মাদারীপুরে কাঁচামরিচের ঝালে নাকাল ক্রেতা

আরিফুর রহমান মাদারীপুর প্রতিনিধি।এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার যে কাঁচা মরিচ শহরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। সেই একই কাঁচা মরিচ গতকাল মঙ্গলবার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যার প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে। আর ভোক্তারা বলছেন, দিনকে দিন সবজিসহ সব ধরনের কাঁচা তরিতরকারির দাম বাড়ছে লাগামছাড়া।
গতকাল সোমবার মাদারীপুর শহরের কয়েকটি কাঁচা বাজার এবং পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতে কাঁচা মরিচের পরিমাণ রয়েছে কম। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ায় কৃষকদের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে গেছে। কিছু এলাকায় পুরো ক্ষেত রয়েছে পানির নিচে। ফলে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশের বন্যা পরিস্থিতিরও প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে।
নতুনশহর বাজার , কুলপদ্দি চৌরাস্তা , কুলপদ্দি বাজার ,মাদ্রা ইটেরপুল বাজার, চরমুগরিয়া বাজার, লেকেরপাড় বাজার, মস্তফাপুর বাজারে গোপালপুর বাজারে বগুড়ার মরিচ (জিয়া ঝাল) কেজি প্রতি মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। আর টেকেরহাট পাইকারী কাঁচা বাজারে প্রতি পালা (৫ কেজি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়।পুরানবাজার কাঁচা মালের আড়তেও প্রতি পালা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়। তবে দুই আড়তে একই দামের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য জেলা থেকে আমদানি করার জন্য দাম একই রয়েছে।
পৌর মার্কেট এলাকায় বাজার করতে আসা মো. মিজানুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার কাঁচা মরিচ কিনলাম ১৫ টাকা পোয়া। আর আজ কিনলাম ১৫ টাকায় ১০০গ্রাম। কোথায় যাব। মাদারীপুর নতুন বাজারে দাম কমে আস্তে আস্তে। আর দাম বাড়ে হঠাৎ।পুরান বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হোসেন জানান, কাঁচা মাল শুকিয়ে কমে যায়, পচে যায়। ফলে ঘাটতি পড়ে। সে হিসেবে দাম পাইকারী থেকে খুচরা বাজারে তেমন বাড়তি নেই। ব্যবসায়ীরা খরিদ্দার ধরে রাখতে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে।
মাদারীপুর পুরানবাজার কাঁচা মালের সরদার আড়তের মালিক মো. ফোরকান সরদার জানান, মঙ্গলবার পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ‘জিয়া ঝাল’ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। আর স্থানীয় মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। পুরানবাজার পাইকারী কাঁচা বাজারের বাণিজ্য ভান্ডারের জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখন মরিচ আসছে বগুড়া থেকে। কিন্তু সেসব এলাকায় এখন বন্যা কবলিত। ফলে দাম বেশি আবার সরবরাহও কম রয়েছে। মাদারীপুর বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা হাজী শফিক স্বপন জানান,শহরের বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তি। ৯ জুলাই যে মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ কেজি দরে। সেই মানের কাঁচা মরিচ ১২০ জুলাই বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা দরে।
আরিফুর রহমান মাদারীপুর প্রতিনিধি।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রকেট হামলার পর ফের বন্ধ ত্রিপলী বিমানবন্দর

» পাকিস্তানে পৌঁছাল বাংলাদেশ দল

» শেষ রাতের ইবাদতকারীকে মাফ করে দেয়া হয়

» সিএএ বিতর্কে অংশ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুপা হক

» ছাত্রীদের টিফিনের টাকায় বঙ্গবন্ধুর হাজারো ছবি কক্সবাজার সৈকতে

» খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল মেয়রের হারপিক পানে আত্মহত্যা

» দশ বছর পর

» ইটভাটায় কাজ করছে শিশু

» সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি

» হঠাৎ বেড়েছে খুনের ঘটনা

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...
,

মাদারীপুরে কাঁচামরিচের ঝালে নাকাল ক্রেতা

আরিফুর রহমান মাদারীপুর প্রতিনিধি।এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার যে কাঁচা মরিচ শহরের খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকায়। সেই একই কাঁচা মরিচ গতকাল মঙ্গলবার প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যার প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে। আর ভোক্তারা বলছেন, দিনকে দিন সবজিসহ সব ধরনের কাঁচা তরিতরকারির দাম বাড়ছে লাগামছাড়া।
গতকাল সোমবার মাদারীপুর শহরের কয়েকটি কাঁচা বাজার এবং পাইকারী কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ক্ষেতে কাঁচা মরিচের পরিমাণ রয়েছে কম। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের অতিবৃষ্টি এবং বন্যা হওয়ায় কৃষকদের অধিকাংশ মরিচ গাছ পচে গেছে। কিছু এলাকায় পুরো ক্ষেত রয়েছে পানির নিচে। ফলে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশের বন্যা পরিস্থিতিরও প্রভাবে পড়েছে কাঁচা মরিচে।
নতুনশহর বাজার , কুলপদ্দি চৌরাস্তা , কুলপদ্দি বাজার ,মাদ্রা ইটেরপুল বাজার, চরমুগরিয়া বাজার, লেকেরপাড় বাজার, মস্তফাপুর বাজারে গোপালপুর বাজারে বগুড়ার মরিচ (জিয়া ঝাল) কেজি প্রতি মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৬০-২০০ টাকায়। আর টেকেরহাট পাইকারী কাঁচা বাজারে প্রতি পালা (৫ কেজি) কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়।পুরানবাজার কাঁচা মালের আড়তেও প্রতি পালা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৮০০ টাকায়। তবে দুই আড়তে একই দামের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্য জেলা থেকে আমদানি করার জন্য দাম একই রয়েছে।
পৌর মার্কেট এলাকায় বাজার করতে আসা মো. মিজানুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার কাঁচা মরিচ কিনলাম ১৫ টাকা পোয়া। আর আজ কিনলাম ১৫ টাকায় ১০০গ্রাম। কোথায় যাব। মাদারীপুর নতুন বাজারে দাম কমে আস্তে আস্তে। আর দাম বাড়ে হঠাৎ।পুরান বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হোসেন জানান, কাঁচা মাল শুকিয়ে কমে যায়, পচে যায়। ফলে ঘাটতি পড়ে। সে হিসেবে দাম পাইকারী থেকে খুচরা বাজারে তেমন বাড়তি নেই। ব্যবসায়ীরা খরিদ্দার ধরে রাখতে এখন কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে।
মাদারীপুর পুরানবাজার কাঁচা মালের সরদার আড়তের মালিক মো. ফোরকান সরদার জানান, মঙ্গলবার পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ‘জিয়া ঝাল’ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। আর স্থানীয় মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। পুরানবাজার পাইকারী কাঁচা বাজারের বাণিজ্য ভান্ডারের জাহাঙ্গীর আলম জানান, এখন মরিচ আসছে বগুড়া থেকে। কিন্তু সেসব এলাকায় এখন বন্যা কবলিত। ফলে দাম বেশি আবার সরবরাহও কম রয়েছে। মাদারীপুর বাজার মনিটারিং কর্মকর্তা হাজী শফিক স্বপন জানান,শহরের বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তি। ৯ জুলাই যে মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ কেজি দরে। সেই মানের কাঁচা মরিচ ১২০ জুলাই বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা দরে।
আরিফুর রহমান মাদারীপুর প্রতিনিধি।

Facebook Comments
Share

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com