লাঞ্চিত নারী, লজ্জিত সমাজ

হামিদা রহমান

ইহুদী পুরুষেরা ভোর বেলা প্রার্থনা করে ’বিধাতাকে ধন্যবাদ, যেহেতু তিনি আমাকে নারী করেনি’। একই সময়ে তাদের নারীরা কৃতঞ্জ কন্ঠে বলে ’বিধাতাকে ধন্যবাদ, যিনি আমাকে ইচ্ছানুসারে সৃষ্টি করেছে’। পৃথিবী সৃষ্টি থেকে অদ্যবদি একজন নারীকে পুরুষগণ যেমন বিভিন্ন নামে অখ্যায়িত করে- তরুণী, রমণী, লাবণী, ললনা, দাসী, ঘরণী, গৃহিনী, সর্বোপরি বিদেশী ভাষায় ’মেম সাহেব’ বলে নারীকে আবদ্ধ করার পাঁয়তারা চালায় তেমনি কৌশলগত কারণে আদিকাল থেকে সমাজ বিবর্তনের ধারায় বিশ্বময় সমাজ ও রাষ্ট্রে লিঙ্গেও একটা বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। জীবনে, যৌবনে সকল ক্ষেত্রে গড়ে উঠা বৈষম্যের ফলে দিন দিন নারীরা হচ্ছে অবহেলিত, লাঞ্চিত, বঞ্চিত, শোষিত ও নিঃগৃহীত। নারীরা স্ব-উদ্যেগে বিকাশের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের দয়ার উপর নির্ভরশীর। তথাপি শত বাঁধা ডিঙিয়ে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সর্বক্ষেত্রে বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও বিকাশে নারী গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখছে। এমন কি সৃজনশীলতায়ও কম অবদান রাখছে না; অথচ নারী এর কোন সঠিক মূল্যায়ন পায়নি।

পুরুষের কাছে নারী এক ধরণের কুলষিতা, ভোগ্যবস্তু। আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া শুধুমাত্র নারীর জন্য এমন ভাব ধরে উন্নত বিশ্বেও গুনগত মানুষেরা লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের কোন সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে না, যুগ-যুগ ধরে নারী নিজ অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে পুরুষ কর্তৃক বহুভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বর্হিবিশ্বে আধুনিক মনা মানুষ নারীকে সমান অধিকারের ’ডোজ’ দিয়ে বিশ্ব বাজারে ’বিশ্বসুন্দরী’ প্রতিযোগীতামূলক কর্মের মাধ্যেমে নারীদের ’পণ্য’ হিসাবে ব্যবহার করেছে।… নারীর অধিক স্বাধীনতার কথা পরিধানের কাপড়ের পূর্ণাঙ্গতা কেড়ে নিচ্ছে। আবার অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও ধর্মভীরু ভঙ্গুর সমাজে নারীর  অধিক বস্ত্র পরিধান করে অন্ধকারে আবদ্ধ করার যে পাঁয়তারা চলছে তা সভ্য সমাজের মুক্ত চিন্তার মানুষেরা কখন মানছে না।

নির্যাতন শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষ সোচ্চার না-হওয়ার মনমানসিকতায় অদ্যবদি প্রতিনিয়ত হাজারো তরুণ-তরুণী অজোপাড়া গাঁয়ের নারী-পুরুষ নামীয় কিছু দানব কর্তৃক মায়ের সম্মুখে ধর্ষণ, স্বামীর সামনে স্ত্রী ধর্ষণ, ভাই এর সামনে বোন…ইভ-টিজিং নামক অসভ্য আচরণের ফলে কিশোরী আত্মহত্যা যেমনি ’৭১ এ পাক বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মা-বোন এবং ধর্ষণ লাঞ্চনা সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছিলো। সে সময় পাক-বাহিনী স্বাধীনতার বিপক্ষে কিছু মানুষ নামের দানবের সহযোগীতায় হৈ-উল্লাসের মাধ্যেমে নারীদের ইজ্জত লুন্ঠন করতো, এখনও বাতাসে ঐ নারীদের কন্ঠ উচ্চারিত হয়। ধর্ষিত নারীদের কলঙ্ক মুছে উঠতে না উঠতে শুরু হচ্ছে সভ্য সমাজের অসভ্য বর্বরতা, পাশাপাশি ভয়ংকর এসিড নিক্ষেপ ও প্রকাশ্যে নারীর শ্লীলতাহানী, আনন্দ সহকারে প্রতিযোগীতামূলক একাধিক পুরুষ কর্র্তৃক নিরীহ নারী ধর্ষণসহ কৌশলগত ও অভিশপ্ত যৌতুকের দাবিতে মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্যতায় হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম ঘটনা প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে। বর্তমান সময়ের অসভ্য আচরণ ইভ-টিজিংও এখন একটা মারাত্মক ব্যাধিতে ধাবিত হচ্ছে। তা যদি এখনই রোধ না-করা যায়, ভবিষ্যতে প্রকট আকার ধারণ করবে।

