ঋণখেলাপির উত্তরসূরিরা ঋণ চান আরো,

বাপ-দাদারা শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি। সেগুলো পরিশোধের খবর নাই। বরং বাপ-দাদার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে আরো কোটি কোটি টাকা ঋণ চান তারা। চট্টগ্রামে এমন ঋণখেলাপির উত্তরসূরির সংখ্যা অর্ধশতাধিক। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কয়েকটি ব্যাংকের জোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে মিলেছে এমন তথ্য। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঋণখেলাপি বাপ-দাদার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে একই জায়গায় নতুন নামে প্রতিষ্ঠান খোলায় পূর্বের ঋণ আদায়ে উদ্বিগ্ন তারা। তথ্যমতে, চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপের কাছে ১৮টি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে, বলাকা গ্রুপের কাছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা এবং ইলিয়াছ ব্রাদার্সের কাছে প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে। এরমধ্যে এসএ গ্রুপ নাম পরিবর্তন করে মুসকান, বলাকা গ্রুপ হয়েছে ড্রিম গ্রুপ ও ইলিয়াছ ব্রাদার্স হয়েছে এমইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স।

উত্তরা ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক ম্যানেজার ও বর্তমান জোনাল হেড রফিক নেওয়াজ বলেন, এসএ গ্রুপ নতুনভাবে ‘মুসকান’ গ্রুপ নামে ঋণের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু মুসকান গ্রুপের মালিক হিসেবে শাহাবুদ্দিনের ছেলেকে দেখে আমরা ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমরা নতুনভাবে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।,

কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার প্রধান মোহাম্মদ বেলাল বলেন, বলাকা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী নুরুন্নবী পূর্বের ঋণ পরিশোধ না করেই নতুনভাবে তার ছেলের নামে প্রতিষ্ঠান চালু করে ব্যবসা করছে। বলাকা গ্রুপের আগের ঋণের ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ২০০ ডেসিমাল জমি বন্ধক রেখেছিল। গ্রুপটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা জমিটি নিলাম দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসহযোগিতা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় জমিটি বিক্রি করা যায়নি। ঋণের টাকা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।,মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জোনাল হেড বলেন, ইলিয়াস ব্রাদার্সের উত্তরসূরিরা তাদের পূর্বসূরিদের ঋণের টাকায় ব্যবসা করছেন। তারা বর্তমান প্রতিষ্ঠান এমইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে এ টাকা ব্যয় করেছেন। তাহলে তারা ঋণের টাকা পরিশোধে দায়বদ্ধ নয় কেন? বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করার মাধ্যমে ইলিয়াস ব্রাদার্সের কাছ থেকে ঋণের টাকা পুনরুদ্ধারেও ব্যর্থ হয়েছি।,

ন্যাশনাল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এএসএম হেলাল উদ্দিন বলেন, ইলিয়াস ব্রাদার্সের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত দরদাতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বন্ধকী সম্পদের পরিমাণ ঋণের টাকার পরিমাণের তুলনায় খুবই কম। তাই আমরা কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি।প্রসঙ্গত, এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম একটি মামলায় গত ২০১৮ সালের ১৭ই অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির শতাধিক মামলা রয়েছে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে তার ছেলেদের নিয়ে এসএ গ্রুপের নাম পরিবর্তন করে তার ছেলে সাজ্জাদ আরেফিনকে গ্রুপের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে বলাকা গ্রুপের মালিক নূরুন্নবীর পরিবর্তে নতুন গ্রুপের মালিক করা হয়েছে তার ছেলে সাফাত বিন নবীকে। ইলিয়াস ব্রাদার্সের বেশিরভাগ ঋণ দ্বিতীয় প্রজন্ম শামসুল আলম, নুরুল আবছার ও অন্যদের নামে। তবে তাদের বর্তমান প্রজন্মও এই খেলাপি ঋণের টাকায় লাভবান হয়েছেন। ইলিয়াছ ব্রাদার্সের নাম পরিবর্তন করে নতুন গ্রুপের মালিক করা হয়েছে নাতি শোয়েব রিয়াদকে।  ,

উত্তরসূরিদের দাবি, আইনগতভাবে তারা পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তাদের পূর্বসূরিদের দায়বদ্ধতার জন্য তারা দায়ী নন। ইলিয়াস ব্রাদার্সের উত্তরসূরি এমইবি’র কর্ণধার শোয়েব রিয়াদ বলেন, আমি তো ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিইনি। খেলাপি ঋণ সব বাপ-চাচাদের। ওই ঋণের দায় আমি কেন নেবো? বলাকা গ্রুপের উত্তরসূরি সাফাত বিন নবী বলেন, ব্যবসায় লোকসানের কারণে বাবা ব্যাংকগুলোর ঋণ শোধ করতে পারেনি। আস্তে আস্তে শোধ করার চেষ্টা করছে। বলাকা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে নেয়া ঋণ ড্রিম গ্রুপে বিনিয়োগ করা হয়নি। বলাকা গ্রুপের ঋণের দায় ড্রিম গ্রুপ নিবে কেন।, সূএ:মানবজমিন
Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ধর্মান্ধগোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: স্বেচ্ছাসেবক লীগ,

» বাইশটেকিতে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ

» সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন,

» মজনুর আইনজীবীর বিল ৮০০ টাকা, পাবেন ছয় মাস পর

» দ্রুতগতিতে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে গ্রহাণু,

» ভূমিহীন দেখিয়ে বিত্তশালীদের খাস জমি বন্টন, ১৪৪ ধারা জারি.

