সরবরাহ কমছে পেঁপের, বাড়ছে দাম

শীতের সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও সরবরাহ কমেছে কাঁচা পেঁপের। ফলে এ সবজিটির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পেঁপের দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৫-২০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিজনে পেঁপের উৎপাদন হয় অনেক। এতে বাজারে সরবরাহ থাকে ভরপুর। ফলে চাহিদা থাকার পরও দাম তুলনামূলক কম থাকে। কিন্তু এখন পেঁপের সিজন না। এ কারণে সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে দাম বেড়ে গেছে।

পেঁপের দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আলম বলেন, বাজারে এখন পেঁপের আমদানি কম। কিন্তু চাহিদা অনেক। এ কারণে দাম বেড়েছে। সামনে পেঁপের দাম আরও বাড়তে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী আজম বলেন, পেঁপে এমন একটি সবজি যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এ কারণে সব সময় বাজারে পেঁপের চাহিদা থাকে। কিন্তু এখন পেঁপের সরবরাহ অনেক কম। আড়তে পেঁপে পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ বাড়লে আবার পেঁপের দাম কমে যাবে।

এদিকে ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। রেকর্ড ২৫০ টাকায় পৌঁছে যায় পেঁয়াজের কেজি। তবে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমে। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীর বাজারগুলোতে নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১০০ টাকা কেজির মধ্যে।

কিন্তু গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকায় উঠে যায়। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এখনও বেশ চড়া। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ভেদে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, পেঁয়াজের দাম কখন বাড়ে, আর কখন কমে বলা মুশকিল। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা হওয়ায়র একটু বেশি করে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। কিন্তু এখন দাম কমে গেছে। ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহের ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ৫০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজরের। ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে।

নতুন গোল আলুর কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমে ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। শালগম আগের সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিটির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

মালিবাগের ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, বাজারে সব ধরনের শীতের সবজি পর্যন্ত আছে। যে কারণে টমেটো, গাজর, মুলার দাম কমেছে। সামনে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম এখন একটু বেশি হলেও কিছুদিন পর এর দামও কমবে। তবে তখন কপির স্বাদও কমে যাবে।

হাজীপাড়া বৌ-বাজার থেকে বাজার করা আলেয়া বেগম বলেন, আমার মতে সবজির দাম এখনো বেশি। মুলা ছাড়া কোনো সবজি ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। যে পেঁপের কেজি ১৫ টাকা ছিল এখন তা ৪০ টাকা। বাজারে এতো ফুলকপি, কিন্তু ৩০ টাকার নিচে পিস বিক্রি হচ্ছে না। সবজির এমন দামে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কোচিং-বাণিজ্য করে শিক্ষকতা পেশাকে কলঙ্কিত করবেন না

» পুলিশের পোশাকে পরীমনির স্বপ্নপূরণ

» গ্র্যামির মঞ্চে দুর্দান্ত পোশাকে আলোড়ন তুললেন প্রিয়াঙ্কা!

» আগে পিটাবে, তারপর মামলা দেবে: খসরু

» নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কাছে অভিযোগ করাও আচরণবিধি লঙ্ঘন: তথ্যমন্ত্রী

» করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

» ছোট বেলায় বঙ্গবন্ধুকে ফুলের মালা দিয়েছিলাম

» জীবন ডট.কম

» কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মধুমেলার ৬ষ্ঠ দিনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» মণিরামপুরে ব্যবসায়ী লিটন হোসেনের মৃত্যুতে তার বাড়ীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ভীড়

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

সরবরাহ কমছে পেঁপের, বাড়ছে দাম

শীতের সবজিতে বাজার ভরপুর থাকলেও সরবরাহ কমেছে কাঁচা পেঁপের। ফলে এ সবজিটির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পেঁপের দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ, টমেটো ও আলুর দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৫-২০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিজনে পেঁপের উৎপাদন হয় অনেক। এতে বাজারে সরবরাহ থাকে ভরপুর। ফলে চাহিদা থাকার পরও দাম তুলনামূলক কম থাকে। কিন্তু এখন পেঁপের সিজন না। এ কারণে সরবরাহ কমে গেছে। যে কারণে দাম বেড়ে গেছে।

পেঁপের দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আলম বলেন, বাজারে এখন পেঁপের আমদানি কম। কিন্তু চাহিদা অনেক। এ কারণে দাম বেড়েছে। সামনে পেঁপের দাম আরও বাড়তে পারে।

রামপুরার ব্যবসায়ী আজম বলেন, পেঁপে এমন একটি সবজি যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এ কারণে সব সময় বাজারে পেঁপের চাহিদা থাকে। কিন্তু এখন পেঁপের সরবরাহ অনেক কম। আড়তে পেঁপে পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ বাড়লে আবার পেঁপের দাম কমে যাবে।

এদিকে ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। রেকর্ড ২৫০ টাকায় পৌঁছে যায় পেঁয়াজের কেজি। তবে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমে। এতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীর বাজারগুলোতে নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছিল ১০০ টাকা কেজির মধ্যে।

কিন্তু গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকায় উঠে যায়। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম এখনও বেশ চড়া। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ভেদে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, পেঁয়াজের দাম কখন বাড়ে, আর কখন কমে বলা মুশকিল। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা হওয়ায়র একটু বেশি করে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। কিন্তু এখন দাম কমে গেছে। ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ১০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহের ৮০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে ৫০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৮০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজরের। ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে।

নতুন গোল আলুর কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমে ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। শালগম আগের সপ্তাহের মতো ৩০-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিটির দামও অপরিবর্তিত রয়েছে।

মালিবাগের ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, বাজারে সব ধরনের শীতের সবজি পর্যন্ত আছে। যে কারণে টমেটো, গাজর, মুলার দাম কমেছে। সামনে দাম আরও কমবে। ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম এখন একটু বেশি হলেও কিছুদিন পর এর দামও কমবে। তবে তখন কপির স্বাদও কমে যাবে।

হাজীপাড়া বৌ-বাজার থেকে বাজার করা আলেয়া বেগম বলেন, আমার মতে সবজির দাম এখনো বেশি। মুলা ছাড়া কোনো সবজি ২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। যে পেঁপের কেজি ১৫ টাকা ছিল এখন তা ৪০ টাকা। বাজারে এতো ফুলকপি, কিন্তু ৩০ টাকার নিচে পিস বিক্রি হচ্ছে না। সবজির এমন দামে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com