 

হত্যার পাশাপাশি আত্মহত্যা করার মত পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছে যা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজ হাতে নিলে প্রমাণ মিলে। প্রতিবছর নারীদের বিশেষ বিশেষ দিবস উদযাপিত হয় এবং নারীর অধিকার আদায়ে সুকন্ঠে ডাক আসে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামের পল্লী এলাকায় কোটি কোটি পল্লীবালা ঐ প্রতিবাদী কন্ঠ শুনতে পায় না। বিশ্ব নারী দিবস, নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের দিবস হিসেবে আজ যে স্বীকৃত, তা বিগত ১৭৯২ সালে মেরি ওলেষ্টোনক্রাপট নামে ইংরেজ মহিলা ’ভিনভিকেশন অফ দি রাইটার্স অফ ওম্যান’ নামক গ্রন্থে নারী মুক্তির আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।

নারী আন্দোলনের স্বীকৃতি দিতে দিনটি বেছে নেন বিশিষ্ট জার্মান সমাজবিঞ্জানী ’ক্লারা জেকটিন’। তিনি ১৯১০ সালে আন্তজার্তিক নারী সম্মেলনে বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এ প্রস্তাব করেন। দিনটি তখনও নির্ধারিত ছিল না। পরবর্তী সাল ১৯১১, অষ্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশী নারী শ্রমিক ১৯মার্চ দিনটি পালন শুরু করে। সে সময় ২৫ মার্চ নিউইয়র্কের এক শার্ট ফেক্টরীতে আগুন লেগে ১৪০ জন গার্মেন্টস নারী কর্মী ’আন-সেফটির’ কারণে মারা গেলে তা নিয়ে ইউরোপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর ফলশ্রুতিতে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউরোপে এক সম্মেলনে ৮ মার্চ ১৯১৩কে বিশ্ব নারী দিবস হিসেবে চুড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

সিডিও, বেইজিং সনদ- বিশ্ব বাজারে কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে?

সনদগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সনদ কেবল বইয়ে থেকে যাচ্ছে। সত্যিকারে কি হচ্ছে নারীদের উপর? জাতিসংঘের ৫০ বছর উপলক্ষে বিশ্বকে এক সূতোঁয় গাঁথতে জাতিসংঘ তার জন্মলগ্ন থেকে প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের সার্বিক অস্থিতিশীলতা, পশ্চাতপদতা দূর তথা মানবগোষ্টির সকল অংশের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সব সংস্থা হয়তো সফল হয়নি- তবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নারী সংগঠনসমূহ এবং সচেতন নারীদের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালে ’বিশ্ব নারী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলো জাতিসংঘ। এর পাশাপাশি মেক্সেকোতে বিশ্ব নারী সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়নের জন্য বাস্ত কাজের পরিকল্পনা ও কর্মসূচী (গবীরপড় ঢ়ষধহ ড়ভ অপঃরড়হ) গ্রহণ করা হয়েছিলো। শতাব্দীর প্রাচীন পশ্চাতপদতা, নারীর প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা ও বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ ’সমতা উন্নয়ন ও শান্তি’ এই শ্লোগানের ভিত্তিতে ’১৯৭৬-৮৫’ সময় কালকে নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করে। এরপরও সামগ্রিক ভাবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি বৈষম্য রয়েই গেছে।

