রিফাত শরিফ হত্যাকাণ্ড ‘কাল সকাল ৯টার মধ্যে কলেজে থাকবা, সার্কাস দেখাব’

বরগুনার কলেজ রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরিফকে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে ১৫ জন বরগুনার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হামলার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, হামলা ও পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনা উঠে এসেছে।

মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মামলার অন্যতম আসামি আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১) তার জবানবন্দিতে বলেছেন, হামলার আগের দিন রাতে নয়ন তকে ফোন করে বলেন, কোনো প্রশ্ন করবা না। কাল সকাল ৯টার মধ্যে কলেজে থাকবা। সার্কাস দেখাব।

বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকার আবুল কালাম আকনের ছেলে রাব্বি আকনকে গত ১১ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ জুলাই তিনি জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রাব্বি বলেন, তিনি নয়ন বন্ডের মেসেঞ্জার গ্রুপের ‘বন্ড ০০৭’-এর সদস্য। আগে থেকেই নয়নের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। সেই সুবাদে মিন্নির সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

রাব্বি আরও বলেন, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন। রিফাত ফরাজীকে ফোন দিয়ে তিনি কোথায় আছেন জানতে চান। রিফাত ফরাজী তাকে কলেজে আসতে বলেন। ৮-১০ মিনিট পরে রিফাত ফরাজীকে আবার ফোন দিলে তিনি কলেজে আসছেন বলে জানান, তাকেও যেতে বলেন। সোয়া ৯টার দিকে রাব্বি কলেজে যান। রিফাত ফরাজীকে আবারও ফোন দেন। এরপর রিফাত ফরাজী কলেজে আসেন। এ সময় রিফাত হাওলাদারও আসেন। মিন্নিও আসেন এবং রিফাত ফরাজীকে বলেন, ‘ওকি ভাইটু। রিফাত শরীফকে মারার জন্য খালি হাতে কেন?’ রিফাত ফরাজী বলেন, ‘খালি হাতই যথেষ্ট।’ মিন্নি নয়নের কথাও জিজ্ঞাসা করেন। পরে একটু দূরে গিয়ে কথা বলেন মিন্নি। তাদের বলে যান, ‘একটু প্ল্যান করে আসি’।

রাব্বি আকন জবানবন্দিতে বলেছেন, সকাল ১০টার দিকে রিফাত শরীফ কলেজে ঢোকেন। ওই সময় রিফাত ফরাজী ও রিফাত হাওলাদার ফোনে কথা বলেন। এরপর তারা তিনজন কলেজ থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার পর তাদের সঙ্গে চন্দন, হাসান, টিকটক হ্নদয় মিলিত হন। তারা ক্যালিক্স একাডেমির মোড়ে যান। আরেক আসামি সিফাতও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে সবাই কলেজের ফটকের দিকে যান। কলেজ থেকে বের হয়ে রিফাত শরীফ মিন্নিকে মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। কিন্তু মিন্নি উঠতে চান না। দুজনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এ সময় রিফাত ফরাজীর ভাই রিশান ফরাজী, তানভীর, নাঈম, চন্দন, সিফাত ও হাসান আসেন। রিশান ফরাজী এ সময় রিফাতকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি আমার মা-বাবাকে গালি দিয়েছ কেন।’ রিফাত শরীফ বলেন, ‘আমি গালি দিই নাই।’ এরপর রিফাত ফরাজী এসে রিফাত শরীফকে বলেন, ‘নেতা হয়ে গেছ।’ এ কথা বলেই মারধর শুরু করেন। রিফাত ফরাজী মারধর শুরু করার পর চন্দন, নাঈম, রায়হান, টিকটক হ্নদয়, নাজমুল, সিফাত, রিফাত হাওলাদারও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে রিফাত শরীফকে টেনেহিঁচড়ে ক্যালিক্সের মোড়ে নিয়ে যান তারা। মিন্নিও সঙ্গে সঙ্গে আসেন। সেখানে নয়ন এসে হামলায় যোগ দেন। একপর্যায়ে রিফাত ফরাজী দুটি দা ও টিকটক হৃদয় লাঠি নিয়ে আসেন। পরে রিফাত ফরাজী ও নয়ন দা দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করেন। আর রিফাত ফরাজীর নির্দেশ অনুযায়ী বাকিরা পাহারা দেন। রিফাত শরীফ যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য বাকি সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়ান।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা। বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

