আঠারো বছরেই হাজার চুরির রেকর্ড যার

চার বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনের পেছনে উঠে সোজা চট্টগ্রামে পা রাখে সে। তখন থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে টোকাই জীবন শুরু হয় তার। কিছুদিন পর মা মারা গেলে সে স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামেই থেকে যায়। এর মাঝে জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের লোকজনের সঙ্গে। নগরীর বরিশাল কলোনির মাদকের বাজারের কুখ্যাত এক ব্যবসায়ীর গুপ্তচর ছিল সে। ৬ বছর বয়সে প্রথম গ্রেপ্তার হয়ে খুলনায় শিশু সংশোধনাগারেও যায়। এরপরও দমেনি। সেখান থেকে বেরিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় চুরি, মাদকসহ নানা অপরাধ করে বেড়ায়।

সে হলো-‘পিচ্চি রাজু’।
পুলিশকে দেয়া তার তথ্যমতে, আঠারো বছর ধরে হাজারো চুরির ঘটনা ঘটায় সে। শিশু বয়সে অপরাধ জগতে এমন রেকর্ডের কারণে সে পরিচিতি পায় পিচ্চি রাজু হিসেবে। চুরির একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পেশাদার চোর পিচ্চি রাজুর সন্ধান পায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। যাকে গ্রেপ্তারে নগরজুড়ে জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট। অবশেষে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় ডবলমুরিং থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চুরির দুটি ল্যাপটপও উদ্ধার করে পুলিশ।  কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চুরির মামলায় পিচ্চি রাজুকে গ্রেপ্তার করলেও তখনো আমরা জানতাম না-এই বয়সে তার হাজারো চুরির রেকর্ডের কথা। শুক্রবার আদালতে তুলে রিমান্ডে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে তার এই রেকর্ডের তথ্য বেরিয়ে আসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সজল কান্তি দাশ জানান, পিচ্চি রাজুর আসল নাম শাহীন আলম রাজু। সে রাজধানী ঢাকার দারুস সালামের বৈলপুর এলাকার মৃত জয়নালের ছেলে। যার মুখের বুলি ভালোভাবে না ফুটতেই শুরু হয় টোকাই জীবন। তখন থেকে সে অপরাধ করে বেড়িয়েছে। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। গত কয়েক বছর ধরে নগরীর সদরঘাট, ডবলমুরিংসহ বিভিন্ন থানায় রাজু নামে একজনের নাম উঠে আসছিল বার বার। কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে একটি চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে আনলে অপরাধ জগতের সঙ্গে তার সমপৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সজল কান্তি দাশ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, অফিস, শোরুম ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজারখানেক চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার রয়েছে চুরির একটি সিন্ডিকেট। যারা প্রায়ই তার সমবয়সী। রাজুর তথ্যমতে, ৪ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনের পেছনে উঠে চট্টগ্রাম শহরে আসে। তখন থেকে ট্রেনে করে সে বেশ কয়েকবার ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার সুবাদে রেলস্টেশনে টোকাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিছুদিন পরে তার মা মারা যাওয়ার পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে। এসময় শফি নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। টোকাইদের সঙ্গে মেলামেশার এক পর্যায়ে চুরির পেশায় জড়িত হওয়ার পর শফি তাকে বিতাড়িত করে। পরে অল্প বয়সে নিজের যোগ্যতায় সে বরিশাল কলোনির মাদক সিন্ডিকেটে স্থান করে নেয়। মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট ফারুক নিহত হয়। তার বিশ্বস্ত গুপ্তচর ছিল পিচ্চি রাজু। এর আগে ওই মাদক সিন্ডিকেটের বিভিন্নজনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। পাশাপাশি চুরির পেশাও ছিল। রেলস্টেশনে ভাসমান হিসেবে বসবাস করে নানা অপরাধ করেও সে পার পেয়ে যেত। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি নন্দনকানন এলাকায় কাদের হাইটসে ল্যাপটপ ও টাকা চুরির ঘটনায় তার নাম বেরিয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ তার কোনো হদিস পাচ্ছিল না। পরে তাকে গ্রেপ্তারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। ফলে ডবলমুরিং থানা পুলিশ নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করে চোরাই ল্যাপটপ দুটি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা সজল কান্তি দাশ। তিনি জানান, মামলার বাদী একজন ব্যবসায়ী। এপিক কাদের হাইটসের ৩য় তলায় সিস্টেম কন্ট্রোল নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম রয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। ওই ফার্মের ল্যাপটপ, নগদ টাকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একটি দল শুধুই সরকারের সমালোচনা করছে:নানক

» মাসুদ রানা ছবির বাজেট ৮৩ কোটি টাকা

» গণপিটুনি ও ধর্ষণ বিএনপি-জামায়াতের নিখুঁত ষড়যন্ত্র : আইনমন্ত্রী

» হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহা বহিষ্কার

» নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোরবানি পশুর হাট নয় : ডিএমপি কমিশনার

