অসুস্থ এবং সফররত ব্যক্তিদের রোজা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ:অসুস্থ এবং সফররত ব্যক্তিদের রোজা পালন প্রসঙ্গে আল কোরআনে বলা হয়েছে- ‘(তাও আবার সারা বছরের জন্য নয়, রোজা ফরজ করা হয়েছে) হাতে গোনা কয়েক দিনের জন্য। (তার পরেও তোমাদের) কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় কিংবা কেউ যদি সফরে থাকে সে ব্যক্তি সমপরিমাণ দিনের রোজা (সুস্থ হয়ে গেলে অথবা সফর থেকে ফিরে এলে) পরে আদায় করে নেবে। এর পরও যাদের জন্য রোজা রাখা একান্ত কষ্টকর ব্যাপার বলে মনে হবে তারা  এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সঙ্গে সৎকর্ম করে তার জন্য তা কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার’। (সূরা বাকারা আয়াত-১৮৪)। অসুস্থতার কারণে কিংবা ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা পালন করা কষ্টদায়ক হলে সে ক্ষেত্রে অন্য সময়ে অনুরূপ সংখ্যক (অর্থাৎ যে কটি রোজা পালন করা সম্ভব হয়নি) রোজা অবশ্যই পালন করার কথা বলা হয়েছে। সে রোজা পালনও সম্ভব না হলে ফিদায়া হিসেবে গরিব মিসকিনকে খাদ্যদানের মাধ্যমে তা পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্ভব হলে (অর্থাৎ কষ্টদায়ক না হলে) রোজা পালন করা ‘বিশেষ কল্যাণকর’ হবে বলে আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে লক্ষণীয়। রোজার ব্যাপারে ইসলামের প্রধানতম সংস্কার হলো এর বাস্তবিকতা এবং ধারণাগত পরিবর্তন। অসুস্থতা কিংবা সফরের কারণে শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, শ্রান্তি ও অবসাদে রোজাদার যাতে সর্বপ্রকার হুকুম আহকাম পালন করে যথার্থভাবে ইবাদত করতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সে জন্য অসুস্থতা ও সফরকালে রোজা পালন থেকে অব্যাহতির বিধান দেওয়া হয়েছে। বস্তত রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার যাতে সজীবতা, হৃদয়ের পবিত্রতা এবং চিন্তাধারার বিশুদ্ধতা অর্জনসহ রুহানি তৃপ্তি, নতুন উদ্যম ও প্রেরণা লাভ করে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তি বলতে তাফসিরে মারেফুল কোরআনে বলা হয়েছে- রোজা রাখতে যার কঠিন কষ্ট হয় অথবা রোগ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাফসিরে ফি জিলালিল কোরআনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে যে, কোনো বিশেষ রোগব্যাধির উল্লেখ করে অসুস্থ ব্যক্তির রোজা কাজা করার নির্দেশের পরিধিকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়নি। যে কোনো রোগ- যাতে রোজা রাখা তার জন্য দুরূহ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রের জন্য এই অনুমতি। প্রকৃত প্রস্তাবে অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখার কারণে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর আশঙ্কা বোধ করে তবে এ অবস্থায় রোজা রাখবে না। সুস্থ হওয়ার পর কাজা করবে। শুধু মনের ধারণায় অসুস্থতার অজুহাতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকা দুরস্ত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অথবা নিজের পূর্বঅভিজ্ঞতা কিংবা কোনো লক্ষণ দ্বারা প্রবল ধারণা জন্মে যে, রোজা রাখলে ক্ষতি হবে তখন রোজা রাখা ত্যাগ করা যাবে।

‘সফররত ব্যক্তি’ বলতে কোরআনের তাফসিরকারক এবং শরিয়তের পরিভাষাবিদগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, ওই ব্যক্তি- যিনি সফরে আছেন। বাড়িঘর হতে বের হয়ে কোথাও যাওয়া নয়, সফর দীর্ঘ হতে হবে। রসুলে করিম (স.)-এর হাদিস এবং সাহাবিদের অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে ইমাম আবু হানিফা (র.) এবং অন্যান্য ফেকাহবিদগণ সফরের দূরত্বকে তিন মনজিল বলে মত প্রকাশ করেন। অর্থাৎ একজন লোক স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে তিন দিনে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে ততটুকু দূরত্বকে বোঝায়। পরবর্তীকালের ফেকাহবিদগণ এ দূরত্বকে আটচল্লিশ মাইল সাব্যস্ত করেন। মহানবী (স.)-এর হাদিস মতে সফরের সময়সীমা বলতে সফরকালীন সময় এবং মধ্যবর্তী যাত্রাবিরতির মেয়াদ ঊর্ধ্বপক্ষে পনের দিনের কম সময়কে বোঝায়। কেউ যদি সফরের মধ্যেই কোথাও পনের দিন অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন সেটা আর সফরের মধ্যে বিবেচিত হবে না। ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক সচিব  ও এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান ।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বন্যা কবলিতদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যা নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি : এনামুল হক শামীম

» শিবগঞ্জ সমাজ সেবা অফিসে বিদায়ী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

» রূপসায় ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

» ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারার আশঙ্কায় সংবাদ সম্মেলন চেয়ারম্যান প্রার্থী জিল্লুরের

» তাহিরপুরে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে উচু-নীচু ৮২ জোড়া ব্রেঞ্চ বিতরণ

