‘সাভার হতে পারে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’

একটা সময় নয়নাভিরাম সবুজে ঘেরা ছিলো রাজধানী ঢাকার নিকতম উপজেলা সাভার। কিন্তু ধীরে ধীরে ঢাকা মানুষে সয়লাব হলে শিল্পাঞ্চলগুলো বের করে দেওয়া হয় ঢাকা সিটি থেকে। সেই সুবাদে সাভার হয়ে ওঠে অনেকটা বিষাক্ত নগরী। এখন এই ছোট্ট শহরে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস।

ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন এখানে। যার মধ্যে ১০ লাখের মতো সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত। আর বাকীরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতসহ নানা পেশায় জড়িত।

তবে, নানা পেশায় জড়িত এই বিপুল সংখ্যক ভাসমান জনগণের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই এখনও পূরণ করেনি তাদের ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম।  এতে করে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পরিচয় গোপন করে সহজেই সন্ত্রাসীসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা বসবাসের সুযোগ নিতে পারে বলে শঙ্কা সচেতন মহলের। তাই তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সকল ভাসমান মানুষদের ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ পাড়া মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ভাড়াটিয়ারাই ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে, বাড়ির মালিকরা তাদের ফরম না দেওয়ায় তারা ইচ্ছা থাকা সত্যেও ফরম পূরণ করতে পারছেন না। এসব ভাড়াটিয়াদের দাবি, বাড়ির মালিকেরা তাদের কখনও ফরম দেয়নি বা থানা পুলিশও কখনও তাদের ফরম পূরণ করতে বলেনি। তাই তারা ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করেননি।

ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম নিয়ে কথা হয় আশুলিয়ার জিরানী এলাকার ভাড়াটিয়া মাসুদ আকন্দের সাথে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন, সে বাসার বাড়ির মালিক তাদের কোন ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দেয়নি। তাই তিনিসহ তাদের বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়াও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের আওতায় আসতে পারেনি। তবে পাশের একটি বাসায় তার বন্ধু সাব্বির হোসেনের  বনাত দিয়ে মাসুদ আকন্দ জানান, তার বন্ধুর বাসার বাড়িওয়ালা থানা থেকে ফরম এনে ভাড়াটিয়াদের দিয়েছে। ওই বাসার সকলেই যাবতীয় তথ্য দিয়ে ফরমগুলো পূরণ করে বাড়ির মালিকের কাছে জমাও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাভারের হেমায়েতপুরে বিল্লাল হোসেন নামে এক পোশাক শ্রমিকের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দিচ্ছে না বলেই তিনি, ইচ্ছা থাকা সত্যেও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারছেন না। তবে এই পোশাক শ্রমিকের দাবি, তিনি আগে সাভারের জামসিং মহল্লায় থাকতেন। সেখানে থাকাকালীন সেখানকার বাড়ির মালিক তাকে ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দিয়েছিল। তখন তিনি সেটা পূরণ করে তার কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানের বাড়ির মালিক এখনও ফরম দেয়নি বলে বাসা বদলের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারেননি। এভাবে চলতে থাকলে সাভার হতে পারে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য।

এদিকে, ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরমের গুরুত্বের বিষয়ে কথা হয় সাভারের এএমডি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বুলবুলের সাথে। তিনি জানান, ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমে একজন ব্যক্তিকে তার যাবতীয় তথ্য দিতে হয়। তাই যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তারা বাসা ভাড়া নিতে চাবে না। যখনই সঠিক পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিতে হবে, তখনই একটা অজানা ভয়ে অপরাধীরা বাসা ভাড়া নেওয়া থেকে এড়িয়ে চলবে।

বাড়ির মালিকের জন্যও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম অত্যন্ত জরুরি দাবি করে এই সহযোগী অধ্যাপকের বলেন, ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের কার্যক্রমটি শতভাগ সফল আনতে হলে যে সকল বাড়ির মালিকেরা তাদের ভাড়াটিয়াদের এখনও ফরম দেননি। সেই সব বাড়ির মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলেই কার্যক্রমটি শতভাগ সফলতা পাবে।

ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের কার্যক্রমটি চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান, এই চলমান প্রক্রিয়াটি আরও বেগবান করতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণে বাড়ির মালিকদেরও সহযোগীতা চান পুলিশের এই কর্মকর্তা।  রাইজিংবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিমান ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করা হচ্ছে:প্রধানমন্ত্রী

» ক্যাসিনোকাণ্ডে এবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি

» ভিপি নুরের ফেসবুক আইডি হ্যাক, বিব্রত না হওয়ার অনুরোধ

» সাকিব-তামিমদের মাঠে ফেরাতে মাশরাফির উপর দায়িত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী

» নওগাঁয় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদকবিক্রেতা নিহত

» টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

» গরিবের ডাক্তার খুনের প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

» সরকারি গাড়িবিলাসে ভূমি সচিবের পুরো পরিবার!