» রিফাত হত্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রিশান ফরাজী

» আ.লীগ বিরোধীদের তালিকায় মন্ত্রী-এমপির সংখ্যাই বেশি

» ছেলেধরা সন্দেহে ৯৯৯ কল দিন, গণপিটুনি নয়

» পচা-মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে জুস

» ৪৮ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

আঠারো বছরেই হাজার চুরির রেকর্ড যার

চার বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনের পেছনে উঠে সোজা চট্টগ্রামে পা রাখে সে। তখন থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে টোকাই জীবন শুরু হয় তার। কিছুদিন পর মা মারা গেলে সে স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামেই থেকে যায়। এর মাঝে জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের লোকজনের সঙ্গে। নগরীর বরিশাল কলোনির মাদকের বাজারের কুখ্যাত এক ব্যবসায়ীর গুপ্তচর ছিল সে। ৬ বছর বয়সে প্রথম গ্রেপ্তার হয়ে খুলনায় শিশু সংশোধনাগারেও যায়। এরপরও দমেনি। সেখান থেকে বেরিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় চুরি, মাদকসহ নানা অপরাধ করে বেড়ায়।

সে হলো-‘পিচ্চি রাজু’।
পুলিশকে দেয়া তার তথ্যমতে, আঠারো বছর ধরে হাজারো চুরির ঘটনা ঘটায় সে। শিশু বয়সে অপরাধ জগতে এমন রেকর্ডের কারণে সে পরিচিতি পায় পিচ্চি রাজু হিসেবে। চুরির একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পেশাদার চোর পিচ্চি রাজুর সন্ধান পায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। যাকে গ্রেপ্তারে নগরজুড়ে জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট। অবশেষে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় ডবলমুরিং থানা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চুরির দুটি ল্যাপটপও উদ্ধার করে পুলিশ।  কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চুরির মামলায় পিচ্চি রাজুকে গ্রেপ্তার করলেও তখনো আমরা জানতাম না-এই বয়সে তার হাজারো চুরির রেকর্ডের কথা। শুক্রবার আদালতে তুলে রিমান্ডে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে তার এই রেকর্ডের তথ্য বেরিয়ে আসে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সজল কান্তি দাশ জানান, পিচ্চি রাজুর আসল নাম শাহীন আলম রাজু। সে রাজধানী ঢাকার দারুস সালামের বৈলপুর এলাকার মৃত জয়নালের ছেলে। যার মুখের বুলি ভালোভাবে না ফুটতেই শুরু হয় টোকাই জীবন। তখন থেকে সে অপরাধ করে বেড়িয়েছে। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। গত কয়েক বছর ধরে নগরীর সদরঘাট, ডবলমুরিংসহ বিভিন্ন থানায় রাজু নামে একজনের নাম উঠে আসছিল বার বার। কিন্তু তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে একটি চুরির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে আনলে অপরাধ জগতের সঙ্গে তার সমপৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। সজল কান্তি দাশ জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, অফিস, শোরুম ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে প্রায় হাজারখানেক চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার রয়েছে চুরির একটি সিন্ডিকেট। যারা প্রায়ই তার সমবয়সী। রাজুর তথ্যমতে, ৪ বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ট্রেনের পেছনে উঠে চট্টগ্রাম শহরে আসে। তখন থেকে ট্রেনে করে সে বেশ কয়েকবার ঢাকা-চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার সুবাদে রেলস্টেশনে টোকাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিছুদিন পরে তার মা মারা যাওয়ার পর চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকায় বসবাস শুরু করে। এসময় শফি নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। টোকাইদের সঙ্গে মেলামেশার এক পর্যায়ে চুরির পেশায় জড়িত হওয়ার পর শফি তাকে বিতাড়িত করে। পরে অল্প বয়সে নিজের যোগ্যতায় সে বরিশাল কলোনির মাদক সিন্ডিকেটে স্থান করে নেয়। মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট ফারুক নিহত হয়। তার বিশ্বস্ত গুপ্তচর ছিল পিচ্চি রাজু। এর আগে ওই মাদক সিন্ডিকেটের বিভিন্নজনের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। পাশাপাশি চুরির পেশাও ছিল। রেলস্টেশনে ভাসমান হিসেবে বসবাস করে নানা অপরাধ করেও সে পার পেয়ে যেত। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি নন্দনকানন এলাকায় কাদের হাইটসে ল্যাপটপ ও টাকা চুরির ঘটনায় তার নাম বেরিয়ে আসে। কিন্তু পুলিশ তার কোনো হদিস পাচ্ছিল না। পরে তাকে গ্রেপ্তারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। ফলে ডবলমুরিং থানা পুলিশ নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করে চোরাই ল্যাপটপ দুটি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা সজল কান্তি দাশ। তিনি জানান, মামলার বাদী একজন ব্যবসায়ী। এপিক কাদের হাইটসের ৩য় তলায় সিস্টেম কন্ট্রোল নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম রয়েছে ওই ব্যবসায়ীর। ওই ফার্মের ল্যাপটপ, নগদ টাকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়।

মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com