» কিয়ারার জ্বলন্ত অবতার, মুহূর্তেই ভাইরাল ভিডিও,

» বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে শিশু আব্দুল্লাহ হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

» সিএন্ডএফ মহাসচিব শিল্পপতি সুলতান হোসেন খানকে ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের অভিনন্দন

» চট্টগ্রাম  হতে নির্মিত হলো ক্রাইম সিন “ভালোবাসার ফাঁদ”

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ঋণখেলাপির উত্তরসূরিরা ঋণ চান আরো,

বাপ-দাদারা শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি। সেগুলো পরিশোধের খবর নাই। বরং বাপ-দাদার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে আরো কোটি কোটি টাকা ঋণ চান তারা। চট্টগ্রামে এমন ঋণখেলাপির উত্তরসূরির সংখ্যা অর্ধশতাধিক। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কয়েকটি ব্যাংকের জোন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপে মিলেছে এমন তথ্য। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঋণখেলাপি বাপ-দাদার প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে একই জায়গায় নতুন নামে প্রতিষ্ঠান খোলায় পূর্বের ঋণ আদায়ে উদ্বিগ্ন তারা। তথ্যমতে, চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান এসএ গ্রুপের কাছে ১৮টি ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি পাওনা রয়েছে, বলাকা গ্রুপের কাছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা এবং ইলিয়াছ ব্রাদার্সের কাছে প্রায় ৯৮০ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে। এরমধ্যে এসএ গ্রুপ নাম পরিবর্তন করে মুসকান, বলাকা গ্রুপ হয়েছে ড্রিম গ্রুপ ও ইলিয়াছ ব্রাদার্স হয়েছে এমইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স।

উত্তরা ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক ম্যানেজার ও বর্তমান জোনাল হেড রফিক নেওয়াজ বলেন, এসএ গ্রুপ নতুনভাবে ‘মুসকান’ গ্রুপ নামে ঋণের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু মুসকান গ্রুপের মালিক হিসেবে শাহাবুদ্দিনের ছেলেকে দেখে আমরা ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ আমরা নতুনভাবে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।,

কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার প্রধান মোহাম্মদ বেলাল বলেন, বলাকা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী নুরুন্নবী পূর্বের ঋণ পরিশোধ না করেই নতুনভাবে তার ছেলের নামে প্রতিষ্ঠান চালু করে ব্যবসা করছে। বলাকা গ্রুপের আগের ঋণের ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ২০০ ডেসিমাল জমি বন্ধক রেখেছিল। গ্রুপটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা জমিটি নিলাম দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসহযোগিতা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় জমিটি বিক্রি করা যায়নি। ঋণের টাকা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।,মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জোনাল হেড বলেন, ইলিয়াস ব্রাদার্সের উত্তরসূরিরা তাদের পূর্বসূরিদের ঋণের টাকায় ব্যবসা করছেন। তারা বর্তমান প্রতিষ্ঠান এমইবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে এ টাকা ব্যয় করেছেন। তাহলে তারা ঋণের টাকা পরিশোধে দায়বদ্ধ নয় কেন? বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করার মাধ্যমে ইলিয়াস ব্রাদার্সের কাছ থেকে ঋণের টাকা পুনরুদ্ধারেও ব্যর্থ হয়েছি।,

ন্যাশনাল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এএসএম হেলাল উদ্দিন বলেন, ইলিয়াস ব্রাদার্সের বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত দরদাতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বন্ধকী সম্পদের পরিমাণ ঋণের টাকার পরিমাণের তুলনায় খুবই কম। তাই আমরা কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি।প্রসঙ্গত, এসএ গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আলম একটি মামলায় গত ২০১৮ সালের ১৭ই অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির শতাধিক মামলা রয়েছে। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে তার ছেলেদের নিয়ে এসএ গ্রুপের নাম পরিবর্তন করে তার ছেলে সাজ্জাদ আরেফিনকে গ্রুপের মালিক হিসেবে দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে বলাকা গ্রুপের মালিক নূরুন্নবীর পরিবর্তে নতুন গ্রুপের মালিক করা হয়েছে তার ছেলে সাফাত বিন নবীকে। ইলিয়াস ব্রাদার্সের বেশিরভাগ ঋণ দ্বিতীয় প্রজন্ম শামসুল আলম, নুরুল আবছার ও অন্যদের নামে। তবে তাদের বর্তমান প্রজন্মও এই খেলাপি ঋণের টাকায় লাভবান হয়েছেন। ইলিয়াছ ব্রাদার্সের নাম পরিবর্তন করে নতুন গ্রুপের মালিক করা হয়েছে নাতি শোয়েব রিয়াদকে।  ,

উত্তরসূরিদের দাবি, আইনগতভাবে তারা পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তাদের পূর্বসূরিদের দায়বদ্ধতার জন্য তারা দায়ী নন। ইলিয়াস ব্রাদার্সের উত্তরসূরি এমইবি’র কর্ণধার শোয়েব রিয়াদ বলেন, আমি তো ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিইনি। খেলাপি ঋণ সব বাপ-চাচাদের। ওই ঋণের দায় আমি কেন নেবো? বলাকা গ্রুপের উত্তরসূরি সাফাত বিন নবী বলেন, ব্যবসায় লোকসানের কারণে বাবা ব্যাংকগুলোর ঋণ শোধ করতে পারেনি। আস্তে আস্তে শোধ করার চেষ্টা করছে। বলাকা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে নেয়া ঋণ ড্রিম গ্রুপে বিনিয়োগ করা হয়নি। বলাকা গ্রুপের ঋণের দায় ড্রিম গ্রুপ নিবে কেন।, সূএ:মানবজমিন
Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com