এ মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিও আসামি। তবে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। তার পরিবারের দাবি, মিন্নি ষড়যন্ত্রের শিকার। বর্তমানে হাইকোর্টের আদেশে জামিনে রয়েছেন মিন্নি।

আলোচিত এই হত্যকাণ্ডের আরেক আসামি কামরুল হাসান সায়মুন (২১) বরগুনা কড়াইতলা স্টাফ কোয়ার্টারের কায়সার আহম্মেদ লিটনের ছেলে। গত ৩০ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ জুলাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে সায়মুন বলেন, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রাব্বি আকনের সঙ্গে কলেজে পড়ার সময় তার বন্ধুত্ব হয়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে তাকে মেসেঞ্জার গ্রুপ ‘বন্ড ০০৭’-এর সঙ্গে যুক্ত করেন রাব্বি। হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বরগুনার গার্লস স্কুল রোডে পার্থ স্যারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যান। তিনি বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রিফাত ফরাজী তাকে ফোন করেন এবং মোটরসাইকেল নিয়ে ধানসিঁড়ি তিন রাস্তার মোড়ে যেতে বলেন।

সায়মুন আদালতকে জানান, তিনি তার মোটরসাইকেল নিয়ে ধানসিঁড়ি মোড়ে যান। সেখানে রিফাত ফরাজীকে না পেয়ে তাকে ফোন করেন। তখন রিফাত ফরাজী তাকে ক্রোক স্লুইজে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তানভীর রাস্তায় থামার জন্য তাকে ইশারা করেন। ওই সময় পাশের পুকুরসংলগ্ন বাগান থেকে নয়ন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী বের হয়ে আসেন। তাঁকে মোটরসাইকেলটি দিতে বলেন তাঁরা। তিনি মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে দেন। রিফাত, রিশান ও নয়ন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। পরে অন্য পথে তিনিও কেওড়াবুনিয়া যান। সেখানে পনু চেয়ারম্যানের ঘেরে গিয়ে দেখেন নয়ন, রিফাত ফরাজী, রাব্বি আকন, রিশাত ফরাজী ও জিহাদ বসে আছেন। তারা তাকে মোটরসাইকেল ফেরত দিলে তিনি বাড়ি চলে আসেন।

আরেক আসামি রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০) বরগুনা উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রহমান নান্নার ছেলে। গত ১ জুলাই রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১০ জুলাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাব্বি আদালতকে বলেন, হামলার দিন সকাল থেকেই তিনি বাড়িতে ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি স্থানীয় বাজারে যান এবং সেখানে অন্য ছেলেদের মোবাইল ফোনে তিনি রিফাত শরীফকে কোপানোর ভিডিও দেখেন। এরপর নিজের মোবাইল ফোনেও দেখেন। আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯) তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে চলাফেরা করতেন সিফাত। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিফাত ফোন করে তাকে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে বলেন। তিনি বের হয়ে দেখেন একটি মোটরসাইকেলে সিফাতকে কেউ একজন নামিয়ে দিয়ে গেছে। এ সময় তাকে খুব নার্ভাস দেখাচ্ছিল। জিজ্ঞাস করলে সিফাত জানান, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজীরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে খুন করেছেন। এ জন্য এলাকা গরম। তাই তিনি রাতে তার বাড়িতে থাকবেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিফাত লেবুখালীতে তার বাবার কাছে চলে যান।পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এমপি রতনের আশীর্বাদ: ধর্মপাশার মোবারকের হাতে আলাদিনের চেরাগ

» রাজধানীর গাছ ব্যানার বিজ্ঞাপনের পেরেকে ক্ষত বিক্ষত

» বিএনপির রাজনীতি পেঁয়াজের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে: ড. হাছান মাহমুদ

» বাড়ি ক্রয় থেকে ম্যানেজমেন্ট পরামর্শ দিচ্ছে ‘নেক্সট ড্রিম এলএলসি’

» কমার্স কলেজের সামনে কাভার্ড ভ্যানচাপায় শিশুর মৃত্যু

» জরিমানা নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» ট্রেনে ভয়াবহ আগুন!

