লবণ নিয়ে কারসাজি এবার কোন ষড়যন্ত্রের অপেক্ষায় বাংলাদেশ!

  অ আ আবীর আকাশ :ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক কারসাজি করে চলছে। এতে তারা সাময়িক সুবিধা ভোগ করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না বলে রং রূপ পরিবর্তন করে নানা ফন্দি-ফিকির করেই যাচ্ছে। দেশের জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বিষিয়ে দেয়ার নামে একশ্রেণীর প্রতারকচক্র একের পর এক সিন্ডিকেট তৈরি করে চলছে। ছোটখাটো ছুতোয় একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে।অহেতুক হয়রানি করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সাথে।
পেঁয়াজের দাম না কমতেই, চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে একটা হাইকাউ ফেলে দিয়েছে।
পেঁয়াজের ডামাডোল না থামতেই শুরু করছে লবণ নিয়ে কারসাজি। পেঁয়াজ আমাদের দেশে তুলনামূলক কম উৎপাদন হওয়ায় বাহির দেশ থেকে আমদানি করা লাগে। কিন্তু লবণের ক্ষেত্রে তা মোটেই প্রয়োজন হয়না। লবণ চাহিদার তিনগুণ বেশি উৎপাদিত হওয়ার দরুন কোনভাবে সংকট হওয়ার কথা নয়। বরং আমরা বহির্বিশ্বেও রপ্তানি করতে পারি। যে বা যারা অহেতুক লবনের দাম বাড়িয়ে দেয়ার নামে মিথ্যা গুজব রটিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে আর কোন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে এত বড় কারসাজি অথবা সংকট অথবা মিথ্যা প্ররোচনা তৈরি করার সাহস পাবেনা। দেশবাসী সরকার তথা প্রশাসনের দিকে সে আশায় তাকিয়ে আছে।
ষড়যন্ত্রের আরেকটি হচ্ছে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা করে বাড়িয়ে দেয়া। কি কারনে বাংলা বছরের এই মাঝামাঝি বা ইংরেজি বছরের শেষ দিকে এসে সিন্ডিকেট করা হচ্ছে?  কারা করছে? কেন করছে? অহেতুক গুজব ছড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে নিরীহ জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। কোনো কারণ ব্যতীত যেন কোন শিল্প, সংস্থা, গোষ্ঠী খাদ্যের সাথে যুক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে না পারে সেদিকে বাজার মনিটরিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সব সময় তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাবে। তবে আশা করা যাচ্ছে কোনো গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট আর বাজার দখলে রাখতে পারবে না।
লবণ আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় সাগরের লবণাক্ত পানি থেকে। কক্সবাজারের মহেশখালী চকরিয়া ওইসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সমুদ্র থেকে জোয়ার আশা লবণাক্ত পানি খেতে আল দিয়ে কোঠা করে ধরে রাখে। পরে তা সূর্যের আলো ফুটে ধবধবে সাদা হয়ে লবণে পরিণত হয়। পরবর্তী জোয়ার আসার আগেই তা বস্তাবন্দি করে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে করে আমাদের দেশে প্রয়োজনের চেয়েও তিনগুণের বেশি লবণ উৎপাদিত হয়। তার মানে লবণ সংকট, কারখানায় আগুন এসব গুজব ছড়িয়ে কোন লাভ নেই ষড়যন্ত্রকারীদের। কারণ লবণ আমাদের দেশে আমদানি করতে হয় না, কারখানায় উৎপাদন হয় না, সংকটও হয় না বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রে লবণ রপ্তানি করা হয়।
মঙ্গলবারের লবণ নিয়ে ছড়ানো গুজব যেভাবে সরকার তথা প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করেছে তাতে করে সাধারন শান্তি প্রিয় মানুষেরা খুবই খুশি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ছড়ানো মিথ্যা বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বিশ্বাস করে যে বা যারা চাহিদার অতিরিক্ত লবণ কিনেছেন তাদের কেউ কেউ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা হেনস্তা হয়েছেন। তাতে কিছু যায় আসে না। বরং এটাই তাদের পাওনা ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ফোন করে, সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ীদেরকে জানিয়ে যেসব সংকট সৃষ্টি করে লবণ নিয়ে হাউকাউ শুরু করেছে -তাতে প্রশাসন টের পাওয়া মাত্রই অসাধু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কেই হেনস্তা শুরু করেছেন। প্রশাসনের থেকে কোথাও কোথাও মাইকিং করা হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা চাহিদার অতিরিক্ত লবণ না বিক্রি করেন এবং ক্রেতাসাধারণ চাহিদার অতিরিক্ত লবণ না কিনেন।মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে লবণের কোনো সংকট বা কমতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ রয়েছে। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়। আদেশ অমান্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রচার মাইকে ঘোষণা করা হয়।
