যে কারণে অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার

গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনে করোনা সংক্রামণের পর বিশ্বজুড়ে কমতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের দাম। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টোটা। দেশে করোনাভাইরাসে রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই বাড়তে শুরু করে জীবাণুনাশক ও মাস্কের দাম। এক একটি মাস্ক দ্বিগুণ, এমনকি কোনও কোনও স্থানে তিনগুণ দামেও বিক্রি হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে জীবাণু নাশক বা স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রেও।

এরপর গত বুধবার (১৮ মার্চ) করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করে ভোগ্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, আটাসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। অনেকে এক-দুই মাসের বাজারও করে রাখেন। এমন অবস্থা যে, কেউ কেউ বাড়িতে ছোটখাট গোডাউন বানিয়ে ফেলেন।

অনেক ক্রেতা খুচরা দোকানে মজুত শেষ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পাইকারি বাজারে থেকে বাড়তি পণ্য কেনা শুরু করেন। ফলে বাজারে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৬টি পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ তালিকায় আমদানিনির্ভর পণ্য যেমন আছে তেমনি দেশে উৎপাদিত পণ্যও রয়েছে। মোট কথা চাল-ডাল থেকে শুরু করে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, তেল মোটামুটি প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামই বেড়েছে।

এদিকে রাজস্ব বোর্ড বলছে, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। যেমন, মসুর ডাল, আদা, রসুন, পাম তেল, গম সবই গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বেশি আমদানি হয়েছে। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসায় এটারও কোনও ঘটতি চোখে পড়ছে না। ভারত থেকেও আমদানি শুরু হয়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্যের দাম বাড়েনি। এরপরও করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর দাম বেড়েই চলেছে।

উদাহরণ হিসাবে পিঁয়াজের কথাই যদি ধরি, এই দ্রব্যটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩০ টাকা থেকে ৭০ এবং পরে ৮০-৯০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে।

দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই গুজবটাও কিন্তু বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এ সম্পর্কে এক চালের আড়তদার জানান, তার দোকানে যে পরিমাণ চাল আগামী এক-দুই মাসে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, সেই পরিমাণ চাল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩-৪ দিনের ব্যবধানে। ফলে পাইকারি বাজারে চালের দাম প্রতি বস্তায় পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩/৪ এবং পরে আরও বেড়েছে।

এ সম্পর্কে ক্রেতাদের আশঙ্কা ছিল, করোনার কারণে যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, তাই তারা দেড়-দুই মাসের বাজার করে নিয়েছেন। যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকির সময় তাদের খাদ্য ঝুঁকিতে পড়তে না হয়। ফলে এর চাপ গিয়ে পড়েছে বাজারে, বেড়েছে দাম।

এখানে আমরা পামওয়েল তেলটির কথাই বলতে পারি। বিশ্ববাজারে কিন্তু এ তেলের দাম অনেকখানি কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের হিসাবে গত জানুয়ারিতে যে পামওয়েল টনপ্রতি ৮১০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, বৃহস্পতিবার তার দাম ৫০৪ ডলারে নেমে আসে। আর ৮৭৫ ডলারের সয়াবিন তেল সর্বশেষ ৬৯০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববাজারের কোনই প্রভাব পড়েনি। বরং গত কয়েকদিনে সয়াবিন তেলও চড়া দামে বিক্রি হেয়েছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার সঙ্কটের সময় বাজার তদারকির দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত।যাতে করে আমদানি ও মজুদের কোনও ঘাটতি না হয়। একই সঙ্গে বাজারে কোন পণ্যের কতখানি মজুদ আছে সে সম্পর্কেও নিয়ামত ব্রিফিং দেয়ার কথা জানান তারা। এতে করে সাধারণ মানুষের মন থেকে অহেতুক ভ্রান্তি দূর হবে এবং তারা প্রয়োজনের বেশি খাদ্য মজুন করা থেকে বিরত থাকবেন।বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আড্ডা-অহেতুক ঘোরাফেরা : ফার্মগেটে ২৫ জনকে জরিমানা

» কুমিল্লায় ইয়াবাসহ কারারক্ষী আটক

» আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ

» মাশরাফির উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা শুরু

» বিএনপি নেতারা দূর্যোগেও ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত : ওবায়দুল কাদের

» ‘মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বাঁচতে পারে না, নির্ভয়ে দাফন করুন’

» কাঁচা বাজার ও সুপার শপ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ ডিএমপির

» অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন এ্যাড.মিলন এম পি

» দুই হাজার পরিবারের মধ্যে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের খাদ্য সহায়তা বিতরন

» হোমনায় পুলিশের সহায়তায় সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপন্যের ভ্রাম্যমান দোকানের উদ্বোধন 

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

যে কারণে অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার

গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনে করোনা সংক্রামণের পর বিশ্বজুড়ে কমতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের দাম। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টোটা। দেশে করোনাভাইরাসে রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই বাড়তে শুরু করে জীবাণুনাশক ও মাস্কের দাম। এক একটি মাস্ক দ্বিগুণ, এমনকি কোনও কোনও স্থানে তিনগুণ দামেও বিক্রি হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে জীবাণু নাশক বা স্যানিটাইজারের ক্ষেত্রেও।

এরপর গত বুধবার (১৮ মার্চ) করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করে ভোগ্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, আটাসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। অনেকে এক-দুই মাসের বাজারও করে রাখেন। এমন অবস্থা যে, কেউ কেউ বাড়িতে ছোটখাট গোডাউন বানিয়ে ফেলেন।

অনেক ক্রেতা খুচরা দোকানে মজুত শেষ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পাইকারি বাজারে থেকে বাড়তি পণ্য কেনা শুরু করেন। ফলে বাজারে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৬টি পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ তালিকায় আমদানিনির্ভর পণ্য যেমন আছে তেমনি দেশে উৎপাদিত পণ্যও রয়েছে। মোট কথা চাল-ডাল থেকে শুরু করে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, তেল মোটামুটি প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামই বেড়েছে।

এদিকে রাজস্ব বোর্ড বলছে, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই। যেমন, মসুর ডাল, আদা, রসুন, পাম তেল, গম সবই গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বেশি আমদানি হয়েছে। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসায় এটারও কোনও ঘটতি চোখে পড়ছে না। ভারত থেকেও আমদানি শুরু হয়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্যের দাম বাড়েনি। এরপরও করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর দাম বেড়েই চলেছে।

উদাহরণ হিসাবে পিঁয়াজের কথাই যদি ধরি, এই দ্রব্যটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩০ টাকা থেকে ৭০ এবং পরে ৮০-৯০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে।

দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই গুজবটাও কিন্তু বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এ সম্পর্কে এক চালের আড়তদার জানান, তার দোকানে যে পরিমাণ চাল আগামী এক-দুই মাসে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, সেই পরিমাণ চাল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩-৪ দিনের ব্যবধানে। ফলে পাইকারি বাজারে চালের দাম প্রতি বস্তায় পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৩/৪ এবং পরে আরও বেড়েছে।

এ সম্পর্কে ক্রেতাদের আশঙ্কা ছিল, করোনার কারণে যদি ঘর থেকে বের হওয়া না যায়, তাই তারা দেড়-দুই মাসের বাজার করে নিয়েছেন। যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকির সময় তাদের খাদ্য ঝুঁকিতে পড়তে না হয়। ফলে এর চাপ গিয়ে পড়েছে বাজারে, বেড়েছে দাম।

এখানে আমরা পামওয়েল তেলটির কথাই বলতে পারি। বিশ্ববাজারে কিন্তু এ তেলের দাম অনেকখানি কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিলের হিসাবে গত জানুয়ারিতে যে পামওয়েল টনপ্রতি ৮১০ ডলারে বিক্রি হয়েছে, বৃহস্পতিবার তার দাম ৫০৪ ডলারে নেমে আসে। আর ৮৭৫ ডলারের সয়াবিন তেল সর্বশেষ ৬৯০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববাজারের কোনই প্রভাব পড়েনি। বরং গত কয়েকদিনে সয়াবিন তেলও চড়া দামে বিক্রি হেয়েছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার সঙ্কটের সময় বাজার তদারকির দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত।যাতে করে আমদানি ও মজুদের কোনও ঘাটতি না হয়। একই সঙ্গে বাজারে কোন পণ্যের কতখানি মজুদ আছে সে সম্পর্কেও নিয়ামত ব্রিফিং দেয়ার কথা জানান তারা। এতে করে সাধারণ মানুষের মন থেকে অহেতুক ভ্রান্তি দূর হবে এবং তারা প্রয়োজনের বেশি খাদ্য মজুন করা থেকে বিরত থাকবেন।বাংলাদেশ জার্নাল

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com