আছে এখন সেটা ও যেন সায়ানের কাছে অনেক ভাল লাগছে ।

অহনা কিছুক্ষণ হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করল । না পেরে মুখ বাঁকিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল ।

সায়ান -এদিকে তাকাও না ??

অনিলা -হু , আমি আপনার দিকে ভুলে ও তাকাব না ।

সায়ান একটা শয়তানি হাসি দিল ।

সায়ান – তারিফে কারু কেয়া উসকি জিসনে তুঝে বানায়া ,অনিলা অনিলা …..

অনিলা বড়বড় চোখ করে সায়ানের দিকে তাকাল ।

সায়ান মুচকি হেসে বলল , কে যেন বলসে তাকাইব না ???

অনিলা হাত দিয়ে সায়ানের বুকে কিল ঘুষি মারতে লাগল ।

অনিলা – আপনি অনেক খারাপ , আপনি পচা ।

সায়ান আরও শক্ত করে অনিলা কে কাছে টেনে নিল ।

সায়ান – এত রাগ কর কেন ? কিছুদিন পর তো বিয়ে করতাসি ,, তখন এমন রাগ দেখাইলে মাইরা ভর্তা বানায় দিব ।

অনিলার কাছে আবার ও সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে , একটু আগে কল্পনা করে যেই বাঁশ খেয়েছে , এরপর আর বাঁশ খাওয়ার ইচ্ছে নেই ।

সায়ান – কল্পনা জগতের কাজের মহিলা , এবার কল্পনা অফ করেন । এখন যা হচ্ছে সব সত্যি ই হচ্ছে ।
আসুন ব্যান্ডেজ করবেন ।

অনিলা কাজের মহিলা কথাটা শুনে রেগে গেল । কাজের মহিলা তোর বউ হবে শয়তান ।

সায়ান – জ্বি তার কথা ই বলছি ,আর একবার তুই তুই করলে একদম পানি তে ফেলে দিব । আর চুপচাপ চল ব্যান্ডেজ করব ।

অনিলা মুখ ফুলিয়ে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসল ।

সায়ান হাঁটু গেড়ে বসল ওর সামনে । আসতে করে হাতে ধরে ড্রেসিং করে দিচ্ছে ।
অনিলা বাচ্চাদের মত একটু পর পর আ উ করছে । ইচ্ছে করে ওকে জ্বালাতন করছে ।

সায়ান বেশ বুঝতে পারছে , ওর ও কেমন মজা লাগছে এসব দেখতে ।

হঠাত্ টিয়া আর ইলার গলার সাউন্ড পেল বাইরে ।

সায়ান অনিলা ভূত দেখার মত একজন আরেকজনের দিকে তাকাল ।

একটু পর দরজা খুলে টিয়া আর ইলা ঢুকল । ভেতরে ঢুকে দেখল সায়ান কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে ।

ইলা – টিয়া ওর আবার জ্বর আসল নাকি ? এখন শুয়ে আছে কম্বল মুড়ি দিয়ে ???

টিয়া – নাহ নাহ ভাবি , বাজে অভ্যাস করেছে ।হুটহাট করে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে যাবে । বজ্জাত পোলা হইসে । শুধু কাজ আর কাজ । বাসায় থাকবে ই না ।

ইলা – এখনও মনে হয় সেই ছোট আছে , এইতো সেদিন দেখলাম । ওর অভ্যাস গুলি একদম অর্ণব এর মত হয়েছে । এবার অনিলার সাথে বিয়ে করে একদম ওর মামার মত লাইনে আসবে ।

ইলা আর টিয়া হো হো করে হেসে উঠল । অনিলার এত হাসি পাচ্ছে ।
ও তো কন্ট্রোল ই করতে পারছে না ।

সায়ানের এত রাগ উঠছে । আম্মু,আর মামণির কি এখনই সব বলতে হবে এই মেয়ের সামনে । ইজ্জত সব শেষ করে দিল ।

সায়ান অনিলার মুখটা টাইট করে চেপে ধরল তাড়াতাড়ি । তা না হলে আজ সিউর ধরা খেত ।

অনিলার এলোমেলো চুল সায়ানের মুখে লাগছে । আর সায়ানের বুকের ধুকপুক তো অনিলা তো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে । ইচ্ছে করছে এভাবে সময়টা থেমে যাক ।

একটু পর ইলা আর টিয়া লাইট অফ করে চলে গেল । কিন্তু সায়ান তখনও অনিলা কে ধরে আছে শক্ত করে ।

অনিলার ভেতর কোনও নেশা আছে যা ওকে পাগলের মত টানে ।

একটু পর অনিলা মাথার উপর থেকে কম্বল সরিয়ে দিল। একটু ভাল করে কাথা , সায়ান ও অনিলা কে ছেড়ে একটু দূরে গেল , দুজনেই লজ্জা পাচ্ছে ।

দুজনেই চুপ করে রইল কিছুক্ষণ, এতক্ষণ যা হল তা দুজনের মনের ভেতরে ঝড় তুলে দিয়েছে ।

সায়ান – ভাল কথা তোমার ড্রেস গুলি তো গাড়িতে তুমি ঐ গুলি ই তো পড়তে পার ।

অনিলা – হুম , কিন্তু এখন বের হব কিভাবে ?

