লালমনিরহাটে ভরসা ৮০ চিকিৎসক, নেই পিপিই ও আইসিইউ

আসাদ হোসেন রিফাত,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃলালমনিরহাটে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং আশঙ্কাজনক রোগীর জন্য আইসিইউ।মাত্র ৮০ জন চিকিৎসকই ভরসা এ জেলায়।
করোনা মোকাবেলায় লালমনিরহাটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায়।
সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায় বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যুদ্ধ করছেন বিশ্বের চিকিৎসকরা। দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। লালমনিরহাটে বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৭৯ জনের মধ্যে ২৬ জন মেয়াদ শেষ করেছেন। তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন।
জেলার ৫ টি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভার মানুষদের করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৭৪৫ জন কর্মী। যার মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৮০ জন ও নার্স ১৬০ জন। এছাড়াও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন ১৩৪ জন বিভিন্ন পদের স্টাফ, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৯৫ জন ও কমিউনিটি হেল্থ প্রোভাইডার ১৭৬ জন। এসব কর্মীকে কয়েকটি স্তরে বিভাজন করে টিমওয়ার্ক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দহগ্রাম ১০ শয্যা হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল।
হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের অতিরিক্ত রোগীর ভিড় সামলাতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে অস্থায়ী করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। লালমনিরহাট শহরের জন্য রেলওয়ে হাসপাতালের ১৬টি বেড এবং সদর হাসপাতালের ৭টি এবং বাকি ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ৪-৫টি করে আইসোলেশন বেড বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে।
করোনা আক্রান্ত রোগী বিপজ্জনক পর্যায়ে গেলে তার সেবা প্রদান করতে আইসিইউ বেড প্রয়োজন হবে, যা এ জেলায় একটিও নেই। এমন পর্যায়ে গেলে সেই সব রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জন আরো বলেন, করোনা রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসক টিমের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। মজুদ থাকা এসব সরঞ্জাম মাত্র দুই দিন ব্যবহার হলেই শেষ হয়ে যাবে। তাই জরুরিভাবে মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়াও রোগী পরিবহনে হালকা চাপ সামলানোর মত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে চাপ বেড়ে গেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন নেওয়া হবে। সব তৈরি হলেও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম না পেলে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হবে। তাই দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদানে সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে সাহস ও ধৈর্য নিয়ে চিকিৎসা বিভাগকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আড্ডা-অহেতুক ঘোরাফেরা : ফার্মগেটে ২৫ জনকে জরিমানা

» কুমিল্লায় ইয়াবাসহ কারারক্ষী আটক

» আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ

» মাশরাফির উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা শুরু

» বিএনপি নেতারা দূর্যোগেও ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত : ওবায়দুল কাদের

» ‘মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাঁচতে পারে না, নির্ভয়ে দাফন করুন’

» কাঁচা বাজার ও সুপার শপ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ ডিএমপির

» অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন এ্যাড.মিলন এম পি

» দুই হাজার পরিবারের মধ্যে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের খাদ্য সহায়তা বিতরন

» হোমনায় পুলিশের সহায়তায় সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপন্যের ভ্রাম্যমান দোকানের উদ্বোধন 

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

লালমনিরহাটে ভরসা ৮০ চিকিৎসক, নেই পিপিই ও আইসিইউ

আসাদ হোসেন রিফাত,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃলালমনিরহাটে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) এবং আশঙ্কাজনক রোগীর জন্য আইসিইউ।মাত্র ৮০ জন চিকিৎসকই ভরসা এ জেলায়।
করোনা মোকাবেলায় লালমনিরহাটের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায়।
সিভিল সার্জন ডা. নিমর্লেন্দু রায় বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যুদ্ধ করছেন বিশ্বের চিকিৎসকরা। দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। লালমনিরহাটে বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৭৯ জনের মধ্যে ২৬ জন মেয়াদ শেষ করেছেন। তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন।
জেলার ৫ টি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভার মানুষদের করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ৭৪৫ জন কর্মী। যার মধ্যে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৮০ জন ও নার্স ১৬০ জন। এছাড়াও তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন ১৩৪ জন বিভিন্ন পদের স্টাফ, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৯৫ জন ও কমিউনিটি হেল্থ প্রোভাইডার ১৭৬ জন। এসব কর্মীকে কয়েকটি স্তরে বিভাজন করে টিমওয়ার্ক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দহগ্রাম ১০ শয্যা হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল।
হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের অতিরিক্ত রোগীর ভিড় সামলাতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে অস্থায়ী করোনা ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। লালমনিরহাট শহরের জন্য রেলওয়ে হাসপাতালের ১৬টি বেড এবং সদর হাসপাতালের ৭টি এবং বাকি ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ৪-৫টি করে আইসোলেশন বেড বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে।
করোনা আক্রান্ত রোগী বিপজ্জনক পর্যায়ে গেলে তার সেবা প্রদান করতে আইসিইউ বেড প্রয়োজন হবে, যা এ জেলায় একটিও নেই। এমন পর্যায়ে গেলে সেই সব রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জন আরো বলেন, করোনা রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসক টিমের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। মজুদ থাকা এসব সরঞ্জাম মাত্র দুই দিন ব্যবহার হলেই শেষ হয়ে যাবে। তাই জরুরিভাবে মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে পাঠানো হচ্ছে।
এছাড়াও রোগী পরিবহনে হালকা চাপ সামলানোর মত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে চাপ বেড়ে গেলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন নেওয়া হবে। সব তৈরি হলেও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের নিরাপত্তার সরঞ্জাম না পেলে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হবে। তাই দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদানে সরকারের প্রতি আহবান জানান এবং আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে সাহস ও ধৈর্য নিয়ে চিকিৎসা বিভাগকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com