» ৩টি পিস্তলসহ মাদক বিক্রেতা আটক

» আমির খানের মেয়ের খোলামেলা ছবি নিয়ে তোলপাড় মিডিয়া

» অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িষ্যায় ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় নাকরি

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

রিফাত শরিফ হত্যাকাণ্ড ‘কাল সকাল ৯টার মধ্যে কলেজে থাকবা, সার্কাস দেখাব’

বরগুনার কলেজ রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরিফকে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

এই মামলার আসামিদের মধ্যে ১৫ জন বরগুনার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে হামলার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, হামলা ও পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনা উঠে এসেছে।

মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মামলার অন্যতম আসামি আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১) তার জবানবন্দিতে বলেছেন, হামলার আগের দিন রাতে নয়ন তকে ফোন করে বলেন, কোনো প্রশ্ন করবা না। কাল সকাল ৯টার মধ্যে কলেজে থাকবা। সার্কাস দেখাব।

বরগুনার কেওড়াবুনিয়া এলাকার আবুল কালাম আকনের ছেলে রাব্বি আকনকে গত ১১ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ১৮ জুলাই তিনি জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রাব্বি বলেন, তিনি নয়ন বন্ডের মেসেঞ্জার গ্রুপের ‘বন্ড ০০৭’-এর সদস্য। আগে থেকেই নয়নের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। সেই সুবাদে মিন্নির সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

রাব্বি আরও বলেন, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন। রিফাত ফরাজীকে ফোন দিয়ে তিনি কোথায় আছেন জানতে চান। রিফাত ফরাজী তাকে কলেজে আসতে বলেন। ৮-১০ মিনিট পরে রিফাত ফরাজীকে আবার ফোন দিলে তিনি কলেজে আসছেন বলে জানান, তাকেও যেতে বলেন। সোয়া ৯টার দিকে রাব্বি কলেজে যান। রিফাত ফরাজীকে আবারও ফোন দেন। এরপর রিফাত ফরাজী কলেজে আসেন। এ সময় রিফাত হাওলাদারও আসেন। মিন্নিও আসেন এবং রিফাত ফরাজীকে বলেন, ‘ওকি ভাইটু। রিফাত শরীফকে মারার জন্য খালি হাতে কেন?’ রিফাত ফরাজী বলেন, ‘খালি হাতই যথেষ্ট।’ মিন্নি নয়নের কথাও জিজ্ঞাসা করেন। পরে একটু দূরে গিয়ে কথা বলেন মিন্নি। তাদের বলে যান, ‘একটু প্ল্যান করে আসি’।

রাব্বি আকন জবানবন্দিতে বলেছেন, সকাল ১০টার দিকে রিফাত শরীফ কলেজে ঢোকেন। ওই সময় রিফাত ফরাজী ও রিফাত হাওলাদার ফোনে কথা বলেন। এরপর তারা তিনজন কলেজ থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার পর তাদের সঙ্গে চন্দন, হাসান, টিকটক হ্নদয় মিলিত হন। তারা ক্যালিক্স একাডেমির মোড়ে যান। আরেক আসামি সিফাতও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে সবাই কলেজের ফটকের দিকে যান। কলেজ থেকে বের হয়ে রিফাত শরীফ মিন্নিকে মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। কিন্তু মিন্নি উঠতে চান না। দুজনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এ সময় রিফাত ফরাজীর ভাই রিশান ফরাজী, তানভীর, নাঈম, চন্দন, সিফাত ও হাসান আসেন। রিশান ফরাজী এ সময় রিফাতকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি আমার মা-বাবাকে গালি দিয়েছ কেন।’ রিফাত শরীফ বলেন, ‘আমি গালি দিই নাই।’ এরপর রিফাত ফরাজী এসে রিফাত শরীফকে বলেন, ‘নেতা হয়ে গেছ।’ এ কথা বলেই মারধর শুরু করেন। রিফাত ফরাজী মারধর শুরু করার পর চন্দন, নাঈম, রায়হান, টিকটক হ্নদয়, নাজমুল, সিফাত, রিফাত হাওলাদারও মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে রিফাত শরীফকে টেনেহিঁচড়ে ক্যালিক্সের মোড়ে নিয়ে যান তারা। মিন্নিও সঙ্গে সঙ্গে আসেন। সেখানে নয়ন এসে হামলায় যোগ দেন। একপর্যায়ে রিফাত ফরাজী দুটি দা ও টিকটক হৃদয় লাঠি নিয়ে আসেন। পরে রিফাত ফরাজী ও নয়ন দা দিয়ে রিফাত শরীফকে কোপাতে শুরু করেন। আর রিফাত ফরাজীর নির্দেশ অনুযায়ী বাকিরা পাহারা দেন। রিফাত শরীফ যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য বাকি সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়ান।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা। বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়।

