অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ‘ডিভাইস ও সামর্থ্য’ সংকট

কোভিড-১৯ তথা করোনা মহামারীকালে পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না শিক্ষার্থীদের অনেকেই। তাদের কিংবা পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেট ডাটা কেনার সামর্থ না থাকায় শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইন ক্লাসে আনা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় দূরশিক্ষণে শিক্ষালাভের সুযোগ বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায়ও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুশাদ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনের মতো তার বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রুশাদ পাড়ি জমান গ্রামে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান ও পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে অনলাইনে। কিন্তু রুশাদের কাছে সাধারণ মানের একটি স্মার্টফোন থাকায় গ্রামের দূর্বল ইন্টারনেটের সঙ্গে ফোনটি নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। ল্যাপটপ হলে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য সুবিধা হতো তার।

করোনাকালে রুশাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীই বিপাকে পড়েছেন। ডিভাইস সংকট এবং দূর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে পিছিয়ে আছেন আপৎকালীন অনলাইন ক্লাস এবং অনলাইন পরীক্ষায়। সাধারণ মানের একটি স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইন ক্লাশে অংশ নেয়া গেলো পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। এজন্য প্রয়োজন ল্যাপটপ। দেশের অনেক শিক্ষার্থীদের হাতেই ল্যাপটপ নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়মান আরিফ বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য স্মার্টফোনই যথেষ্ট। ভালোমানের স্মার্টফোন হলে ভালো হয়। কিন্তু ল্যাপটপ চাই-ই চাই। আমার ল্যাপটপ নেই। এতদিন প্রয়োজনও পড়েনি। ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, পরীক্ষায় অংশ নেওয়াসহ যাবতীয় কাজ এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারে ল্যাবে করেছি। কিন্তু করোনাকালে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজন পড়েছে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের। কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে কিনতে পারিনি।’

বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা স্তরে চার কোটি পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে সরকারের।

তবে করোনাকালীণ এই টানা ছুটির মধ্যে পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ক্লাস সংসদ টিভিতে দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেসব ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস সব শিক্ষার্থীর হাতে নেই। আবার সরকারিভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনের লাইভ বা সরাসরি ক্লাসের যে আয়োজন, সবার ঘরে টেলিভিশন না থাকা এবং ঘনঘন লোড শেডিংয়ের দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার মিম জানান, স্কুল বন্ধের কিছু দিন পর টেলিভিশনে ক্লাস শুরু হলেও তিনি সেখবর জানতেন না। এক প্রতিবেশির মাধ্যমে জানতে পেরে নিয়মিত ক্লাসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও বিদ্যুতের কারণে অনেক সময় তাও সম্ভব হয় না।

খোদ শহরের শিক্ষার্থীদের যখন এই অবস্থা তখন গ্রামের চিত্র আরো করুন। কেননা গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন তো দূরে থাক সাধারণ ফোনও নেই। অভিভাবকদের কম বেশি সবার হাতেই ফিচার ফোন থাকলেও স্মার্টফোনের সংখ্যা নগন্য।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাসের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার মোল্লার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সরদার মো. জসীম উদ্দিন।

ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘স্কুল বন্ধ দেওয়ার কিছু দিন পরেই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাস করাচ্ছি। তবে আমার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই স্মার্টফোন নেই। গ্রামের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন থাকারও কথা না। কিন্তু করোনাকালে এই যন্ত্রটিও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের প্রয়োজনীয় উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অভিভাবকদের স্মার্টফোনে কেউ কেউ ক্লাস করলেও অনেকেই তাও করতে পারছে না।’

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) কোর্স সমন্বয়ক নাসিমূল আহসান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনলাইন পাঠদান এখন বেশ জনপ্রিয়। করোনার কারণে বাংলাদেশেও এই ধরনের কোর্সের ব্যাপকতা বেড়েছে। এজন্য ইলেকট্রোনিক্স ডিভাইস যেমন কম্পিউটার, স্মার্টফোন প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। আর অনলাইন কোর্সগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যেন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে একজন শিক্ষার্থী স্মার্টফোনের মাধ্যমে অংশ নিতে পারেন।’

