১২০ নটআউট

ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এমন খবর আসার দিনেই এক লাফে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গত কয়েক দিন ধরে চড়তে থাকা পিয়াজের দাম রোববারই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। গতকাল তা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। দিনের শেষে দাম বাড়ার প্রবণতাই দেখা গেছে বাজারে । ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে আরও বাড়বে। কেন এই দাম বাড়া এ প্রশ্নের কোন উত্তর মিলছে না। গত দুই দিনে বাড়তি দামে কেনা কোন পিয়াজ দেশে প্রবেশ করেনি। তারপরও কেন দাম বাড়ানো হয়েছে এর কোন উত্তর নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ইচ্ছা করে মানুষের পকেট কেটে নিচ্ছেন।
অবিশ্বাস্যভাবে পিয়াজের দাম বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোগান্তিও বেড়েছে। এর আগে সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিয়াজের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও ১২ দিনেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। মিয়ানমার থেকে আমদানি, খোলা বাজারে টিসিবির বিক্রি শুরুর পরও পিয়াজের দাম চড়া। কাওরানবাজার, মতিঝিল ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার এবং মহল্লার দোকানগুলো ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের বাড়তি দামের পিয়াজ বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেনি। অথচ দেশের বাজারে দাম বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়েছে। তাদের মতে, ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। সে হিসেবে এক মাসে চাহিদা ২ লাখ টন। এর মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে, তা হলে একদিনেই কোটি কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কেটে নিচ্ছে বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরেই আমদানিকারকরা তাদের দাম বাড়াতে বলেন।
জানা গেছে, পিয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত, রোববার এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পিয়াজের দাম। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দুপুরের পর থেকে পিয়াজ বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন আড়তে প্রতি কেজি পিয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকালের পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ফলে মাত্র চার ঘন্টার ব্যবধানে আড়তে কেজি প্রতি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেশি পিয়াজ বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। আর খুচরা বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের চেয়ে বাজারে পিয়াজের বিক্রেতা অনেক কম। অন্যদিকে ক্রেতারা সংখ্যায় অনেক বেশি। খুচরা বাজারে রোববার যে দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা সোমবার তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

কাওরান বাজারে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পিয়াজ ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক কেজি কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়। ভারতীয় পিয়াজ ও অনেকটা দেশি পিয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমারের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক পাল্লা ৪৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরো কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পিয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দেশি আর ভারতীয় পিয়াজের দামের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব পিয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

পিয়াজের লাগামহীন দাম জনজীবনে অস্থিরতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে পিয়াজের বাজারে আগুন। আর বাজারে দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায়ও এখন শীর্ষে রয়েছে পণ্যটি। কোরবানির ঈদের পর থেকে কয়েক ধাপে পিয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের চোখে-মুখে ছিল অসন্তুষ্টির ছাপ।
পিয়াজ কিনতে আসা সুমাইয়া নামে এক ক্রেতা জানালেন, দাম আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সকাল সকাল পিয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি। পাঁচ কেজি পিয়াজ কিনেছেন ৫২০ টাকা দিয়ে।

