সিলেটে হালিমার কবল থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো তরুণী বিউটি

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন তরুণী বিউটি আক্তার। বাড়ি থেকে রাগ করে সিলেটে আসেন তিনি। মাজারে এসেই পড়েন মানব পাচার সিন্ডিকেট হালিমা বেগমের কবলে। ওখান থেকে হালিমা বেগম তাকে নিয়ে যায় উপশহরের বাসায়। সেখানে চার দিন বন্দি রেখে সিন্ডিকেটের হাতে বিক্রি করে দেয় বিউটিকে। শুক্রবার বিকালে যখন জোরপূর্বক মানব পাচার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছিল তখন চিৎকার শুরু করে বিউটি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সুবাহনীঘাট ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় হালিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন- মধ্য বয়সী নারী হালিমা বেগমের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারপাড়া। তার স্বামী শাহজাহান মিয়া। বাড়ি কুমারপাড়ায় হলেও হালিমা বেগম বাসা নিয়ে নগরীর উপশহরের এইচ ব্লকের-১১১নং বাসায় বসবাস করতেন। আর তরুণী বিউটি আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের খুলশি থানার ঝাউতলা গ্রামে।

তার পিতা মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া। প্রায় ৫ দিন আগে বিউটি আক্তার মায়ের সঙ্গে রাগ করে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে চলে আসে। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর সে ঘোরাঘুরি করছিল। এমন সময় তাকে পায় হালিমা বেগম। তাদের মধ্যে কথা বার্তা হওয়ার পর হালিমা আক্তার তাকে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায় উপশহরের বাসায়। সেখানে ৪ দিন বন্দি রাখে। এর ফাঁকে মানব পাচার সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেয় বিউটিকে। শুক্রবার মানব পাচার চক্রের সদস্যের হাতে তুলে দিতে বিউটিকে নিয়ে যায় নগরীর অনুরাগ হোটেলের সামনে। সেখানে একটি মাইক্রোবাসে বিউটিকে জোরপূর্বক তোলে দিতে যাচ্ছিল হালিমা বেগম। ঘটনাটি টের পেয়ে ওখানে চিৎকার শুরু করে বিউটি আক্তার। বাঁচাও-বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা বিউটিকে আটকায়।

মানুষ জড়ো হতে দেখে মানব পাচার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে সুবহানীঘাট ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তারা আটক করে হালিমা বেগমকে। এদিকে- গ্রেপ্তারের পর হালিমা পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিউটিকে বিক্রির কথা জানিয়েছে। তবে- কার কাছে কিংবা কোন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করেছিল সে ব্যাপারে পুলিশের কাছে মুখ খুলেনি। এসআই অনুপ জানিয়েছেন- হালিমা বেগম নিজেও মানব পাচার সিন্ডিকেটের সদস্য। সে এভাবে অসহায় মহিলাদের এনে মানবপাচার সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিত। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। একই সঙ্গে মানব পাচার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে- এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় হালিমা ছাড়াও অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে- উদ্ধার হওয়া তরুণীর মায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। খবর পেয়ে তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুরআন তিলাওয়াতকারীর মা-বাবাকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন

» শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাঞ্জাবের ১৪ রানে জয়

» ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন ৫ মে

» প্রাথমিকের ফল পুনঃনিরীক্ষণ ফেল থেকে পাস ৮ হাজার শিক্ষার্থী

» অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির প্রতিবাদে যাত্রীকে পিটিয়ে জখম

» কক্সবাজারে কোচিং সেন্টারে অমানবিকতার শিকার কিশোর

» হাজীগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

» সমৃদ্ধির পথে দেশ, কমেনি বৈষম্য

» আজ দিনভর ব্যস্ত সময় কাটা‌বেন প্রধানমন্ত্রী

» মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মেয়াদ বাড়লো দুই বছর

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

সিলেটে হালিমার কবল থেকে যেভাবে রক্ষা পেলো তরুণী বিউটি

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে মাজার জিয়ারতে এসেছিলেন তরুণী বিউটি আক্তার। বাড়ি থেকে রাগ করে সিলেটে আসেন তিনি। মাজারে এসেই পড়েন মানব পাচার সিন্ডিকেট হালিমা বেগমের কবলে। ওখান থেকে হালিমা বেগম তাকে নিয়ে যায় উপশহরের বাসায়। সেখানে চার দিন বন্দি রেখে সিন্ডিকেটের হাতে বিক্রি করে দেয় বিউটিকে। শুক্রবার বিকালে যখন জোরপূর্বক মানব পাচার সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছিল তখন চিৎকার শুরু করে বিউটি। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সুবাহনীঘাট ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় হালিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানা পুলিশের এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন- মধ্য বয়সী নারী হালিমা বেগমের বাড়ি সিলেট নগরীর কুমারপাড়া। তার স্বামী শাহজাহান মিয়া। বাড়ি কুমারপাড়ায় হলেও হালিমা বেগম বাসা নিয়ে নগরীর উপশহরের এইচ ব্লকের-১১১নং বাসায় বসবাস করতেন। আর তরুণী বিউটি আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের খুলশি থানার ঝাউতলা গ্রামে।

তার পিতা মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া। প্রায় ৫ দিন আগে বিউটি আক্তার মায়ের সঙ্গে রাগ করে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে চলে আসে। হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর সে ঘোরাঘুরি করছিল। এমন সময় তাকে পায় হালিমা বেগম। তাদের মধ্যে কথা বার্তা হওয়ার পর হালিমা আক্তার তাকে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায় উপশহরের বাসায়। সেখানে ৪ দিন বন্দি রাখে। এর ফাঁকে মানব পাচার সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেয় বিউটিকে। শুক্রবার মানব পাচার চক্রের সদস্যের হাতে তুলে দিতে বিউটিকে নিয়ে যায় নগরীর অনুরাগ হোটেলের সামনে। সেখানে একটি মাইক্রোবাসে বিউটিকে জোরপূর্বক তোলে দিতে যাচ্ছিল হালিমা বেগম। ঘটনাটি টের পেয়ে ওখানে চিৎকার শুরু করে বিউটি আক্তার। বাঁচাও-বাঁচাও বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা বিউটিকে আটকায়।

মানুষ জড়ো হতে দেখে মানব পাচার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে সুবহানীঘাট ফাঁড়ির পুলিশ গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে তারা আটক করে হালিমা বেগমকে। এদিকে- গ্রেপ্তারের পর হালিমা পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিউটিকে বিক্রির কথা জানিয়েছে। তবে- কার কাছে কিংবা কোন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করেছিল সে ব্যাপারে পুলিশের কাছে মুখ খুলেনি। এসআই অনুপ জানিয়েছেন- হালিমা বেগম নিজেও মানব পাচার সিন্ডিকেটের সদস্য। সে এভাবে অসহায় মহিলাদের এনে মানবপাচার সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিত। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। একই সঙ্গে মানব পাচার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে- এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় হালিমা ছাড়াও অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে- উদ্ধার হওয়া তরুণীর মায়ের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। খবর পেয়ে তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মানবজমিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com