লিঙ্গ বিরাজমান সকল বৈষম্য দূর করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৭৬ সালে ১৮ ডিসেম্বর ’নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ অবসান’ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রহণ করে। তা হলো নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য খিলাপ সনদ বা ঞযব ঈড়হাবহঃরড়হ ড়হ ঃযব ঊষরসরহধঃরড়হ ড়ভ অষষ ঋড়ৎসং ড়ভ উবংপৎরসরহধঃরড়হ ধমধরহংঃ ডড়সবহ (ঈঊউঅড), সংক্রান্ত কনভেনশন প্রণয়ন ও অনুমোদন করা।

সংক্ষেপে সিডও হচ্ছে জাগিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহিত মানবাধিকার সম্পর্কিত একটি সার্বজনিন দলিল- যার মূল বক্তব্যে হলো মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও মূল্যেবোধের ক্ষেত্রে সারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিয়তা বিধানের আবশ্যিকতা এবং নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত প্রদান। সিডও সনদের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সভ্যতা ও মানব সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সকল ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে নারী যে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে আসছে তারই যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পারিবারিক, সমাজ, রাষ্ট তথা বিশ্বশান্তি উন্নয়নে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমলিঙ্গ সমতাস্থপান করা। এই লক্ষে বাস্তবায়নের সকল রাষ্ট্র কর্র্তৃক প্রয়োজনবোধে আইন তৈরী করা, প্রচলিত আইনের সংস্কার সাধন এবং আইন প্রণয়নের জন্য বাস্তব পরিবেশ ও তথ্য প্রশাসনিক ও সামাজিক ভিত্তি তৈরি করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা এই সনদে উল্লেখিত রয়েছে। সিডও সনদে মোট ৩০টি ধারা। এর প্রথম ১৬ধারা লিঙ্গেও সমধিকার সংক্রান্ত, ১৭-২২ ধারার দলিলে নারীর জন্য যে শর্তগুলো বিরচিত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য সিডও কমিটি গঠন ও কমিটির কর্মপন্থা নিদিষ্ট হয়েছে। ২৩-৩০ ধারায় সনদেও প্রশাসনিক বিধিমালা সনদে সাক্ষরদান বা সমর্থন করার পদ্ধতিগত বিষয় এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের ভ’মিকা ইত্যাদি বিবৃত হয়েছে। রাষ।ট্র ও সনদ সম্পর্কে সংক্রান্ত অদ্যবদি বিশ্বের ১৭৫টি দেশ এই সনদটি অনুমোদন দিয়েছে এবং সাক্ষর দান করেছে। ২০০৩ সালের হিসেব মতে বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে এ সনদে সাক্ষর করে এবং এটির অনুসত নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গিকার করেছে।

সিডও সনদ ও বাংলাদেশের সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধান একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল সংবিধান হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃত। আমাদের সংবিধান সমাজের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গের সমঅধিকার রয়েছে। সংবিধানের ১২, ১৯, ২৭, ২৮, ২৯ ধারায় লিঙ্গের নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের সমঅধিকার নিশ্চিত  এবং বর্তমান অগ্রসনতা ও পশ্চাতপদতাকে স্বীকৃতি দিয়ে জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে রাষ্ট্রকে সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার দেয়া হয়েছে। মৌলিক মানবাধিকার তথা লিঙ্গের সমঅধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সিডও সনদ অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিন্ন।

উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিলেও পৃথিবীর কোটি কোটি নারী এখনো জানে না, আর জানলেও উপলব্ধির সুযোগ থেকে বঞ্চিত শুধু মাত্র তাদের জন্য একটি দিন পালিত হচ্ছে। বিশ্বের ৮৭৬ মিলিয়ন নিরক্ষর মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ হলো নারী। দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ বছরে উর্ধ মেয়েদের শতকরা ৬৩ ভাগ পড়তে ও লিখতে পারে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওসেনিয়ায় শতকরা ৬৩ ভাগ মেয়েদের সাক্ষর ঞ্জান নেই। উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার অর্ধেকেরই বেশি নারী নিরক্ষতার অন্ধকারে বাস করে। অপরদিকে যারা নূন্যতম লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে তারাও কর্ম ক্ষেত্রে পুরুষদের সমঅধিকার পাচ্ছে না। আবার এই দিকে মুজুরি বৈষম্যের শিকার পৃথিবীর সকল দেশে। এই বঞ্চনার অনুপাত ১০০:৭৫। অথচ পৃথিবীর ৬০০ কোটি মানুষের অন্ততঃ পক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ খাদ্য নারীরা উৎপাদন করে।

 

এক বিশেষ সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাপানে শতকরা ৩৫ কর্মজীবি নারী স্বীকার করেছেন যে, তারা কর্মস্থলে কোন না কোন ভাবে যৌন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ৪৭ কর্মজীবি নারী চাকুরীক্ষেত্রে নানা ধরণের বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। এখনও অনেক দেশে মাতৃকালীন ছুটি বিষয়ে সুনিদিষ্ট নীতিমালা নেই। একজন নারীবাদী বলেছিলেন, ’নারী মুক্তি সে দিন আসবে, যে দিন পৃথিবীতে একজনও পতিতা থাকবে না’। অথচ এই পতিতার সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের চরম অবমাননাকর এ পেশা বেশ কিছু দেশে বৈধ। কিছুদিন আগে বৃটেনে পতিতালয়বৃত্তি স্বীকার করেছে, তালেবান আমলে মহিলাদের বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ হলেও পতিতলয় ঠিকই ছিল। এছাড়া জাতিসংঘের সৈন্যবাহিনী যে সব অঞ্চলে তাঁবু গেড়েছে, তার আশে পাশে নির্বিগ্নে গড়ে উঠেছে পতিতালয়। পুতিতাবৃত্তির ফলে সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে নারী পাচার হচ্ছে। যার ফলে মারাত্মক ব্যাধি এইডস ছড়াচ্ছে। সমীক্ষায় আরো দেখানো হয়েছে, প্রতি ৫জন করে একজন নারী কোন না – কোন ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার।

 

রাষ্ট্রে দলিল ও সিডও সনদ থাকা সত্ত্বেও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত, স্বামী কিংবা শাশুড়ি, ননদ কর্তৃক যৌতুকের দায়ে নির্যাতন কারণে নারীরা সম্মান নিয়ে নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারছে না।

প্রতিবছরের মত এ বছরও বেশ ধুমধামে বিশ্ব নারী দিবস পালিত হবে, তা যেন আঁতুর ঘরে সাঁতরে না মরে। এবারের নারী দিবসের শ্লোগান হোক ’বঞ্চিত নারীদের অধিকার আদায়’। চিরচারিত অবেহেলীত নারী, না পাওয়ার ইতিহাসে তাদের জীবন কাহিনী। পাওয়ার মধ্যে আছে একটা দিন ৮ মার্চ। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে প্রতিটি রাষ্টে, সমাজ, পরিবারে নারীদের অধিকার সম্মন্ধে সচেতনতা গড়ে তুলি, যত প্রকার নির্যাতন ও অত্যাচার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলি।

Nari Asian Magazine

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দোল পূর্ণিমা উৎসব আজ

» তিশার ঈদ ব্যস্ততা

» কোম্পানীগঞ্জে ২৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গৃহবধূ উধাও

» প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল, যুবক আটক

» মেইল-ফেসবুক আইডি হ্যাকের ভয়ঙ্কর চক্র

» ইউরো ২০২০ বাছাইপর্বে ফ্যাক্টফাইল

» হোটেলে বকেয়া ৪ লাখ টাকা না দিয়েই পালালেন অভিনেত্রী পূজা!