মগবাজারের বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, গতকাল সকালে খুচরা বাজার থেকে ১১০ টাকা কেজিতে পিয়াজ কিনেছেন তিনি। কোনো কোনো বিক্রেতা ১২০ টাকা কেজিও চাইছিলেন। আরেক বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, ১২০ টাকার কেজির নিচে কোনো ধরনের পিয়াজই পাননি তিনি।
এদিকে, গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই, যথেষ্ট পিয়াজ মজুদ আছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের কাছে যথেষ্ট পিয়াজ মজুদ আছে। আজ মঙ্গলবার থেকে টিসিবি’র মাধ্যমে ৩৫টি ট্রাকে পিয়াজ বিক্রি শুরু হবে। মিয়ানমার থেকে দুইটি জাহাজ নৌবন্দরে এসেছে। একটির পণ্য খালাস হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরজমিন দেখা গেছে, রোববার রাত পর্যন্ত মহল্লার দোকানগুলোতে এবং বিভিন্ন খুচরা বাজারে পিয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এলাকাভেদে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর সেগুনবাজার পিয়াজ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতি কেজি ভারতীয় পিয়াজ ৫৫ টাকা, মিয়ানমারের পিয়াজ ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় এবং দেশি পিয়াজ ৫৭ থেকে ৬২ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু দুপুর একটার পর আমদানিকারকরা আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন, ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকার নিচে বিক্রি করবেন না। কারণ ভারত সরকার পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। বর্তমানে ভারতের কলকাতাতেই প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ রুপি। কিন্তু তখনো দেশি পিয়াজ ব্যবসায়ীরা এই খবর পাননি। তিনি বলেন, আমদানিকারকদের নির্দেশে আমরা রোববার দুপুরের পর পিয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেই। পরে বিকালে তারা আবার আমাদের ফোনে করে বলে দেয় ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৮০ টাকা বিক্রি করতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে আমরা প্রতি কেজি পিয়াজ প্রকারভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বাজারে তা আরো বাড়বে।
পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পিয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও আলহাজ ভান্ডারের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারত পিয়াজের রপ্তানি মূ্‌ল্য তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে ৩৫-৪০ টাকা কেজি পিয়াজ দাম বেড়ে ৬০-৬৫ টাকায় ওঠে। এতদিন এ দরেই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছিল। রোববার সকালেও ওই দামে পিয়াজ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বিকালে যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর আসল ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে, তারপর থেকেই দাম বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, আমদানি করা পিয়াজ (ভারত) পাইকারি বিক্রি করছি ৭৭-৮২ টাকা, বার্মা পিয়াজ ৭৫-৭৭ টাকা। আর দেশি পিয়াজ বিক্রি করছি ৮০-৮৫ টাকা। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম ২০-২৫ টাকা বেড়েছে বলে স্বীকার করেন এই পাইকারি ব্যবসায়ী।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, ভারত সরকারের পিয়াজের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এরইমধ্যে মিয়ানমার থেকে দুটি জাহাজ পিয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে পিয়াজ খালাস শুরু হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই তা খুচরা বাজারে পাওয়া যাবে। এছাড়া, তুরস্ক ও মিশর থেকে আমদানি করা পিয়াজ পাইপলাইনে রয়েছে।

বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে: সচিব বলেন, আমরা পিয়াজের চাহিদা মেটাতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি‘র মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হবে। মূল্য নিয়ন্ত্রক এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।
৪৫ টাকা কেজিতে পিয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি: সারাদেশে পিয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর ঢাকার ৩৫টি পয়েন্টে থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পিয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোতে একই দামে পণ্যটি বিক্রি করছে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি। টিসিবি নির্ধারিত স্থানগুলোতে ট্রাক থেকে জনসাধারণ কেজিপ্রতি পিয়াজ ৪৫ টাকায়, চিনি (ফ্রেশ) ৫০ টাকায়, মশুর ডাল ৫০ টাকায় ও লিটারপ্রতি সয়াবিন তেল (তীর) ৮৫ টাকায় কিনতে পারবেন। টিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই কেজি পিয়াজ, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি ডাল ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।
এদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হিলিতে পিয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। স্থলবন্দরে পিয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা জানান, ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবরে আমদানিকারকরা ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে পিয়াজের দাম চাইছেন। কিন্তু সেই দামে পিয়াজ কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা পিয়াজ কেনার সাহস পাচ্ছেন না।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ জানান, রোববার বিকাল থেকে রপ্তানি বন্ধ হলেও, গত ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পিয়াজ রপ্তানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে তা রপ্তানি করা হবে। কিন্তু এখন থেকে নতুন কোনো এলসি গ্রহণসহ পিয়াজ রপ্তানি করা হবে না।
এদিকে, ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। চাহিদার বিপরীতে দেশের উৎপাদন হয় ১২-১৩ লাখ টন। বাকি ১০-১১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে ভারত থেকে।
বিভিন্ন সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় চলতি বছরে মৌসুমি পিয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি পিয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
পিয়াজ কিনতে আসা কবির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিন আগে ঘোষণা দিল আর পরের দিনেই ৩০ টাকা দাম বেড়ে গেল? একদিনে এত কেন বাড়ল? সরকার কেন এটির তদারকি করে না? তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে খরচ বাড়ে আমাদের। কিন্তু আমাদের তো বাড়তি আয় নেই। তাই পণ্যের দাম বাড়লে বিপাকে পড়ি আমরা সাধারণ ভোক্তারা। আমাদের দেখারও কেউ নেই।মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তোফায়েল ভাই অভিবাদন

» পেয়ারার যত গুণ

» মৃত্যুর জন্য যে শহরে যান মানুষ!

» মজাদার বাদাম মাটন কোরমা রেসিপি

» যেভাবে চিনবেন পদ্মার ইলিশ

» ইমামের পেছনে সুরা ফাতেহা পড়লে কি গুনাহ হবে?

» ‘আধ্যাত্মিক গুরুর’ ছেলের অফিসে ২০ কোটি ডলার, ৯০ কেজি সোনা!