» ‘গাছ কেটে ঠিক কাজ করিনি, আমি অনুতপ্ত’

» টাঙ্গাইল শাড়ি নয়, ইয়াবা ব্যবসায় বিলাসবহুল বাড়ি

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

‘সাভার হতে পারে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’

একটা সময় নয়নাভিরাম সবুজে ঘেরা ছিলো রাজধানী ঢাকার নিকতম উপজেলা সাভার। কিন্তু ধীরে ধীরে ঢাকা মানুষে সয়লাব হলে শিল্পাঞ্চলগুলো বের করে দেওয়া হয় ঢাকা সিটি থেকে। সেই সুবাদে সাভার হয়ে ওঠে অনেকটা বিষাক্ত নগরী। এখন এই ছোট্ট শহরে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস।

ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন এখানে। যার মধ্যে ১০ লাখের মতো সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত। আর বাকীরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতসহ নানা পেশায় জড়িত।

তবে, নানা পেশায় জড়িত এই বিপুল সংখ্যক ভাসমান জনগণের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই এখনও পূরণ করেনি তাদের ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম।  এতে করে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পরিচয় গোপন করে সহজেই সন্ত্রাসীসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা বসবাসের সুযোগ নিতে পারে বলে শঙ্কা সচেতন মহলের। তাই তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সকল ভাসমান মানুষদের ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ পাড়া মহল্লা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ভাড়াটিয়ারাই ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম সম্পর্কে অবগত আছেন। তবে, বাড়ির মালিকরা তাদের ফরম না দেওয়ায় তারা ইচ্ছা থাকা সত্যেও ফরম পূরণ করতে পারছেন না। এসব ভাড়াটিয়াদের দাবি, বাড়ির মালিকেরা তাদের কখনও ফরম দেয়নি বা থানা পুলিশও কখনও তাদের ফরম পূরণ করতে বলেনি। তাই তারা ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করেননি।

ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম নিয়ে কথা হয় আশুলিয়ার জিরানী এলাকার ভাড়াটিয়া মাসুদ আকন্দের সাথে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন, সে বাসার বাড়ির মালিক তাদের কোন ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দেয়নি। তাই তিনিসহ তাদের বাসার অন্যান্য ভাড়াটিয়াও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের আওতায় আসতে পারেনি। তবে পাশের একটি বাসায় তার বন্ধু সাব্বির হোসেনের  বনাত দিয়ে মাসুদ আকন্দ জানান, তার বন্ধুর বাসার বাড়িওয়ালা থানা থেকে ফরম এনে ভাড়াটিয়াদের দিয়েছে। ওই বাসার সকলেই যাবতীয় তথ্য দিয়ে ফরমগুলো পূরণ করে বাড়ির মালিকের কাছে জমাও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সাভারের হেমায়েতপুরে বিল্লাল হোসেন নামে এক পোশাক শ্রমিকের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দিচ্ছে না বলেই তিনি, ইচ্ছা থাকা সত্যেও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারছেন না। তবে এই পোশাক শ্রমিকের দাবি, তিনি আগে সাভারের জামসিং মহল্লায় থাকতেন। সেখানে থাকাকালীন সেখানকার বাড়ির মালিক তাকে ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম দিয়েছিল। তখন তিনি সেটা পূরণ করে তার কাছে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানের বাড়ির মালিক এখনও ফরম দেয়নি বলে বাসা বদলের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তিনি ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারেননি। এভাবে চলতে থাকলে সাভার হতে পারে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য।

এদিকে, ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরমের গুরুত্বের বিষয়ে কথা হয় সাভারের এএমডি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বুলবুলের সাথে। তিনি জানান, ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরমে একজন ব্যক্তিকে তার যাবতীয় তথ্য দিতে হয়। তাই যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তারা বাসা ভাড়া নিতে চাবে না। যখনই সঠিক পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিতে হবে, তখনই একটা অজানা ভয়ে অপরাধীরা বাসা ভাড়া নেওয়া থেকে এড়িয়ে চলবে।

বাড়ির মালিকের জন্যও ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম অত্যন্ত জরুরি দাবি করে এই সহযোগী অধ্যাপকের বলেন, ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের কার্যক্রমটি শতভাগ সফল আনতে হলে যে সকল বাড়ির মালিকেরা তাদের ভাড়াটিয়াদের এখনও ফরম দেননি। সেই সব বাড়ির মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলেই কার্যক্রমটি শতভাগ সফলতা পাবে।

ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণের কার্যক্রমটি চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান, এই চলমান প্রক্রিয়াটি আরও বেগবান করতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া তথ্য নিবন্ধন ফরম পূরণে বাড়ির মালিকদেরও সহযোগীতা চান পুলিশের এই কর্মকর্তা।  রাইজিংবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com