» কেমন আছেন খালেদা জিয়া

» অনলাইন বাজারের অফলাইন মোবাইল

» এ যেন মাইগ্রেশন, সু-প্রভাত হয়ে যাচ্ছে সম্রাট

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

লাঞ্চিত নারী, লজ্জিত সমাজ

হামিদা রহমান

ইহুদী পুরুষেরা ভোর বেলা প্রার্থনা করে ’বিধাতাকে ধন্যবাদ, যেহেতু তিনি আমাকে নারী করেনি’। একই সময়ে তাদের নারীরা কৃতঞ্জ কন্ঠে বলে ’বিধাতাকে ধন্যবাদ, যিনি আমাকে ইচ্ছানুসারে সৃষ্টি করেছে’। পৃথিবী সৃষ্টি থেকে অদ্যবদি একজন নারীকে পুরুষগণ যেমন বিভিন্ন নামে অখ্যায়িত করে- তরুণী, রমণী, লাবণী, ললনা, দাসী, ঘরণী, গৃহিনী, সর্বোপরি বিদেশী ভাষায় ’মেম সাহেব’ বলে নারীকে আবদ্ধ করার পাঁয়তারা চালায় তেমনি কৌশলগত কারণে আদিকাল থেকে সমাজ বিবর্তনের ধারায় বিশ্বময় সমাজ ও রাষ্ট্রে লিঙ্গেও একটা বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। জীবনে, যৌবনে সকল ক্ষেত্রে গড়ে উঠা বৈষম্যের ফলে দিন দিন নারীরা হচ্ছে অবহেলিত, লাঞ্চিত, বঞ্চিত, শোষিত ও নিঃগৃহীত। নারীরা স্ব-উদ্যেগে বিকাশের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষের দয়ার উপর নির্ভরশীর। তথাপি শত বাঁধা ডিঙিয়ে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সর্বক্ষেত্রে বিশ্ব সভ্যতার উন্নয়ন ও বিকাশে নারী গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখছে। এমন কি সৃজনশীলতায়ও কম অবদান রাখছে না; অথচ নারী এর কোন সঠিক মূল্যায়ন পায়নি।

পুরুষের কাছে নারী এক ধরণের কুলষিতা, ভোগ্যবস্তু। আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া শুধুমাত্র নারীর জন্য এমন ভাব ধরে উন্নত বিশ্বেও গুনগত মানুষেরা লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের কোন সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে না, যুগ-যুগ ধরে নারী নিজ অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে পুরুষ কর্তৃক বহুভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বর্হিবিশ্বে আধুনিক মনা মানুষ নারীকে সমান অধিকারের ’ডোজ’ দিয়ে বিশ্ব বাজারে ’বিশ্বসুন্দরী’ প্রতিযোগীতামূলক কর্মের মাধ্যেমে নারীদের ’পণ্য’ হিসাবে ব্যবহার করেছে।… নারীর অধিক স্বাধীনতার কথা পরিধানের কাপড়ের পূর্ণাঙ্গতা কেড়ে নিচ্ছে। আবার অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও ধর্মভীরু ভঙ্গুর সমাজে নারীর  অধিক বস্ত্র পরিধান করে অন্ধকারে আবদ্ধ করার যে পাঁয়তারা চলছে তা সভ্য সমাজের মুক্ত চিন্তার মানুষেরা কখন মানছে না।