 সরকারের ঘোষণার সাথে সাথে দেশের ব্যান্ড লবণ এসিআই ও মোল্লা সল্ট কোম্পানি থেকেও বলা হয়েছে যে, সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য একটা শ্রেনির অসৎ লোকেরা কাজ করছে। তারা মিথ্যা ভাবে অধিক মুনাফার লোভে সংকটের গুজব ছড়িয়েছে। এসব কোম্পানিরা বলছেন তাদের কাছে অপর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে তা -কারা এসব করছে? ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ দিয়ে একের পর এক পণ্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। তাদেরকে কি সরকার বা প্রশাসন চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন? তাদের ধরা কি দুরূহ কাজ? তাদের মুখোশ উন্মোচন কি কঠিন? যদি না হয় তাহলে সরকারকে এত বেকাদায় ফেলার পরেও সরকার কেন তাদেরকে প্রতিহত করছে না!
ব্যবসায়ীদের চিন্তা ধারা কী মোটেও বুঝে আসছেনা। দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ টন লবণ মজুদ রয়েছে এরমধ্যে কক্সবাজারে ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছেই আছে ৪লাখ ৫ হাজার টন লবণ। বিভিন্নলবণ রিফাইন্ড ও গুদামে রয়েছে ২লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ।এতো লবণ মজুদ থাকার পরে কেনো, কি করানে অসৎ উদ্দেশ্যে সংকটের গুজব ছড়ানো হয়? তাদের লাজ লজ্জা, নীতি-নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ কিছু নেই? তারা কি কেবলই মুনাফাখোর, সুদি? একবারের জন্যও তারা ভাবে না, আমাদের দেশে লবণের চাহিদা প্রতি মাসে কমবেশি এক লাখ টন। কিন্তু মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ টন। আরো তো প্রতিদিনই আল্লাহর রহমতে সাগরের লবণ পানি থেকে লবণ উৎপাদন হচ্ছে।
পেঁয়াজের ডামাডোলে লবণ নিয়ে হইচই। এরমধ্যে নীরবে-নিভৃতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে চালের কল, মিলমালিকরা। এক্ষেত্রে খুচরা বাজার পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ দিচ্ছেন মিল কলের বিরুদ্ধে আবার মিল কল বলছেন পাইকারদের অর্থাৎ একে অপরে দোষারোপ করছেন। প্রতি কেজিতে  চালে ৪ টাকা থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। নিম্নমধ্যবিত্তের পরিবারে চলছে মাতম। এসব ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বাঁচার উপায় কি? তবে কি নিত্যপ্রয়োজনীয় একটার পর একটা জিনিস নিয়ে খেলা করবে অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট? তাদের কি দমানো যাবে না? তারা কি এদেশের নাগরিক নয়? তবে আর যাই বলি তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা সরকারের জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে অন্য কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ যুক্ত হয়ে কাজ করছে কিনা তাও সজাগ থাকতে হবে। হয়তো এমনও হতে পারে যে অসৎ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেশের ভেতরে একটা হাউকাউ সৃষ্টি করে দিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে। আগে থেকেই সরকারের উচিত হবে কোনো সিন্ডিকেট যেন না তৈরি হয়, তা খেয়াল রেখে ভেঙে দেয়া বা দমন করা।
পেঁয়াজ লবণ চাল এভাবে একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে নাটক তৈরি করে যাচ্ছে সিন্ডিকেট। এসব কঠোর হস্তে দমন করলে চতুর্থ আর কোনো ইস্যু সৃষ্টি করতে পারবে না সিন্ডিকেটরা। আমরা চাই সাধারণ জীবন যাপন করতে, সাধারণ মানুষ হয়ে বাঁচতে। সরকার তথা প্রশাসন নিশ্চয়ই এর যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
লেখক : কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল ।
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ইসলামপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে স্মার্টকার্ড বিতরণ

» মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা নয় সম্মান চান : খাদ্যমন্ত্রী

» কাল থেকে সচিবালয়ের চারপাশে হর্ন বাজালে এক মাসের জেল

» দৈনিক সংগ্রাম একসময় বিশাল হেডিংয়ে আমার ফাঁসি চেয়েছিল: মেনন

» রাজাকারদের তালিকায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কামরুল ইসলাম

» রাজগঞ্জের শাহাপুর সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

» নেংগুড়াহাট স্কুল এন্ড কলেজে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

» বিএনপি জামাত চক্ররা বাংলাদেশের জন্য অশান্তি-ইনু

» বাগেরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন

» ইসলামপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালিত

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

লবণ নিয়ে কারসাজি এবার কোন ষড়যন্ত্রের অপেক্ষায় বাংলাদেশ!

  অ আ আবীর আকাশ :ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক কারসাজি করে চলছে। এতে তারা সাময়িক সুবিধা ভোগ করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না বলে রং রূপ পরিবর্তন করে নানা ফন্দি-ফিকির করেই যাচ্ছে। দেশের জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে বিষিয়ে দেয়ার নামে একশ্রেণীর প্রতারকচক্র একের পর এক সিন্ডিকেট তৈরি করে চলছে। ছোটখাটো ছুতোয় একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাপনে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে।অহেতুক হয়রানি করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের সাথে।
পেঁয়াজের দাম না কমতেই, চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে একটা হাইকাউ ফেলে দিয়েছে।
পেঁয়াজের ডামাডোল না থামতেই শুরু করছে লবণ নিয়ে কারসাজি। পেঁয়াজ আমাদের দেশে তুলনামূলক কম উৎপাদন হওয়ায় বাহির দেশ থেকে আমদানি করা লাগে। কিন্তু লবণের ক্ষেত্রে তা মোটেই প্রয়োজন হয়না। লবণ চাহিদার তিনগুণ বেশি উৎপাদিত হওয়ার দরুন কোনভাবে সংকট হওয়ার কথা নয়। বরং আমরা বহির্বিশ্বেও রপ্তানি করতে পারি। যে বা যারা অহেতুক লবনের দাম বাড়িয়ে দেয়ার নামে মিথ্যা গুজব রটিয়ে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে আর কোন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে এত বড় কারসাজি অথবা সংকট অথবা মিথ্যা প্ররোচনা তৈরি করার সাহস পাবেনা। দেশবাসী সরকার তথা প্রশাসনের দিকে সে আশায় তাকিয়ে আছে।
ষড়যন্ত্রের আরেকটি হচ্ছে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা করে বাড়িয়ে দেয়া। কি কারনে বাংলা বছরের এই মাঝামাঝি বা ইংরেজি বছরের শেষ দিকে এসে সিন্ডিকেট করা হচ্ছে?  কারা করছে? কেন করছে? অহেতুক গুজব ছড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে নিরীহ জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। কোনো কারণ ব্যতীত যেন কোন শিল্প, সংস্থা, গোষ্ঠী খাদ্যের সাথে যুক্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে না পারে সেদিকে বাজার মনিটরিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সব সময় তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাবে। তবে আশা করা যাচ্ছে কোনো গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট আর বাজার দখলে রাখতে পারবে না।
লবণ আমাদের দেশে উৎপাদিত হয় সাগরের লবণাক্ত পানি থেকে। কক্সবাজারের মহেশখালী চকরিয়া ওইসব অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে সমুদ্র থেকে জোয়ার আশা লবণাক্ত পানি খেতে আল দিয়ে কোঠা করে ধরে রাখে। পরে তা সূর্যের আলো ফুটে ধবধবে সাদা হয়ে লবণে পরিণত হয়। পরবর্তী জোয়ার আসার আগেই তা বস্তাবন্দি করে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে করে আমাদের দেশে প্রয়োজনের চেয়েও তিনগুণের বেশি লবণ উৎপাদিত হয়। তার মানে লবণ সংকট, কারখানায় আগুন এসব গুজব ছড়িয়ে কোন লাভ নেই ষড়যন্ত্রকারীদের। কারণ লবণ আমাদের দেশে আমদানি করতে হয় না, কারখানায় উৎপাদন হয় না, সংকটও হয় না বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রে লবণ রপ্তানি করা হয়।
