রোজা রেখে রক্তদান করলে কোনো অসুবিধা নেই

আমিন মুনশি : শরীরে রক্ত নিলে বা নিজ শরীর থেকে কাউকে রক্তদান করলে কোনো অবস্থাতেই রোজা নষ্ট হবে না। কারণ রক্ত দেয়ার কারণে কোনো বস্তু দেহের ভেতরে ঢুকেনি, তাই তাতে রোজা নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর রক্ত নিলে যেহেতু এ রক্ত শরীরের উল্লেখযোগ্য চার নালি থেকে কোনো নালি দিয়ে প্রবেশ করে না, বরং শরীরের অন্যান্য ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে। সুতরাং রোজাবস্থায় কারও শরীরে রক্ত দান করলে বা নিজে রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেয়ার দ্বারা যদি শরীরে দুর্বলতা আসে, তাহলে মাকরূহ। (আল-কাসানি, খ. ২, পৃ. ৯২; ইবনে আবিদিন, খ. ৩, পৃ. ৪০০; আল-ফাতওয়া আল-হিন্দিয়া, খ. ১, পৃ. ২০০)

সুতরাং রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙবে না। তবে কেউ যদি শারীরিকভাবে এমন দুর্বল হয় যে, রক্ত দিলে সে রোজা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলবে, তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মাকরুহ। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৩৫) হযরত আকরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) হজের জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায় শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন এবং রোজা অবস্থায়ও শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন।

অন্য হাদিসে হজরত সাবিত আল বানানী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আনাস বিন মালেককে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্য শরীর থেকে শিঙ্গা লাগিয়ে রক্ত বের করাকে আপনি কি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন- না, আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা। (সহিহ বোখারি : ১/২৬০)

তাছাড়া রক্তদান একজন রোগীর সেবার অন্তর্ভুক্ত। কারণ পবিত্র কোরআনে আছে, ..কেউ যদি কারও জীবন বাঁচিয়ে দেয়, তবে সে জীবনের প্রতি সম্মান ও মানবতার প্রতি সহানুভূতির প্রেরণাকে জীবন্ত করে তোলে।…(সূরা নিসা-৯২) অতএব রোজা ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে মানবসেবার তরে রমজান মাসে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকা উচিত। এতে করে রোজার সওয়াবের পাশাপাশি মানবসেবার সওয়াবও পাওয়া যাবে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» তাহিরপুরে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে উচু-নীচু ৮২ জোড়া ব্রেঞ্চ বিতরণ

» ” আমার নাম মানুষ “

» ফুলপুর পৌরসভায় ৯দিন যাবৎ সকল কার্যক্রম বন্ধ, দূর্ভোগে পৌরবাসী

» বাড্ডায় রেনুকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে তিতুমীরে মানববন্ধন

» আদালতে মিন্নির দু’টিআবেদন নামঞ্জুর

» জাতির বিবেকের কাছে নুজহাত চৌধুরীর প্রশ্ন

» কাবা শরিফের গিলাফ উঁচু করার রহস্য

» ২০ তিমির জীবন বাঁচালো পর্যটকরা (ভিডিও)

» ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা

» ছেলেধরা গুজবের নেপথ্যে কুচক্রী মহল : ডিবি

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

রোজা রেখে রক্তদান করলে কোনো অসুবিধা নেই

আমিন মুনশি : শরীরে রক্ত নিলে বা নিজ শরীর থেকে কাউকে রক্তদান করলে কোনো অবস্থাতেই রোজা নষ্ট হবে না। কারণ রক্ত দেয়ার কারণে কোনো বস্তু দেহের ভেতরে ঢুকেনি, তাই তাতে রোজা নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর রক্ত নিলে যেহেতু এ রক্ত শরীরের উল্লেখযোগ্য চার নালি থেকে কোনো নালি দিয়ে প্রবেশ করে না, বরং শরীরের অন্যান্য ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে। সুতরাং রোজাবস্থায় কারও শরীরে রক্ত দান করলে বা নিজে রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেয়ার দ্বারা যদি শরীরে দুর্বলতা আসে, তাহলে মাকরূহ। (আল-কাসানি, খ. ২, পৃ. ৯২; ইবনে আবিদিন, খ. ৩, পৃ. ৪০০; আল-ফাতওয়া আল-হিন্দিয়া, খ. ১, পৃ. ২০০)

সুতরাং রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙবে না। তবে কেউ যদি শারীরিকভাবে এমন দুর্বল হয় যে, রক্ত দিলে সে রোজা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলবে, তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মাকরুহ। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৩৫) হযরত আকরামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) হজের জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায় শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন এবং রোজা অবস্থায়ও শরীর থেকে শিঙ্গার মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন।

অন্য হাদিসে হজরত সাবিত আল বানানী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আনাস বিন মালেককে (রা.) জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্য শরীর থেকে শিঙ্গা লাগিয়ে রক্ত বের করাকে আপনি কি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন- না, আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা। (সহিহ বোখারি : ১/২৬০)

তাছাড়া রক্তদান একজন রোগীর সেবার অন্তর্ভুক্ত। কারণ পবিত্র কোরআনে আছে, ..কেউ যদি কারও জীবন বাঁচিয়ে দেয়, তবে সে জীবনের প্রতি সম্মান ও মানবতার প্রতি সহানুভূতির প্রেরণাকে জীবন্ত করে তোলে।…(সূরা নিসা-৯২) অতএব রোজা ভেঙে যাওয়ার কোনো প্রকার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে মানবসেবার তরে রমজান মাসে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকা উচিত। এতে করে রোজার সওয়াবের পাশাপাশি মানবসেবার সওয়াবও পাওয়া যাবে।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com