» সংবাদ সম্মেলনে না থাকার কারণ জানালেন মাশরাফি

» বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট দেখতে কলকাতা যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

» নারী ও শিশু নির্যাতনের গল্পে তানহা তাসনিয়া

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

১২০ নটআউট

ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এমন খবর আসার দিনেই এক লাফে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গত কয়েক দিন ধরে চড়তে থাকা পিয়াজের দাম রোববারই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। গতকাল তা বেড়ে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। দিনের শেষে দাম বাড়ার প্রবণতাই দেখা গেছে বাজারে । ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে আরও বাড়বে। কেন এই দাম বাড়া এ প্রশ্নের কোন উত্তর মিলছে না। গত দুই দিনে বাড়তি দামে কেনা কোন পিয়াজ দেশে প্রবেশ করেনি। তারপরও কেন দাম বাড়ানো হয়েছে এর কোন উত্তর নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ইচ্ছা করে মানুষের পকেট কেটে নিচ্ছেন।
অবিশ্বাস্যভাবে পিয়াজের দাম বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোগান্তিও বেড়েছে। এর আগে সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিয়াজের দাম কমানোর ঘোষণা দিলেও ১২ দিনেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। মিয়ানমার থেকে আমদানি, খোলা বাজারে টিসিবির বিক্রি শুরুর পরও পিয়াজের দাম চড়া। কাওরানবাজার, মতিঝিল ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার এবং মহল্লার দোকানগুলো ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের বাড়তি দামের পিয়াজ বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেনি। অথচ দেশের বাজারে দাম বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়েছে। তাদের মতে, ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। সে হিসেবে এক মাসে চাহিদা ২ লাখ টন। এর মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে, তা হলে একদিনেই কোটি কোটি টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কেটে নিচ্ছে বলে মনে করেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরেই আমদানিকারকরা তাদের দাম বাড়াতে বলেন।
জানা গেছে, পিয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত, রোববার এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পিয়াজের দাম। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দুপুরের পর থেকে পিয়াজ বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন আড়তে প্রতি কেজি পিয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হলেও বিকালের পর থেকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ফলে মাত্র চার ঘন্টার ব্যবধানে আড়তে কেজি প্রতি পিয়াজের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে দেশি পিয়াজ বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। আর খুচরা বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের চেয়ে বাজারে পিয়াজের বিক্রেতা অনেক কম। অন্যদিকে ক্রেতারা সংখ্যায় অনেক বেশি। খুচরা বাজারে রোববার যে দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা সোমবার তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

কাওরান বাজারে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পিয়াজ ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক কেজি কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়। ভারতীয় পিয়াজ ও অনেকটা দেশি পিয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমারের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে এক পাল্লা ৪৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরো কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে, ভারত ও মিয়ানমার থেকে আসা পিয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে দেশি আর ভারতীয় পিয়াজের দামের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব পিয়াজই এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

পিয়াজের লাগামহীন দাম জনজীবনে অস্থিরতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে পিয়াজের বাজারে আগুন। আর বাজারে দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায়ও এখন শীর্ষে রয়েছে পণ্যটি। কোরবানির ঈদের পর থেকে কয়েক ধাপে পিয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের চোখে-মুখে ছিল অসন্তুষ্টির ছাপ।
পিয়াজ কিনতে আসা সুমাইয়া নামে এক ক্রেতা জানালেন, দাম আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সকাল সকাল পিয়াজ কিনতে এসেছেন তিনি। পাঁচ কেজি পিয়াজ কিনেছেন ৫২০ টাকা দিয়ে।

