মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা, বাড়ছে লেনদেনও। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিদিনই গ্রাহকের সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোট ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে তাদের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার। যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএফএসে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৮ জন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। উত্তোলন হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। যা আগস্টের তুলনায় সাড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

এমএফএসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৮ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৫৬২ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৯২ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ ১৯ মের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করতে পারবেন। আর মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন দুইবারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। আর মাসে ২০ বারে এক লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যেত।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সরকারি সব কাজে স্বচ্ছতার ও দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই: স্পিকার

» এটা কি কোনো প্রধানমন্ত্রীর কথা হলো: কাদের সিদ্দিকী

» এমপি রতনের আশীর্বাদ: ধর্মপাশার মোবারকের হাতে আলাদিনের চেরাগ

» রাজধানীর গাছ ব্যানার বিজ্ঞাপনের পেরেকে ক্ষত বিক্ষত

» বিএনপির রাজনীতি পেঁয়াজের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে: ড. হাছান মাহমুদ

» বাড়ি ক্রয় থেকে ম্যানেজমেন্ট পরামর্শ দিচ্ছে ‘নেক্সট ড্রিম এলএলসি’

» কমার্স কলেজের সামনে কাভার্ড ভ্যানচাপায় শিশুর মৃত্যু

» জরিমানা নয়, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» ট্রেনে ভয়াবহ আগুন!

» লালমনিরহাটে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা, বাড়ছে লেনদেনও। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিদিনই গ্রাহকের সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে, বর্তমানে মোট ১৬টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে তাদের নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার। যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৭ কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বেড়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে থাকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এমএফএসে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭০ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা আদান-প্রদান হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৮ জন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবা। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১২ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। উত্তোলন হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। যা আগস্টের তুলনায় সাড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

এমএফএসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ৮ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ কোটি ৬২ লাখ টাকায়। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৫৬২ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩৯২ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৬০৬ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ ১৯ মের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করতে পারবেন। আর মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যায়। আগে প্রতিদিন দুইবারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। আর মাসে ২০ বারে এক লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যেত।জাগোনিউজ

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বার্তা সম্পাদক :এ.এইচ.এম.শাহ্জাহান

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

 

ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com