মঙ্গলবারের লবণ নিয়ে ছড়ানো গুজব যেভাবে সরকার তথা প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করেছে তাতে করে সাধারন শান্তি প্রিয় মানুষেরা খুবই খুশি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ছড়ানো মিথ্যা বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বিশ্বাস করে যে বা যারা চাহিদার অতিরিক্ত লবণ কিনেছেন তাদের কেউ কেউ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা হেনস্তা হয়েছেন। তাতে কিছু যায় আসে না। বরং এটাই তাদের পাওনা ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ফোন করে, সিন্ডিকেট ও ব্যবসায়ীদেরকে জানিয়ে যেসব সংকট সৃষ্টি করে লবণ নিয়ে হাউকাউ শুরু করেছে -তাতে প্রশাসন টের পাওয়া মাত্রই অসাধু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কেই হেনস্তা শুরু করেছেন। প্রশাসনের থেকে কোথাও কোথাও মাইকিং করা হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা চাহিদার অতিরিক্ত লবণ না বিক্রি করেন এবং ক্রেতাসাধারণ চাহিদার অতিরিক্ত লবণ না কিনেন।মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে লবণের কোনো সংকট বা কমতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ রয়েছে। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়। আদেশ অমান্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও প্রচার মাইকে ঘোষণা করা হয়।
 সরকারের ঘোষণার সাথে সাথে দেশের ব্যান্ড লবণ এসিআই ও মোল্লা সল্ট কোম্পানি থেকেও বলা হয়েছে যে, সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য একটা শ্রেনির অসৎ লোকেরা কাজ করছে। তারা মিথ্যা ভাবে অধিক মুনাফার লোভে সংকটের গুজব ছড়িয়েছে। এসব কোম্পানিরা বলছেন তাদের কাছে অপর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে তা -কারা এসব করছে? ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ দিয়ে একের পর এক পণ্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। তাদেরকে কি সরকার বা প্রশাসন চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন? তাদের ধরা কি দুরূহ কাজ? তাদের মুখোশ উন্মোচন কি কঠিন? যদি না হয় তাহলে সরকারকে এত বেকাদায় ফেলার পরেও সরকার কেন তাদেরকে প্রতিহত করছে না!
ব্যবসায়ীদের চিন্তা ধারা কী মোটেও বুঝে আসছেনা। দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখ টন লবণ মজুদ রয়েছে এরমধ্যে কক্সবাজারে ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছেই আছে ৪লাখ ৫ হাজার টন লবণ। বিভিন্নলবণ রিফাইন্ড ও গুদামে রয়েছে ২লাখ ৪৫ হাজার টন লবণ।এতো লবণ মজুদ থাকার পরে কেনো, কি করানে অসৎ উদ্দেশ্যে সংকটের গুজব ছড়ানো হয়? তাদের লাজ লজ্জা, নীতি-নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ কিছু নেই? তারা কি কেবলই মুনাফাখোর, সুদি? একবারের জন্যও তারা ভাবে না, আমাদের দেশে লবণের চাহিদা প্রতি মাসে কমবেশি এক লাখ টন। কিন্তু মজুদ আছে সাড়ে ৬ লাখ টন। আরো তো প্রতিদিনই আল্লাহর রহমতে সাগরের লবণ পানি থেকে লবণ উৎপাদন হচ্ছে।
পেঁয়াজের ডামাডোলে লবণ নিয়ে হইচই। এরমধ্যে নীরবে-নিভৃতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে চালের কল, মিলমালিকরা। এক্ষেত্রে খুচরা বাজার পাইকারি ব্যবসায়ীরা দোষ দিচ্ছেন মিল কলের বিরুদ্ধে আবার মিল কল বলছেন পাইকারদের অর্থাৎ একে অপরে দোষারোপ করছেন। প্রতি কেজিতে  চালে ৪ টাকা থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। নিম্নমধ্যবিত্তের পরিবারে চলছে মাতম। এসব ষড়যন্ত্রের হাত থেকে বাঁচার উপায় কি? তবে কি নিত্যপ্রয়োজনীয় একটার পর একটা জিনিস নিয়ে খেলা করবে অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট? তাদের কি দমানো যাবে না? তারা কি এদেশের নাগরিক নয়? তবে আর যাই বলি তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা সরকারের জরুরি হয়ে পড়েছে। এসব অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে অন্য কোন রাজনৈতিক মতাদর্শ যুক্ত হয়ে কাজ করছে কিনা তাও সজাগ থাকতে হবে। হয়তো এমনও হতে পারে যে অসৎ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দেশের ভেতরে একটা হাউকাউ সৃষ্টি করে দিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে। আগে থেকেই সরকারের উচিত হবে কোনো সিন্ডিকেট যেন না তৈরি হয়, তা খেয়াল রেখে ভেঙে দেয়া বা দমন করা।
পেঁয়াজ লবণ চাল এভাবে একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে নাটক তৈরি করে যাচ্ছে সিন্ডিকেট। এসব কঠোর হস্তে দমন করলে চতুর্থ আর কোনো ইস্যু সৃষ্টি করতে পারবে না সিন্ডিকেটরা। আমরা চাই সাধারণ জীবন যাপন করতে, সাধারণ মানুষ হয়ে বাঁচতে। সরকার তথা প্রশাসন নিশ্চয়ই এর যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
লেখক : কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল ।
Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com