মগবাজারের বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, গতকাল সকালে খুচরা বাজার থেকে ১১০ টাকা কেজিতে পিয়াজ কিনেছেন তিনি। কোনো কোনো বিক্রেতা ১২০ টাকা কেজিও চাইছিলেন। আরেক বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, ১২০ টাকার কেজির নিচে কোনো ধরনের পিয়াজই পাননি তিনি।
এদিকে, গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই, যথেষ্ট পিয়াজ মজুদ আছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের কাছে যথেষ্ট পিয়াজ মজুদ আছে। আজ মঙ্গলবার থেকে টিসিবি’র মাধ্যমে ৩৫টি ট্রাকে পিয়াজ বিক্রি শুরু হবে। মিয়ানমার থেকে দুইটি জাহাজ নৌবন্দরে এসেছে। একটির পণ্য খালাস হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরজমিন দেখা গেছে, রোববার রাত পর্যন্ত মহল্লার দোকানগুলোতে এবং বিভিন্ন খুচরা বাজারে পিয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এলাকাভেদে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর সেগুনবাজার পিয়াজ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রতি কেজি ভারতীয় পিয়াজ ৫৫ টাকা, মিয়ানমারের পিয়াজ ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় এবং দেশি পিয়াজ ৫৭ থেকে ৬২ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু দুপুর একটার পর আমদানিকারকরা আমাদের ফোন করে জানিয়েছেন, ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকার নিচে বিক্রি করবেন না। কারণ ভারত সরকার পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে। বর্তমানে ভারতের কলকাতাতেই প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ রুপি। কিন্তু তখনো দেশি পিয়াজ ব্যবসায়ীরা এই খবর পাননি। তিনি বলেন, আমদানিকারকদের নির্দেশে আমরা রোববার দুপুরের পর পিয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেই। পরে বিকালে তারা আবার আমাদের ফোনে করে বলে দেয় ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৭৫ টাকা এবং দেশি পিয়াজ ৮০ টাকা বিক্রি করতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যা থেকে আমরা প্রতি কেজি পিয়াজ প্রকারভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বাজারে তা আরো বাড়বে।
পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পিয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী সমিতির নেতা ও আলহাজ ভান্ডারের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারত পিয়াজের রপ্তানি মূ্‌ল্য তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে ৩৫-৪০ টাকা কেজি পিয়াজ দাম বেড়ে ৬০-৬৫ টাকায় ওঠে। এতদিন এ দরেই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছিল। রোববার সকালেও ওই দামে পিয়াজ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বিকালে যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর আসল ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে, তারপর থেকেই দাম বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, আমদানি করা পিয়াজ (ভারত) পাইকারি বিক্রি করছি ৭৭-৮২ টাকা, বার্মা পিয়াজ ৭৫-৭৭ টাকা। আর দেশি পিয়াজ বিক্রি করছি ৮০-৮৫ টাকা। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম ২০-২৫ টাকা বেড়েছে বলে স্বীকার করেন এই পাইকারি ব্যবসায়ী।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, ভারত সরকারের পিয়াজের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পিয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এরইমধ্যে মিয়ানমার থেকে দুটি জাহাজ পিয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌছেছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে পিয়াজ খালাস শুরু হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই তা খুচরা বাজারে পাওয়া যাবে। এছাড়া, তুরস্ক ও মিশর থেকে আমদানি করা পিয়াজ পাইপলাইনে রয়েছে।

বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে: সচিব বলেন, আমরা পিয়াজের চাহিদা মেটাতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে টিসিবি‘র মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হবে। মূল্য নিয়ন্ত্রক এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।
৪৫ টাকা কেজিতে পিয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি: সারাদেশে পিয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর ঢাকার ৩৫টি পয়েন্টে থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে পিয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহরগুলোতে একই দামে পণ্যটি বিক্রি করছে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি। টিসিবি নির্ধারিত স্থানগুলোতে ট্রাক থেকে জনসাধারণ কেজিপ্রতি পিয়াজ ৪৫ টাকায়, চিনি (ফ্রেশ) ৫০ টাকায়, মশুর ডাল ৫০ টাকায় ও লিটারপ্রতি সয়াবিন তেল (তীর) ৮৫ টাকায় কিনতে পারবেন। টিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই কেজি পিয়াজ, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি ডাল ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।
এদিকে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হিলিতে পিয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। স্থলবন্দরে পিয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা জানান, ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের খবরে আমদানিকারকরা ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে পিয়াজের দাম চাইছেন। কিন্তু সেই দামে পিয়াজ কিনলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা পিয়াজ কেনার সাহস পাচ্ছেন না।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ জানান, রোববার বিকাল থেকে রপ্তানি বন্ধ হলেও, গত ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পিয়াজ রপ্তানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে তা রপ্তানি করা হবে। কিন্তু এখন থেকে নতুন কোনো এলসি গ্রহণসহ পিয়াজ রপ্তানি করা হবে না।
এদিকে, ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে দেশে পিয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। চাহিদার বিপরীতে দেশের উৎপাদন হয় ১২-১৩ লাখ টন। বাকি ১০-১১ লাখ টন পিয়াজ আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে ভারত থেকে।
বিভিন্ন সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় চলতি বছরে মৌসুমি পিয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি পিয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
পিয়াজ কিনতে আসা কবির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিন আগে ঘোষণা দিল আর পরের দিনেই ৩০ টাকা দাম বেড়ে গেল? একদিনে এত কেন বাড়ল? সরকার কেন এটির তদারকি করে না? তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে খরচ বাড়ে আমাদের। কিন্তু আমাদের তো বাড়তি আয় নেই। তাই পণ্যের দাম বাড়লে বিপাকে পড়ি আমরা সাধারণ ভোক্তারা। আমাদের দেখারও কেউ নেই।মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com