রেললাইনে লাশ, কানে হেডফোন

খিলক্ষেত রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জান্নাত মিতু (২৬)। কথা বলছিলেন মোবাইল ফোনে। এ সময় পেছন থেকে আসছিল দ্রুতগামী ট্রেন। কিন্তু তিনি সরছেন না। কথা বলেই যাচ্ছেন। কাটা পড়লেন। ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী মিতু কমলাপুরগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান। এর একদিন আগে একইভাবে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে মালিবাগ লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন আহমেদ ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। কানে হেডফোন দিয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন রাজধানীর ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহিন। আশপাশের লোকজন অনেক ডাকাডাকির পরও তার মনোযোগ কাড়তে পারেনি কেউ। উদাসীন সেই শাহিন কখন যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তা বুঝতেই পারলেন না। চলন্ত ট্রেন যখন তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল, তখন হয়তো বুঝতে পারলেন কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু এখন আর বুঝেও কোনো লাভ হলো না শাহিনের। মুহূর্তের মধ্যে চলে গেল মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে! গেন্ডারিয়া মুন্সীবাড়ির ঢালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন শাহিনের কাছাকাছি চলে এলে আশপাশের লোকজন তাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু কোনো কথাই সে শুনতে পায়নি। ততক্ষণে ট্রেনটি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার এক হাত দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি মারা যান। শুধু মিতু, শাহিন বা সালাউদ্দিন নয় অনেক মানুষের রেললাইনে ট্রেনে কাটা মৃত্যুর নেপথ্যে এই মোবাইল ফোন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি মোবাইলে হেডফোন দিয়ে কথা বলার সময় অধিকাংশ রেললাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া রাজধানীর রেলপথে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং রয়েছে যার কারণে কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যখন ট্রেন চলাচল করে তখন রেলওয়ের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট লাইনের দুই পাশের ১০ ফুট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ট্রেন চলাচলের সময় রেলওয়ে আইন মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা তোয়াক্কা না করে হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কা-জ্ঞানহীন ও অসাবধানতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর-বিমানবন্দর রেলস্টেশন পর্যন্ত ৫৮টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ২৩টি অবৈধ। এ ছাড়া এ রেলপথে ছোট আকারের আরও প্রায় ৩০টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ গেন্ডারিয়া, মগবাজার, কুড়িল ও উত্তরার লেভেল ক্রসিং। সরেজমিন কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লেভেল ক্রসিংটির দুই পাশে ‘এই রেলক্রসিং দিয়ে যানবাহন ও লোক পারাপার সম্পূর্ণ নিষেধ’ লেখা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের টানানো সাইনবোর্ড রয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন পথচারীরা। জানা যায়, রাজধানী ও আশপাশের ৩৫ কিলোমিটার রেলপথে ৫৮টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টির কোনো অনুমোদন নেই। যেগুলোর একেকটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মানিক নামে রেলগেটের এক কর্মচারী বলেন, দুই বছর আগে এ গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখানে কোনো ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করেনি। সিটি করপোরেশন কিংবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেউ উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে।

উত্তরা হয়ে আসা রেলের লাইন প্রায় ৪০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বাঁকা। অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচের লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত লাইনটি প্রায় ৫০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বাঁকা। যে কারণে ট্রেন এলেও কুড়িলের অবৈধ লেভেল ক্রসিং থেকে তা দেখা যায় না।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত স্তম্ভ মোহাম্মদপুরে

» ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভোট প্রস্তুতি

» ৩৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল ও কোষাধ্যক্ষ অপসারণে ভিপির আবেদন

» ফুসফুসের অবস্থা কেমন? জানিয়ে দেবে অ্যাপ!

» মেয়েরা যে ৭ জিনিস সবসময় ব্যাগে রাখবেন

» কিছু হলেই অ্যান্টিবায়োটিক, ডেকে আনছেন বিপদ

» আবারও ভিডিওতে খোলামেলা পুনম পাণ্ডে

» কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৪

» বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ শেখ হাসিনা

» চট্টগ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

রেললাইনে লাশ, কানে হেডফোন

খিলক্ষেত রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জান্নাত মিতু (২৬)। কথা বলছিলেন মোবাইল ফোনে। এ সময় পেছন থেকে আসছিল দ্রুতগামী ট্রেন। কিন্তু তিনি সরছেন না। কথা বলেই যাচ্ছেন। কাটা পড়লেন। ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী মিতু কমলাপুরগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যান। এর একদিন আগে একইভাবে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে মালিবাগ লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন আহমেদ ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। কানে হেডফোন দিয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন রাজধানীর ধনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহিন। আশপাশের লোকজন অনেক ডাকাডাকির পরও তার মনোযোগ কাড়তে পারেনি কেউ। উদাসীন সেই শাহিন কখন যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তা বুঝতেই পারলেন না। চলন্ত ট্রেন যখন তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল, তখন হয়তো বুঝতে পারলেন কিছু একটা হয়েছে। কিন্তু এখন আর বুঝেও কোনো লাভ হলো না শাহিনের। মুহূর্তের মধ্যে চলে গেল মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে! গেন্ডারিয়া মুন্সীবাড়ির ঢালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন শাহিনের কাছাকাছি চলে এলে আশপাশের লোকজন তাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু কোনো কথাই সে শুনতে পায়নি। ততক্ষণে ট্রেনটি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার এক হাত দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি মারা যান। শুধু মিতু, শাহিন বা সালাউদ্দিন নয় অনেক মানুষের রেললাইনে ট্রেনে কাটা মৃত্যুর নেপথ্যে এই মোবাইল ফোন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি মোবাইলে হেডফোন দিয়ে কথা বলার সময় অধিকাংশ রেললাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া রাজধানীর রেলপথে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং রয়েছে যার কারণে কিছু দুর্ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, যখন ট্রেন চলাচল করে তখন রেলওয়ের আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট লাইনের দুই পাশের ১০ ফুট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ট্রেন চলাচলের সময় রেলওয়ে আইন মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা তোয়াক্কা না করে হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কা-জ্ঞানহীন ও অসাবধানতাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।

রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর-বিমানবন্দর রেলস্টেশন পর্যন্ত ৫৮টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ২৩টি অবৈধ। এ ছাড়া এ রেলপথে ছোট আকারের আরও প্রায় ৩০টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ গেন্ডারিয়া, মগবাজার, কুড়িল ও উত্তরার লেভেল ক্রসিং। সরেজমিন কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লেভেল ক্রসিংটির দুই পাশে ‘এই রেলক্রসিং দিয়ে যানবাহন ও লোক পারাপার সম্পূর্ণ নিষেধ’ লেখা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের টানানো সাইনবোর্ড রয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন পথচারীরা। জানা যায়, রাজধানী ও আশপাশের ৩৫ কিলোমিটার রেলপথে ৫৮টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টির কোনো অনুমোদন নেই। যেগুলোর একেকটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মানিক নামে রেলগেটের এক কর্মচারী বলেন, দুই বছর আগে এ গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখানে কোনো ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করেনি। সিটি করপোরেশন কিংবা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেউ উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে।

উত্তরা হয়ে আসা রেলের লাইন প্রায় ৪০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বাঁকা। অন্যদিকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচের লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত লাইনটি প্রায় ৫০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে বাঁকা। যে কারণে ট্রেন এলেও কুড়িলের অবৈধ লেভেল ক্রসিং থেকে তা দেখা যায় না।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : শেখ মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,০১৯১১৪৯০৫০৫

Design & Developed BY ThemesBazar.Com