সায়ান – আমি যাই , তুমি রুম থেকে বের হবা না একদম ।

সায়ান যেই পা বাড়াল নামার জন্য তখনই আবার দরজা খোলার আওয়াজ হল ।

সায়ান তাড়াতাড়ি অনিলার উপরে উঠে কম্বল মুড়ে শুয়ে পড়ল ।

কে ঢুকেছে ওরা জানে না, লাইট জ্বলে উঠল রুমের । কিছুক্ষণ খচখচ আওয়াজ হল ।

অনিলার তো ভয়ে আত্তা উড়ে যায় যায় , এখন কেউ দেখলে লজ্জায় ওর মাথা কাটা যাবে ।

কিন্তু এভাবে কোনও ছেলে ওর উপর শুয়ে আছে তাও ওর ক্রাশ ওর তো অবস্থা হালুয়া হয়ে যাচ্ছে ।

অনিলা আসতে করে বলল – চ্যাপ্টা হয়ে গেলাম তো ।

সায়ান ইচ্ছে করে আরও জোরে ওর হাত ধরল ।একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল – এখন সহ্য করতে পার না বিয়ের পর কি করবা ?

অনিলা রেগে জোরে কথা বলতে নিল কিন্তু সায়ান হাত দিয়ে ওর মুখ আটকে দিল ।

একটু পর লাইট অফ হয়ে গেল ।ওরা আবার আগের মত সরে গেল ।
.
.

এই ঘটনার পরে অনেক দিন কেউ কারো সামনে আসে নি ।সামনা সামনি হলেই কেমন যেন অপ্রশস্ত হয়ে যেত ।

আজ টিয়া অনিলার দাদুর সাথে কথা বলবে বিয়ের ডেইট ফাইনাল করতে ।

আনিস সাহেব এর মন টা উসখুস করছে সারাদিন ধরে । মনে হচ্ছে কোনও খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে ।অনেক চিন্তা করেও খুঁজে পেল না কি হতে পারে ।সকাল থেকে ২/৩ বার অনিলা আর অহনার সাথে কথা বলেছে ফোনে ।
তারপর ও ভেতরে অশান্তি লাগছে ।

হঠাত্ অনিলার নম্বর থেকে কল আসল । আনিস সাহেব ভয় পেয়ে গেল , কিছুক্ষণ আগেই তো কথা বলল এখন কি,কিছু হয়েছে নাকি ??

কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন ধরল আনিস সাহেব ।

ঐ পাশ থেকে কেউ বলল – আসসালামুয়ালিকুম বেয়াইন সাহেব ।

আনিস সাহেব মুহূর্তে থমকে গেল , মনে হচ্ছে সব কিছুই থমকে গেল ।

এ কার কন্ঠ শুনছে উনি ?? যাকে ২৫ বছর আগে ফেলে চলে গিয়েছিল তার কন্ঠ ???

পুরনো স্মৃতি আবার নাড়ি দিয়ে উঠল । সালেহা বেগম [টিয়ার মা ] ফোন দিয়েছে কথা বলার জন্য ।

সালেহা বেগম -হ্যালো কেউ কি আছেন ??

আনিস সাহেব ফোনটা কেটে দিল । ওনার মনে হচ্ছে এখনই ছোট খাট একটা হার্ট এটাক হবে ।
তবে কি অনিলা ওর ঠিকানা তে পৌছে গেছে ?

২০ বছর যাবত যাকে লুকিয়ে রেখেছে সে কি তবে তার পরিচয় পেয়ে গেছে ????

কিন্তু ইকরা জানতে পারলে ???
অনিলার কি সব মনে পড়ে গেছে তাহলে ??

মাথা ভো ভো করে ঘুরাচ্ছে । এই শীতে ও শরীর বেয়ে ঘাম পড়ছে ।
.
.
.
ইকরা অর্ণব এর রুমে ঢুকল । অর্ণব মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ।

ইকরা একদম ওর সাথে যেয়ে লেগে বসল আর সাথে সাথে অর্নব সরে গেল ।

ইকরা -ডার্লিং এমন কর কেনো ? অনিলা কে বলব তুমি যে ওর মা কে রেখে অন্য মেয়ের কথা,ভাবছ ???

অর্ণব করুণ চোখে ওর দিকে চাইল ।

হ্যা অর্ণব এর স্মৃতি যায় নি ।ও ভাল আছে । আর এই অনিলা কে তা না হয় পরের পর্বে জানবেন সবাই ।

See less
Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com