এ মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিও আসামি। তবে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। তার পরিবারের দাবি, মিন্নি ষড়যন্ত্রের শিকার। বর্তমানে হাইকোর্টের আদেশে জামিনে রয়েছেন মিন্নি।

আলোচিত এই হত্যকাণ্ডের আরেক আসামি কামরুল হাসান সায়মুন (২১) বরগুনা কড়াইতলা স্টাফ কোয়ার্টারের কায়সার আহম্মেদ লিটনের ছেলে। গত ৩০ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ জুলাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে সায়মুন বলেন, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রাব্বি আকনের সঙ্গে কলেজে পড়ার সময় তার বন্ধুত্ব হয়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস আগে তাকে মেসেঞ্জার গ্রুপ ‘বন্ড ০০৭’-এর সঙ্গে যুক্ত করেন রাব্বি। হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বরগুনার গার্লস স্কুল রোডে পার্থ স্যারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যান। তিনি বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রিফাত ফরাজী তাকে ফোন করেন এবং মোটরসাইকেল নিয়ে ধানসিঁড়ি তিন রাস্তার মোড়ে যেতে বলেন।

সায়মুন আদালতকে জানান, তিনি তার মোটরসাইকেল নিয়ে ধানসিঁড়ি মোড়ে যান। সেখানে রিফাত ফরাজীকে না পেয়ে তাকে ফোন করেন। তখন রিফাত ফরাজী তাকে ক্রোক স্লুইজে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তানভীর রাস্তায় থামার জন্য তাকে ইশারা করেন। ওই সময় পাশের পুকুরসংলগ্ন বাগান থেকে নয়ন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী বের হয়ে আসেন। তাঁকে মোটরসাইকেলটি দিতে বলেন তাঁরা। তিনি মোটরসাইকেলের চাবি দিয়ে দেন। রিফাত, রিশান ও নয়ন মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। পরে অন্য পথে তিনিও কেওড়াবুনিয়া যান। সেখানে পনু চেয়ারম্যানের ঘেরে গিয়ে দেখেন নয়ন, রিফাত ফরাজী, রাব্বি আকন, রিশাত ফরাজী ও জিহাদ বসে আছেন। তারা তাকে মোটরসাইকেল ফেরত দিলে তিনি বাড়ি চলে আসেন।

আরেক আসামি রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০) বরগুনা উরবুনিয়া গ্রামের আবদুর রহমান নান্নার ছেলে। গত ১ জুলাই রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১০ জুলাই তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাব্বি আদালতকে বলেন, হামলার দিন সকাল থেকেই তিনি বাড়িতে ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে তিনি স্থানীয় বাজারে যান এবং সেখানে অন্য ছেলেদের মোবাইল ফোনে তিনি রিফাত শরীফকে কোপানোর ভিডিও দেখেন। এরপর নিজের মোবাইল ফোনেও দেখেন। আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯) তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে চলাফেরা করতেন সিফাত। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিফাত ফোন করে তাকে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে বলেন। তিনি বের হয়ে দেখেন একটি মোটরসাইকেলে সিফাতকে কেউ একজন নামিয়ে দিয়ে গেছে। এ সময় তাকে খুব নার্ভাস দেখাচ্ছিল। জিজ্ঞাস করলে সিফাত জানান, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজীরা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে খুন করেছেন। এ জন্য এলাকা গরম। তাই তিনি রাতে তার বাড়িতে থাকবেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিফাত লেবুখালীতে তার বাবার কাছে চলে যান।পূর্বপশ্চিমবিডি

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com