নির্যাতন শোষণ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষ সোচ্চার না-হওয়ার মনমানসিকতায় অদ্যবদি প্রতিনিয়ত হাজারো তরুণ-তরুণী অজোপাড়া গাঁয়ের নারী-পুরুষ নামীয় কিছু দানব কর্তৃক মায়ের সম্মুখে ধর্ষণ, স্বামীর সামনে স্ত্রী ধর্ষণ, ভাই এর সামনে বোন…ইভ-টিজিং নামক অসভ্য আচরণের ফলে কিশোরী আত্মহত্যা যেমনি ’৭১ এ পাক বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মা-বোন এবং ধর্ষণ লাঞ্চনা সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছিলো। সে সময় পাক-বাহিনী স্বাধীনতার বিপক্ষে কিছু মানুষ নামের দানবের সহযোগীতায় হৈ-উল্লাসের মাধ্যেমে নারীদের ইজ্জত লুন্ঠন করতো, এখনও বাতাসে ঐ নারীদের কন্ঠ উচ্চারিত হয়। ধর্ষিত নারীদের কলঙ্ক মুছে উঠতে না উঠতে শুরু হচ্ছে সভ্য সমাজের অসভ্য বর্বরতা, পাশাপাশি ভয়ংকর এসিড নিক্ষেপ ও প্রকাশ্যে নারীর শ্লীলতাহানী, আনন্দ সহকারে প্রতিযোগীতামূলক একাধিক পুরুষ কর্র্তৃক নিরীহ নারী ধর্ষণসহ কৌশলগত ও অভিশপ্ত যৌতুকের দাবিতে মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্যতায় হত্যাকান্ডের মত জঘন্যতম ঘটনা প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে। বর্তমান সময়ের অসভ্য আচরণ ইভ-টিজিংও এখন একটা মারাত্মক ব্যাধিতে ধাবিত হচ্ছে। তা যদি এখনই রোধ না-করা যায়, ভবিষ্যতে প্রকট আকার ধারণ করবে।

 

হত্যার পাশাপাশি আত্মহত্যা করার মত পরিবেশ সৃষ্টি করে যাচ্ছে যা প্রতিনিয়ত খবরের কাগজ হাতে নিলে প্রমাণ মিলে। প্রতিবছর নারীদের বিশেষ বিশেষ দিবস উদযাপিত হয় এবং নারীর অধিকার আদায়ে সুকন্ঠে ডাক আসে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামের পল্লী এলাকায় কোটি কোটি পল্লীবালা ঐ প্রতিবাদী কন্ঠ শুনতে পায় না। বিশ্ব নারী দিবস, নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের দিবস হিসেবে আজ যে স্বীকৃত, তা বিগত ১৭৯২ সালে মেরি ওলেষ্টোনক্রাপট নামে ইংরেজ মহিলা ’ভিনভিকেশন অফ দি রাইটার্স অফ ওম্যান’ নামক গ্রন্থে নারী মুক্তির আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।

নারী আন্দোলনের স্বীকৃতি দিতে দিনটি বেছে নেন বিশিষ্ট জার্মান সমাজবিঞ্জানী ’ক্লারা জেকটিন’। তিনি ১৯১০ সালে আন্তজার্তিক নারী সম্মেলনে বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে এ প্রস্তাব করেন। দিনটি তখনও নির্ধারিত ছিল না। পরবর্তী সাল ১৯১১, অষ্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশী নারী শ্রমিক ১৯মার্চ দিনটি পালন শুরু করে। সে সময় ২৫ মার্চ নিউইয়র্কের এক শার্ট ফেক্টরীতে আগুন লেগে ১৪০ জন গার্মেন্টস নারী কর্মী ’আন-সেফটির’ কারণে মারা গেলে তা নিয়ে ইউরোপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর ফলশ্রুতিতে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউরোপে এক সম্মেলনে ৮ মার্চ ১৯১৩কে বিশ্ব নারী দিবস হিসেবে চুড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

সিডিও, বেইজিং সনদ- বিশ্ব বাজারে কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে?

সনদগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সনদ কেবল বইয়ে থেকে যাচ্ছে। সত্যিকারে কি হচ্ছে নারীদের উপর? জাতিসংঘের ৫০ বছর উপলক্ষে বিশ্বকে এক সূতোঁয় গাঁথতে জাতিসংঘ তার জন্মলগ্ন থেকে প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের সার্বিক অস্থিতিশীলতা, পশ্চাতপদতা দূর তথা মানবগোষ্টির সকল অংশের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এ সব সংস্থা হয়তো সফল হয়নি- তবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নারী সংগঠনসমূহ এবং সচেতন নারীদের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালে ’বিশ্ব নারী বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলো জাতিসংঘ। এর পাশাপাশি মেক্সেকোতে বিশ্ব নারী সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়নের জন্য বাস্ত কাজের পরিকল্পনা ও কর্মসূচী (গবীরপড় ঢ়ষধহ ড়ভ অপঃরড়হ) গ্রহণ করা হয়েছিলো। শতাব্দীর প্রাচীন পশ্চাতপদতা, নারীর প্রতি অবহেলা, উদাসীনতা ও বৈষম্য দূর করতে জাতিসংঘ ’সমতা উন্নয়ন ও শান্তি’ এই শ্লোগানের ভিত্তিতে ’১৯৭৬-৮৫’ সময় কালকে নারী দশক হিসেবে ঘোষণা করে। এরপরও সামগ্রিক ভাবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী নারীর প্রতি বৈষম্য রয়েই গেছে।

