আবর্জনা ঘেটে চলে জীবন, খবর রাখে না কেউ

প্রতিদিন সকাল হলেই বগুড়া পৌরসভার আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থানগুলোতে একদল পথশিশু ব্যাগ হাতে হাজির হয়। এরপর বাড়ি বাড়ি থেকে ভ্যানগাড়ি এবং আবর্জনার ট্রাক আসামাত্র সেখানে হামলে পড়ে এই শিশুগুলো। উপার্জনের আশায় নোংরা আবর্জনা ঘেটে পাল্লা দিয়ে বের করে কাগজ, প্লাস্টিক, লোহা, টিনসহ নানা ধরণের বস্তু। আর সেইসব বিক্রি করেই আসে প্রতিদিনের খবারের পয়সা। অথচ এদের জীবনমান উন্নয়নে নেই কোনো সরকারি পদক্ষেপ। নেই অবহেলিত এইসব শিশুদের সঠিক পরিসংখ্যানও।

রবি, বৃষ্টি, সুখী, রবিসহ একাধিক পথশিশুদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বসবাস বস্তিতে। আবর্জনায় হাত দিতে তাদের ন্যূনতম ঘেন্না করে না। প্রতিদিন আবর্জনা থেকে বিক্রির উপযোগী বস্তু কুড়িয়ে তারা একেক জন উপার্জন করে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এই টাকা থেকে তাদের খাবারের বন্দোবস্ত হয়। ময়লার ভাগাড় থেকে উপার্জিত টাকা এসব শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা মা আছে তারা তাদের বাবা মাকে দেয় এবং নিজেরা নিজেদের পছন্দ মতো খাবার কিনে খায়। যাদের বাবা মা নেই তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটায়। তবে দরিদ্রতার কারণে অনেক মা তার সন্তানদের সাথে করে নিয়ে আসেন আবর্জনা থেকে বেশি পরিমাণ বিক্রিযোগ্য বস্তু সংগ্রহের জন্য।

 

বস্তি ও পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত চিন্তায় ২০১৪ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশারী পরিবার’ আত্মপ্রকাশ করে। এসব শিশুদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য সংগঠনটি ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল’ পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর এতে নিরলসভাবে শ্রম দিচ্ছেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। সপ্তাহের ৪ দিন প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তাদের স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান দিয়ে থাকেন তারা। তবে করোনায় ছুটির পর থেকে তাদের পাঠদান কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা ছাড়াও এই সংগঠনটি শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি এবং ময়লা আবর্জনায় কাগজ কুড়ানো থেকে নিবৃত রাখতে তাদের পরিবারকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছে।

 

সংগঠনটির সাধারণ আদিত্য কুমার জানান, যেসব শিশুরা এসব ময়লা আবর্জনা কুড়ায় এসব শিশুদের অধিকাংশেরই বাবা মা নেই। অথবা কারো মা আছে বাবা নেই। আবার কারো বাবা আছে মা নেই। যে কারণে তারা অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠে। এসব শিশুদের ভবিষ্যতের কথা তাদের পরিবারও চিন্তা করে না। পড়াশোনা করাতে চায় না। আমরা উদ্যোগ নিয়ে এসব শিশুদের পড়াশোনার করাচ্ছি গত ৭ বছর। প্রথম দিকে শিশুদের আমাদের স্কুলমুখী করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে যেসব শিশু আমাদের স্কুলে পড়ছে তাদের অধিকাংশই নিয়মিত ক্লাস করতো এবং রেজাল্টও ভালো করতো। করোনার কারণে তাদের পাঠদান স্থগিত আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই আমাদের কার্যক্রমও শুরু করবো। তবে এসব শিশুদের জন্য সরকারিভাবে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। যাতে করে এই শিশুগুলো দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

 

বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কাওছার রহমান বলেন, পথশিশু বা যারা আবর্জনায় কাগজ কুড়ায় এসব শিশুদের নিয়ে তাদের বগুড়াতে সুনির্দিষ্ট কোন কাজ নেই। তবে এতিম শিশুদের জন্য সরকারি শিশু পরিবার আছে। এছাড়া শূণ্য থেকে ০৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ‘বেবি হোম’ আছে। আমরা সেখানে শিশুদের রেখে লালন পালন করি। তবে ছিন্নমূল পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কর্মসূচী গ্রহণ করা দরকার । সরকার যদি এটা গ্রহণ করে তাহলে এটা অবশ্যই একটা ভালো ফল দেবে এবং এটা যদি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমরা অবশ্যই আন্তরিকতার সাথেই কাজ করবো।

সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ময়মনসিংহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

» কড়া নিরাপত্তায় প্রতিমা বিসর্জন

» রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরে উল্টে গেল বাস

» ২০০ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাত: জেরার মুখে নোরা, জ্যাকুলিন

» আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নাই: এনামুল হক শামীম

» সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: রেলমন্ত্রী

» কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

» নওগাঁয় প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হল দুর্গোৎসব

» যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ৫৯৭ বোতল ফেনসিডিলসহ ১জন আটক

» সচল থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আবর্জনা ঘেটে চলে জীবন, খবর রাখে না কেউ

প্রতিদিন সকাল হলেই বগুড়া পৌরসভার আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত স্থানগুলোতে একদল পথশিশু ব্যাগ হাতে হাজির হয়। এরপর বাড়ি বাড়ি থেকে ভ্যানগাড়ি এবং আবর্জনার ট্রাক আসামাত্র সেখানে হামলে পড়ে এই শিশুগুলো। উপার্জনের আশায় নোংরা আবর্জনা ঘেটে পাল্লা দিয়ে বের করে কাগজ, প্লাস্টিক, লোহা, টিনসহ নানা ধরণের বস্তু। আর সেইসব বিক্রি করেই আসে প্রতিদিনের খবারের পয়সা। অথচ এদের জীবনমান উন্নয়নে নেই কোনো সরকারি পদক্ষেপ। নেই অবহেলিত এইসব শিশুদের সঠিক পরিসংখ্যানও।

রবি, বৃষ্টি, সুখী, রবিসহ একাধিক পথশিশুদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বসবাস বস্তিতে। আবর্জনায় হাত দিতে তাদের ন্যূনতম ঘেন্না করে না। প্রতিদিন আবর্জনা থেকে বিক্রির উপযোগী বস্তু কুড়িয়ে তারা একেক জন উপার্জন করে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। এই টাকা থেকে তাদের খাবারের বন্দোবস্ত হয়। ময়লার ভাগাড় থেকে উপার্জিত টাকা এসব শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা মা আছে তারা তাদের বাবা মাকে দেয় এবং নিজেরা নিজেদের পছন্দ মতো খাবার কিনে খায়। যাদের বাবা মা নেই তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটায়। তবে দরিদ্রতার কারণে অনেক মা তার সন্তানদের সাথে করে নিয়ে আসেন আবর্জনা থেকে বেশি পরিমাণ বিক্রিযোগ্য বস্তু সংগ্রহের জন্য।

 

বস্তি ও পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত চিন্তায় ২০১৪ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশারী পরিবার’ আত্মপ্রকাশ করে। এসব শিশুদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য সংগঠনটি ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুল’ পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর এতে নিরলসভাবে শ্রম দিচ্ছেন একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। সপ্তাহের ৪ দিন প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তাদের স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান দিয়ে থাকেন তারা। তবে করোনায় ছুটির পর থেকে তাদের পাঠদান কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর চেষ্টা ছাড়াও এই সংগঠনটি শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি এবং ময়লা আবর্জনায় কাগজ কুড়ানো থেকে নিবৃত রাখতে তাদের পরিবারকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছে।

 

সংগঠনটির সাধারণ আদিত্য কুমার জানান, যেসব শিশুরা এসব ময়লা আবর্জনা কুড়ায় এসব শিশুদের অধিকাংশেরই বাবা মা নেই। অথবা কারো মা আছে বাবা নেই। আবার কারো বাবা আছে মা নেই। যে কারণে তারা অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠে। এসব শিশুদের ভবিষ্যতের কথা তাদের পরিবারও চিন্তা করে না। পড়াশোনা করাতে চায় না। আমরা উদ্যোগ নিয়ে এসব শিশুদের পড়াশোনার করাচ্ছি গত ৭ বছর। প্রথম দিকে শিশুদের আমাদের স্কুলমুখী করতে অনেক সমস্যা হয়েছে। তবে যেসব শিশু আমাদের স্কুলে পড়ছে তাদের অধিকাংশই নিয়মিত ক্লাস করতো এবং রেজাল্টও ভালো করতো। করোনার কারণে তাদের পাঠদান স্থগিত আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেই আমাদের কার্যক্রমও শুরু করবো। তবে এসব শিশুদের জন্য সরকারিভাবে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। যাতে করে এই শিশুগুলো দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

 

বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কাওছার রহমান বলেন, পথশিশু বা যারা আবর্জনায় কাগজ কুড়ায় এসব শিশুদের নিয়ে তাদের বগুড়াতে সুনির্দিষ্ট কোন কাজ নেই। তবে এতিম শিশুদের জন্য সরকারি শিশু পরিবার আছে। এছাড়া শূণ্য থেকে ০৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ‘বেবি হোম’ আছে। আমরা সেখানে শিশুদের রেখে লালন পালন করি। তবে ছিন্নমূল পথশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কর্মসূচী গ্রহণ করা দরকার । সরকার যদি এটা গ্রহণ করে তাহলে এটা অবশ্যই একটা ভালো ফল দেবে এবং এটা যদি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় তাহলে আমরা অবশ্যই আন্তরিকতার সাথেই কাজ করবো।

সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com