সন্তান জন্মদানের পরের অবস্থা মোকাবিলার উপায়

সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের মধ্যে এক ধরনের মনমরা অবস্থা বা বিষণ্নতা দেখা দেয়। এটি পরবর্তী কয়েকদিন বা সপ্তাহ খানেকেরও বেশি সময় স্থায়ী থাকে।

শিশু জন্মদানের পর হরমোন পরিবর্তনই এই অবস্থা সৃষ্টির কারণ। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর এস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটারোনের মাত্রা হ্রাস পায়। এতে মায়েরা পিএমএস (প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম)-এর সময় এক ধরনের পরিবর্তন অনুভব করেন।

সন্তান পেটে ধারণের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রমের ক্লান্তি, ঘুমের বিভ্রাট, সিজারের ফলে সেলাইয়ের স্থানে যন্ত্রণা, স্তনবৃন্তে ব্যথা ইত্যাদি অবস্থার ফলে মায়েদের মধ্যে এই ধারণা জন্ম হয় যে, তাঁরা হয়তো নতুন মাতৃত্বকালীন অবস্থা ও দায়িত্বগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন না।

মায়েদের উচিত সন্তান জন্মের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে এই অবস্থা মেনে নেওয়া। এই সময় তাঁদের উচিত নিজেদের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া। তাঁদেরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সংযম অনুশীলন করতে হবে। সেইসঙ্গে আশপাশের মানুষের উচিত তাঁদেরকে সামাজিক সহায়তা প্রদান করা।

নবজাতক ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে মায়েরও উচিত ঘুমানোর চেষ্টা করা। কেননা, মা তাঁর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হলে সন্তানের শারীরিক ও আবেগীয় যত্ন নেওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবকিছু নিজেকেই সচেতনভাবে করতে হবে।

সন্তান জন্মের পর পুষ্টিতে যে ঘাটতি পড়ে তা পূরণ করতে হবে। দিনে তিনবার উদরপূর্তি না করে মায়েদের উচিত সারাদিনই ঘন ঘন পরিমিত খাবার গ্রহণ করা। এই সময় ফল ও সবজিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হলে সেলাইয়ের স্থানে ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি দূর হওয়ার পর হালকা ব্যায়াম করতে হবে। ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়াতে হবে যাতে হার্টরেট কিছুটা বাড়ে। নবজাতকের সঙ্গে কথা বলা এবং খেলা করতে হবে। এতে শারীরিক ও মানসিক দুই দিকেই উন্নতি হবে।

গর্ভাবস্থার পর থেকে সন্তান প্রসব এবং তার পরবর্তী সময়েও দৃঢ় সামাজিক সমর্থন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী- সবার সঙ্গে যাতে সন্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে হবে। এমন সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে যা শিশুর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি করে। এসব ক্ষেত্রে শিশুর বাবাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবারের সমস্ত কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এ সম্পর্কিত পূর্বের দায়িত্বগুলো পালনের চেষ্টা করতে হবে। যথেষ্ট ধৈর্য ধারণ এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

মেডিক্যাল সহায়তা এবং নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। কোনো সমস্যা ও এর ধরন সম্পর্কে চিকিৎসককে সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র : এনডিটিভি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুরআন তিলাওয়াতকারীর মা-বাবাকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন

» শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে পাঞ্জাবের ১৪ রানে জয়

» ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন ৫ মে

» প্রাথমিকের ফল পুনঃনিরীক্ষণ ফেল থেকে পাস ৮ হাজার শিক্ষার্থী

» অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির প্রতিবাদে যাত্রীকে পিটিয়ে জখম

» কক্সবাজারে কোচিং সেন্টারে অমানবিকতার শিকার কিশোর

» হাজীগঞ্জে বিদ্যুৎপৃষ্টে দাখিল পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

» সমৃদ্ধির পথে দেশ, কমেনি বৈষম্য

» আজ দিনভর ব্যস্ত সময় কাটা‌বেন প্রধানমন্ত্রী

» মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মেয়াদ বাড়লো দুই বছর

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

সন্তান জন্মদানের পরের অবস্থা মোকাবিলার উপায়

সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের মধ্যে এক ধরনের মনমরা অবস্থা বা বিষণ্নতা দেখা দেয়। এটি পরবর্তী কয়েকদিন বা সপ্তাহ খানেকেরও বেশি সময় স্থায়ী থাকে।

শিশু জন্মদানের পর হরমোন পরিবর্তনই এই অবস্থা সৃষ্টির কারণ। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর এস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটারোনের মাত্রা হ্রাস পায়। এতে মায়েরা পিএমএস (প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম)-এর সময় এক ধরনের পরিবর্তন অনুভব করেন।

সন্তান পেটে ধারণের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রমের ক্লান্তি, ঘুমের বিভ্রাট, সিজারের ফলে সেলাইয়ের স্থানে যন্ত্রণা, স্তনবৃন্তে ব্যথা ইত্যাদি অবস্থার ফলে মায়েদের মধ্যে এই ধারণা জন্ম হয় যে, তাঁরা হয়তো নতুন মাতৃত্বকালীন অবস্থা ও দায়িত্বগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন না।

মায়েদের উচিত সন্তান জন্মের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে এই অবস্থা মেনে নেওয়া। এই সময় তাঁদের উচিত নিজেদের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া। তাঁদেরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সংযম অনুশীলন করতে হবে। সেইসঙ্গে আশপাশের মানুষের উচিত তাঁদেরকে সামাজিক সহায়তা প্রদান করা।

নবজাতক ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে মায়েরও উচিত ঘুমানোর চেষ্টা করা। কেননা, মা তাঁর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হলে সন্তানের শারীরিক ও আবেগীয় যত্ন নেওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবকিছু নিজেকেই সচেতনভাবে করতে হবে।

সন্তান জন্মের পর পুষ্টিতে যে ঘাটতি পড়ে তা পূরণ করতে হবে। দিনে তিনবার উদরপূর্তি না করে মায়েদের উচিত সারাদিনই ঘন ঘন পরিমিত খাবার গ্রহণ করা। এই সময় ফল ও সবজিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হলে সেলাইয়ের স্থানে ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি দূর হওয়ার পর হালকা ব্যায়াম করতে হবে। ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়াতে হবে যাতে হার্টরেট কিছুটা বাড়ে। নবজাতকের সঙ্গে কথা বলা এবং খেলা করতে হবে। এতে শারীরিক ও মানসিক দুই দিকেই উন্নতি হবে।

গর্ভাবস্থার পর থেকে সন্তান প্রসব এবং তার পরবর্তী সময়েও দৃঢ় সামাজিক সমর্থন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী- সবার সঙ্গে যাতে সন্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে হবে। এমন সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে যা শিশুর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি করে। এসব ক্ষেত্রে শিশুর বাবাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবারের সমস্ত কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এ সম্পর্কিত পূর্বের দায়িত্বগুলো পালনের চেষ্টা করতে হবে। যথেষ্ট ধৈর্য ধারণ এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

মেডিক্যাল সহায়তা এবং নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। কোনো সমস্যা ও এর ধরন সম্পর্কে চিকিৎসককে সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র : এনডিটিভি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com