লিঙ্গ বিরাজমান সকল বৈষম্য দূর করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৭৬ সালে ১৮ ডিসেম্বর ’নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ অবসান’ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রহণ করে। তা হলো নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য খিলাপ সনদ বা ঞযব ঈড়হাবহঃরড়হ ড়হ ঃযব ঊষরসরহধঃরড়হ ড়ভ অষষ ঋড়ৎসং ড়ভ উবংপৎরসরহধঃরড়হ ধমধরহংঃ ডড়সবহ (ঈঊউঅড), সংক্রান্ত কনভেনশন প্রণয়ন ও অনুমোদন করা।

সংক্ষেপে সিডও হচ্ছে জাগিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহিত মানবাধিকার সম্পর্কিত একটি সার্বজনিন দলিল- যার মূল বক্তব্যে হলো মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও মূল্যেবোধের ক্ষেত্রে সারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিয়তা বিধানের আবশ্যিকতা এবং নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত প্রদান। সিডও সনদের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সভ্যতা ও মানব সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সকল ক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে নারী যে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে আসছে তারই যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পারিবারিক, সমাজ, রাষ্ট তথা বিশ্বশান্তি উন্নয়নে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমলিঙ্গ সমতাস্থপান করা। এই লক্ষে বাস্তবায়নের সকল রাষ্ট্র কর্র্তৃক প্রয়োজনবোধে আইন তৈরী করা, প্রচলিত আইনের সংস্কার সাধন এবং আইন প্রণয়নের জন্য বাস্তব পরিবেশ ও তথ্য প্রশাসনিক ও সামাজিক ভিত্তি তৈরি করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা এই সনদে উল্লেখিত রয়েছে। সিডও সনদে মোট ৩০টি ধারা। এর প্রথম ১৬ধারা লিঙ্গেও সমধিকার সংক্রান্ত, ১৭-২২ ধারার দলিলে নারীর জন্য যে শর্তগুলো বিরচিত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য সিডও কমিটি গঠন ও কমিটির কর্মপন্থা নিদিষ্ট হয়েছে। ২৩-৩০ ধারায় সনদেও প্রশাসনিক বিধিমালা সনদে সাক্ষরদান বা সমর্থন করার পদ্ধতিগত বিষয় এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের ভ’মিকা ইত্যাদি বিবৃত হয়েছে। রাষ।ট্র ও সনদ সম্পর্কে সংক্রান্ত অদ্যবদি বিশ্বের ১৭৫টি দেশ এই সনদটি অনুমোদন দিয়েছে এবং সাক্ষর দান করেছে। ২০০৩ সালের হিসেব মতে বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে এ সনদে সাক্ষর করে এবং এটির অনুসত নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গিকার করেছে।

সিডও সনদ ও বাংলাদেশের সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধান একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল সংবিধান হিসেবে সর্বত্র স্বীকৃত। আমাদের সংবিধান সমাজের সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গের সমঅধিকার রয়েছে। সংবিধানের ১২, ১৯, ২৭, ২৮, ২৯ ধারায় লিঙ্গের নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের সমঅধিকার নিশ্চিত  এবং বর্তমান অগ্রসনতা ও পশ্চাতপদতাকে স্বীকৃতি দিয়ে জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে রাষ্ট্রকে সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার দেয়া হয়েছে। মৌলিক মানবাধিকার তথা লিঙ্গের সমঅধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সিডও সনদ অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অভিন্ন।