ঢাকার কম্পিউটার ও মোবাইলফোনের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এন্ট্রি লেভেল, মিডরেঞ্জ এবং ফ্লাগশিপ এই তিন ধরনের স্মার্টফোন বাজারে রয়েছে। এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনের দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে শুরু। মিড রেঞ্জের ফোনের দাম ১২ থেকে ১৫ হাজার দিয়ে শুরু। আর ফ্লাগশিপ ফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু।

একইভাবে ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের দামও নির্ধারিত নেই। শিক্ষার্থীদের কাজ চলে এমন একটি ল্যাপটপের দাম এখন কমছে কম ২৫ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকায় মোটামুটি মানের ডেস্কটপ পাওয়া যায়। চীনে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব শুরু হলে ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। যার প্রভাব পড়ে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের বাজারে। তাই এখন এসব যন্ত্রের দাম বাড়তির দিকে।

এদিকে আশার খবর হচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন, ট্যাব, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি দেশি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়েছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি বিনাসুদে কিস্তিতে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার সুযোগ দিচ্ছে।

ওয়ালটন কম্পিউটার বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী লিয়াকত আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ল্যাপটপ-কম্পিউটার কিংবা মোবাইলফোন বর্তমানের অন্যতম ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। তবে অনেক শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের একবারে এসব ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ কেনার সামর্থ নেই। তাই ওয়ালটন বিশেষ সুবিধায় নগদ মূল্যে এবং বিনা সুদে সহজ কিস্তিতে ল্যাপটপ দিচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিও করা হচ্ছে।  সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কামাল থাকলে সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো: প্রধানমন্ত্রী

» শেখ কামালের জন্মদিনে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা

» রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা আদালতে সাহেদ করিম

» সিনহা হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ পার পাবে না: ওবায়দুল কাদের

» চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত নই -তাসনিয়া ফারিন

» জরিমানা হতে পারে টুইটারের

» কাশি কখন দুশ্চিন্তার কারণ?

» সাবরিনা-আরিফসহ আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে ডিবি

» নওগাঁয় রিকশা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

» ঝড়বৃষ্টি হতে পারে আজও

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ‘ডিভাইস ও সামর্থ্য’ সংকট

কোভিড-১৯ তথা করোনা মহামারীকালে পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না শিক্ষার্থীদের অনেকেই। তাদের কিংবা পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ইন্টারনেট ডাটা কেনার সামর্থ না থাকায় শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইন ক্লাসে আনা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় দূরশিক্ষণে শিক্ষালাভের সুযোগ বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীরা পড়াশুনায়ও পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুশাদ। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনের মতো তার বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রুশাদ পাড়ি জমান গ্রামে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান ও পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে অনলাইনে। কিন্তু রুশাদের কাছে সাধারণ মানের একটি স্মার্টফোন থাকায় গ্রামের দূর্বল ইন্টারনেটের সঙ্গে ফোনটি নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। ল্যাপটপ হলে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য সুবিধা হতো তার।

করোনাকালে রুশাদের মতো অনেক শিক্ষার্থীই বিপাকে পড়েছেন। ডিভাইস সংকট এবং দূর্বল ইন্টারনেট সংযোগের কারণে পিছিয়ে আছেন আপৎকালীন অনলাইন ক্লাস এবং অনলাইন পরীক্ষায়। সাধারণ মানের একটি স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইন ক্লাশে অংশ নেয়া গেলো পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। এজন্য প্রয়োজন ল্যাপটপ। দেশের অনেক শিক্ষার্থীদের হাতেই ল্যাপটপ নেই।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়মান আরিফ বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য স্মার্টফোনই যথেষ্ট। ভালোমানের স্মার্টফোন হলে ভালো হয়। কিন্তু ল্যাপটপ চাই-ই চাই। আমার ল্যাপটপ নেই। এতদিন প্রয়োজনও পড়েনি। ক্লাসের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, পরীক্ষায় অংশ নেওয়াসহ যাবতীয় কাজ এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারে ল্যাবে করেছি। কিন্তু করোনাকালে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজন পড়েছে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারের। কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে কিনতে পারিনি।’

বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা স্তরে চার কোটি পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা আছে সরকারের।

তবে করোনাকালীণ এই টানা ছুটির মধ্যে পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ক্লাস সংসদ টিভিতে দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেসব ক্লাসে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস সব শিক্ষার্থীর হাতে নেই। আবার সরকারিভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিভিশনের লাইভ বা সরাসরি ক্লাসের যে আয়োজন, সবার ঘরে টেলিভিশন না থাকা এবং ঘনঘন লোড শেডিংয়ের দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকার শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার মিম জানান, স্কুল বন্ধের কিছু দিন পর টেলিভিশনে ক্লাস শুরু হলেও তিনি সেখবর জানতেন না। এক প্রতিবেশির মাধ্যমে জানতে পেরে নিয়মিত ক্লাসে যোগ দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও বিদ্যুতের কারণে অনেক সময় তাও সম্ভব হয় না।

খোদ শহরের শিক্ষার্থীদের যখন এই অবস্থা তখন গ্রামের চিত্র আরো করুন। কেননা গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন তো দূরে থাক সাধারণ ফোনও নেই। অভিভাবকদের কম বেশি সবার হাতেই ফিচার ফোন থাকলেও স্মার্টফোনের সংখ্যা নগন্য।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাসের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার মোল্লার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সরদার মো. জসীম উদ্দিন।

ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘স্কুল বন্ধ দেওয়ার কিছু দিন পরেই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাস করাচ্ছি। তবে আমার শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই স্মার্টফোন নেই। গ্রামের হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন থাকারও কথা না। কিন্তু করোনাকালে এই যন্ত্রটিও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের প্রয়োজনীয় উপকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অভিভাবকদের স্মার্টফোনে কেউ কেউ ক্লাস করলেও অনেকেই তাও করতে পারছে না।’

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) কোর্স সমন্বয়ক নাসিমূল আহসান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনলাইন পাঠদান এখন বেশ জনপ্রিয়। করোনার কারণে বাংলাদেশেও এই ধরনের কোর্সের ব্যাপকতা বেড়েছে। এজন্য ইলেকট্রোনিক্স ডিভাইস যেমন কম্পিউটার, স্মার্টফোন প্রয়োজন। এর পাশাপাশি দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। আর অনলাইন কোর্সগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যেন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসে একজন শিক্ষার্থী স্মার্টফোনের মাধ্যমে অংশ নিতে পারেন।’

ঢাকার কম্পিউটার ও মোবাইলফোনের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এন্ট্রি লেভেল, মিডরেঞ্জ এবং ফ্লাগশিপ এই তিন ধরনের স্মার্টফোন বাজারে রয়েছে। এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনের দাম ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা দিয়ে শুরু। মিড রেঞ্জের ফোনের দাম ১২ থেকে ১৫ হাজার দিয়ে শুরু। আর ফ্লাগশিপ ফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু।

একইভাবে ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের দামও নির্ধারিত নেই। শিক্ষার্থীদের কাজ চলে এমন একটি ল্যাপটপের দাম এখন কমছে কম ২৫ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকায় মোটামুটি মানের ডেস্কটপ পাওয়া যায়। চীনে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব শুরু হলে ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। যার প্রভাব পড়ে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের বাজারে। তাই এখন এসব যন্ত্রের দাম বাড়তির দিকে।

এদিকে আশার খবর হচ্ছে শিক্ষার্থীদের হাতে স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন, ট্যাব, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তুলে দেওয়ার জন্য কয়েকটি দেশি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়েছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটি বিনাসুদে কিস্তিতে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার সুযোগ দিচ্ছে।

ওয়ালটন কম্পিউটার বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী লিয়াকত আলী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ল্যাপটপ-কম্পিউটার কিংবা মোবাইলফোন বর্তমানের অন্যতম ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। তবে অনেক শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের একবারে এসব ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ কেনার সামর্থ নেই। তাই ওয়ালটন বিশেষ সুবিধায় নগদ মূল্যে এবং বিনা সুদে সহজ কিস্তিতে ল্যাপটপ দিচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিও করা হচ্ছে।  সূএ:ঢাকাটাইমস

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com