সনির পর আবরার তারপর কে?

১০ বছরে শিক্ষাঙ্গনে ১৭ ছাত্র হত্যাকান্ডের শিকার সারাদেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে গত ১০ বছরের ১৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতেরা হচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জীবন দিতে হয় মেধাবী ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনিকে। প্রায় দেড়যুগ পর আবারও বুয়েটের আরেক মেধাবী ছাত্র আবরারকে নির্মমভাবে চলে যেতে হলো। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল। মিছিল সমাবেশে আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। আবরারের সহপাঠী ফরহাদ হোসেন জানান, ‘এর আগে আমরা সনিকে হারিয়েছি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আজ আবরারকে এভাবে জীবন দিতে হতো না। আবরারকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। বুয়েট ক্যাম্পাসে আর ছাত্র রাজনীতি হতে দেয়া হবে না।’ এর দেড়যুগ আগে ২০০২ সালের ৮ জুন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সনি মারা যান। টেন্ডারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপ। দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের সামনে সাবেকুন নাহার সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট মুকিত, টগর ও সাগরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেন হাইকোর্ট। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়। পলাতক রয়েছেন নুরুল ইসলাম সাগর ওরফে শুটার নুরু। জেলে আছেন টগর। তবে আসামিদের কারো বিরুদ্ধে আদালতের রায় এখনও কার্যকর হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ২৪ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো ৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে! বিশ্লেষকদের মতে, লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণে মূলত এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর হত্যা। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ হত্যা মামলায় সব আসামি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বজিৎ হত্যা। এ হত্যাকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ প্রকম্পিত হয়। শিবির সন্দেহে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির দিনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাবি ক্যাম্পাসে জুবায়ের হত্যা। এ হত্যাকাণ্ডের জন্যেও ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল দায়ী। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তর্কলহের জেরে এক হামলায় গুরতর আহত হন জাবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিউদ্দিন কায়সার হত্যা: ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির রাতে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার জন্য ছাত্রলীগ ও শিবির একে অপরকে দায়ী করে। পরে মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে চবি ছাত্রলীগ ও শিবির উভয় দলই। অপরদিকে মামুন হত্যা: একই বছরের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। চট্টগ্রামে হারুন অর রশীদ হত্যা। ২০১০ সালের ২৮ মার্চ রাতে শাটল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম শহর হতে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চবি মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র হারুন অর রশীদকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাছাড়া আসাদুজ্জামান হত্যা। একই বছরের ১৫ এপ্রিল চবি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান নিহত হন। এছাড়া তাপস হত্যা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী তাপস। আলোচিত দিয়াজ হত্যাকান্ড। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চবির ২নং গেট সংলগ্ন নিজ বাসায় খুন হন ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ১০ নেতাকর্মী। আলোচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শরিফুজ্জামান হত্যাকান্ড। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন রাবির শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী। তা ছাড়া ফারুক হত্যাকান্ড। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে খুন হন ফারুক। একই বছর ১৫ আগস্ট শোক দিবসে টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম হলের দোতলার ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুল্লাহ নাসিমকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জন্মদিনে এবারও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে পরীমণি

» খেলোয়াড়রা খেললে খেলবে, না খেললে নাই: পাপন

» ঘুষ নেয়ার সময় গ্রেফতার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা

» রাশেদ খান মেননকে আ.লীগ কার্যালয়ে যেতে নিষেধাজ্ঞা

» অপকর্মকারীরা যুবলীগের কংগ্রেসে থাকতে পারবে না: চয়ন ইসলাম

» জাপান সম্রাটের অভিষেকে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

» অস্ত্র ও ৪ গুলি উদ্ধার: লক্ষ্মীপুরে ইউপি মেম্বার হত্যা মামলায় গ্রেফতার-২

» ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তার কাজে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরায় সাংবাদিক হেনস্তা

» শৈলকুপায় বখাটের অত্যাচারে কলেজ ছাত্রীর পরীক্ষা বন্ধ, প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধর

» মণিরামপুরে মাঠে মাঠে চলছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

সনির পর আবরার তারপর কে?

১০ বছরে শিক্ষাঙ্গনে ১৭ ছাত্র হত্যাকান্ডের শিকার সারাদেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে গত ১০ বছরের ১৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতেরা হচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জীবন দিতে হয় মেধাবী ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনিকে। প্রায় দেড়যুগ পর আবারও বুয়েটের আরেক মেধাবী ছাত্র আবরারকে নির্মমভাবে চলে যেতে হলো। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল। মিছিল সমাবেশে আবরার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। আবরারের সহপাঠী ফরহাদ হোসেন জানান, ‘এর আগে আমরা সনিকে হারিয়েছি। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আজ আবরারকে এভাবে জীবন দিতে হতো না। আবরারকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। বুয়েট ক্যাম্পাসে আর ছাত্র রাজনীতি হতে দেয়া হবে না।’ এর দেড়যুগ আগে ২০০২ সালের ৮ জুন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সনি মারা যান। টেন্ডারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বুয়েট ছাত্রদল সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের টগর গ্রুপ। দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের সামনে সাবেকুন নাহার সনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট মুকিত, টগর ও সাগরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেন হাইকোর্ট। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ায়। পলাতক রয়েছেন নুরুল ইসলাম সাগর ওরফে শুটার নুরু। জেলে আছেন টগর। তবে আসামিদের কারো বিরুদ্ধে আদালতের রায় এখনও কার্যকর হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন ২৪ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন, ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। অনন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো ৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে! বিশ্লেষকদের মতে, লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণে মূলত এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু বকর হত্যা। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ হত্যা মামলায় সব আসামি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বজিৎ হত্যা। এ হত্যাকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ প্রকম্পিত হয়। শিবির সন্দেহে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির দিনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। জাবি ক্যাম্পাসে জুবায়ের হত্যা। এ হত্যাকাণ্ডের জন্যেও ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল দায়ী। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অন্তর্কলহের জেরে এক হামলায় গুরতর আহত হন জাবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিউদ্দিন কায়সার হত্যা: ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির রাতে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার জন্য ছাত্রলীগ ও শিবির একে অপরকে দায়ী করে। পরে মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে চবি ছাত্রলীগ ও শিবির উভয় দলই। অপরদিকে মামুন হত্যা: একই বছরের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। চট্টগ্রামে হারুন অর রশীদ হত্যা। ২০১০ সালের ২৮ মার্চ রাতে শাটল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম শহর হতে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চবি মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র হারুন অর রশীদকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তাছাড়া আসাদুজ্জামান হত্যা। একই বছরের ১৫ এপ্রিল চবি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান নিহত হন। এছাড়া তাপস হত্যা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী তাপস। আলোচিত দিয়াজ হত্যাকান্ড। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চবির ২নং গেট সংলগ্ন নিজ বাসায় খুন হন ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ১০ নেতাকর্মী। আলোচিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শরিফুজ্জামান হত্যাকান্ড। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন রাবির শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী। তা ছাড়া ফারুক হত্যাকান্ড। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে খুন হন ফারুক। একই বছর ১৫ আগস্ট শোক দিবসে টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম হলের দোতলার ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুল্লাহ নাসিমকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীরা।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com