উন্নত প্রযুক্তি বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিলেও পৃথিবীর কোটি কোটি নারী এখনো জানে না, আর জানলেও উপলব্ধির সুযোগ থেকে বঞ্চিত শুধু মাত্র তাদের জন্য একটি দিন পালিত হচ্ছে। বিশ্বের ৮৭৬ মিলিয়ন নিরক্ষর মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ হলো নারী। দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ বছরে উর্ধ মেয়েদের শতকরা ৬৩ ভাগ পড়তে ও লিখতে পারে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওসেনিয়ায় শতকরা ৬৩ ভাগ মেয়েদের সাক্ষর ঞ্জান নেই। উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার অর্ধেকেরই বেশি নারী নিরক্ষতার অন্ধকারে বাস করে। অপরদিকে যারা নূন্যতম লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে তারাও কর্ম ক্ষেত্রে পুরুষদের সমঅধিকার পাচ্ছে না। আবার এই দিকে মুজুরি বৈষম্যের শিকার পৃথিবীর সকল দেশে। এই বঞ্চনার অনুপাত ১০০:৭৫। অথচ পৃথিবীর ৬০০ কোটি মানুষের অন্ততঃ পক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ খাদ্য নারীরা উৎপাদন করে।

 

এক বিশেষ সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাপানে শতকরা ৩৫ কর্মজীবি নারী স্বীকার করেছেন যে, তারা কর্মস্থলে কোন না কোন ভাবে যৌন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা ৪৭ কর্মজীবি নারী চাকুরীক্ষেত্রে নানা ধরণের বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। এখনও অনেক দেশে মাতৃকালীন ছুটি বিষয়ে সুনিদিষ্ট নীতিমালা নেই। একজন নারীবাদী বলেছিলেন, ’নারী মুক্তি সে দিন আসবে, যে দিন পৃথিবীতে একজনও পতিতা থাকবে না’। অথচ এই পতিতার সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীদের চরম অবমাননাকর এ পেশা বেশ কিছু দেশে বৈধ। কিছুদিন আগে বৃটেনে পতিতালয়বৃত্তি স্বীকার করেছে, তালেবান আমলে মহিলাদের বাইরে কাজ করা নিষিদ্ধ হলেও পতিতলয় ঠিকই ছিল। এছাড়া জাতিসংঘের সৈন্যবাহিনী যে সব অঞ্চলে তাঁবু গেড়েছে, তার আশে পাশে নির্বিগ্নে গড়ে উঠেছে পতিতালয়। পুতিতাবৃত্তির ফলে সহজেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে নারী পাচার হচ্ছে। যার ফলে মারাত্মক ব্যাধি এইডস ছড়াচ্ছে। সমীক্ষায় আরো দেখানো হয়েছে, প্রতি ৫জন করে একজন নারী কোন না – কোন ভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার।

 

রাষ্ট্রে দলিল ও সিডও সনদ থাকা সত্ত্বেও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপ, পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত, স্বামী কিংবা শাশুড়ি, ননদ কর্তৃক যৌতুকের দায়ে নির্যাতন কারণে নারীরা সম্মান নিয়ে নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারছে না।

প্রতিবছরের মত এ বছরও বেশ ধুমধামে বিশ্ব নারী দিবস পালিত হবে, তা যেন আঁতুর ঘরে সাঁতরে না মরে। এবারের নারী দিবসের শ্লোগান হোক ’বঞ্চিত নারীদের অধিকার আদায়’। চিরচারিত অবেহেলীত নারী, না পাওয়ার ইতিহাসে তাদের জীবন কাহিনী। পাওয়ার মধ্যে আছে একটা দিন ৮ মার্চ। আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে প্রতিটি রাষ্টে, সমাজ, পরিবারে নারীদের অধিকার সম্মন্ধে সচেতনতা গড়ে তুলি, যত প্রকার নির্যাতন ও অত্যাচার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলি।

Nari Asian Magazine

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com