» ” আমার নাম মানুষ “

» ফুলপুর পৌরসভায় ৯দিন যাবৎ সকল কার্যক্রম বন্ধ, দূর্ভোগে পৌরবাসী

» বাড্ডায় রেনুকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে তিতুমীরে মানববন্ধন

» আদালতে মিন্নির দু’টিআবেদন নামঞ্জুর

» জাতির বিবেকের কাছে নুজহাত চৌধুরীর প্রশ্ন

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

অসুস্থ এবং সফররত ব্যক্তিদের রোজা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ:অসুস্থ এবং সফররত ব্যক্তিদের রোজা পালন প্রসঙ্গে আল কোরআনে বলা হয়েছে- ‘(তাও আবার সারা বছরের জন্য নয়, রোজা ফরজ করা হয়েছে) হাতে গোনা কয়েক দিনের জন্য। (তার পরেও তোমাদের) কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় কিংবা কেউ যদি সফরে থাকে সে ব্যক্তি সমপরিমাণ দিনের রোজা (সুস্থ হয়ে গেলে অথবা সফর থেকে ফিরে এলে) পরে আদায় করে নেবে। এর পরও যাদের জন্য রোজা রাখা একান্ত কষ্টকর ব্যাপার বলে মনে হবে তারা  এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সঙ্গে সৎকর্ম করে তার জন্য তা কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার’। (সূরা বাকারা আয়াত-১৮৪)। অসুস্থতার কারণে কিংবা ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা পালন করা কষ্টদায়ক হলে সে ক্ষেত্রে অন্য সময়ে অনুরূপ সংখ্যক (অর্থাৎ যে কটি রোজা পালন করা সম্ভব হয়নি) রোজা অবশ্যই পালন করার কথা বলা হয়েছে। সে রোজা পালনও সম্ভব না হলে ফিদায়া হিসেবে গরিব মিসকিনকে খাদ্যদানের মাধ্যমে তা পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্ভব হলে (অর্থাৎ কষ্টদায়ক না হলে) রোজা পালন করা ‘বিশেষ কল্যাণকর’ হবে বলে আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে লক্ষণীয়। রোজার ব্যাপারে ইসলামের প্রধানতম সংস্কার হলো এর বাস্তবিকতা এবং ধারণাগত পরিবর্তন। অসুস্থতা কিংবা সফরের কারণে শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, শ্রান্তি ও অবসাদে রোজাদার যাতে সর্বপ্রকার হুকুম আহকাম পালন করে যথার্থভাবে ইবাদত করতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সে জন্য অসুস্থতা ও সফরকালে রোজা পালন থেকে অব্যাহতির বিধান দেওয়া হয়েছে। বস্তত রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার যাতে সজীবতা, হৃদয়ের পবিত্রতা এবং চিন্তাধারার বিশুদ্ধতা অর্জনসহ রুহানি তৃপ্তি, নতুন উদ্যম ও প্রেরণা লাভ করে সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। অসুস্থ ব্যক্তি বলতে তাফসিরে মারেফুল কোরআনে বলা হয়েছে- রোজা রাখতে যার কঠিন কষ্ট হয় অথবা রোগ মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাফসিরে ফি জিলালিল কোরআনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে যে, কোনো বিশেষ রোগব্যাধির উল্লেখ করে অসুস্থ ব্যক্তির রোজা কাজা করার নির্দেশের পরিধিকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়নি। যে কোনো রোগ- যাতে রোজা রাখা তার জন্য দুরূহ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রের জন্য এই অনুমতি। প্রকৃত প্রস্তাবে অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখার কারণে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর আশঙ্কা বোধ করে তবে এ অবস্থায় রোজা রাখবে না। সুস্থ হওয়ার পর কাজা করবে। শুধু মনের ধারণায় অসুস্থতার অজুহাতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকা দুরস্ত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অথবা নিজের পূর্বঅভিজ্ঞতা কিংবা কোনো লক্ষণ দ্বারা প্রবল ধারণা জন্মে যে, রোজা রাখলে ক্ষতি হবে তখন রোজা রাখা ত্যাগ করা যাবে।

‘সফররত ব্যক্তি’ বলতে কোরআনের তাফসিরকারক এবং শরিয়তের পরিভাষাবিদগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে, ওই ব্যক্তি- যিনি সফরে আছেন। বাড়িঘর হতে বের হয়ে কোথাও যাওয়া নয়, সফর দীর্ঘ হতে হবে। রসুলে করিম (স.)-এর হাদিস এবং সাহাবিদের অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে ইমাম আবু হানিফা (র.) এবং অন্যান্য ফেকাহবিদগণ সফরের দূরত্বকে তিন মনজিল বলে মত প্রকাশ করেন। অর্থাৎ একজন লোক স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে তিন দিনে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে ততটুকু দূরত্বকে বোঝায়। পরবর্তীকালের ফেকাহবিদগণ এ দূরত্বকে আটচল্লিশ মাইল সাব্যস্ত করেন। মহানবী (স.)-এর হাদিস মতে সফরের সময়সীমা বলতে সফরকালীন সময় এবং মধ্যবর্তী যাত্রাবিরতির মেয়াদ ঊর্ধ্বপক্ষে পনের দিনের কম সময়কে বোঝায়। কেউ যদি সফরের মধ্যেই কোথাও পনের দিন অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন সেটা আর সফরের মধ্যে বিবেচিত হবে না। ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক সচিব  ও এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান ।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com